ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্ত্রীর অভিযোগে পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেপ্তার, কারাগারে স্বামী


স্ত্রীর অভিযোগে পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেপ্তার, কারাগারে স্বামী

ফরিদপুরে স্ত্রীর দ্বারা করা পর্নোগ্রাফি আইনের মামলার কারণে স্বামী মীর ইলিয়াস ওরফে সোহেল (৩৯) নামে এক ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার পর গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির পরিবার ভিন্ন দাবি করেছেন।

তাদের অভিযোগ যে, বিয়ের পর থেকেই ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে তাঁরা হয়রানির শিকার এবং স্ত্রীর পরিবার দাবিকৃত টাকা না দেওয়ার কারণে তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন সরদার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি ফরিদপুর পৌরসভার ২১ নং ওয়ার্ডস্থ কাফুরা এলাকার মীর আলমগীরের ছেলে। তিনি একেকে নামে একটি বেসরকারি এনজিওতে কর্মরত ছিলেন। গত ২৭ জুলাই গভীর রাতে তাঁকে জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কালিনগর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করার সময় জানা যায়, পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাদী, বাসিন্দা তৌফিক মীরের মেয়ে তমা আক্তার (৩০), যিনি আসামির দ্বিতীয় স্ত্রী।

মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে যে, আসামি চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল বাদীর কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিলেন। এ ঘটনায় ওই দিন সদরপুর থানায় যৌতুক মামলা দায়ের করা হয়। বাদী দাবি করেন যে আসামি মামলাটি তুলে নিতে চাপ সৃষ্টিসহ তাদের দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ধারণকৃত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন এবং তিনি ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। মামলাটি তুলে না নেওয়ার জন্য আসামি তাঁর ব্যবহৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টসহ ৩টি অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিও ছড়িয়ে দেয় এবং সব অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা দাবি করে।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাদীর পূর্বে দুটি বিয়ে হয়েছিল। তার মধ্যে দ্বিতীয় স্বামীর সংসারে থাকাকালীন বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এরপর ২০২৪ সালে ওই নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ায় মীর ইলিয়াস ওরফে সোহেলের সাথে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক হয়, যার দৃশ্য ওই নারী নিজেই মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে তা অজ্ঞাত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এই ঘটনার পর প্রথম স্ত্রী ছেড়ে চলে যান। এর মধ্যে কৌশলে ওই নারীর বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয় এবং স্থানীয়ভাবে শালিস মিমাংসার চেষ্টা করা হয়।

বিবাহিত জীবন শুরু করলে তাদের মধ্যে নানা কোলাহল বাড়তে থাকে। এরপর ২০২৪ সালের ২৯ মে ৪ লাখ টাকা দেনমোহরে ওই নারীর সাথে বিয়ে হয়। এছাড়া কাবিননামায় উল্লেখ করা হয় যে, স্বামী বা স্ত্রী যে কেউ চলে যাবে তাকে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

দীর্ঘ ২ বছর সংসার চলার পর তাঁরা বিভিন্ন সময় কলহে জড়িয়ে পড়েন এবং গত তিন মাস আগে সদরপুর থানায় একটি যৌতুক মামলা করেন ওই নারী। সম্প্রতি জামিন পাওয়ার পর ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির কারণে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা করা হয়।

পরিবারের দাবি, ওই ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করা হয়েছে এবং কাবিননামায় উল্লেখিত টাকা আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এছাড়া স্ত্রীর কাছে স্বামীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাসওয়ার্ড রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

সোহেলের মা তছিরন বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘তাঁর দ্বিতীয় স্বামী থাকতেও আমার ছেলেকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করা হয়েছে। ওর কারণে আমার ছেলের প্রথম স্ত্রী এবং নাতি চলে গেছে। ৭ মাসের একটি বাচ্চাসহ বিয়ে করে আনতে বাধ্য হয়। তারপরে আমরা সমস্ত কিছু মেনে নিয়েছি। কিন্তু বিভিন্ন সময় ওর পরিবার আমাদের ভয় দেখিয়ে এবং পুলিশ দিয়ে হয়রানি করেছে। বর্তমানে অপবাদ দিয়ে আমার ছেলেকে জেলে পাঠানো হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের এত টাকা কোথায়? আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি এবং প্রকৃত দোষীর শাস্তি চাই।’

এসব বিষয় নিয়ে ওই নারীর বর্তমান অবস্থানরত বাবার বাড়িতে গিয়ে কথা হয়। এ সময় তিনি বলেন, যা বলার থানায় বলা হয়েছে। এছাড়া ঘটনা নিয়ে কথা বলতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার এসআই মো: গিয়াস উদ্দিন সরদার জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করলে গ্রামের পুলিশ সদস্য তাঁকে গ্রেফতার করে এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ওই মোবাইলটি সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে, প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রকৃত বিষয় জানা যাবে। এছাড়া ২০২৪ সালের ঘটনার বিষয়ে তিনি জানা নেই বলে মন্তব্য করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনা ফিফার নতুন সিদ্ধান্তের ফলে চাপে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৪ পি.এম


আর্জেন্টিনা ফিফার নতুন সিদ্ধান্তের ফলে চাপে

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারানোর হতাশা কাটতে না কাটতেই নতুন বিপদে পড়েছে আর্জেন্টিনা। ফাইনালের পর মাঠে সংঘর্ষ, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং ফকল্যান্ড ইস্যুতে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের অভিযোগে আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।

ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করছে। উল্লেখযোগ্য的是, ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে দুটি শারীরিক আক্রমণ এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠেছে। এছাড়া, কোচিং স্টাফের সদস্য রবার্তো আয়ালা এবং মিডফিল্ডার থিয়াগো আলমাদাকেও এই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অভিযোগ নয়, ফিফা এএফএর বিরুদ্ধেও একাধিক নিয়মভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে খেলার মঞ্চকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা, বৈষম্যমূলক ও বর্ণবিদ্বেষী আচরণ এবং ম্যাচ চলাকালীন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া।

ফিফা দাবি করছে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ইস্যুতে ব্যানার প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ম্যাচে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দ্বারা মাঠে বস্তু নিক্ষেপের ঘটনাগুলোও তদন্তের অংশ।

বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে হেরে যায়। ম্যাচ শেষে স্পেনের উদযাপনের সময় দুই দলের খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, নাহুয়েল মোলিনা স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রিকে ঘুষি মারেন। অন্যদিকে, লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরা এবং গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ফিফা জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি তাদের ডিসিপ্লিনারি ও এথিক্স প্রসিকিউটর তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেবেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ফুটবলার ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই বিপ্লবে প্রাণ দেওয়া পিরোজপুরের পাঁচ শহীদের গল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৮ পি.এম


জুলাই বিপ্লবে প্রাণ দেওয়া পিরোজপুরের পাঁচ শহীদের গল্প

স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা পতনের জুলাই বিপ্লবটি ছিল ছাত্র-জনতার বিপ্লব। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে পিরোজপুর জেলার পাঁচজন শহীদ হয়েছিলেন। ওই পাঁচজনের মধ্যে তিনজন ছিলেন দিন মজুর এবং দুজন ছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা পতনের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে শহীদ হন জেলার নাজিরপুর উপজেলার মোঃ হাফিজুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম, মঠবাড়িয়া উপজেলার আবু জাফর হাওলাদার ও মোঃ মামুন খোন্দকার এবং ভান্ডারিয়া উপজেলার মোঃ এমদাদুল হক। তাঁরা যেভাবে শহীদ হন-

শহীদ হাফিজুল: জেলার নাজিরপুর উপজেলার চর রঘুনাথপুর গ্রামের আবু বকর সিকদারের ছেলে মোঃ হাফিজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ২০ জুলাই ঢাকার মধ্য বাড্ডায় শহীদ হন। জুলাই শহীদ রিকশা চালক হাফিজুল প্রতিদিনের মতো ঢাকার পূর্ব বাড্ডা’র রূপনগর এলাকার বাসা থেকে তার রিকশা নিয়ে বের হন। রামপুরা, মধ্যবাড্ডাসহ ওইসব এলাকা তখন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তাল ছিল। তখন সময় ছিল সকাল ১০ টা। আন্দোলকারীদের সাথে বিজিবি-পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। ওই সংঘর্ষের মাঝে পড়ে হাফিজুল। এ সময় বিজিবির ছোড়া গুলিতে তার বুক ঝাঁঝরা হয়ে যায়।

হাফিজুলের বাবা জানান, ঘটনাটি তিনি একটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন। তিনি ছুটে গিয়ে দেখতে পান তার ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ছাত্ররা বাড্ডা হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার ছেলে চিকিৎসা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে ছাত্রদের চাপের মুখে চিকিৎসা শুরু করে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই পিতার কোলেই হাফিজুলের মৃত্যু হয়, শহীদ হন হাফিজুল।

আবু বকর জানান, গ্রামে আয় করার মত তার অবস্থা ছিলো না। তাই বাড়ী ভিটা ছেড়ে ২১ বছর আগে ঢাকার বাড্ডায় একটি ভাড়া বাসায় থেকে সিএনজি চালিয়ে সংসার চালাতেন। বয়স ভারে তিনি এখন কিছু করতে পারেন না। তাই ছেলে হাফিজুল রিকশা চালিয়ে সংসারের হাল ধরেছিল। ছেলেই সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ছেলের দুটি নাবালক ছেলে-মেয়ে ও প্রতিবন্ধী স্ত্রী আছে। এখন এদের কে দেখবে। আমরা কোথায় যাব। সরকার যে ভাতা দেয় তাতে সংসার চলে না।

শহীদ রফিকুল: বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলনে শারীরিক, মানসিক ও লেখনীর মাধ্যমে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছিলেন জুলাই শহীদ মোঃ রফিকুল ইসলাম। রফিক পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সাতকাছেমিয়া গ্রামের মো. আব্দুল জব্বার শিকদারের ছেলে। রফিকুল ১৯ জুলাই অফিস থেকে বেরিয়ে ঢাকার মানিকনগর বিশ্বরোডে প্রতিদিনের মতো আন্দোলনে যোগ দিতে মাগরিবের নামাজ পড়তে মসজিদে যান। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজি শেষে তার স্ত্রী ও সন্তান জানতে পারেন তিনি কেরানীগঞ্জ কারাগারে আছেন। পরে জানতে পারেন তিনি সেখানে নেই। ৫ আগস্ট হাসিনার পতন হলো। ৮ আগস্ট শহীদ রফিকের ভাইয়েরা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামে গিয়ে লাশের ছবি দেখে রফিকুল ইসলামকে শনাক্ত করেন। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম কর্তৃপক্ষ তাদেরকে জানিয়েছে রফিকুল ইসলামকে ২৪ জুলাই বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে রায়ের বাজার কবরস্থানে অগণিত লাশের সাথে দাফন করা হয়।

স্বজনরা বলছেন, লাশের ছবিতে দেখা গেছে, ঘাতকরা রফিকুল ইসলামকে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে হত্যা করেছে। যা নাৎসি বাহিনীকে হার মানিয়েছে। শহীদ রফিকুল ইসলাম এক স্ত্রী এক ছেলে রেখে গেছেন। ছেলেটি তা’মিরুল মিল্ল্লাত কামিল মাদ্রাসার আলিম শ্রেণীর ছাত্র। শহীদ রফিকের স্ত্রী নার্জিয়া ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

শহীদ মামুন খোন্দকার: চব্বিশের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের মাত্র ২ ঘন্টা আগে আশুলিয়ার বাইপালে আন্দোলনরত মোঃ মামুন খোন্দকারের কপাল ভেদ করলো পুলিশের বুলেট। রাস্তায় লুটিয়ে পড়লো মামুন। সহযোদ্ধারা তাঁকে ধরাধরি করে নিয়ে গেলো সাভারের এনাম মেডিকেলে। ৭ আগস্ট ওই হাসপাতালে শহীদ হলেন মামলা খোন্দকার। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের মৃত মজিবুর রহমান খোন্দকারের ছেলে মামুনের আশুলিয়ায় ছোট্ট একটি এম্ব্রয়ডারীর দোকান ছিলো। ওই দোকানের আয়ে ২ ছেলে ২ মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে ৬ জনের সংসার চলতো। এই অবস্থায়ও প্রতিদিন ছাত্র-জনতার ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে আশুলিয়ার বাইপালে নেতৃত্ব দিতো মামুন।

মামুনের স্ত্রী সাথী খোন্দকার জানিয়েছেন, তাদের বড় ছেলে হেলাল খোন্দকার টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র। ছোট ছেলে সাখাওয়াত ও বড় মেয়ে মুনতাহা সাভারের একটি মাদরাসায় হিফজ এর ছাত্র। ৩ বছরের ছোট মেয়ে মাবরুকা জাহিন। সাথী জানান, সরকার থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা পান আর নিজে ওই এম্ব্রয়ডারীর দোকান চালিয়ে যে টাকা পান তা দিয়ে কষ্টেসৃষ্টে সংসার চলে তার। তিনি জানান, স্বামী হত্যায় নিজে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পুলিশ এখনো চার্জশীট দেয়নি। তিনি শহীদ মামুন হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

শহীদ আবু জাফর: পেশায় বাস চালক মোঃ আবু জাফর। সারা দেশে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা পতনের আন্দোলন চলছে। ছাত্র-জনতার উপর পুলিশ ও আওয়ামী গুন্ডাদের অত্যাচারের দৃশ্য দেখে সইতে না পেরে জাফর নিজেও আন্দোলনে শরীক হয়ে ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ঢাকার গোলাপবাগ এলাকায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। জাফর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ছোট মাছুয়া গ্রামের আঃ মজিদ হাওলাদারের ছেলে। শহীদ জাফর ছিলেন ৬ জনের সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্ত্রী সেতারা বেগম, তিন ছেলে শাওন, নুহু ও নাঈম এবং দাদা এই পাঁচ জনের সংসার চলে বড় ছেলে শাওনের আয়ে। শাওন আইকনিক নামের একটি বাসের সুপারভাইজার। নুহু জানান, তার পিতা শহীদ হওয়ার পর এক মহিলা জাফরকে স্বামী দাবি করলে জাফরের পরিবার সরকারি মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা পান না। তিনি জানান, তার বাবা শহীদ হওয়ার পর সরকার থেকে এককালীন ৫ লাখ টাকা পেয়েছিলেন এবং জামায়াত ইসলামী দিয়েছিল ২ লাখ টাকা। এ ছাড়া জামায়াত প্রতি ঈদে ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছে। অন্য কোনো সহযোগিতা পাননি। এখন তারা দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন বলে জানান। পিতা হত্যায় কোনো মামলা করেছেন কিনা জানতে চাইলে নুহু বলেন, কার বিরুদ্ধে মামলা করবো, মামলা করলে ওই মামলার পেছনে কে দৌড়াবে।

শহীদ এমদাদুল: ঢাকার উত্তর বাড্ডায় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সকালে মিছিলে শরিক হন মোঃ এমদাদুল ইসলাম। মিছিলটি এ এম জেড হাসপাতালের সামনে গেলে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের ঘাতক পুলিশ গুলি চালালে একটি বুলেট তার কপাল ফুটো করে দেয়, শহীদ হন মোঃ এমদাদুল। জুলাই শহীদ এমদাদুল পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া গ্রামের মোঃ আবদুস সোবাহান ও হাসিনা বেগমের দুই ছেলের মধ্যে ছোট। রিকশা চালক পিতার ছোট ছেলে এইচএসসি পাশ এমদাদ উচ্চ শিক্ষা লাভের আশায় ঢাকায় যান। কিন্তু পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবা সোবাহান রোগাক্রান্ত হলে তার উচ্চ শিক্ষা লাভ হয়ে ওঠেনি। সংসারের হাল ধরতে গাড়ির স্টিয়ারিং ধরেন এমদাদ।

ঢাকায় শুরু হয় ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলন। এমদাদও যোগ দেন আন্দোলনে। ২০ জুলাই ঘাতক পুলিশের ছোড়া বুলেটে শহীদ হন এমদাদুল।

শহীদ এমদাদুলের মা হাসিনা বেগম জানান, ‘আমাদের ৮ জনের পরিবারে কোনো জমি নেই। পরের জায়গায় ঘর তুলে আছি। সামান্য বৃষ্টি হলেই ভাঙ্গা ঘরের চাল দিয়ে ঘরে পানি পড়ে। এর মধ্যে আমাদের কষ্ট করে থাকতে হয়।’

জুলাই শহীদ পরিবার হিসেবে সরকার থেকে মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা এবং ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থেকে যে টাকা পায় তার একটি মোটা অংকের টাকা এমদাদুলের পিতার চিকিৎসায় ব্যয় হয়। পরিবারের খরচ মেটাতে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এমদাদুলের বড় ভাই মোঃ হাসান এখন দিন মজুরের কাজ করে।

সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে হাসিনা বলেন, ‘আমাদের কোনো জমি-জমা, ঘর-বাড়ী নেই, সরকার যদি একটু জমি দিতো, তাহলে আমরা ঘর বানিয়ে বসবাস করতে পারতাম।’ ছেলে হত্যার বিচার বিষয়ে হাসিনা বলেন, তারা কোনো মামলা করেননি। শুনেছেন ঢাকায় মামলা হয়েছে। মাঝে মাঝে ঢাকা থেকে তদন্তে লোক আসতো। তবে এমদাদুলের পরিবার তার হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবুগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১০ পি.এম


বাবুগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে রোহিত মন্ডল (২৩) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ১টার সময় উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের অমৃত কনজুমার ফুড প্রোডাক্টসের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রোহিত মন্ডল গোপালগঞ্জ জেলার পুরাতন বাজার রোড এলাকার বাসিন্দা প্রফেন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দিয়ে ঢাকাগামী একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ন ১৯-৪৫৯৬) অমৃত কনজুমার ফুড প্রোডাক্টসের সামনে পৌঁছালে, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের (গোপালগঞ্জ হ-১২-১৪৬৩) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষের ফলে মোটরসাইকেলটি তাৎক্ষণিকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং মোটরসাইকেল আরোহী রোহিত মন্ডল সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তবে ঘটনার পরপরই ট্রাকচালক পালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রান্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও মোটরসাইকেলটি থানার হেফাজতে রয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জোলাগাতি খালের বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল, ভোগান্তিতে মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১২ পি.এম


জোলাগাতি খালের বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল, ভোগান্তিতে মানুষ

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ৯নং দক্ষিণ-পশ্চিম জোলাগাতি গ্রামের মাল বাড়ি জামে মসজিদের সামনে অবস্থিত জোলাগাতি খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন, জীবন হাতে নিয়ে চলাচল করছেন শত শত মানুষ। এই সাঁকোটি মাধ্যমে কাউখালী ও ভান্ডারিয়া দুটি উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাতাসে অনেক শিক্ষার্থীও বাধ্য হয়ে এই সাঁকো ব্যবহার করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁশের সাঁকোটি কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ভান্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়িয়া গ্রামকে সংযুক্ত করেছে। সরদার হাট হয়ে ভিটাবাড়িয়া গ্রামের ওপর দিয়ে ভান্ডারিয়ায় যাতায়াতের জন্য এই পথটি ব্যবহার করা হয়। ফলে, প্রতিদিন এলাকার মানুষ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীরা এই পথ দিয়ে চলাচল করেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বেড়ে গেলে বাঁশের সাঁকোটি তলিয়ে যায়। তখন মানুষের দুর্ভোগের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে এবং সাধারণ মানুষ জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতে ভোগান্তির সম্মুখীন হন।

এলাকাবাসীরা দাবি করেন যে, দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন যে, সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জুরের কাছে একাধিক বার সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও তারা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন দেখতে পারেননি। তাই বর্তমান পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুরের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানান তারা।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, বিগত সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে লুটপাট ও দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন হয়নি। যুগের পর যুগ এলাকাবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই বাঁশের সাঁকো পারাপার করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বিষয়টি মাননীয় সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন-গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী জনাব আহমেদ সোহেল মঞ্জুর মহোদয়ের সামনে তুলে ধরবেন এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

শিয়ালকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, এই সাঁকোটি দুই উপজেলার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে চলাচলের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে হাজারো মানুষের ভোগান্তি দূর হবে বলে আশা করেন। কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং সরেজমিনে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। সেতু নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%