প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ৯নং দক্ষিণ-পশ্চিম জোলাগাতি গ্রামের মাল বাড়ি জামে মসজিদের সামনে অবস্থিত জোলাগাতি খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন, জীবন হাতে নিয়ে চলাচল করছেন শত শত মানুষ। এই সাঁকোটি মাধ্যমে কাউখালী ও ভান্ডারিয়া দুটি উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাতাসে অনেক শিক্ষার্থীও বাধ্য হয়ে এই সাঁকো ব্যবহার করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁশের সাঁকোটি কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ভান্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়িয়া গ্রামকে সংযুক্ত করেছে। সরদার হাট হয়ে ভিটাবাড়িয়া গ্রামের ওপর দিয়ে ভান্ডারিয়ায় যাতায়াতের জন্য এই পথটি ব্যবহার করা হয়। ফলে, প্রতিদিন এলাকার মানুষ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীরা এই পথ দিয়ে চলাচল করেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বেড়ে গেলে বাঁশের সাঁকোটি তলিয়ে যায়। তখন মানুষের দুর্ভোগের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে এবং সাধারণ মানুষ জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতে ভোগান্তির সম্মুখীন হন।
এলাকাবাসীরা দাবি করেন যে, দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন যে, সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জুরের কাছে একাধিক বার সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও তারা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন দেখতে পারেননি। তাই বর্তমান পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুরের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানান তারা।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, বিগত সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে লুটপাট ও দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন হয়নি। যুগের পর যুগ এলাকাবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই বাঁশের সাঁকো পারাপার করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বিষয়টি মাননীয় সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন-গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী জনাব আহমেদ সোহেল মঞ্জুর মহোদয়ের সামনে তুলে ধরবেন এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
শিয়ালকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, এই সাঁকোটি দুই উপজেলার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে চলাচলের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে হাজারো মানুষের ভোগান্তি দূর হবে বলে আশা করেন। কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং সরেজমিনে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। সেতু নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন