১০:০৭ পি.এম
মাদারীপুরের কালকিনির ঘটনার জেরে মো. এছাহাক সরদার (৭৫) নামের একজন বৃদ্ধকে কুপিয়ে তার দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতির অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর শুক্রবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ঐ বৃদ্ধের বাড়িতে হামলা, দুটি বসতঘর ভাঙচুর এবং অর্ধশতাধিক বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ এসেছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বাধা দিতে গিয়ে তিন যুবকও আহত হন। ঘটনাটির পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হয়।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি পৌরসভার উত্তর জনারদন্দী গ্রামের নশাই সরদারের ছেলে মো. এছাহাক সরদারের সাথে এলাকার ঝালু মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে পাশের দোকান থেকে চা খেয়ে বৃদ্ধ এছাহাক একা বাড়ি ফিরছিলেন, তখন আগে থেকেই অবস্থান করা কয়েকজন তার গতিরোধ করে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঝালু মোল্লার নেতৃত্বে তুহিন মোল্লা, পারভেজ মোল্লা, রবিউল মোল্লা এবং লিমন মোল্লাসহ কয়েকজন প্রথমে এছাহাককে কুপিয়ে জখম করে। পরে তার দুই পায়ের রগ কেটে তাকে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এরপর শনিবার দুপুরে ঝালু মোল্লার নেতৃত্বে দেলোয়ার হাওলাদারসহ কয়েকজন আবার সেই বাড়িতে হামলা চালায়। ওই সময় বাড়ির সামনে দফায় দফায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটে এবং দুটি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে জাহিদ খান (২৫), রাজিব সরদার (২৫) এবং নাজমুল ব্যাপারী (২৩) আহত হন যা স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের পরে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র কালকিনি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুনভাবে সংঘাত এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহত এছাহাক সরদারের আত্মীয় ইসমাইল জানিয়েছেন, পূর্বশত্রুতার কারণে ঝালু মোল্লা ও তার সহযোগীরা এছাহাক সরদারকে কুপিয়ে দুটি পায়ের রগ কেটে দেয়। এর পরদিন আবার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও বোমা বিস্ফোরণ করে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রত্যাশা করছেন।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঝালু مোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেছেন, জমি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এক ব্যক্তির পায়ের রগ কেটে দেওয়ার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন