বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৫৯ পি.এম
ভারতের ধনকুবের গৌতম আদানিকে পেছনে ফেলে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন চীনের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাং ইমিং। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে তার প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের মূল্যায়ন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তার সম্পদের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে।
ব্লুমবার্গের ধনী ব্যক্তিদের সূচক অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সী জ্যাং ইমিংয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ১০৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ২০১৯ সালের মার্চে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। এই ছয় বছরের কিছু বেশি সময়ে তার সম্পদ আট গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বজুড়ে টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত জ্যাংয়ের এই উত্থান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ, গত কয়েক বছর ধরে বাইটড্যান্সকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কঠোর নিয়ন্ত্রক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।
কে এই জ্যাং ইমিং?
২০১২ সালে বেইজিংয়ের একটি চার কক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বাইটড্যান্স প্রতিষ্ঠা করেন জ্যাং ইমিং। প্রতিষ্ঠানের প্রথম বড় সাফল্য ছিল টুটিয়াও নামের একটি অ্যালগরিদমনির্ভর সংবাদ ও তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম।
এরপর বাইটড্যান্স চীনে দৌইন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে টিকটক চালু করে। ২০২১ সালে তিনি বাইটড্যান্সের প্রধান নির্বাহী পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির ৫০ শতাংশের বেশি ভোটাধিকার এখনো তার হাতে রয়েছে।
যেভাবে বাইটড্যান্সের উত্থান
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর জ্যাং ইমিং প্রকৌশলী হিসেবে একটি ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। কিছুদিন মাইক্রোসফটেও কাজ করার পর তিনি ৯৯ফ্যাং নামে একটি আবাসন খোঁজার প্রতিষ্ঠান চালু করেন।
স্মার্টফোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে—এই পরিবর্তন তিনি শুরুতেই বুঝতে পেরেছিলেন। ২০১২ সালে তাই বাইটড্যান্স প্রতিষ্ঠা করেন। তার ধারণা ছিল, ব্যবহারকারীর খোঁজ বা সামাজিক যোগাযোগের ওপর নির্ভর না করে যন্ত্রের শেখার প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আলাদা ধরনের বিষয়বস্তু সাজানো।
এই প্রযুক্তিই টুটিয়াওকে চীনের অন্যতম জনপ্রিয় মোবাইল অ্যাপে পরিণত করে।
২০১৬ সালে চীনে দৌইন চালু করে বাইটড্যান্স। পরের বছর আন্তর্জাতিক বাজারে আসে টিকটক। পরে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারে মিউজিক্যালি কিনে সেটিকে টিকটকের সঙ্গে একীভূত করা হয়। এরপর বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় টিকটক। বর্তমানে এর সক্রিয় ব্যবহারকারী এক বিলিয়নেরও বেশি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় বিনিয়োগ
বাইটড্যান্স এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতেও বড় পরিসরে বিনিয়োগ করছে। প্রতিষ্ঠানটি দৌবাও নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কথোপকথন ব্যবস্থা তৈরির পাশাপাশি বড় আকারের ভিডিও ও বহুমাধ্যমভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি করছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার প্রধান বিশ্লেষক লিয়ান জে সু ব্লুমবার্গকে বলেন, জ্যাং ইমিং পরিস্থিতি সামলানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। তবে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে তীব্র প্রতিযোগিতাই এখন বাইটড্যান্সের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
নিয়ন্ত্রক চাপ ও বিতর্ক
সম্পদের দ্রুত বৃদ্ধির পাশাপাশি বাইটড্যান্সকে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে।
২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি দ্বন্দ্বের মধ্যে টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞা ও মালিকানা পরিবর্তনের চাপের মুখে পড়ে। এর পেছনে জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ অন্যতম কারণ ছিল।
চীনেও ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া ব্যবসা এবং অ্যালগরিদম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কঠোর নজরদারি ও বিধিনিষেধ আরোপ করে।
এতসব চাপের মধ্যেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি খাতে বাইটড্যান্সের মূল্যায়ন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে জ্যাং ইমিংয়ের সম্পদ দ্রুত বেড়েছে। এর মধ্য দিয়েই এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় উঠে এসেছেন টিকটকের এই প্রতিষ্ঠাতা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (এইচআরএম) বিভাগের উদ্বোধনের কথা জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ কনফারেন্স কক্ষে হিউম্যান রিসোর্স (এইচআর) ক্লাবের আয়োজনে ‘১০ম ব্যাচ মেজর সেমিস্টার: উৎকর্ষের পথে যাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এই ঘোষণা দেন।
উপাচার্য বলেন, মেজর সেমিস্টারে প্রবেশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট পেশাগত দক্ষতায় বিশেষায়িত হওয়ার সুযোগ পাবে। তিনি উল্লেখ করেন, হিউম্যান রিসোর্স বা ম্যানেজমেন্টকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়া শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং মানবসম্পদকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল করে তোলার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার যোগ্যতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এইচআর ক্লাবকে শুধু বিজনেস স্টাডিজ ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ক্লাবের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক মো. মমিনউদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং ক্লাবের সহসভাপতি মো. আনাস ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মরিয়ম নেছা ঐশীর সঞ্চালনায় ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোফাস্সেরুল হক তন্ময় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বদিউজ্জামান এবং এইচআর ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম।
বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এইচআর ক্লাব এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে দুই কৃতি শিক্ষার্থীকে ডিনস মেরিট অ্যাওয়ার্ড এবং নবাগত শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার আরমানিটোলার আহমেদ বাওয়ানী অ্যাকাডেমির শিক্ষার্থী মোরশেদ আলম তানিম হত্যা মামলার তদন্তে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গত বছর মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠলেও, এক বছর পর পুলিশি তদন্তে জানা গেছে যে, মূলত জুনিয়রের সামনে সিনিয়রের সিগারেট জ্বালানোর মতো তুচ্ছ বিষয় এবং পূর্ব শত্রুতার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল।
মামলাটির তদন্ত শেষে চকবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজু আহমেদ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। মামলার অভিযোগ প্রমাণের জন্য ১৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে, যারা আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করবেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মৃত্যুর আগে তানিম তার মাকে হামলাকারীদের নাম বললেও ভয়ের কারণে পরিবার সবকিছু লুকিয়ে যায় এবং মামলা করতে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে কারা তাকে প্রথমে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল, সেই সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর তাদের জবানবন্দি ও সামগ্রিক তদন্তে সিগারেট জ্বালানোর বিষয়টি সামনে আসে। এ বিষয়ে কথা বলতে নিহতের বাবা ফিরোজ আলম আবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
নিহত তানিমের দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হলেও পরে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। পরবর্তীতে চকবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মানিক উদ্দিন বাদী হয়ে গত বছরের ২৫ জুলাই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ২৮ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চকবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজু আহমেদ মূল অভিযুক্ত মো. সিফাত ওরফে রিগ্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
একই সঙ্গে অপরাধে জড়িত চার শিশুকে অভিযুক্ত করে আদালতে দোষীপত্র জমা দেওয়া হয়। এই চার শিশু হলো— মো. সায়েম হোসেন, মো. জাহিদ ইসলাম, মোস্তাকিম আহম্মেদ সাফিন ও মো. অনিক। এদের মধ্যে সায়েম, জাহিদ ও অনিক আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
হত্যার পরিকল্পনা ও পেছনের গল্প
আসামি সিফাত এবং অভিযুক্ত চার শিশু তানিমের পূর্বপরিচিত ছিল। এর আগে তানিমের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত বছরের ৩০ জুন রাত ১২টার দিকে তানিম হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে মাতম শেষ করে আসিফুর রহমান দাউদ, আরাফাত হোসেন রাফি ও ধলুদের সঙ্গে বাসায় ফেরার জন্য বের হয়। এ সময় তার পেছনে পেছনে সিফাত ও তার সহযোগীরাও গেট দিয়ে বের হয়।
হোসেনি দালান থেকে বের হয়ে কাবিন নামক কাবাবের দোকানের সামনে গিয়ে তানিম সিগারেট জ্বালায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সায়েম তা সিফাতসহ অন্যদের জানায়। তখন সিফাত ক্ষিপ্ত হয়ে সহযোগীদের বলে, জুনিয়র হয়ে সিনিয়রের সামনে সিগারেট জ্বালানোর এত বড় সাহস তানিমের! সে একটা বেয়াদব, তাকে আজ শিক্ষা দিতে হবে। এরপরই সিফাত ও তার সহযোগীরা তানিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
যেভাবে ঘটেছিল হামলা
সিগারেট জ্বালাতে গিয়ে তানিম তার বন্ধুদের থেকে কিছুটা পেছনে পড়ে যান। তিনি চকবাজার থানার নাজিম উদ্দিন রোডের মক্কু শাহ মাজারের কাছে পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার কারণে সিফাত ও তার সহযোগীরা তাকে ঘিরে ধরে। এ সময় সিফাত হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো চাকু দিয়ে তানিমকে আঘাত করে পালিয়ে যায়। তানিমের চিৎকারে তার বন্ধুরা এগিয়ে যায় এবং তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়।
চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, হত্যাকাণ্ডে যাতে কেউ সন্দেহ না করে, সেজন্য অভিযুক্ত শিশু সায়েম, জাহিদ, সাফিন ও অনিকও তানিমকে দেখতে মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়েছিল। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরদিন ১ জুলাই বাসায় নেওয়ার পর বিকালে তানিম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পুনরায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার খাদ্যনালী কেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। ওই দিন রাত ১১টায় অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর গত বছরের ২ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানিম মারা যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রমকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে ডিজিটাল ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সংস্থাটির পণ্য বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভিত্তিক রিয়েল-টাইম মনিটরিং সিস্টেম যুক্ত হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে, টিসিবির উপকারভোগীদের জন্য একটি এআই ভিত্তিক কন্টাক্ট সেন্টার চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) টিসিবির সম্মেলনকক্ষে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিতে টিসিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, "প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে টিসিবির সেবায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব হবে।"
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে টিসিবির সেবা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারীকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একটি যাচাইকৃত ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি করা হয়েছে, যা সরকারি ভর্তুকি প্রকৃত ও যোগ্য উপকারভোগীর কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, বর্তমানে প্রায় ৭৯ লাখ উপকারভোগী টিসিবির সেবার আওতায় রয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
অনুষ্ঠানে টিসিবির উপকারভোগীদের জন্য নতুন একটি মোবাইল অ্যাপ চালুর তথ্যও জানানো হয়। টিসিবির নতুন ‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে উপকারভোগীরা প্রচলিত কার্ডের পাশাপাশি নিরাপদ ডিজিটাল মাধ্যমেও সেবা নিতে পারবেন। ডিজিটালি স্বাক্ষরিত ও এনক্রিপ্টেড কিউআর কোডের মাধ্যমে উপকারভোগীর পরিচয় ও পণ্য পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করা হবে। এর ফলে কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলেও প্রকৃত উপকারভোগীরা নির্ধারিত পণ্য পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন না।
এছাড়া, ডিলার নিয়োগে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অনলাইন ডিলার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ডিলার আবেদন, তথ্য সংরক্ষণ ও নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক করা হবে। প্রয়োজনের তুলনায় আবেদনকারী বেশি হলে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ডিলার নির্বাচনের সুযোগ থাকবে। অনলাইন পেমেন্ট কালেকশন চালুর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের প্রক্রিয়াও সহজ ও স্বচ্ছ হবে।
অল-ইন-ওয়ান পিওএসের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি, বায়োমেট্রিক যাচাই, অনলাইন পেমেন্ট এবং তাৎক্ষণিক বিক্রয় রশিদ দেওয়ার ব্যবস্থা অদূর ভবিষ্যতে চালু হবে। এআই ভিত্তিক রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো এলাকায় কত পণ্য বিক্রি ও বিতরণ হচ্ছে, কোথাও অনিয়ম হচ্ছে কি না—এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এতে অনিয়ম শনাক্ত ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
এআই ভিত্তিক কন্টাক্ট সেন্টার চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যাতে উপকারভোগীরা দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পেতে পারেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী সার্বিকভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টিসিবির ভর্তুকির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে টিসিবির বিভিন্ন উদ্যোগ ও ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকার ভর্তুকি সাশ্রয় হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভর্তুকির অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
অনুষ্ঠানে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদের সভাপতিত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও টিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে প্রযুক্তি, জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার দিক থেকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। নিরাপদ, বিশুদ্ধ ও মানসম্মত পণ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "একজন মানুষ কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে যাতে ভেজাল, নিম্নমানের বা ক্ষতিকর পণ্য কিনতে বাধ্য না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।" তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ১৭ থেকে ১৮ কোটি মানুষের ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় অধিদপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় তিনি আরও জানান, অধিদপ্তরকে আধুনিক ও কার্যকর করতে প্রশিক্ষণ, জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান সেবাগুলো ধাপে ধাপে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, "কোনো প্রতিষ্ঠানের আকার বা পরিচিতির চেয়ে মানুষের জীবনে তার কার্যক্রমের বাস্তব প্রভাব বেশি গুরুত্বপূর্ণ।" এই দৃষ্টিকোণ থেকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কাজের গুরুত্ব অনেক বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের কাঠামো, জনবল ও সেবা কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (বিআইডিএস) দিয়ে গবেষণা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গবেষণার সুপারিশের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও জনবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "খুব শিগগিরই বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।" এর মাধ্যমে ভোক্তারা অধিদপ্তরের সেবা আরও সহজে ও কার্যকরভাবে পাবেন।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফও সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় অধিদপ্তরের বর্তমান কার্যক্রম, প্রযুক্তির ব্যবহার, জনবল কাঠামো, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ভোক্তা সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ