বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:০৯ পি.এম
যশোরের অভয়নগরে মাদক সেবন করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিশৃঙ্খলার অভিযোগে রাসেল গোলদার (৩৮) নামের এক যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে নওয়াপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তার বিরুদ্ধে এ দণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল গোলদার উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের প্রফেসরপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল মান্নান গোলদার ও ফাতেমা খাতুনের ছেলে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার সুব্রত কুমার রায় জানান, মাদক সেবন করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রাসেল গোলদার নওয়াপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিলেন। এ অভিযোগ পাওয়ার পরই তাকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তাকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু জানান, নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে জনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার কারণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একজনকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা প্রদান করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের শরণখোলায় শয়ন কক্ষ থেকে মো. কবির হোসেন ও তার স্ত্রী হালিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রাজৈর গ্রামের নিজ ঘর থেকে বিছানায় শোয়া অবস্থায় ওই দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মো. কবির হোসেন রাজৈর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে।
তিনি পেশায় একজন জেলে ছিলেন। হালিমার বাড়িও একই এলাকায়। এই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে। একটির বয়স পাঁচ বছর এবং আরেকটির দুটি মাস। অবুঝ এই দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
মরদেহ উদ্ধারের সময়, "মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, স্বেচ্ছায় তারা পৃথিবী থেকে চলে যাচ্ছেন" এমন একটি চিঠি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তা জানতে ময়নাতদন্তের জন্য দম্পতির মরদেহ বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মৃত্যুর কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, কবির ও হালিমার মধ্যে এক সপ্তাহ ধরে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। হালিমা বেগমের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত চলছে, এছাড়া ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্ষে রক্তে ভেসে যাওয়া ৪৫ বছরের এক ব্যক্তির মরদেহের উপস্থিতি সকলকে হতবাক করে দিয়েছে। তার পাশে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পড়ে থাকা আছে তার আট বছরের শিশু পুত্র। আর ঠিক একই কক্ষে, খাটে শুয়ে, নির্ভাবনায় মোবাইলের পর্দায় স্ক্রল করে যাচ্ছেন এক নারী! ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কর্ণাটকের ধারওয়াদ শহরের একটি আবাসন ভবনে।
নিহত ওই ব্যক্তির নাম ড. কিরণ হোনান্নাভার। পেশায় তিনিও একজন চিকিৎসক, বিশেষ করে অ্যানেসথেটিস্ট (অচেতনবিদ)। এই কক্ষে মোবাইলে মগ্ন থাকা নারী ড. প্রিয়ঙ্কা ওরফে প্রিয়া, যিনি পেশায় আবারও একজন চিকিৎসক। পারিবারিক কলহের কারণে ড. কিরণকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করে পুলিশ তার স্ত্রী ড. প্রিয়ঙ্কাকে হেফাজতে নিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা হিন্দুস্তান টাইমস এবং ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধারওয়াদের কর্ণাটক ইউনিভার্সিটি রোডের ‘রাঙ্কা স্টেলো’ অ্যাপার্টমেন্টের ষষ্ঠ তলায় বাস করতেন ড. কিরণ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুরা কিরণের ফোনে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করেন, তখন প্রিয়ঙ্কা ফোন ধরছিলেন এবং একেকবার একেকরকম তথ্য প্রদান করছিলেন। কখনও বলছিলেন কিরণ বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার কখনও বলছিলেন তিনি ডিউটিতে বাইরে গেছেন।
পরদিন বুধবার সন্ধ্যার দিকে, পরিজনরা কোনো উপায় বের করতে না পেয়ে সরাসরি তাদের ফ্ল্যাটে হাজির হয়ে পড়েন। দরজার তালা খুলে ভেতরে ঢুকতেই তারা অসাধারণ আতঙ্কিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। স্বজনরা দেখতে পান, ড. কিরণ গলার দিকে মারাত্মক খতের চিহ্ন নিয়ে তোশকের ওপর রক্তের সাগরে পড়ে আছেন। পাশেই গুরুতর আহত শিশুটি পড়ে রয়েছে এবং প্রিয়ঙ্কা নির্বিকারভাবে খাটে শুয়ে মোবাইল ফোন ঘাঁটছেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হুবলির ধারওয়াদ পুলিশের একটি দল পৌঁছায়। পুলিশ কমিশনার এন শশিকুমার নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুপুত্রটির দিকে লক্ষ্য করেন, রক্তে ভেজাল শিশুটির তখনও হালকা পালস (স্পন্দন) রয়েছে। প্রথম উদ্ধারকারীরা বিষয়টি বুঝতে না পারলেও, পুলিশ কমিশনার দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে এবং পুলিশের ধারণা, শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশ কমিশনার এন শশিকুমার জানান, ঘটনাটি বাইরে থেকে আসা কাউকে ঘটায়নি। ঘটনার সময় ফ্ল্যাটের ভেতরে কেবল স্বামী, স্ত্রী ও তাদের সন্তানই ছিলেন। বহিরাগত প্রবেশের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
কমিশনার বলেছেন, ‘ঠিক কী কারণে এবং কখন এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, সেটি বের করার জন্য বিস্তারিত তদন্ত চলছে। নিহত ব্যক্তির স্ত্রীর বক্তব্য অসংলগ্ন। তিনি কি চরম মানসিক ধাক্কায় রয়েছেন নাকি অন্য কোনো কারণে এমন করছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ড. প্রিয়ঙ্কা কাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কী বলেছেন–সেসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
এই ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে। চিকিৎসকের নিথর দেহ আর সন্তানের রক্তাক্ত অবস্থার মধ্যে, একজন মা এবং স্ত্রী কীভাবে নির্বিকার থাকতে পারেন, তা ভেবে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তদন্তকারীরাও।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে রাতের অন্ধকারে একটি কবরস্থান থেকে ৯ মৃত ব্যক্তির কঙ্কাল চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এটি ঘটেছে বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার সূত্রাপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর টেকি বাড়ি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে, যেখানে চাঞ্চল্যকর এই চুরির ঘটনা ঘটে।
সকাল বেলার ঘটনার জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, কবরস্থানটিতে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ও আগাছা জমে ছিল। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ওই আগাছা পরিষ্কার করতে গিয়ে তারা কয়েকটি কবর খোঁড়া অবস্থায় দেখে। পরে কবরের ওপরের মাটি সরিয়ে দেখেন, ভেতরে কোনো কঙ্কাল বা লাশ নেই।
এ বিষয়ে মুহূর্তে এলাকায় তথ্য প্রচারিত হয়ে গেলে মৃতদের স্বজনরা সেখানে আসতে শুরু করেন এবং ভিড় করতে থাকেন। এ সময় এলাকাবাসী কবরস্থানে কিছু জামাকাপড় ও কবর খোঁড়ার সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখেছেন। তারা জানান, ওই কবরস্থানের ৯টি কবরে কঙ্কাল নেই। তবে সকালে খোঁড়া কবরগুলো মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলেন কবরস্থানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কঙ্কাল চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী তুরাগের একটি বস্তিতে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা যেখানে মায়ের কোল থেকে শিশু সন্তানকে ছিনিয়ে এনে সাত মাস বয়সী রাফা মনিকে আছাড় মেরে প্রাণ হারিয়েছে তার বাবা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিশু রাফার বাবা, রিকশাচালক কবির হোসেনকে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় তুরাগ কামারপাড়া ফুলবাড়িয়া বস্তিতে কবির ও লিমা দম্পতির মধ্যে পারিবারিক কলহের কারণে প্রবল ঝগড়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।
ঝগড়ার একপর্যায়ে কবির প্রযুক্তি ও উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে নিজের একমাত্র সন্তান রাফা মনিকে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে আছাড় মেরে ফেলে। গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকালে শিশুটির মৃত্যু ঘটে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ