বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:৫৯ পি.এম
ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর উপরে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার জন্য ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে তেহরান থেকে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স তিনটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের দুইজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং একটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে হুতিদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্প্রতি হুতিদের কাছে তেহরানের এ অনুরোধ পৌঁছানো হয়েছে। তবে কীভাবে বার্তাটি দেয়া হয়েছে, এবং মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো নিয়ে হামলার হুমকি দেয়ার আগে নাকি পরে এটি পাঠানো হয়েছে, এ সম্পর্কে তারা বিস্তারিত জানায়নি।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা হুতি গোষ্ঠীর কোনো মুখপাত্র সাড়া দেননি।
হুতিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ইয়েমেনের হোদেইদা ও এডেন উপসাগরসংলগ্ন উঁচু এলাকায় বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করে জাহাজে হামলার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে হুতিরা। এখন তারা শুধু হামলা শুরুর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
রয়টার্স উল্লেখ করে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সংকট আরও তীব্র হতে পারে। কারণ ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল রফতানি পথগুলোর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
হুতিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ইয়েমেনে অবস্থানরত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রতিনিধিরা বাব এল-মান্দেব প্রণালি কখন বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ড বা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলার সুযোগ দেয়, তবে সেই পদক্ষেপের কঠোর জবাব দেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, ‘আমাদের প্রতিবেশীদের জানা উচিত, যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়া এবং ইরানের ভূখণ্ডে হামলার সুযোগ করে দেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর যথাযথ জবাব দেয়া হবে।’
একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবকাঠামোর ওপর হামলা চালায়, তবে পুরো অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর আরও ভয়াবহ ও ব্যাপক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ইরান শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপ প্রতিহত করবে।
তিনি আরো বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার একমাত্র উপায় হলো গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন করা এবং প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিষয়ে ইরানের নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলা।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাসে প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় তিন বোন হচ্ছেন সুচন্দা, ববিতা ও চম্পা। তারা রুপালি পর্দায় অসংখ্য কালজয়ী চরিত্র উপহার দিয়েছেন। জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে মানুষের জন্য তারা মসজিদ ও হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন।
সম্প্রতি বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা যশোরের পৈতৃক ভিটায় একটি চমৎকার মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। এই উদ্যোগে তিনি তার বড় বোন সুচন্দা এবং ছোট বোন চম্পার সহযোগিতা পাচ্ছেন।
যশোরের বিজয়নগরে শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত দাদাবাড়ি থেকে ফিরে তিনি মসজিদ নির্মাণের জন্য স্থানটি চূড়ান্ত করেছেন। ববিতা বললেন, আল্লাহ তাকে একটি ভালো কাজের সুযোগ দিয়েছেন। তিনি একটি খুব সুন্দর মসজিদ নির্মাণ করতে চান।
এদিকে সুচন্দা সময় সংবাদকে জানান, মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি পারিবারিক। ববিতা শুরু থেকেই এই কাজের জন্য খুব আন্তরিক। পরিবারের সকল সদস্য এই উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
কিংবদন্তি অভিনেত্রীদের মা ছিলেন একজন চিকিৎসক। তার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে, মসজিদের পাশেই তারা একটি 'তিন কন্যা দাতব্য চিকিৎসালয়' গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের মানুষের চিকিৎসা সেবায় তারা অবদান রাখতে চান। সুচন্দা জানান, যদি মসজিদ ও দাতব্য চিকিৎসালয় নির্মাণ করতে পারেন, তবে এটি হবে তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
এদিকে তিন বোনের এই মানবিক উদ্যোগের খবর সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়তেই তারা প্রশংসা অর্জন করছেন। নেটিজেনদের অনেকেই বলছেন, সমাজের প্রতি শিল্পীদের এই ধরনের দায়বদ্ধতা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ডাকাতের হামলার নাটক সাজিয়ে বড় জা রিগান আক্তার মিমকে (২৪) শ্বাসরোধে হত্যার একটি ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক কলহের কারণে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন তার আপন ছোট জা কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা (২৩)। সে ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারার অধীনে জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (১৫ জুলাই) গভীর রাতে, শাহরাস্তি পৌরসভার বত্তলা নামক এলাকায়, যেখানে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে চাঁদপুরের আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার সময় মিনার বর্ণনায় হত্যার পুরো ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, নানা কারণে তার বড় জা মিমের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না। তাই ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে রাতের আঁধারে তাকে হত্যার পদ্ধতি বেছে নেন তিনি। জবানবন্দি সম্পন্ন হওয়ার পর মিনাকে চাঁদপুর জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. লুৎফর রহমান জানান, বুধবার রাতে মিম খুন হওয়ার পর তার ছোট জা মিনার দাবি ছিল যে, তাদের বসতঘরে ডাকাতদল হানা দিয়েছে। ডাকাতরা মিনাকে বেঁধে রেখে মিমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যায়।
লুৎফর রহমান আরও জানান, ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। এক পর্যায়ে মিনা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হন এবং পরে পুলিশের কাছে এবং আদালতে পুরো ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
অন্যদিকে, জানা গেছে যে, মিনা ও মিম গ্রামের বাড়িতে একসঙ্গে বসবাস করতেন। এমতাবস্থায়, মিমের স্বামী সাইফুল ইসলাম রনী ঢাকায় এবং মিনার স্বামী ইফতেখার আলম রিফাত প্রবাসে থাকেন। দুই পরিবারেই তিনটি শিশুসন্তান রয়েছে। তবে একই বসতঘরের আলাদা আরেকটি কক্ষে রয়েছে বৃদ্ধ দাদা শ্বশুর নূরুল ইসলাম।
এদিকে, মেয়েকে হত্যার অভিযোগ এনে মিমের বাবা কবির হোসেন বাদী হয়ে মিনাকে আসামি করে শাহরাস্তি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোরের অভয়নগরে মাদক সেবন করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিশৃঙ্খলার অভিযোগে রাসেল গোলদার (৩৮) নামের এক যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে নওয়াপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তার বিরুদ্ধে এ দণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল গোলদার উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের প্রফেসরপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল মান্নান গোলদার ও ফাতেমা খাতুনের ছেলে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার সুব্রত কুমার রায় জানান, মাদক সেবন করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রাসেল গোলদার নওয়াপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিলেন। এ অভিযোগ পাওয়ার পরই তাকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তাকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু জানান, নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে জনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার কারণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একজনকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা প্রদান করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের শরণখোলায় শয়ন কক্ষ থেকে মো. কবির হোসেন ও তার স্ত্রী হালিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রাজৈর গ্রামের নিজ ঘর থেকে বিছানায় শোয়া অবস্থায় ওই দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মো. কবির হোসেন রাজৈর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে।
তিনি পেশায় একজন জেলে ছিলেন। হালিমার বাড়িও একই এলাকায়। এই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে। একটির বয়স পাঁচ বছর এবং আরেকটির দুটি মাস। অবুঝ এই দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
মরদেহ উদ্ধারের সময়, "মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, স্বেচ্ছায় তারা পৃথিবী থেকে চলে যাচ্ছেন" এমন একটি চিঠি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তা জানতে ময়নাতদন্তের জন্য দম্পতির মরদেহ বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মৃত্যুর কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, কবির ও হালিমার মধ্যে এক সপ্তাহ ধরে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। হালিমা বেগমের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত চলছে, এছাড়া ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ