ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তরিত হচ্ছে গুরুতর আহত রাবি শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা


এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তরিত হচ্ছে গুরুতর আহত রাবি শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা পূজার দাওয়াত খেয়ে ফেরার সময় ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে তাকে এয়ার এম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তর করেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর দেড়টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।

চেসি ত্রিপুরার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় তাকে দ্রুত এয়ার এম্বুলেন্সের মাধ্যমে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: সিলেটে প্রেমের টানে চীনা নাগরিকের বিয়ে, ধর্মান্তরিত হয়ে মুক্তি

গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) চেসি তার এক বান্ধবীর বাসায় পূজার দাওয়াত খেয়ে সিএনজিতে করে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে পেছন থেকে একটি ট্রাক সিএনজিতে ধাক্কা দেয়। এই দুর্ঘটনায় চেসি গুরুতর আহত হন এবং প্রথমে তাকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, "তার চিকিৎসার জন্য যা সহযোগিতা প্রয়োজন সবকিছুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী ৩৯ হাজার আখচাষিকে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ পি.এম


প্রধানমন্ত্রী ৩৯ হাজার আখচাষিকে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিলেন

রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) আখচাষিদের জন্য প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এই অনুষ্ঠানে ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মধ্যে ১২ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা কৃষি প্রণোদনা বরাদ্দের ঘোষণা দেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে ডিজিটাল বোতাম চেপে তিনি একযোগে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত হাজারো মানুষও সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে জনসভাস্থলে পৌঁছান। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তাকে স্বাগত জানান।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

এর আগে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানোর পর জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে সড়কের দুই ধারে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

এর আগে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে আজ সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তিনি অবতরণ করেন।

সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দুটি পথসভায় অংশগ্রহণ করেন এবং পরে রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজালাল বিমানবন্দরের স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন, সহকারী পরিচালক অস্বীকার করেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ পি.এম


শাহজালাল বিমানবন্দরের স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন, সহকারী পরিচালক অস্বীকার করেছেন

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে, এতে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরের দিকে এই ঘটনা ঘটে।

দুপুর ২টার সময় স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিছু মিনিটের মধ্যেই তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

তবে বিমানবন্দরের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন আগুন লাগার খবর অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, সেখানে আগুন লাগেনি, বরং ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ধোঁয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার কারণ এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শেফ দিবস, শেফদের অবদানকে সম্মান জানানো হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০০ পি.এম


আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শেফ দিবস, শেফদের অবদানকে সম্মান জানানো হচ্ছে

রান্নার কৌশল বদলেছে বিশ্বজুড়ে রন্ধনশিল্পীদের হাত ধরে, এবং বিভিন্ন দেশের খাবার জনপ্রিয় হয়েছে। নতুন স্বাদের ধারণা তৈরি হয়েছে। তাদের সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও অবদানকে সম্মান জানাতে প্রতি বছর এই দিবসটি পালিত হয়। নতুন প্রজন্মকে রন্ধনশিল্পে আগ্রহী করে তোলা, পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রতি বছর ২০ অক্টোবর পালিত হয় আন্তর্জাতিক শেফ দিবস, যা ২০০৪ সালে ওয়ার্ল্ডশেফসের উদ্যোগে চালু হয়। নতুন প্রজন্মকে রান্নার প্রতি আগ্রহী করে তোলা, স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং খাবারের উৎস ও পরিবেশের সঙ্গে এর সম্পর্ক তুলে ধরা দিবসটির উদ্দেশ্য।

বিশ্বের পরিচিত কিছু শেফ তাদের কাজের মাধ্যমে রান্নার জগতে আলাদা ছাপ রেখেছেন। তাদের অবদানেই রান্না অনেকের কাছে নিছক প্রয়োজনের কাজ না হয়ে সৃজনশীলতা, সংস্কৃতি ও শেখার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

মার্কিন শেফ, লেখক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব জুলিয়া চাইল্ড ফরাসি রান্নাকে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার লেখা Mastering the Art of French Cooking বইটি ফরাসি রান্নার নানা কৌশল ও পদ্ধতি সহজভাবে তুলে ধরে। ১৯৬৩ সালে তার টেলিভিশন অনুষ্ঠান The French Chef প্রচার শুরু হলে দর্শকেরা ঘরে বসেই ফরাসি খাবার তৈরির কৌশল শেখার সুযোগ পান।

রান্নার সময় ভুল হওয়াকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া এবং চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তার সহজ-স্বাভাবিক উপস্থাপনা অনেককে রান্না শিখতে উৎসাহিত করেছে। জটিল মনে হওয়া রান্নাও ধাপে ধাপে শেখা যায়—এই ধারণা জনপ্রিয় করতে তার অবদান উল্লেখযোগ্য।

ব্রিটিশ শেফ জেমি অলিভার পরিচিত সহজ উপকরণে সুস্বাদু খাবার তৈরির ধারণার জন্য। টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও রান্নার বইয়ের মাধ্যমে তিনি ঘরে রান্না করা, তাজা উপকরণ ব্যবহার এবং খাবার সম্পর্কে জানার প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছেন। তার কাজের একটি বড় দিক হলো রান্নাকে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সহজভাবে যুক্ত করা, যাতে রান্নার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়া জরুরি না মনে হয়।

রান্নার পাশাপাশি শিশুদের খাদ্যাভ্যাস ও স্কুলের খাবার নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন তিনি। তার বিভিন্ন উদ্যোগে পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং রান্না শেখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

ব্রিটিশ শেফ গর্ডন রামসে রেস্তোরাঁ পরিচালনা, পেশাদার রান্না এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছেন। রান্নার মান, উপকরণের সঠিক ব্যবহার, সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা এবং খাবার পরিবেশনের নিখুঁততা তার পেশাগত কাজের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

রান্নাবিষয়ক বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে নতুন ও অভিজ্ঞ রাঁধুনিদের দক্ষতা যাচাই এবং তাদের ভুল শুধরে দেওয়ার মাধ্যমে পেশাদার রান্নার নানা দিক দর্শকের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি। তার কাজের মধ্য দিয়ে রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে দলগত কাজ, প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলার গুরুত্বও আলোচনায় এসেছে।

ভারতীয় শেফ সঞ্জীব কাপুর টেলিভিশন অনুষ্ঠান, রান্নার বই ও বিভিন্ন খাদ্যবিষয়ক উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতীয় খাবারকে জনপ্রিয় করতে ভূমিকা রেখেছেন। তার কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পরিচিত ভারতীয় উপকরণ দিয়ে বিভিন্ন পদ তৈরির পদ্ধতি সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে তুলে ধরা।

ভারতীয় রান্নার বৈচিত্র্য—আঞ্চলিক মশলা, রান্নার ধরন ও উপকরণের ব্যবহার—নিয়ে তার উপস্থাপনা অনেক দর্শককে নতুন পদ সম্পর্কে জানতে এবং ঘরে রান্না করতে উৎসাহিত করেছে। পেশাদার রান্নার জ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও প্রকাশনার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার কাজ তার একটি উদাহরণ।

ইতালীয় শেফ মাসিমো বোতুরা রান্নায় নতুনত্ব আনার পাশাপাশি খাবারের অপচয় কমানোর উদ্যোগের জন্যও পরিচিত। তার প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সংস্থা ফুড ফর সোলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে কমিউনিটি প্রকল্প পরিচালিত হয়, যেখানে ফেলে দেওয়ার উপযোগী নয়—এমন উদ্বৃত্ত খাবারের উপকরণ কাজে লাগিয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা হয়।

বোতুরার উদ্যোগ দেখিয়েছে, রান্নার দক্ষতা শুধু দামি উপকরণ বা বিলাসবহুল রেস্তোরাঁর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিকল্পিতভাবে উপকরণ ব্যবহার, খাবারের অপচয় কমানো এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও শেফরা ভূমিকা রাখতে পারেন।

শেফদের অবদান শুধু স্বাদে নয়

একেকজন শেফের কাজের ক্ষেত্র আলাদা হলেও তাদের অবদানের একটি জায়গায় মিল রয়েছে—খাবারকে ঘিরে মানুষের অভিজ্ঞতা বদলে দেওয়া। কেউ নতুন রান্নার কৌশল শিখিয়েছেন, কেউ পরিচিত খাবারকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন, আবার কেউ পুষ্টি ও পরিবেশের মতো বিষয়কে রান্নার আলোচনায় এনেছেন।

আন্তর্জাতিক শেফ দিবস তাই শুধু পেশাদার রাঁধুনিদের সম্মান জানানোর দিন নয়; খাবারের পেছনে থাকা শ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে স্বীকৃতি দেওয়ারও উপলক্ষ। একই সঙ্গে খাবারের উৎস জানা, স্থানীয় ও মৌসুমি উপকরণ ব্যবহার এবং অপচয় কমানোর মতো অভ্যাস গড়ে তোলার গুরুত্বও মনে করিয়ে দেয় দিনটি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০১ পি.এম


মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উদযাপন

মিশরের রাজধানী কায়রোয় বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলার মরমি সাধক, মানবতাবাদী দার্শনিক ও কালজয়ী বাউল সংগীতসাধক ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লালনের জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে মানবতা, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতির চিরন্তন বার্তা তুলে ধরা হয়।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দূতাবাসের হলরুমে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিশরে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জি এম মেহেদী হাসান, যেখানে বক্তব্য রাখেন রেজাউল করিম, মাসুদ করিম চৌধুরী, নোমান করিম আজহারী এবং দূতাবাসের শ্রম সচিব মো. জাকির হোসেন।

বক্তারা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে লালন সাঁইয়ের অবিস্মরণীয় অবদান তুলে ধরেন। বক্তাদের মতে, লালনের গান ও দর্শন জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের বিভেদ অতিক্রম করে মানবতা, সাম্য, ভালোবাসা ও সামাজিক সম্প্রীতির শিক্ষা প্রদান করে। তার কালজয়ী সৃষ্টি আজও মানুষকে উদারতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে।

সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানান এবং বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক ও মানবতাবাদী চিন্তাবিদ লালন সাঁইয়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ফকির লালন সাঁইয়ের গান ও দর্শন জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাম্য, মৈত্রী, প্রেম, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির চিরন্তন বাণী বহন করে। ধর্মীয় সংকীর্ণতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিপরীতে মানবতার জয়গান গাওয়া তাঁর দর্শন আজও বিশ্বজুড়ে শান্তিকামী মানুষ, মানবতাবাদী চিন্তাবিদ ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের অনুপ্রাণিত করে।

গৌতম কুমার দে লালন সাঁইয়ের কালজয়ী দর্শনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, তার সৃষ্টি বাঙালির সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ভৌগোলিক ও ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে লালনের গান প্রচলিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গোঁড়ামিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে এবং মানবধর্মের চেতনাকে সমুন্নত করেছে। ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের বিভেদ পেরিয়ে অভিন্ন মানবসত্তাকে উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহিষ্ণু, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে লালনের শিক্ষা আজও গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা জোগায়।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত বাউল সম্প্রদায়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাউল সংস্কৃতি বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার মতে, সহনশীলতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ক্ষেত্রে লালন সাঁইয়ের দর্শন বর্তমানের অনিশ্চিত ও জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। লালনের সৃষ্টি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকজ ঐতিহ্য এবং অসাম্প্রদায়িক, উদার ও মানবতাবাদী পরিচয়ের উজ্জ্বল প্রতিফলন।

নতুন প্রজন্মের মধ্যে লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণ ও চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে লালনের জীবনদর্শন পৌঁছে দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিল্পীরা লালনগীতি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। শিশুদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনও উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অতিথিরা বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক স্বতন্ত্র ধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।

এছাড়া অনুষ্ঠানে লালন সাঁইয়ের জীবন, দর্শন এবং বাঙালি সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে তার অবদান নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মিশরে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, দেশটির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%