০১:০৮ পি.এম
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে অনশন ধর্মঘটে থাকা অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে ধর্মঘটস্থান থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। আজ শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে অনশনের ২০তম দিন, পুলিশ ধর্মঘটস্থানে অভিযান চালিয়ে ওয়াংচুককে ধরে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই খবর এনডিটিভিতে প্রকাশিত হয়েছে।
এনইইটি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করছে জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ওয়াংচুক গত ২৮ জুন এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে অনশন শুরু করেন।
দিল্লি পুলিশের এক উপকমিশনার একটি বিবৃতিতে বলেন, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার সময় বিক্ষোভকারীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে সামান্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ যন্তর-মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগের আহ্বান জানায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শনিবার সকালে যন্তর-মন্তরে ওয়াংচুকের সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এ সময় পুলিশ সাদা চাদর হাতে দ্রুত তাকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে হাসপাতলে নিয়ে যায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিল্লির একটি আদালত সরকারি চিকিৎসকদের ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য প্রতিদিন পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, ‘যেকোনো নাগরিকের জীবনই মূল্যবান।’
আইনজীবী ও সমাজকর্মী রাকেশ কুমার সাইনি আদালতে করা এক আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অনশন না ভাঙলে ওয়াংচুকের প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি হাইকোর্ট নির্দেশ দেন, তার জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিতে হবে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
পুলিশ তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ওয়াংচুক বলেন, ‘ভারতে এর চেয়েও ছোট ছোট আন্দোলন বহু সরকারকে নতজানু করেছে। আর এখানে বিষয়টি শিক্ষা নিয়ে।’
গত মাসে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নির্ধারিত পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীকে মেডিকেলে ভর্তির পরীক্ষা পুনরায় দিতে হয়। এ ঘটনা এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা মূল্যায়ন-সংক্রান্ত আরেকটি বিতর্ক দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং তরুণদের আন্দোলনকে উসকে দেয়।
ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে চলমান এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন ওয়াংচুক। ভারতের বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন নেতা ওয়াংচুক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। পেশায় একজন প্রকৌশলী ওয়াংচুক হিমালয় অঞ্চলে পানি সংরক্ষণে উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পরিচিত।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন