প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের তরুণদের প্রতিবাদের ধরন এখন পরিবর্তিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মিম, ছোট ভিডিও এবং ব্যঙ্গ-রস নিয়ে, এসব কিছুকে সঙ্গে নিয়ে হাজারো তরুণ-তরুণী রাজপথে নেমে এসেছেন। তাদের আন্দোলন শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং জবাবদিহির দাবির উপর ভিত্তি করে, যা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সংসদের উদ্দেশে পদযাত্রার অংশ নিতে যাওয়ার আগে তরুণদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মজার ভিডিও এবং ছবি প্রকাশ করেছেন। পরবর্তীতে সেই কর্মসূচিতে পুলিশি সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জের মতো ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি ভারতের নতুন প্রজন্মের একটি ভিন্নধর্মী আন্দোলন। তারা শুধু স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাকার্ড, মিম এবং ছোট ছোট ভিডিওর মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য প্রকাশ করেছে। অনেক তরুণের হাতে ছিল এমন লেখা, যা একদিকে হাস্যরস সৃষ্টি করেছে এবং অন্যদিকে সরকারের প্রতি তাদের ক্ষোভও প্রকাশ করেছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস, চাকরির অনিশ্চয়তা, শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা থেকেই এই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তরুণদের দাবি, এসব বিষয়ে সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে।
আন্দোলনের একটি বিশাল অংশজুড়ে ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। অনেক তরুণই কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুতির ভিডিও প্রকাশ করেছেন। আবার পুলিশের ব্যারিকেড এড়িয়ে দৌড়ানোর দৃশ্য, প্রতিবাদের মুহূর্ত এবং বিভিন্ন ঘটনার চিত্র দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আন্দোলন আরও বড় আকারে মানুষের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু দিল্লি নয়, কলকাতা, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, চণ্ডীগড়সহ দেশের বিভিন্ন শহরেও সংহতি কর্মসূচি পালিত হয়েছে। যাঁরা সরাসরি অংশ নিতে পারেননি, তাঁদের অনেকেই আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার পাঠিয়েছেন। কিছু জায়গায় বিনামূল্যে চা বিতরণের ব্যবস্থাও করা হয়।
আন্দোলনের সূচনা সময়ের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন করছিলেন। পরে সেই আন্দোলন আরও গতি পায়, যখন মোদি প্রশাসন কর্তৃক তাকে জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সংসদ অভিমুখে সোমবার (২০ জুলাই) পদযাত্রার ডাক দেওয়া হলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এবং তরুণ এতে অংশ নেন।
হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ভারতের নতুন প্রজন্ম প্রতিবাদকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে। তারা হাস্যরস, মিম, গান, ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে এসবের আড়ালে তাদের মূল লক্ষ্য একটাই, তাঁদের দাবি ও ক্ষোভকে সবার সামনে তুলে ধরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন