বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৫২ পি.এম
ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩১ অক্টোবর, যা সাত দফা দাবিতে পরিচালিত হবে। এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ। কর্মসূচিটি বাগেরহাট, খুলনা ও যশোরে পাঁচটি পথসভা এবং কুষ্টিয়ায় একটি জনসভার মাধ্যমে শেষ হবে।
খুলনা প্রেসক্লাবে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজকরা সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চের রুট, পথসভা ও সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াত ইসলামীর খুলনা মহানগর আমির মাওলানা মাহফুজুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে জানান, লংমার্চের গাড়িবহর ঢাকা থেকে যাত্রা করে ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ পার হয়ে বাগেরহাটের কাটাখালীতে প্রথম পথসভায় অংশ নেবে। এরপর খুলনার শিববাড়ী মোড়, ফুলতলা বাসস্ট্যান্ড এবং যশোরের মুরলী মোড়ে পর্যায়ক্রমে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। গাড়িবহর সেখান থেকে ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় পৌঁছাবে, যেখানে কর্মসূচি শেষ হবে জনসভার মাধ্যমে।
জামায়াত ইসলামীর খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক ও সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কারের আইনি পদ্ধতি বাস্তবায়ন এবং ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষসহ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠন করা হবে। এছাড়াও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা এবং একই ব্যক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক সংস্কার, বিচার বিভাগের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের সংকট নিরসন।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, ঢাকা থেকে আসা লংমার্চের গাড়িবহরে এক হাজারের বেশি যানবাহন যুক্ত হবে বলে আশা করছেন তারা। খুলনার শিববাড়ী মোড় ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের পথসভা সফল করতে ১৭টি উপকমিটি কাজ করছে। মঞ্চ নির্মাণের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রচার, মাইকিং ও গণসংযোগ চলছে। প্রচারের অংশ হিসেবে ২০টি তোরণও নির্মাণ করা হয়েছে।
যানবাহন রাখার জন্য জোড়াগেট, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল ও ময়ূরী আবাসিক এলাকায় পার্কিংয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পথসভাস্থলে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং যানবাহন চলাচলে সহযোগিতা করতে স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রশাসনের কাছ থেকেও সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানান আয়োজকরা।
কর্মসূচির কারণে নগরবাসী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার মানুষের সাময়িক দুর্ভোগ হতে পারে বলে আগাম দুঃখ প্রকাশ করেন জোটের নেতারা। লংমার্চ ও পথসভা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন: জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, এনসিপির মহানগর আহ্বায়ক আহম্মদ হামিম রাহাত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাইদুর রহমান, লেবার পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সাইফুদ্দোহা, বিডিপির মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. হানিফ উদ্দিন, জাগপার সভাপতি খান মো. রাশেদ, মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলম, প্রচার সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আব্দুল গফুর, এনসিপির ফয়জুল্লাহ ইকবাল শাকিল, ডা. মো. আবদুল্লাহ চৌধুরী, আব্দুল খালেক শিকদার, খালিদ সাইফুল্লাহ, মো. মনির হোসেন, গাজী শরিফুল ইসলাম (ওহিদ), নূরুল আলম নূর, মোহাম্মাদুল্লাহ হাফেজী (আরিয়ান), মোছাম্মদ জাকিয়া আক্তার প্রমুখ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদেরকে জ্ঞান ও স্বাধীনতা প্রদান করেছেন। তবে, এই স্বাধীনতা বল্গাহীন নয়। ইসলামের মূলনীতি অনুসরণ করেই সবকিছু করতে হবে।
ইসলামে ব্যবসার অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যবসায়ীদের নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও নেককারদের সঙ্গে পরকালে হাশর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে, এই ফজিলত সব ব্যবসায়ীর জন্য নয়। বরং যারা ব্যবসায় ইসলামের মূলনীতি অনুসরণ করবে, তাদের জন্যই এই ফজিলত। ইসলামে ব্যবসার দশটি মূলনীতি আলোচনা করা হলো-
ব্যবসায় কারো ক্ষতি করা যাবে না
ব্যবসার মাধ্যমে সবসময় মানুষের উপকার করার মানসিকতা থাকতে হবে। অন্যের ক্ষতি যেন না হয়, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিদ্ধান্ত দেন যে,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَضَى أَنْ لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ। নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং অন্যের ক্ষতি করা কোনোটিই উচিত নয়। (ইবনে মাজাহ: ২৩৪১)
ব্যবসায় গ্রাহকের কাছ থেকে লাভ করা ছাড়া, আমরা তাদের জিনিস ও সেবা প্রদান করছি। যদি আমরা যৌক্তিক লাভ করে থাকি এবং একচেটিয়া ব্যবসা না করি, তবে সমাজের জন্য এটি একটি বড় সহায়তা। ভালো জিনিস যৌক্তিক দামে প্রদান করায় সমাজের মানুষ সন্তুষ্ট হবে, এতে মহান আল্লাহও আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হবেন। যখন ব্যবসায়ী ও গ্রাহক উভয় পক্ষ অনুভব করবে যে তারা উপকৃত হয়েছে, তখন সেখানে একটি হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হবে। ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হয়ে যাবে, যা একটি সুগঠিত সমাজের জন্য প্রয়োজন। এতে উভয় পক্ষই পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার সাওয়াব পাবেন।
ধোঁকা, প্রতারণা ও ফাঁকিবাজি করা যাবে না।
এ ধরনের অপকর্ম ইসলামে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত। মন্দ জিনিস ভালো বলে চালিয়ে দেওয়া, ভালোর সঙ্গে মন্দের মিশ্রণ ঘটিয়ে ধোঁকা দেওয়া ইত্যাদি সম্পূর্ণ হারাম। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ عَلَى صُبْرَةِ طَعَامٍ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِيهَا، فَنَالَتْ أَصَابِعُهُ بَلَلًا فَقَالَ: «مَا هَذَا يَا صَاحِبَ الطَّعَامِ؟» قَالَ أَصَابَتْهُ السَّمَاءُ يَا رَسُولَ اللهِ। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি সেটাকে খাবারের উপরে রাখলে না কেন; যাতে লোকেরা দেখতে পেত? যে ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মত নয়।" (মুসলিম: ১০২)
মিথ্যার আশ্রয় নেয়া যাবে না
মিথ্যা একটি নিন্দনীয় ও বড় ধরনের অপরাধ। ব্যবসার সাথে মিথ্যার সংমিশ্রণ আরও বেশি মারাত্মক ও ক্ষতিকর। কোনো মুসলিম সত্যের সঙ্গে মিথ্যার সংমিশ্রণ করতে পারে না। সত্যকে গোপন করতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেন,
وَلَا تَلۡبِسُواْ ٱلۡحَقَّ بِٱلۡبَٰطِلِ وَتَكۡتُمُواْ ٱلۡحَقَّ وَأَنتُمۡ تَعۡلَمُونَ। তোমরা সত্যের সঙ্গে অসত্যের মিশ্রণ ঘটাবে না। জেনেশুনে সত্য গোপন করো না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪২)
একজন মুমিনের দোষ-ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক, যা মেনে নেওয়া যায়; কিন্তু একজন মুমিনের মধ্যে মিথ্যা ও খিয়ানতের দোষ থাকাকে কোনোক্রমেই মেনে নেওয়া যায় না। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো,
أيكون المؤمن جبانًا؟ قال: نعم। قيل: أيكون بخيلاً؟ قال: نعم। قيل: أيكون كذابًا؟ قال: لا। একজন মুমিন দুর্বল হওয়া কি স্বাভাবিক? তিনি বললেন, হ্যাঁ- হতে পারে। আবারও জিজ্ঞাসা করা হলো, মুমিন কি কৃপণ হতে পারে? বললেন, হ্যাঁ। তারপর জিজ্ঞাসা করা হলো, একজন মুমিন মিথ্যুক হতে পারে? বললেন, ‘না’। (বাইহাকি শুআবুল ঈমান: ৪৮১২)
হাদিসে একজন মুমিনের অন্যান্য দুর্বলতা বা দোষের কথা স্বাভাবিক বলা হলেও মিথ্যাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া হয়নি।
ওজনে নিজ স্বার্থরক্ষায় কমবেশি করা যাবে না।
অন্যকে দেয়ার সময় ওজনে কম দেওয়া আর নেয়ার সময় বেশি করে নেয়া জঘন্য অপরাধ। মহান আল্লাহ বলেন,
وَيۡلٞ لِّلۡمُطَفِّفِينَ -ٱلَّذِينَ إِذَا ٱكۡتَالُواْ عَلَى ٱلنَّاسِ يَسۡتَوۡفُونَ - وَإِذَا كَالُوهُمۡ أَو وَّزَنُوهُمۡ يُخۡسِرُونَ। ধ্বংস যারা পরিমাপে কম দেয় তাদের জন্য। যারা লোকদের কাছ থেকে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে। আর যখন তাদেরকে মেপে দেয় অথবা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়। (সুরা মুতাফফিফিন: ১-৩)
সুতরাং তুমি যখন কাউকে দেবে তখন কম দেবে না। তুমি যে কাজটি তোমার নিজের জন্য পছন্দ করো না, তা অন্যের জন্য কীভাবে পছন্দ করবে? তুমি যখন নিজের জন্য নাও, তখন তো তোমাকে মাপে কম দিলে তুমি সন্তুষ্ট হবে না। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ، حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ। তুমি তোমার নিজের জন্য যা ভালোবাসো তা অন্যের জন্যও ভালোবাসার আগ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না। (বুখারি: ১৩)
পণ্য বিক্রির জন্য মিথ্যা শপথ করা যাবে না।
মিথ্যা মানবতাবোধকে লোপ করে, নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় ঘটায়। মিথ্যাবাদীর উপর মহান আল্লাহর অভিশাপ। মিথ্যা বলে বা মিথ্যা শপথ করে পণ্য বিক্রি করার পরিণতি খুবই ভয়াবহ। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ: الْمَنَّانُ الَّذِي لَا يُعْطِي شَيْئًا إِلَّا مَنَّهُ، وَالْمُنَفِّقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْفَاجِرِ، وَالْمُسْبِلُ إِزَارَهُ। কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তিন ব্যক্তির সাথে কোনো ধরনের কথা বলবেন না, তাদের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। তাদের একজন- যে তার ব্যবসায়িক পণ্যকে মিথ্যা কসম খেয়ে বিক্রি করে। (মুসলিম: ১০৬)
অপর একটি হাদিসে এ দৃষ্টান্ত এভাবে তুলে ধরা হয়েছে-
رجل حلف على سلعة بعد العصر، لقد أعطي بها كذا، وكذا، فصدقه المشتري وهو كاذب। এক ব্যক্তি আসরের পর তার পণ্য সম্পর্কে কসম খেয়ে বলে, তাকে পণ্যটি এত এত মূল্যে দেয়া হয়েছে। তার কথা ক্রেতা বিশ্বাস করল, অথচ সে মিথ্যুক। (আবু দাউদ: ৩৪৭৪)
নিজে ঠকা যাবে না এবং অপরকেও ঠকানো যাবে না।
এক ব্যক্তি রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে অভিযোগ করল, যে সে বেচা-কেনাতে প্রতারিত হয়। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
إِذَا أَنْتَ بَايَعْتَ، فَقُلْ: لَا خِلَابَةَ، ثُمَّ أَنْتَ فِي كُلِّ سِلْعَةٍ ابْتَعْتَهَا بِالْخِيَارِ ثَلَاثَ لَيَالٍ। যখন তুমি ক্রয়-বিক্রয় করবে, তখন তুমি বলে দেবে যে কোনো প্রতারণা বা ঠকানোর দায়িত্ব আমি নেব না। তোমার জন্য তিনদিন পর্যন্ত পণ্য ফেরত দেওয়ার অধিকার রয়েছে। (বুখারি: ৬৯৬৪)
ব্যবসার সাথে সুদকে মেশানো যাবে না
সুদ একটি মারাত্মক অপরাধ। সুদ থেকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে। ব্যবসার নামে কোনো প্রকার সুদ চালু করা যাবে না। সুদের পরিণতি সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,
ٱلَّذِينَ يَأۡكُلُونَ ٱلرِّبَوٰاْ لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ ٱلَّذِي يَتَخَبَّطُهُ ٱلشَّيۡطَٰنُ مِنَ ٱلۡمَسِّۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ قَالُوٓاْ إِنَّمَا ٱلۡبَيۡعُ مِثۡلُ ٱلرِّبَوٰاْۗ وَأَحَلَّ ٱللَّهُ ٱلۡبَيۡعَ وَحَرَّمَ ٱلرِّبَوٰاْۚ। যারা সুদ খায় তারা কেয়ামতের দিন দণ্ডায়মান হবে শয়তানের আসরে মোহাবিষ্টদের মতো। কারণ, তারা বলে ক্রয়-বিক্রয় (ব্যবসা) ওতো সুদের মতো, অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৫)
মহান আল্লাহ আরও বলেন,
يَمۡحَقُ ٱللَّهُ ٱلرِّبَوٰاْ وَيُرۡبِي ٱلصَّدَقَٰتِۗ আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান খায়রাতকে বর্ধিত করেন। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৬)
লেনদেন যদি সুদ সংক্রান্ত হয় তবে হাদিসে এসেছে, জাবের ইবন আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন যে,
لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آكِلَ الرِّبَا، وَمُؤْكِلَهُ، وَكَاتِبَهُ، وَشَاهِدَيْهِ» ، وَقَالَ: «هُمْ سَوَاءٌ। আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, হিসাবকারী এবং সাক্ষী সবার প্রতি অভিশাপ দিয়েছেন এবং তিনি বলেন তারা সবাই সমান। (মুসলিম: ১৫৯৮)
অনুমানভিত্তিক ব্যবসা করা হতে বিরত থাকা।
বৃক্ষস্থিত ফলকে বৃক্ষ হতে আহরিত ফলের বিনিময়ে অনুমান করে বিক্রি করাকে মুযাবানা বলে। বিভিন্ন ধরনের মুযাবানা বর্তমানেও প্রচলিত আছে। ক্ষেতে অকীর্তিত খাদ্য শস্য যথা গম, বুট ইত্যাদিকে শুকনা পরিষ্কার করা খাদ্য যথা, গম, বুট ইত্যাদির বিনিময়ে অনুমান করে বিক্রি করাকে মুহাকালা বলে। সুদের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলোকেও সুদের অন্তর্ভুক্ত করে দেন। (ইবনে কাসির)
অপরের মাল হনন করার চেষ্টা করা যাবে না।
ব্যবসার জটিল মারপ্যাঁচে অন্যের মাল হরণ করা হারাম। মহান আল্লাহ বলেন,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَكُم بَيۡنَكُم بِٱلۡبَٰطِلِ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً عَن تَرَاضٖ مِّنكُمۡۚ। হে ঈমানদারগন, তোমরা একে অপরের মাল অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। মাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। (সুরা নিসা, আয়াত: ২৯)
হাদিসে এসেছে একটি ব্যবসায়িক লেনদেনে উভয় পক্ষই খুঁতসহ পণ্যেও সঠিক বর্ণনা দিতে হবে। ইসলামের বিজনেস কনডাক্ট সম্পর্কে জাবির (রা.) এভাবে বর্ণনা করেন রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
رَحِمَ اللَّهُ رَجُلًا سَمْحًا إِذَا بَاعَ، وَإِذَا اشْتَرَى، وَإِذَا اقْتَضَى। আল্লাহ তার প্রতি দয়া বর্ষণ করুক যে বিক্রির সময়, ক্রয়ের সময় এবং অভিযোগের সময় সদয় থাকে। (বুখারি: ২০৭৬)
মজুত করা যাবে না
অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে অন্তঃসারশূন্য ও বরবাদ করার জন্য যত প্রকার অর্থনৈতিক দুর্নীতি আছে, তন্মধ্যে অন্যতম হল মজুতদারি। মজুতদারির প্রভাবে দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বী হয়। এতে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং জনসাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, لاَ يَحْتَكِرُ إِلَّا خَاطِئٌ। মাত্র পাপী ব্যক্তিই মজুতদারি করে থাকে। (মুসলিম: ১৬০৫)
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) বিভিন্ন অনিয়ম ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পাঁচ শিক্ষক, এক কর্মকর্তা এবং এক কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৫তম সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। চাকরিচ্যুত হওয়া সাতজনই দীর্ঘ সময় ধরে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় ছিলেন।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্য করা, ভুয়া অভিজ্ঞতার তথ্য দিয়ে চাকরিতে যোগদান করা এবং নিয়োগের সময় বয়স সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম।
চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. পিন্টু চন্দ্র শীল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (আইইএম) বিভাগের অধ্যাপক ড. সুব্রত তলাপাত্র, এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (ইএসই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিবিড় মণ্ডল, মানবিক ও ব্যবসা বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসরুরা মোস্তফা এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহরিয়ার রোমান।
এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রি এবং অফিস সহায়ক সত্যজিৎ কুমার দত্তকেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট অনেকের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। কিছু অভিযুক্ত ব্যাখ্যা দিয়েছেন, আবার কিছু ব্যাখ্যা দেননি। পরে বিষয়গুলো সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপিত হলে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কুয়েটের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঞা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৫তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাতজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই অভিযোগ ছিল, যার কারণে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগের তদন্ত ও ব্যাখ্যা তলবের প্রক্রিয়া শেষে সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতভাবে পাঁচ শিক্ষক, এক কর্মকর্তা এবং এক কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটগ্রহণ শুরুর আগে থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। তারা নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বুড়িহাট উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এমন দৃশ্য দেখা যায়। যদিও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল সকাল ৮টায়, তবুও তার আগেই ভোট দিতে আসা নারীরা সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছিলেন।
ভোট দিতে আসা বৃদ্ধা শান্তি বালা বলেন, "সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে বাড়ির কাজ শেষ করেছি। এরপর রান্নাবান্না ও খাওয়াদাওয়া সেরে ভোট দিতে এসেছি। সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে সকাল সকাল বাড়ি থেকে বের হয়েছি। কেন্দ্রে এসে দেখি, আরও অনেকে ভোট দিতে এসেছেন। ভোটগ্রহণ শুরু না হওয়ায় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি। ভোট শুরু হলে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি।"
আরেক ভোটার প্রতিমা রানী জানান, "সকালে ভিড় কম থাকে বলে আগেভাগেই ভোট দিতে কেন্দ্রে এসেছি। ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি।"
বুড়িহাট উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, "এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৬৮৭ জন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।"
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, "ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্ব পালন করছেন।"
ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. আফতাব উজ্জামান জানান, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টায় ১৮৫টি কেন্দ্রে ৩৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের তিন উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ১৮৫টি। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন- বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, মো. আবদুল আলীম নিজামী এবং হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
তবে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির জেলা সহসভাপতি মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন পাঁচজন। তাদের মধ্যে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে ঘিরে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসনটিতে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শরীরের বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে। চলাফেরার জন্য লাঠি অথবা অন্যের সহায়তা প্রয়োজন। তবে ভোট দেয়ার আগ্রহে কোনো কমতি নেই। ৯৮ বছর বয়সী মো. জসিম উদ্দিন ও ৮৯ বছর বয়সী অমেলা বেওয়া ভোট দিতে লাঠি ও অন্যের কাঁধে ভর করে ভোটকেন্দ্রে এসেছেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে তাদের উপস্থিতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লী উপজেলার কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে তারা ভোট দিতে আসেন।
কেন্দ্রে প্রবেশের সময় দেখা যায়, ৯৮ বছর বয়সী জসিম উদ্দিন এক আনসার সদস্যের সহায়তায় ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করছেন। বয়সের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে কষ্ট হলেও ভোট দেয়ার জন্য তিনি কেন্দ্রে এসেছেন।
অন্যদিকে, ৮৯ বছর বয়সী অমেলা বেওয়া তার ভাগনে আব্দুল রশিদের কাঁধে ভর করে ভোটকেন্দ্রে আসেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে ভোট দিতে তাদের এই আগ্রহ ভোটাধিকারের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন জানান, সকালে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভোটাররা ধীরে ধীরে কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এ কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৭৬ জন।
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকায় মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, মো. আবদুল আলীম নিজামী এবং হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
তবে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ২০ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসনটিতে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ