ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর ভয়ংকর তাণ্ডব, দুই শিশু ও অন্তঃসত্ত্বাসহ ৮ জনকে হত্যা


যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর ভয়ংকর তাণ্ডব, দুই শিশু ও অন্তঃসত্ত্বাসহ ৮ জনকে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় একটি ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এক ব্যক্তির হাতে দুই শিশু ও আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীসহ মোট আটজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরে ওই ব্যক্তি নিজের হাতে থাকা বন্দুক দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) পেনসিলভেনিয়ার এরি শহরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এরি শহরের পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ বলেছেন, "২৮ বছরেরও বেশি কর্মজীবনে আমি এমন কিছু কখনও দেখিনি।" তিনি বলেন, "এমন ভয়ংকর ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি এরি শহর এর আগে কখনো দেখেছে কি না, তা নিয়ে আমি সন্দিহান।"

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, শুক্রবার রাতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বাড়ির বাইরে দুই নারীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

লোরাহ জানিয়েছেন, বাড়ির ভেতরে বন্দুকধারীর পাশাপাশি অন্যান্য ভুক্তভোগীদের মৃতদেহও পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই আত্মীয় ছিলেন।

তিনি বলেন, "ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি, তবে এর পেছনে ‘মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয় জড়িত থাকতে পারে’।"

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এরির পুলিশপ্রধান জানান, তদন্তকারীরা ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করেছেন। ফুটেজে দেখা যায়, বাড়ির বাইরে নিহত ৫১ ও ৩৭ বছর বয়সী দুই নারী সেখানে পৌঁছান এবং প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করেন। নিহতদের একজন ওই পরিবারের আত্মীয় এবং অন্যজন পারিবারিক বন্ধু ছিলেন।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

লোরাহ জানান, ফুটেজে অস্পষ্ট গুলির শব্দ শোনা যায় এবং এরপর বন্দুকধারীকে বেরিয়ে এসে ওই দুই নারীকে গুলি করতে দেখা যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে।

বাড়ির নিচতলায় পাঁচ ও এক বছর বয়সী দুই শিশু ভুক্তভোগীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। দ্বিতীয় তলায় ও সিঁড়ির কাছে ২৪ ও ৪৪ বছর বয়সী দুই নারী এবং ১৯ ও ২১ বছর বয়সী দুই পুরুষের মৃতদেহ পাওয়া যায়; সেখানে বন্দুকধারীর মৃতদেহও ছিল। নিহতদের মধ্যে একজন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

রিক লোরাহর ভাষায়, "কিছু দৃশ্য ঘটনাস্থল ছাড়ার অনেক পরেও মানুষের মনে গেঁথে থাকে। এটি তেমনই একটি দৃশ্য।"

এদিকে ভয়াবহ এ ঘটনায় বার্তা দিয়েছেন পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো। তিনি বলেন, "গত রাতে এরিতে ঘটা মর্মান্তিক বন্দুক হামলার ঘটনায়, যেখানে আমাদের পেনসিলভানিয়ার নয়জন বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন, আমি আমার প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এই পরিবারের জন্য আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজনৈতিক প্রচারে ছাড় পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫০ পি.এম


রাজনৈতিক প্রচারে ছাড় পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তারা

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে, অ্যাটর্নি জেনারেল, উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল, এফবিআই পরিচালক এবং প্রেসিডেন্টের নিয়োগ পাওয়া অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত পরিচয়ে রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দিতে, ভোটের প্রচার চালাতে এবং জাতীয় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি বা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

এই নির্দেশনা চলতি সপ্তাহে বিচার বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জোলিন অ্যান লরির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, সিনেটের অনুমোদন নিয়ে প্রেসিডেন্টের নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি ছাড় দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অ্যাটর্নি জেনারেল, উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, এফবিআই পরিচালক এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নিসহ বিচার বিভাগের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার জন্য প্রযোজ্য হবে।

পূর্বে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি তার দায়িত্বকালে রাজনৈতিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের সমাবেশ ও তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়ে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছিলেন। নতুন স্মারকে সেই ছাড়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের নিয়োগ এবং সিনেটের অনুমোদন পাওয়া বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের জন্য অন্যান্য কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য কঠোর বিধিনিষেধ একইভাবে কার্যকর হবে না। এসব কর্মীদের মধ্যে প্রশাসনিক আইনবিষয়ক বিচারক এবং বিচার বিভাগের অপরাধবিষয়ক বিভাগের কিছু কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ গত সেপ্টেম্বরে রিপাবলিকান দলের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্মেলনে বক্তব্য দেন। তিনি উত্তর ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান দলের এক সিনেট প্রার্থীর নির্বাচনী সমাবেশেও অংশ নেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, বিচার বিভাগকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখার দীর্ঘদিনের রীতির সঙ্গে এসব উপস্থিতি সাংঘর্ষিক।

তবে ব্ল্যাঞ্চ দাবি করেছেন, তিনি এসব অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কোনো আইন বা বিধি লঙ্ঘন করেননি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ব্যক্তিগত পরিচয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে বিচার বিভাগে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের এক স্মারকে বলা হয়েছিল, পেশাগত জীবনের বাইরে থেকে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত পরিচয়ে কোনো দলীয় রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। এই নীতি ২০২২ সাল থেকে কার্যকর ছিল।

স্মারকে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল, কোনো অঙ্গরাজ্যে প্রাথমিক বা সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে সর্বোচ্চ মাত্রায় প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।

নতুন নির্দেশনার ফলে বিচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত হলো।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘দেশের সব উপজেলায় সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫১ পি.এম


‘দেশের সব উপজেলায় সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার’

সরকার দেশের সব উপজেলার মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়, বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি উল্লেখ করেন, দল-মত ও অঞ্চল বিবেচনায় না নিয়ে এই উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের ৫০৩টি উপজেলার উন্নয়নে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কোনো একটি উপজেলার জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান করা উচিত হবে না, যা পাশের অন্য উপজেলাগুলোর মানুষের জন্য প্রযোজ্য নয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আয়োজনে ‘সমবায় সমিতির মাধ্যমে নগর ও পল্লী অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে কর্মকৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আবদুল মঈন খান আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা কেবল চাকরিজীবী নন, তারা দেশের ১৮ কোটি মানুষের সেবায় নিয়োজিত। তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন-ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করেছে। সীমিত সম্পদের কারণে একবারে সবকিছু বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

এছাড়া, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন সমন্বয়ের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করেছেন বলেও জানান তিনি।

তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সরকারের সব কর্মকাণ্ডের সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়, সেটিই হতে হবে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃণমূলকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, প্রচলিত জ্বালানির উৎস সীমিত হয়ে আসায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। সৌরশক্তির যথাযথ ব্যবহার দেশের মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে, ব্যয় সাশ্রয় করবে এবং জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

এ জন্য সরকারের নির্ধারিত পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে সৌরবিদ্যুতের সুফল দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে ড. মঈন খান বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো, কার্যপরিধি ও সুযোগ-সুবিধা আরও কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের প্রস্তাবসহ কর্মকর্তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে।

সমবায় সমিতির কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, শুধু নিবন্ধিত সমিতির সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, সেগুলোকে কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। দেশে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ নিবন্ধিত সমবায় সমিতি রয়েছে, উল্লেখ করে তিনি এসব সমিতির প্রকৃত কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকায় সমিতিগুলোর কার্যক্রম যাচাই করে সেগুলোকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, সমবায় সমিতির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে, যাতে গ্রামের সাধারণ মানুষ সহজেই সমিতি গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। সমবায়ের মাধ্যমে মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারের ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীন সমিতিগুলোর মাধ্যমেও সৌরপ্যানেল স্থাপন করা গেলে দেশের সাময়িক বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে। তিনি গ্রামের মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

এ ছাড়া সৌরপ্যানেল স্থাপন ও সহায়ক সেবা ক্রয়ের জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে ইতোমধ্যে ৩৯০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে পাঁচ টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তদন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫১ পি.এম


ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে পাঁচ টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কারণে পাঁচটি টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগ খতিয়ে দেখছে, সংবাদমাধ্যমগুলো প্রতিযোগিতাবিরোধী আইন লঙ্ঘন করেছে কি না।

শনিবার (১০ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিচার বিভাগের মুখপাত্র এমিলি কোভিংটন জানান, টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহ দলের সদস্যরা হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানগুলোর সংবাদ সংগ্রহ বর্জন করেছেন। তিনি বলেন, “বাণিজ্যিক প্রতিযোগীদের সম্মিলিত বর্জন শেরম্যান আইন লঙ্ঘন করতে পারে।” এ কারণে সংবাদমাধ্যমগুলো আইন ভেঙেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তবে বিচার বিভাগ এখনও স্পষ্ট করেনি যে, সংবাদ সংগ্রহ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কীভাবে শেরম্যান আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। দীর্ঘদিনের এই মার্কিন আইন মূলত একচেটিয়া ব্যবসা ঠেকানো এবং বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা বজায় রাখার জন্য প্রণীত।

নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম এ তদন্তের খবর প্রকাশ করে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস এবং এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স ও এনবিসি—এই পাঁচটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিবিএস নিউজ।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, এমএসনাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতিপত্র বাতিলের ঘোষণা দেয়। ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে, সংবাদমাধ্যমগুলো নিয়মিত ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করছে।

হোয়াইট হাউস ওই তিন সংবাদমাধ্যমকে চিঠি দিয়ে জানায়, তাদের প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত শিষ্টাচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব প্রতিবেদনের মধ্যে হোয়াইট হাউসে নতুন নাচঘর নির্মাণ, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং রিপাবলিকান দলের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্মেলনসংক্রান্ত খবরও ছিল।

এর প্রতিবাদে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহ দলের অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি টেলিভিশন সংবাদমাধ্যম যৌথভাবে সংবাদ সংগ্রহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটে, যখন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং রাষ্ট্রীয় সফরে ওয়াশিংটনে ছিলেন।

তখন যৌথ বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, “সরকার সম্পর্কে নির্ভুল ও স্বাধীন তথ্য পাওয়া জনগণের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার।” তারা আরও বলেন, “কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পছন্দ না হলেই কোনো প্রশাসনের উচিত নয় তাকে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা।”

হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহ দল পালাক্রমে প্রেসিডেন্টের সফর ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহ করে। পরে সেই ভিডিও অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয়।

অনুমতিপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সিএনএন, এমএসনাও ও পলিটিকো আদালতে মামলা করে। পরে মার্কিন জেলা বিচারক টিমোথি কেলি ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এর ফলে তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতিপত্র পুনর্বহাল করা হয়।

তবে অনুমতিপত্র ফিরে পেলেও সিএনএন ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের ওভাল অফিসে প্রবেশ কিংবা প্রেসিডেন্টের সরকারি উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সুযোগ এখনো দিচ্ছে না হোয়াইট হাউস।

আদালতের সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মামলার শুনানি ও পর্যালোচনা চালিয়ে যেতে বিচারক কেলি এর মেয়াদ আগামী মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পর্যন্ত বাড়িয়েছেন।

এদিকে, প্যারামাউন্ট ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির একীভূত হওয়ার পর গঠিত স্কাইড্যান্সের আওতায় রয়েছে সিবিএস নিউজ ও সিএনএন।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘মডেল খাল’ কর্মসূচির মাধ্যমে নদী ও খাল পুনঃখননে নতুন সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫১ পি.এম


‘মডেল খাল’ কর্মসূচির মাধ্যমে নদী ও খাল পুনঃখননে নতুন সম্ভাবনা

সরকার নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখননের পর সেগুলোকে শুধুমাত্র পানি নিষ্কাশনের কাজে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ রক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ-সহনশীল জীবিকায়ন এবং অতিদরিদ্র জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদে পরিণত করার জন্য একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

‘শুধু খাল খনন নয়; খননকৃত খালের বহুমুখী ব্যবহার’—এই ধারণাকে সামনে রেখে দেশের ৮টি বিভাগে ২০টি নির্বাচিত সরকারি খালকে পরীক্ষামূলক ‘মডেল খাল’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপকারভোগী হিসেবে প্রায় ২ হাজার ৪০০ অতিদরিদ্র পরিবারকে যুক্ত করার প্রাথমিক হিসাব করা হয়েছে।

আগামী ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লালমনিরহাটে নতুন এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন। মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত ধারণাপত্রে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু মন্তব্য করেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সারাদেশে খাল খননের বিপ্লব শুরু করেছিলেন, কিন্তু বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অবহেলা ও অবৈধ দখলে অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে যায়। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকারের ৪টি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে বর্তমানে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার মধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৭ হাজার কিলোমিটার খনন কাজ করবে। গত অর্থবছরে আমাদের লক্ষ্যমাত্রার ১২০০ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুধু পানি নিষ্কাশন নয়—খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ, পানিতে হাঁস ও মৎস্য চাষ এবং কুটির শিল্পের সুযোগ তৈরি করে এসব খালের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই। এজন্য আমরা ‘মডেল খাল’ কর্মসূচির ধারণা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

কেন এই ‘মডেল খাল’ কর্মসূচি?

ধারণাপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, নদী-নালা ও খাল পুনঃখননের চলমান কর্মসূচির পাশাপাশি দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি এসব জলসম্পদকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো খালের পানি ধারণক্ষমতা ও স্বাভাবিক পানি প্রবাহ অক্ষুণ্ন রেখে খালপাড়ে সামাজিক বনায়ন, হাঁস ও মাছ পালন, মৌসুমি সবজি চাষ এবং জনসাধারণের বৈধ ব্যবহার নিশ্চিত করা, পাশাপাশি নৌচলাচল, অতিদরিদ্র জনগণের জীবিকা ও কর্মসংস্থান তৈরি করা।

এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তাকে কেবল সাহায্য বা ভাতা-নির্ভর না রেখে উৎপাদনশীল জীবিকার মাধ্যমে মানুষকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং দুর্যোগ-সহনশীল অর্থনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করতেই এ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান আইনগত, প্রশাসনিক ও কারিগরি এখতিয়ার অক্ষুণ্ন রেখেই পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালার আলোকে এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী, দেশের কৃষিজমিতে সেচসুবিধা বৃদ্ধি, পানিসম্পদ সংরক্ষণ এবং কৃষি উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা, খাল, জলাধার খনন, পুনঃখনন কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’র অনুসরণ করে জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে দেশের হারিয়ে যাওয়া নদী, খাল ও প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধারের এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সরকারি খাল পুনঃখনন শেষ হওয়ার পর সেগুলোর নিয়মিত তদারকি ও সমন্বিত সামাজিক ব্যবহারের অভাবে যেন খালগুলো পুনরায় অবৈধ দখল, আবর্জনা ফেলা বা পলি জমে ভরাট না হয়—সেজন্যই এই পুনঃখননকৃত খালের ওপর ভিত্তি করে ‘মডেল খাল’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘খালপাড়ের উপকারভোগী দরিদ্র জনগণ যখন নিজেদের আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, তখন দরদ দিয়ে তারা নিজেরা খাল পাহারা দেবেন ও রক্ষণাবেক্ষণ করবেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন কর্মচঞ্চলতা সৃষ্টি করবে।’

প্রকল্পের আওতা ও উপকারভোগী নির্বাচন হবে যেভাবে

প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে দেশের ৮টি বিভাগের ২০টি নির্বাচিত খালকে মডেল হিসেবে নিয়ে পাইলটিং করা হবে। এর মধ্যে—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে ৩টি করে এবং রংপুর, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২টি করে খাল নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রতি খালের গড় দৈর্ঘ্য ৩ কিলোমিটার ধরে আনুমানিক মোট ৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালের বহুমুখী ব্যবহারকে পাইলটিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে, ইতোমধ্যে পুনঃখনন হয়েছে—এমন খালকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মডেল খাল হিসেবে নির্বাচন করা হবে না। প্রতিটি জেলার প্রাপ্ত প্রস্তাবনার মধ্য থেকে জিপিএস স্থানাঙ্ক, জমির খতিয়ান, দখল পরিস্থিতি, পানি প্রবাহ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের চাষাবাদের উপযোগিতা যাচাই করে চূড়ান্ত ২০টি খাল নির্বাচন করা হবে।

রূপরেখায় আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি), নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রতিবন্ধী সদস্যসম্পন্ন দরিদ্র পরিবার থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।

মডেল খালের বহুমুখী ব্যবহার ও ‘জোন’ বিন্যাস

ধারণাপত্রে খালের পরিবেশ ও স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অক্ষুণ্ন রেখে এলাকাভিত্তিক ‘জোন’ বিন্যাসের মাধ্যমে এর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, খালের নির্দিষ্ট অংশ স্থানীয় জনসাধারণ ও গবাদিপশুর গোসল, গৃহস্থালি কাজে পানি সংগ্রহের জন্য ‘পাবলিক জোন’ হিসেবে উন্মুক্ত থাকবে। খালের গভীর ও উপযোগী অংশে দেশীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শে নিয়ন্ত্রিত হাঁস পালনে ‘প্রোডাকশন জোন’ এবং নৌযান চলাচলের সুযোগ থাকা খালে স্বাচ্ছন্দ্য চলাচলের জন্য ‘ন্যাভিগেশন চ্যানেল’ রাখা হবে।

এ ছাড়া খালের দুই পাড়ের মাটি ধস রোধে জলসহিষ্ণু ও ফলজ গাছের ‘সোশ্যাল ফরেস্ট্রি’ এবং পাড়ের ঢালু অংশে মাচা পদ্ধতিতে মৌসুমি সবজি চাষের সুযোগ রাখা হবে।

কর্মসংস্থান, স্থায়ী জীবিকা ও সমবায় পদ্ধতি

প্রস্তাবনায় ২০টি মডেল খালে প্রায় ২ হাজার ৪০০ অতিদরিদ্র উপকারভোগী পরিবারকে সম্পৃক্ত করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যেখানে অন্তত ৫০ শতাংশ নারী সদস্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

তবে কোনো উপকারভোগী বা সমবায়কে খাল বা খালের পাড়ের জমি কিংবা সরকারি অবকাঠামোর ওপর স্থায়ী স্বত্ব দেওয়া হবে না; কেবল শর্তসাপেক্ষ ও অ-হস্তান্তরযোগ্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে।

অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন হবে যেভাবে

ধারণাপত্র অনুযায়ী, কোনো পৃথক বৃহৎ প্রকল্প ছাড়াই বিদ্যমান সরকারি কাঠামোর আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় এটি বাস্তবায়িত হবে।

প্রাথমিক বিনিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা কোনো স্থায়ী অনুদান বা দীর্ঘমেয়াদি ভর্তুকি নয়, বরং একটি ঘূর্ণায়মান তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে। সরকারের প্রাথমিক সহায়তায় উৎপাদন শুরুর পর অর্জিত আয় থেকে স্থানীয় সমবায়গুলো নিজস্ব পরিচালনায় ব্যয় বহন করবে, যা সরকারি আর্থিক নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় স্টিয়ারিং কমিটি থাকবে। কর্মসূচি পাইলট পর্যায়ে ১২ মাস পরিচালনার পর একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে এই মডেল সারাদেশে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘মডেল খালের মূল ভিত্তি হলো স্থানীয় নিবন্ধিত হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে সুসংগঠিত করে সমবায় সমিতি গঠন করা। কর্মসূচির শুরুর প্রথম দুই বছর সরকার প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ, উৎপাদন উপকরণ, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পরীক্ষামূলক পর্ব শেষে এসব খালের উৎপাদন, আর্থিক আয় ও তৈরি হওয়া সম্পদের ওপর সমবায়ের স্থানীয়দের সরাসরি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, যা তাদেরকে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে।’ সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%