ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাজীপুরে চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার


গাজীপুরে চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

গাজীপুরে চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস হত্যা মামলার পলাতক প্রধান হাসিবুল হাসান নাঈম (২১) কে র‍্যাব-৪ সিপিসি-২ নবীনগর ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল আশুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার (২১ জুলাই) প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে র‍্যাব-৪, সিপিসি-২, নবীনগর ক্যাম্পের অধিনায়ক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের জিরানী এলাকা থেকে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হাসিবুল ফারুক নাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর জেলার বাসিন্দা নাইম মাঝি (২৪) চট্টগ্রামে বসবাস করতেন এবং দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে একজন রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৪ সালের অক্টোবর মাসের ১০ তারিখ বিকেলে কাজে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। ভাই বাড়িতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও নাইম ফিরে না আসায় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেন, কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর তিনি বিভিন্ন স্থানে খোঁজার চেষ্টা করেন এবং শেষে চট্টগ্রাম মহানগরের কর্ণফুলী থানায় গিয়ে জিডি করেন।

হন্য হয়ে খোঁজার একপর্যায়ে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন সামান্তপুর এলাকায় আফজাল হোসেনের রূপালী হ্যাচারির দক্ষিণ পাশে এরশাদের ধানী জমিতে নাইমের রক্তমাখা ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া যায়।

গাজীপুর সদর থানায় মামলাটি রুজু হওয়ার পরই ক্লু-লেস নৃশংস হত্যা মামলার ঘটনার ছায়াতদন্তে নামতে শুরু করে র‍্যাবের অভিযানিক গোয়েন্দা দল। তাদেরই ধারাবাহিকতায় প্রধান আসামি হাসিবুল হাসান নাঈমকে জিরানি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লির আন্দোলনে পুলিশের আঘাত, গুরুতর আহত তরুণী ভর্তি আইসিইউতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


দিল্লির আন্দোলনে পুলিশের আঘাত, গুরুতর আহত তরুণী ভর্তি আইসিইউতে

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনলাইনভিত্তিক জেন-জি সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ২০ বছর বয়সী এক তরুণী বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ তথ্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার (২০ জুলাই) জনতার দল নামে একটি রাজনৈতিক দলের ডাকা সংসদ চলো কর্মসূচিতে পুলিশ অভিযান চালানোর সময় দিল্লির যন্তর মন্তরে একটি ব্যারিকেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ওই তরুণী গুরুতরভাবে আহত হন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনার পেছনে পুলিশের লাঠি চার্জে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগানো একটি প্রধান কারণ।

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এ ঘটনায় অন্তত ৯০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৯ জনকে ওই মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালেই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা যন্ত্র মন্তর থেকে সংসদের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের অভিযোগ, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।

দিল্লি পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের কারণে ১১৮ জনের বেশি পুলিশ সদস্য এবং প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ২০টির বেশি পুলিশের যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করেন।

এদিকে, আন্দোলনকারীদের দুই প্রতিনিধি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে তিনটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের নিঃশর্ত মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের যন্ত্রmontর অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে।

তবে সংঘর্ষের পরও মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা আবারও যন্ত্রmontরে বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ আগের দিন মঞ্চ ও তাঁবু সরিয়ে দিলেও দলের আহ্বানে তারা আবার সেখানে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের দিকে মিছিল করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। একই সঙ্গে আটক ও আহত আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কংগ্রেস।

দিল্লি পুলিশ জানায়, সোমবারের (২০ জুলাই) সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সহিংসতা, ভাঙচুর এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে আরও দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের সংসদীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত ফলও প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শর্ট সার্কিটের কারণে পুড়ল বসতঘর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


শর্ট সার্কিটের কারণে পুড়ল বসতঘর

ঢাকার ধামরাইয়ে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে একটি বসতঘরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এই ঘটনায় প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরবেলা উপজেলার পাল্লি-কুল্লা এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার কিছু পরে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। পরে ধামরাই ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছেছে। প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। ভুক্তভোগীর নাম পাল্লি এলাকার ময়নাল হোসেন (৪৫)।

ধামরাই ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার আল আমিন খান বলেন, প্রাথমিকভাবেই ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই বসতঘরটিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

তিনি আরো জানান, আগুনের কারণে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধারে সক্ষম হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতজুড়ে জুলাই নেমেছে, মোদির বিদায় ঘণ্টা কি বেজে গেছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৩ পি.এম


ভারতজুড়ে জুলাই নেমেছে, মোদির বিদায় ঘণ্টা কি বেজে গেছে?

ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনেক তরুণ-তরুণী রাজধানী দিল্লির রাজপথে নেমে এসেছে। ব্যঙ্গাত্মক একটি অনলাইন উদ্যোগ, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), এখন দেশের অন্যতম আলোচিত সংগঠনের তরুণ আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগে রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপ মজা করে ইন্সটাগ্রাম, টুইটারে আইডি খুলে এই উদ্যোগ শুরু করেন। পরে সদস্য হওয়ার জন্য একটি নিবন্ধন ফরম প্রকাশ করা হলে অল্প সময়েই হাজারো মানুষ এতে নাম লেখান। এরপর আন্দোলনটি বড় আকার ধারণ করে।

গত ১৯ জুলাই এই দলটি সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দেয়। সেই কর্মসূচিতে দিল্লিতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। একই সময়ে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াসহ বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ এবং মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালিত হয়।

আন্দোলনে নতুন গতি আসে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশনের পর। গত ২৮ জুন তিনি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন। মোদী প্রশাসনের পুলিশ পরে তাকে জোর করেই হাসপাতালে নিয়ে যায়, এই ঘটনা আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে তিনি হাসপাতালেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আন্দোলনের নাম ককরোচ জনতা পার্টি রাখা হয়েছে, ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে ব্যঙ্গ করে। একটি শুনানিতে তিনি ভুয়া সনদধারী কিছু মানুষকে ককরোচ বা তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। পরে তিনি জানান, মন্তব্যটি দেশের সব তরুণকে উদ্দেশ্য করে করা হয়নি। এরপর আন্দোলনকারীরা সেই নাম গ্রহণ করে প্রতিবাদ শুরু করেন।

আন্দোলনের মূল দাবি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও তারা দাবি করছেন।

এ বছরে চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল করা হলে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে বহু শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই ঘটনার সাথে যুক্ত মানসিক চাপে অন্তত ২০ জন পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

এদিকে সোমবার (২০ জুলাই) সংসদ চলো কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা, সংঘর্ষ এবং ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দিল্লি পুলিশ ছয়টি মামলা করেছে। তবে ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এছাড়া প্রস্তাবিত ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে আয়োজিত মহাসমাবেশে অংশ নিতে শত শত কৃষক নিজেদের গরু-মহিষ নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। একই সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানানোর জন্য ভারতের পাঞ্জাবের শত শত শিখ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও হাজারো মানুষ দিল্লিমুখী অভিযাত্রা করছেন। তাদের আটকাতে মোদি সরকার বিভিন্ন বাঁধার সৃষ্টি করছেন।

বুধবার (২২ জুলাই) আন্দোলনের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে তারা শর্ত আরোপ করেছেন যে, আলোচনা কোনো সরকারি দপ্তর বা মন্ত্রীর বাসভবনে নয়, যন্তর মন্তর বা নিরপেক্ষ কোনো স্থানে হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শুরু থেকেই তারা সংলাপের পক্ষে ছিলেন।

এ আন্দোলন ইতোমধ্যে ভারতের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থনও পেয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের সংসদীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত ফলও প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের তরুণ-তরুণীরা বাংলাদেশ এবং নেপালের জেন-জি গণঅভ্যুত্থান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিম, হাসি ও প্রতিবাদের মাধ্যমে ভারতের তরুণদের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ পি.এম


মিম, হাসি ও প্রতিবাদের মাধ্যমে ভারতের তরুণদের বিক্ষোভ

ভারতের তরুণদের প্রতিবাদের ধরন এখন পরিবর্তিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মিম, ছোট ভিডিও এবং ব্যঙ্গ-রস নিয়ে, এসব কিছুকে সঙ্গে নিয়ে হাজারো তরুণ-তরুণী রাজপথে নেমে এসেছেন। তাদের আন্দোলন শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং জবাবদিহির দাবির উপর ভিত্তি করে, যা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সংসদের উদ্দেশে পদযাত্রার অংশ নিতে যাওয়ার আগে তরুণদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মজার ভিডিও এবং ছবি প্রকাশ করেছেন। পরবর্তীতে সেই কর্মসূচিতে পুলিশি সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জের মতো ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি ভারতের নতুন প্রজন্মের একটি ভিন্নধর্মী আন্দোলন। তারা শুধু স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাকার্ড, মিম এবং ছোট ছোট ভিডিওর মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য প্রকাশ করেছে। অনেক তরুণের হাতে ছিল এমন লেখা, যা একদিকে হাস্যরস সৃষ্টি করেছে এবং অন্যদিকে সরকারের প্রতি তাদের ক্ষোভও প্রকাশ করেছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস, চাকরির অনিশ্চয়তা, শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা থেকেই এই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তরুণদের দাবি, এসব বিষয়ে সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে।

আন্দোলনের একটি বিশাল অংশজুড়ে ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। অনেক তরুণই কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুতির ভিডিও প্রকাশ করেছেন। আবার পুলিশের ব্যারিকেড এড়িয়ে দৌড়ানোর দৃশ্য, প্রতিবাদের মুহূর্ত এবং বিভিন্ন ঘটনার চিত্র দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আন্দোলন আরও বড় আকারে মানুষের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু দিল্লি নয়, কলকাতা, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, চণ্ডীগড়সহ দেশের বিভিন্ন শহরেও সংহতি কর্মসূচি পালিত হয়েছে। যাঁরা সরাসরি অংশ নিতে পারেননি, তাঁদের অনেকেই আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার পাঠিয়েছেন। কিছু জায়গায় বিনামূল্যে চা বিতরণের ব্যবস্থাও করা হয়।

আন্দোলনের সূচনা সময়ের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন করছিলেন। পরে সেই আন্দোলন আরও গতি পায়, যখন মোদি প্রশাসন কর্তৃক তাকে জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সংসদ অভিমুখে সোমবার (২০ জুলাই) পদযাত্রার ডাক দেওয়া হলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এবং তরুণ এতে অংশ নেন।

হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ভারতের নতুন প্রজন্ম প্রতিবাদকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে। তারা হাস্যরস, মিম, গান, ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে এসবের আড়ালে তাদের মূল লক্ষ্য একটাই, তাঁদের দাবি ও ক্ষোভকে সবার সামনে তুলে ধরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%