ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এসসিও সম্মেলনে শাহবাজ শরিফ ‘পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না’


এসসিও সম্মেলনে শাহবাজ শরিফ  ‘পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক চাপ তৈরির জন্য পানি কোনোভাবেই ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, পানি এই অঞ্চলের মানুষের জীবন ও ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

এটি তিনি কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় বলেন।

শাহবাজ শরিফ আরও বলেন, আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোকে অবশ্যই তাদের মূল উদ্দেশ্য ও শর্ত অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা চাপ প্রয়োগের জন্য পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা অগ্রহণযোগ্য।” পানি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শাহবাজ শরিফ এই মন্তব্য করেছেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই শান্তি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা ছাড়া দক্ষিণ এশিয়া তার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারবে না। তিনি বলেন, “পানি আমাদের অঞ্চলের জীবনধারা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনের নিশ্চয়তা।”

আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোকে সম্মান করা এবং নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী সেগুলো বাস্তবায়নের ওপরও তিনি জোর দেন। তার মতে, অভিন্ন পানিসম্পদ নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত ব্যবস্থার মাধ্যমে তার সমাধান করা উচিত।

এ সময় তিনি তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন। শাহবাজ শরিফ স্পষ্ট করেন যে, মক্কা চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

তিনি বলেন, পাকিস্তান বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ মীমাংসার পক্ষে। সম্প্রতি আঞ্চলিক সংকটের সময় উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে ইসলামাবাদে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

শাহবাজ বলেন, পাকিস্তান সব বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলায় বিশ্বাসী। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত চুক্তি ও প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংকট দেখিয়েছে যে নিরাপদ জ্বালানি করিডোর এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা জরুরি।

তথ্যসূত্র: সামা টিভি

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রকাশের পরই নিষিদ্ধ হয়েছিল সালমান শাহকে নিয়ে লেখা যে বই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


প্রকাশের পরই নিষিদ্ধ হয়েছিল সালমান শাহকে নিয়ে লেখা যে বই

বাংলা চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক অতিক্রান্ত হলেও, তার মৃত্যু সংক্রান্ত রহস্য, আলোচনা এবং বিতর্ক থামেনি। এই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে একটি বই, যা প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই আদালতের নির্দেশে নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

‘সালমান শাহ, নক্ষত্রের আত্মহত্যা’ শিরোনামের বইটি সাংবাদিক রবি আরমান লিখেছেন। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত এই বইয়ে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয়টি বইটির বিরুদ্ধে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে।

বইটি প্রকাশের পর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী এর বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, বইটিতে সালমান শাহর মৃত্যু সম্পর্কে অসত্য এবং মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এ কারণে তিনি লেখক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রেক্ষিতে আদালত বইটির বিক্রি ও বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বাজারে থাকা কপিগুলো বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়। এর ফলে প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যে বইটি নিষিদ্ধ হয়ে দুর্লভ গ্রন্থে পরিণত হয়।

একজন তৎকালীন জ্যেষ্ঠ বিনোদন সাংবাদিকের মতে, বইটিতে সালমান শাহর মৃত্যুর ক্ষেত্রে ‘আত্মহত্যা’ শব্দটি ব্যবহারের কারণেই পরিবারের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি আপত্তি ওঠে। কারণ সালমান শাহর মা বরাবরই দাবি করে আসছেন যে, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছিল।

বইটির প্রচ্ছদের পেছনের লেখায় সালমান শাহকে বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে উদিত এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তার অকালমৃত্যুর বেদনা এবং মৃত্যু ঘিরে রহস্যের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশের সময় বইটির প্রচারণায় বলা হয়েছিল, এতে সালমান শাহর ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা অধ্যায়ের পাশাপাশি সে সময়ের ঢাকাই চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিভিন্ন ঘটনা উঠে এসেছে। ফলে বইটি নিয়ে পাঠক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল।

কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বইটির স্বাভাবিক বিপণন সম্ভব হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর কপি বিরল হয়ে ওঠে। তবুও সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য নিয়ে মানুষের আগ্রহ অব্যাহত থাকায় বইটিকে ঘিরে কৌতূহল আজও রয়ে গেছে।

সালমান শাহর মৃত্যুর এত বছর পরেও তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে আলোচনা থামেনি। সেই দীর্ঘ বিতর্কের ইতিহাসে ‘সালমান শাহ, নক্ষত্রের আত্মহত্যা’ বইটি এখনো একটি আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ-লবা-য়ু নিয়ে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান নেপালের প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


জ-লবা-য়ু নিয়ে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান নেপালের প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : গত সপ্তাহে হিমালয় অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার কারণে প্রাণহানির ঘটনার প্রেক্ষাপটে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ মন্তব্য করেছেন যে, এটি কোনো ‘সাধারণ বন্যা’ নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলস্বরূপ এই বিপর্যয় ঘটেছে।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

এই খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

চীন-নেপাল সীমান্তে একটি হিমবাহ ধসে বরফশীতল পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল ঢল নেমে এসেছে। এই ঘটনায় অন্তত ৯৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। কাঠমান্ডু জানিয়েছে, দুর্যোগের পর পুনর্গঠনে ‘কয়েক বিলিয়ন ডলার’ ব্যয় হতে পারে।

সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘রাসুয়া এলাকায় ভোতে কোশি নদীর বন্যা কোনো সাধারণ বন্যা ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘হিমালয় অঞ্চলে তুষার ও বরফের বিশাল স্তর ধসে পড়ার ফলে এই দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে। এটি ছিল এ অঞ্চলের ভয়াবহ বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ।’

হিমবাহ ধসের সঠিক কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে, যার ফলে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়ের বরফও আগের তুলনায় দ্রুত গলছে।

শাহ বলেন, ‘এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে আমরা যেসব ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছি, সেগুলোও বাড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাই এই অঞ্চলের প্রতি আমাদের সতর্ক নজর রাখতে হবে।’

নেপালের প্রায় ৩ কোটি মানুষের মধ্যে অধিকাংশই গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন। শিল্পোন্নত ও ধনী দেশগুলোর বিপুল কার্বন নিঃসরণের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য নেপালের অবদান খুবই সামান্য। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের বড় একটি অংশ দেশটিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেপালের এ বিষয়টিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা উচিত।

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যেসব দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছি, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালোভাবে আমাদের দাবি তুলে ধরার এখনই সময়।’

বৃহত্তর হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালা থেকে নেমে আসা হিমবাহের পানি পাহাড়ি অঞ্চলের প্রায় ২৪ কোটি মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পানির উৎস। একই পানি নিচের দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নদী অববাহিকায় বসবাসকারী আরও প্রায় ১৬৫ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ২০২৩ সালে নেপাল সফরের সময় সতর্ক করে বলেছিলেন, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং ‘পৃথিবীর ছাদ ধসে পড়ছে’।

বুধবারের ভয়াবহ দুর্যোগের পর জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল মন্তব্য করেন, এই ঘটনা ‘পাহাড়ি পরিবেশ কতটা নাজুক হতে পারে, তার এক ভয়াবহ স্মারক’।

এদিকে, বড় ধরনের এই দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের সম্পদ সীমিত থাকায় দেশটির অর্থনীতি ইতোমধ্যেই চাপের মুখে রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনভিডিয়া-সমর্থিত স্টার্টআপের সঙ্গে কম্পিউটিং চুক্তি অ্যানথ্রপিকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


এনভিডিয়া-সমর্থিত স্টার্টআপের সঙ্গে কম্পিউটিং চুক্তি অ্যানথ্রপিকের

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক একটি স্টার্টআপ-এর সঙ্গে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এবং এনভিডিয়ার সমর্থনপুষ্ট।

এই চুক্তি অ্যানথ্রপিকের জন্য একটি নতুন সংযোজন, যা উন্নত কম্পিউটিং সক্ষমতার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে।

এএফপি সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে জানা যায়, সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক এআই প্রতিষ্ঠানটি ল্যামডার সঙ্গে ছয় বছরের চুক্তি করেছে। ল্যামডা ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে থেকে ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা প্রদান করে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিটকয়েন মাইনিং ও ডেটা সেন্টার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান হাট ৮ যে ডেটা সেন্টার নির্মাণ করছে, সেখানে ল্যামডা কম্পিউটিং সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করবে।

অ্যানথ্রপিক টেক্সাসে হাট ৮-এর নির্মাণাধীন একটি ডেটা সেন্টার থেকে কম্পিউটিং সুবিধা গ্রহণ করবে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সোমবার জানিয়েছে, অ্যানথ্রপিক এবং ল্যামডা—দুই প্রতিষ্ঠানেই বিনিয়োগকারী এনভিডিয়া হাট ৮-এর কাছ থেকে ডেটা সেন্টারটি লিজ নেবে।

এরপর ল্যামডা ওই ডেটা সেন্টার ব্যবহারের জন্য এনভিডিয়াকে একটি অপ্রকাশিত অর্থ পরিশোধ করবে।

সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক লন্ডনভিত্তিক ক্লাউড সেবা প্রতিষ্ঠান এনস্কেলের সঙ্গে ছয় বছরের একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

এএফপির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের ওই চুক্তির আওতায় অ্যানথ্রপিক পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় এনস্কেলের একটি স্থাপনায় কম্পিউটিং সক্ষমতা পাবে।

শুধুমাত্র চলতি বছরেই অ্যানথ্রপিক কমপক্ষে ১৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন কম্পিউটিং চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

গ্রাহক আকর্ষণ ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে এআই প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই’র মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। উভয় প্রতিষ্ঠানই শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গত কয়েক বছরে এআই মডেল নির্মাতাদের মধ্যে গ্রাহক এবং কম্পিউটিং সক্ষমতা পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে, যার ফলে চিপ এবং উন্নত কম্পিউটিং শক্তির চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে, এই বাড়তি চাহিদার কারণে ভোক্তা ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন খাতে চিপ সরবরাহের বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নজরুলের গাজীপুর সফর স্মরণীয় করতে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ পি.এম


নজরুলের গাজীপুর সফর স্মরণীয় করতে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২৬ সালে এক উত্তাল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতীয় কেন্দ্রীয় আইনসভা নির্বাচনে (সেন্ট্রাল লেজিসলেটিভ এসেম্বলী) স্বরাজ পার্টির হয়ে গণসংযোগের উদ্দেশ্যে গাজীপুরের জয়দেবপুরে আসেন।

তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও বাকেরগঞ্জ সমন্বয়ে গঠিত বিশাল আসনের মুসলিম সংরক্ষিত পদে তিনি প্রার্থী হন। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে নজরুল ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করেন। এই সফরের এক পর্যায়ে তিনি ট্রেনে চড়ে রাজবাড়ির পরগনাখ্যাত জয়দেবপুর ও তৎকালীন গাজীপুর অঞ্চলে আসেন।

এক শতাব্দী আগে, শরৎ-হেমন্ত ঋতুতে সেই রাজনৈতিক ভ্রমণের ধকলের মধ্যেও কবির সংবেদনশীল হৃদয়ে প্রকৃতির চিরন্তন সৌন্দর্য-বন্দনা জেগে উঠেছিল।

সেই সৌন্দর্যচেতনা থেকেই জন্ম নিয়েছিল বাংলা সাহিত্যের অন্যতম নান্দনিক রূপকল্পসমৃদ্ধ কবিতা ‘চাঁদনী রাতে’, যার প্রাথমিক নাম ছিল ‘জয়দেবপুরের পথে’।

কাজী নজরুলের ঐতিহাসিক সফর ও অবস্থানের সময়কাল নিয়ে বাসসের সঙ্গে কথা বলেন গাজীপুরের ভাষা শহীদ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মুকুল কুমার মল্লিক। তিনি জানান, কাজী নজরুল 'জয়দেবপুরের পথে' কবিতাটি ১৯২৬ সালের নভেম্বর মাসে ট্রেনে চড়ে রাতের দিকে আসার পথে লিখেছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় কবি ঢাকায় ৫২, বেচারাম দেউড়ীতে অবস্থান করতেন। প্রচার কাজে নভেম্বর মাসের ১ম থেকে ২১ তারিখের মধ্যে কোনো একদিন তিনি রাতের ট্রেনে গাজীপুর হয়ে ময়মনসিংহ যান। তিনি আরো জানান, যতটুকু জানা যায়, নজরুল গাজীপুরে এসে তৎকালীন ভাওয়াল রাজার ডাকবাংলোতে রাত যাপন করেছিলেন এবং পরদিন নির্বাচনী গণসংযোগ শেষ করে গন্তব্যে চলে যান। এই সফরে তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন কবি আবদুল কাদির।

গাজীপুরের ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে, নির্বাচনী বাস্তবতার দ্বন্দ্ব-সংঘাত কবির সৌন্দর্যবোধকে প্রাণহীন করতে পারেনি। সেই রাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নজরুলের সফরসঙ্গী কবি আবদুল কাদির লিখেছিলেন-‘জ্যোৎস্না রাত্রি, সমস্ত আকাশ গেছে কৌমুদীতে ভরে, সারা দিগন্তদেশ যেন তারি আনন্দে উদ্বেল। কবি জয়দেবপুর চলেছেন নির্বাচনের তদবির করতে, কিন্তু তাঁর মনের অঙ্গন থেকে সম্পূর্ণ অবলুপ্ত হয়ে গেছে বাস্তব সংসারের সকল দ্বন্দ্ব-দ্বেষ সংক্ষোভ সংঘর্ষ, শুধু বাজছে দিগন্তপ্লাবী সৌন্দর্যের একটানা সুর-মূর্ছনা। সেই সৌন্দর্যের সূত্রে তিনি গেঁথে চললেন শ্লোকের পর শ্লোক। রচিত হলো একটি নাতিদীর্ঘ কবিতা: জয়দেবপুরের পথে।’

গাজীপুর মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমেদ তাঁর ‘গাজীপুর জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে তাঁর বিখ্যাত, 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত এই অমর কবিতাটি একটি অনন্য নান্দনিক রূপকল্পের নিদর্শন। ৩৬ চরণের এই কবিতার প্রতি লাইনে সাত-আটটি শব্দের অপূর্ব চয়ন জয়দেবপুরের তৎকালীন শান্ত, স্নিগ্ধ ও রূপময় পরিবেশকেই তুলে ধরে।

গ্রন্থটির গবেষণা অনুযায়ী, কবিতাটি মোহাম্মদ কাশেম সম্পাদিত 'অভিযান' পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় ছাপার জন্যে দেয়া হয়। পত্রিকাটির আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে সম্পাদক কবিতা চাইলে নজরুল ‘জয়দেবপুরের পথে’ শিরোনামেই এটি পাঠান। পরবর্তীসময়ে 'অভিযান' বন্ধ হয়ে গেলে কবি আবদুল কাদির সম্পাদিত 'জয়তি' পত্রিকায় কবিতাটি নতুন নাম ‘চাঁদনী রাতে’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। এরপর এটি কবির বিখ্যাত 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থে স্থান পায়।

কবিতাটিতে কবি জয়দেবপুরের রাতের আকাশ, প্রকৃতি ও মেঘ-জোছনার খেলাকে যেভাবে অলঙ্কৃত করেছেন, তা এক অতুলনীয় কাব্যিক সুষমায় মণ্ডিত। কবি লিখেছেন:

‘কোদালে মেঘের মউজ উঠেছে গগনের নীল গাঙে,

হাবুডুবু খায় তারা-বুদ্বুদ্, জোছনা সোনায় রাঙে।’

রাতের কুয়াশা ও দিকচক্রের বৃক্ষরাজি দেখে নজরুলের কল্পনা পৌঁছে যায় বহুদূরে। কবিতার ছত্রে ছত্রে ফুটে ওঠে প্রকৃতির মোহনীয় রূপ:

‘দিক্চক্রের ছায়া-ঘন ঐ সবুজ তরুর সারি,

নীহার নেটের কুয়াশা-মশারি ও কি বর্ডার তারই?’

এমনকি বিরহ ও আবেগের নিখুঁত ছোঁয়ায় তিনি রূপক তৈরি করে লেখেন:

‘আবেগে সোহাগে আকাশ-প্রিয়ার চিবুক বাহিয়া ও কি

শিশিরের রূপে ঘর্মবিন্দু ঝ'রে ঝ'রে পড়ে সখি...’

একই সফরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে গাজীপুরের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুবোধ চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমরা প্রামাণ্য তথ্যে জানতে পেরেছি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২৬ সালে নির্বাচনী প্রচারণার কাজেই জয়দেবপুরে এসেছিলেন। সফরটি গাজীপুরের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়।’

তিনি বলেন, জাতীয় কবির এই সফর স্মরণীয় হলেও গাজীপুরে সরকারি উদ্যোগে নজরুল স্মৃতি রক্ষার্থে কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। এ নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ ও অনুযোগ রয়েছে।

গাজীপুরে মরহুম নজরুল ইসলাম বাদামী প্রতিষ্ঠিত ‘বিদ্রোহী কবি স্মৃতি সংসদ’-এর বর্তমান চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বিপ্লব বলেন, ‘গাজীপুরে সরকারি উদ্যোগে কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি রক্ষার্থে কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। জাতীয় কবির এই ঐতিহাসিক সফরের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে গাজীপুরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে 'জয়দেবপুরের পথে' কবিতাটি জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমরা সরকারের প্রতি আকুল আহ্বান জানাচ্ছি।’

১৯২৬ সালের সেই জোছনাধোয়া রাতে জয়দেবপুরের পথে ট্রেনের কামরায় বসে কবি নজরুল যে সাহিত্যসৃষ্টির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা এক শতাব্দী পরেও অমলিন। নির্বাচনী জটিলতার মধ্যেও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে কালজয়ী পংক্তিমালা উপহার দেওয়ার এই স্মৃতি গাজীপুরবাসীর জন্য এক পরম গর্বের বিষয়।

ইতিহাসবিদ ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, ভাওয়াল রাজার ডাকবাংলো চিহ্নিতকরণ, স্মরণফলক নির্মাণ এবং 'জয়দেবপুরের পথে' কবিতাটি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে জাতীয় কবির এই অনন্য স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করা সম্ভব।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%