০৮:২১ পি.এম
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রকৌশলী এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট উচ্চ দক্ষতার পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাজ্যে কাজের সুযোগ সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন বিধিমালা অনুসারে, নির্দিষ্ট স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন প্রাপ্ত গবেষকেরা, যদি প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেন, তবে মাত্র তিন বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি, যা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) বলেও পরিচিত, পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
যুক্তরাজ্য সরকারের নতুন নিয়ম অনুসারে, রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভিশনের অনুমোদনের ভিত্তিতে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা প্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য তিন বছরের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ রয়েছে। তবে, এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, শুধু তিন বছর যুক্তরাজ্যে থাকা মানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া নয়। আবেদনকারীকে ধারাবাহিকভাবে বসবাস করা এবং অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়।
গবেষকদের জন্য ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন বা ইউকেআরআইয়ের অনুমোদিত গবেষণা অনুদান কিংবা পুরস্কারের ভিত্তিতে আবেদন করার মাধ্যমটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রক্রিয়ার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই ইউকেআরআই দ্বারা অনুমোদিত কোন যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরি বা গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। সাথে তার গবেষণার অর্থায়নও অনুমোদিত কোনো তহবিলদাতার কাছ থেকে আসতে হবে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এই পথে আবেদন করার জন্য সংশ্লিষ্ট গবেষণা অনুদান বা পুরস্কারের মূল্য অবশ্যই কমপক্ষে ৩০ হাজার পাউন্ড হতে হবে এবং এর মেয়াদ অন্তত দুই বছর থাকতে হবে। কর্মসংক্রান্ত বিষয়েও একটি শর্ত রয়েছে, যেখানে আবেদনকারীর চাকরির চুক্তি বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হোস্টিং চুক্তির অন্তত এক বছর বাকি থাকতে হবে।
অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, আবেদনকারীকে তার মোট কর্মসময়ের অন্তত ৫০ শতাংশ ওই গবেষণা অনুদানের আওতাধীন কাজে সমর্পণ করতে হবে। প্রধান গবেষক অথবা সহগবেষকের ক্ষেত্রে একাধিক যোগ্য গবেষণা অনুদানে কাজ করে এই ৫০ শতাংশের শর্ত পূরণের সুযোগ রয়েছে।
গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলোর একটি হলো কর্মক্ষেত্রে স্বাধীনতা। এটি সাধারণ স্পনসরনির্ভর ওয়ার্ক ভিসার মতো নির্দিষ্ট কোনো কাজের সঙ্গে আবদ্ধ নয়। ভিসাধারীরা নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে চাকরি করতে, চাকরি পরিবর্তন করতে বা স্বনিযুক্ত হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে গবেষক এবং উদ্ভাবকদের ক্যারিয়ার পরিচালনায় এই ভিসা তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা প্রদান করে।
স্থায়ী বসবাসের প্রক্রিয়ায় গবেষকদের জন্য আরও একটি সুবিধা রয়েছে। রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং বা ইউকেআরআইয়ের অনুমোদন পাওয়া গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসাধারী গবেষকদের গবেষণার কাজে যুক্তরাজ্যের বাইরে যে সময় কাটাতে হয়, নির্দিষ্ট শর্তে সেই গবেষণাসংশ্লিষ্ট অনুপস্থিতি ধারাবাহিক বসবাসের হিসাবকে বাধাগ্রস্ত করে না।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
তবে, তিন বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময় শুধু ভিসার মেয়াদ পূরণ করাই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে আয় করার প্রমাণ দিতে হবে, সাথেই প্রযোজ্য অন্যান্য অভিবাসন শর্তও পূরণ করতে হবে। বর্তমান নিয়মে ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা এবং যুক্তরাজ্যের জীবন ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত নির্ধারিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
অতএব, আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা কেবল যুক্তরাজ্যে গবেষণা বা চাকরির সুযোগই নয়, বরং এটি যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য তুলনামূলক দ্রুত স্থায়ী বসবাসের পথও তৈরি করছে। বিশেষ করে ইউকেআরআই অনুমোদিত গবেষণা অনুদানের ভিত্তিতে কাজ করা গবেষকদের জন্য এই ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন