বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:০৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধবিষয়ক সংগঠন এভরিটাউন ফর গান সেফটি ( everytown.org ) নতুন একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সহিংসতার পরিকল্পনা এবং আত্মহত্যায় উৎসাহ পাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু হামলার ঘটনায় হামলাকারীরা এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থার সাহায্য গ্রহণ করেছে। এসব ঘটনার তথ্য ও আদালতের নথি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ফ্লোরিডা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ফিনিক্স ইকনারের মামলার উল্লেখ রয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত গুলির ঘটনায় দুজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। এই ঘটনায় ইকনারের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা চলছে।
আদালতের নথির ভিত্তিতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার পূর্বে ইকনার এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকেন্দ্রে কখন সবচেয়ে বেশি মানুষ থাকে, কোন ধরনের গুলি বেশি ক্ষতি করতে পারে এবং আগ্নেয়াস্ত্র কীভাবে ব্যবহার করতে হয়।
ইকনারের শিকার হওয়া তিরু চাব্বার পরিবারের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থাটি তাকে কিছু ব্যবহারিক তথ্য প্রদান করেছিল। পরিবারের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এসব কথোপকথন ইকনারের বিভ্রান্ত ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাকে উৎসাহিত করেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য, ওই কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থা সহিংসতার নিন্দা করেছে এবং ইকনারের পরিকল্পনা সম্পর্কে অজ্ঞাত থেকে এমন তথ্য প্রদান করেছে, যা অন্যান্য প্রকাশ্য উৎস থেকেও পাওয়া সম্ভব।
এভরিটাউনের প্রতিবেদনে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলার রিজে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত গুলির ঘটনাটিও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় জেসি ভ্যান রুটসেলার আটজনকে হত্যা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, আগের একটি হিসাব বন্ধ করে দেওয়ার পর নতুন হিসাব খুলে তিনি আবারও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে আত্মহত্যার কয়েকটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অন্তত পাঁচটি মামলায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কথোপকথনভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আত্মহত্যার চিন্তায় থাকা ব্যক্তিদের সেই চিন্তাকে আরও উসকে দিয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আটটির মধ্যে প্রায় ছয়টি ব্যবস্থাই কিশোর সেজে সহিংস হামলার পরিকল্পনায় সহায়তা চাওয়ার জন্য গবেষকদের সহায়তা করতে রাজি হয়েছিল। তবে সব ব্যবস্থা একইভাবে সাড়া দেয়নি। কিছু ব্যবস্থা সহিংস হামলার পরিকল্পনায় সহায়তা করতে ধারাবাহিকভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এভরিটাউন বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি, পরিবর্তন বা সংগ্রহের বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রদান বন্ধ করা, কেউ নিজের বা অন্যের ক্ষতি করার ইঙ্গিত দিলে সংশ্লিষ্ট কথোপকথন মানব কর্মীদের দিয়ে পর্যালোচনা করা এবং সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত হলে প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা।
সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জাস্টিন ওয়াগনার বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থা বর্তমানে মানুষের তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তার মতে, বিশেষ করে সংকটময় পরিস্থিতিতে এসব ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এর ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জুনে প্রকাশিত পিউ গবেষণা কেন্দ্রের এক জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় অর্ধেক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করেন এবং প্রতি ১০ জন ব্যবহারকারীর একজন মানসিক সহায়তার জন্যও এসব ব্যবস্থার কাছে যান।
সূত্র: ইউএসএ টুডে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শহীদ মীর মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারে দুই শিক্ষার্থী আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে মেডিকেল সেন্টারের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।
সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল (আইসিই) বিভাগের ছাত্র। তারা বুধবার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে চিকিৎসার জন্য মেডিকেল সেন্টারে আসেন। পরে দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার দিকে মেডিকেল সেন্টারের স্টাফ ও চিকিৎসকরা তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। ওই সময় তাদের অন্যত্র চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তারা সেখানে অবস্থান করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানীকে জানানো হয়। খবর পেয়ে মনোবিজ্ঞানী মুহাম্মদ আবু তারেক তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন।
শহীদ মীর মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারের মেডিকেল অফিসার ডা. মৌসুমি আক্তার জানান, সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে দুই শিক্ষার্থী মেডিকেল সেন্টারে আসেন। দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে স্টাফ ও চিকিৎসকরা তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। ওই সময় একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল থাকায় তাদের সদর হাসপাতালে বা বাসায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়। কিন্তু বারবার বলার পরও তারা সেখানে অবস্থান করায় বিষয়টি প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি ও সাইকোলজিস্টকে জানানো হয়।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও জানান, এর আগে বেশ কয়েকবার তৃতীয় তলার কক্ষ ও বাথরুমে শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধ করতে বাথরুমে তালা দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নিতে হয়েছে। মেডিকেল সেন্টার মূলত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য, তাই এখানে চিকিৎসাসেবা ছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরি হওয়া কাম্য নয়। চিকিৎসক ও স্টাফরা একটি সুস্থ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ চান। এদিকে কর্মস্থলের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে চিকিৎসকরা শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী মুহাম্মদ আবু তারেক বলেন, মেডিকেল সেন্টারে শিক্ষার্থীদের এমন কিছু কর্মকাণ্ড দেখা গেছে, যা এখানকার পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হওয়ায় সবারই এর পরিবেশ ও শালীনতা বজায় রাখা উচিত। মেডিকেল সেন্টারে এ ধরনের ঘটনা কমাতে দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবা বা প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ছাড়া শিক্ষার্থীদের এখানে অবস্থান করা উচিত নয়। মেডিকেল সেন্টারকে আড্ডা, রিহার্সেল, ক্লাবের সভা কিংবা ব্যক্তিগত সময় কাটানোর স্থান হিসেবে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আ ফ ম আরিফুর রহমান বলেন, মেডিকেল সেন্টার থেকে তারা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত গাজী নজরুল ইসলামকে যদি দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান পদত্যাগে বাধ্য করতেন, তাহলে মরিয়ম খাতুনের মাত্র ১৯ বছর বয়সে দুনিয়া ছাড়া লাগতো না, এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।
তিনি বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এই মন্তব্য করেন।
মূলত, মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) ধ্বংসের ঘটনায় ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টিকে সংসদ সদস্য (এমপি) পদ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই প্রসঙ্গে বিতর্কিত এমপি গাজী নজরুলের নাম উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন।
প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংরক্ষিত নারী এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। বিএনপি কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এটি আবারও প্রমাণিত হলো।"
এরপর তিনি লেখেন, ‘জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামকেও যদি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান পদত্যাগ করতে বাধ্য করতেন, তাহলে হয়তো ছোট্ট মেয়ে মরিয়মের দুনিয়া ছাড়া লাগতো না।’
রাশেদ খাঁন তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, "প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে যারা অপচেষ্টা করবে এবং যারা নিজের স্বার্থের জন্য দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে লিপ্ত হবে, তাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর একটি সিদ্ধান্তই যথেষ্ট হবে।"
তিনি বলেন, "দেশ ও জনগণের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করুন। তার উদ্যোগ ও ভালো কাজ কোনো ব্যক্তির অপরাধে মলিন হওয়ার সুযোগ নেই; তিনি সুযোগ দেবেন না, ইনশাআল্লাহ।"
গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে।
এ বিষয়ে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনায় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। বুধবার রাতে মহানগর উত্তরের ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর তার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টির অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও বিতর্ক ছিল। তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকাকালে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কারণে তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।
দলীয় সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সংসদ সদস্য পদ ছাড়ার পাশাপাশি তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করতে হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে ঢুকে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও একাধিকবার আছাড় দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ কর্তৃক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের রাজদিয়া অভয় পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে এই ঘটনাটি ঘটে।
আটক হওয়া ব্যক্তির নাম নাহিদ শেখ (৩৫), যিনি পূর্ব রাজদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রস্তুতিমূলক কুচকাওয়াজ শেষে শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণির শ্রেণীকক্ষে অবস্থান করছিল। আগের দিন দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নিজের ছেলে আতিকুর রহমানকে মারধরের সন্দেহে তার বাবা নাহিদ শেখ বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করেন। পরে তিনি একই শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবকে ধরে শ্রেণিকক্ষের ভেতর তিনবার আছাড় দেন।
এ সময় শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ভয়ে চিৎকার করতে শুরু করলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সেখানে ছুটে আসেন। পরে প্রধান শিক্ষক নাহিদ শেখকে তাঁর কক্ষে নিয়ে যান এবং ঘটনার বিষয়টি পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে সিরাজদিখান থানা পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়ে নাহিদ শেখকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মন্তব্য করেন, আগের দিন দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। এ নিয়ে একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক অন্য শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে মারধর করেছেন। বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের কাছে জানিয়ে সমাধানের চেষ্টা না করে এভাবে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীকে মারধর করা ঠিক হয়নি।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত অভিভাবককে আটক করে থানায় রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা ঘোষ জানান, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাতনামা এক বৃদ্ধার মৃত্যু ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার নিমতলা এলাকার রেললাইনের পাশে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃক তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সকালে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনে খবর আসে যে, নিমতলা এলাকার রেললাইনের পাশে এক অজ্ঞাত বৃদ্ধ নারীর মরদেহ পড়ে রয়েছে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, নিহত নারীর বাম পা কাটা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রেললাইন দিয়ে চলাচলের সময় ট্রেনের ধাক্কায় তিনি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারেন।
ঢাকা রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, ওই নারী সকালে লাঠিতে ভর করে রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় একটি ট্রেনের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহত নারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ