বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:৪৬ পি.এম
ইকুয়েডর, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানিতে অবস্থানরত ভেনেজুয়েলার নাগরিক মারিয়া পেসিনা ও তার ভাইবোনেরা গত আট দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন চ্যাটগ্রুপে তাদের মাকে খুঁজে ফিরছেন।
প্যারিস থেকে এএফপি জানায়, চার দিনের অনুসন্ধানের পর একটি ছবি তাঁদের সবচেয়ে আশঙ্কার খবরটি নিশ্চিত করে, ‘তাঁদের মা ম্যাগনোলিয়া কারাকাসে ভবন ধসে নিহত হয়েছেন’।
‘যন্ত্রণার অবসান হলো,’ ৭৯ বছর বয়সী মায়ের মরদেহের গায়ে থাকা পোশাক দেখে পরিচয় নিশ্চিত করার পর এএফপিকে বলেন পেসিনা।
ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটোতে কর্মরত এই ভেনেজুয়েলীয় গবেষক নিজেও ওই দুর্ঘটনার শিকার হতে পারতেন।
তিনি তিন সপ্তাহ মায়ের সঙ্গে কাটিয়ে ২৪ জুন দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠেন। কয়েক ঘণ্টা পরই ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার যুগ্ম ভূমিকম্প আঘাত হানে।
‘ভূমিকম্পটি সংঘটিত হওয়ার সময় আমি বিমানে ছিলাম,’ বলেন তিনি।
অবতরণের পর, ‘আমার ফোনে বার্তার বন্যা বয়ে যায়। সবাই ভেবেছিল আমি এখনও কারাকাসেই আছি।’
তিনি বলেন, ‘বাড়ি পৌঁছানোর আগেই ধসে পড়া ভবনের একটি ভিডিও হাতে পাই। তখন আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।’
এরপর তিনি ও তার ভাইবোনেরা মরিয়া হয়ে মায়ের খোঁজ শুরু করেন।
পরিবার ও প্রতিবেশীদের চ্যাটগ্রুপে তথ্য চান। একই সঙ্গে একজনকে নিয়োগ করেন, যিনি কারাকাসের বিভিন্ন হাসপাতালে জীবিত, আহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা খুঁজে দেখেন।
হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রুপের মাধ্যমে ম্যাগনোলিয়ার বসবাস করা ১৪ তলা ‘পেটুনিয়া’ ভবনের বাসিন্দারা যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, পানামা ও ইকুয়েডরে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন।
শুক্রবার ওই গ্রুপে একটি বার্তায় জানানো হয়, ম্যাগনোলিয়ার বর্ণনার সঙ্গে মিলে এমন একটি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
পরদিন পোশাক দেখে নিশ্চিত হন সেটি তাঁর মায়ের মরদেহ।
পেসিনা বলেন, ‘তিন সপ্তাহ ধরে আমি তার কাপড় ধুয়ে গুছিয়ে রেখেছিলাম। তাই ছবিতে তিনি কী পোশাক পরেছিলেন, তা চিনতে পেরেছি।’
ঘুম হারাম হয়ে গেছে
পেসিনা পরিবারের মতো আরও অসংখ্য প্রবাসী ভেনেজুয়েলীয় দূরদেশ থেকে স্বজনদের খুঁজছেন। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন এবং এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে প্রায় ৭৯ লাখ মানুষ ভেনেজুয়েলা ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এটি সাম্প্রতিক লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জনপলায়ন।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা এই প্রবাসীরা ওষুধ, ডায়াপার ও শিশু খাদ্য পাঠানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে আবেদন জানাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি থেকে এএফপিকে আন্দ্রে (পূর্ণ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, তার ভগ্নিপতি প্লায়া গ্রান্দের ভায়ার্তা ভবনে ছিলেন।
‘এখনও তার কোনো খবর পাইনি,’ বলেন তিনি।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঞ্চলের ওই এলাকায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দারাই উদ্ধারকাজ চালান। পরে এল সালভাদরের উদ্ধারকারী দল সেখানে যোগ দেয়।
আন্দ্রে বলেন, ‘এই বিপর্যয়ের পর থেকে আমি ঘুমাইনি। সাহায্যের আবেদন জানাই, অনুদান সংগ্রহ করি, মানুষকে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিই। সবকিছুরই প্রয়োজন, আর আমার কাছে হাজার হাজার বার্তা আসছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার তার ভগ্নিপতির ভবনে উদ্ধার অভিযান স্থগিত হয়ে যায়, কারণ স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ থেকে অর্থ চুরির সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
‘তারা মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সময়মতো আসেনি। হয়তো প্রথম কয়েক ঘণ্টায় আমার ভগ্নিপতি জীবিত ছিলেন। কিন্তু চুরি করতে তারা ঠিকই সময়মতো এসেছে,’ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন আন্দ্রে।
শরীর এখানে, মন পড়ে আছে ওখানে
স্পেনে বসবাসরত ব্রোলি রুম্বোস জানতে পারেন, তার এক বন্ধু লা গুয়াইরার ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিজের পরিবারের সদস্যদের খুঁজেছেন।
স্কুলজীবনের বন্ধুদের চ্যাটগ্রুপে তিনি লেখেন, ‘এত দূরে থেকে স্বাভাবিক জীবন চালিয়ে যাওয়া খুব অদ্ভুত লাগে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা এখানে আছি, কিন্তু আমাদের মন পড়ে আছে ওখানে।’
এদিকে পেসিনা পরিবার এখন ভাবছে, কীভাবে তাঁদের মাকে শেষ বিদায় জানানো হবে।
ম্যাগনোলিয়ার দেহভস্ম তার বোনদের কাছে পৌঁছানোর পর সম্ভবত অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
পেসিনা বলেন, ‘কবে হবে, জানি না। এখন সবকিছুই সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল।’
তবে একটি বিষয়ে তিনি নিশ্চিত—শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে গান থাকবে।
কারণ, ‘আমার মা গান গাইতে খুব ভালোবাসতেন।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে দালালির অভিযোগে উপজেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিলনকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ছাড়াতে অনুরোধ জানিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করেন উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক আব্দুল জলিল।
বুধবার (১ জুলাই) রাতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ওই এনসিপির নেতার একটি অডিও কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে উপজেলা ভূমি অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম রায়হানুর রহমান।
এ সময় পৌর সদরের কুসুমদী গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিলনকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। অনাদায়ে আরও অতিরিক্ত তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
জানা গেছে, পৌরসভার কুসুমদী গ্রামের বাসিন্দা মিলন দীর্ঘদিন ধরে আলফাডাঙ্গা সাবরেজিস্ট্রার অফিসের বাইরে কম্পিউটারের দোকান পরিচালনা করে আসছেন। ভূমি অফিসের নামে জমির নামজারি, খাজনা ও অন্যান্য সেবা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। বিভিন্ন কাজ নিয়ে দিনে একাধিকবার উপজেলা ভূমি অফিস ও পৌর ভূমি অফিসে যাতায়াত করতেন। তাকে এভাবে ভূমি অফিসের বাইরে ঘোরাঘুরি করতে দেখে একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি জমির দালালি বাদ দিয়ে অন্য কোনো কাজের মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। তারপরও তিনি ভূমি অফিসে যাতায়াত বন্ধ করেননি।
এদিকে ছড়িয়ে পড়া অডিও কথোপকথনে শোনা যায়, উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম রায়হানুর রহমানকে বলছেন, মিলন আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, তাকে একবার শুধরে নেওয়ার সুযোগ দিন। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনি বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে এতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর আব্দুল জলিলকে বলতে শোনা যায়, ঠিক আছে, এমপি স্যারকে বলি।
এ বিষয়ে এনসিপি নেতা আব্দুল জলিল বলেন, আমাদের দলের এক নেতার বিষয়টি জানতে পেরে এসিল্যান্ড স্যারকে ফোন দিয়েছিলাম। পরে বিস্তারিত জানতে পেরে কোনো তদবির করিনি। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলাম।
ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর গণমাধ্যমকে বলেন, এ ধরনের অপরাধীর পক্ষে সুপারিশ করা সাংগঠনিক আইন পরিপন্থি। এটা করে থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম রায়হানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। অফিসের বাইরে ঘোরাঘুরির একাধিক ফুটেজও রয়েছে। তাছাড়া তার সেবা প্রতিষ্ঠানে কোন সেবা কত মূল্যে তিনি প্রদান করেন- সেই সংক্রান্ত কোনো তালিকা প্রকাশ্যে টাঙাননি। আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিএফডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে ফাইটার শিল্পী মো. নাজমুল হক ব্রুসলিকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম খসরুর উপস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্রুসলিকে সাংবাদিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। এছাড়া, এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ভিডিও এবং বক্তব্য প্রত্যাহার বা সরিয়ে নিতে হবে।
অন্যথায়, আগামী ৩ জুলাই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে তিনি আর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।
এদিকে, এ সিদ্ধান্তের পর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ঘোষিত সকল কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, বিএফডিসিতে সংবাদ সংগ্রহসহ সকল কার্যক্রম এখন থেকে স্বাভাবিকভাবে চলবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সমর্থকদের জন্য একটি অভিনব অফার বাস্তবে রূপ নিয়েছে। মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান যখন লাল কার্ড দেখান, তখন জনপ্রিয় পিজ্জা ব্র্যান্ড ডমিনোজ প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি টাকা) মূল্যের ৬০ হাজার মিডিয়াম পিজ্জা বিনা মূল্যে বিতরণ করবে।
এটি একটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়। বিশ্বকাপ শুরুর পূর্বে ডমিনোজ ঘোষণা দিয়েছে যে, টুর্নামেন্টে যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখান, তাহলে তারা ৬০ হাজার মিডিয়াম ‘ইমার্জেন্সি পিজ্জা’ ফ্রি দেবে। লাল কার্ড দেখে হতাশ সমর্থকদের কিছুটা স্বস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে এই ব্যতিক্রমী প্রচারণা চালু করা হয়।
বৃহস্পতিবার ভোরে সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের ৬১ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ফোলারিন বালোগান। তবে তার আগে তিনি দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন, যা ছিল চলতি বিশ্বকাপে তার তৃতীয় গোল।
বালোগানের মাঠ ছাড়ার পরেও ১০ জনের দল হিসেবে দাপট ধরে রাখে যুক্তরাষ্ট্র। তারা ম্যাচে আরেকটি গোল করে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। এই জয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম জয় হিসেবে প্রমাণিত হলো।
তবে ফ্রি পিজ্জা সকলের জন্য নয়। বিশ্বকাপের শুরুর আগে, ১০ জুন রাত ১২টার মধ্যে ডমিনোজের রিওয়ার্ডস প্রোগ্রামে নিবন্ধন করা গ্রাহকরা কেবল চাহিদার ভিত্তিতে এই অফারের সুবিধা পাবেন। উল্লেখ্য, অফারটি আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে এডিপির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দের মালামাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে। সরকারি বরাদ্দে কেনা এসব বের হয়েছে বাইসাইকেল, ছাগল, স্প্রে মেশিন, সেলাই মেশিন, ফুটবল ও হুইল চেয়ার। জানা গেছে, বিএনপি ও জামায়াত নেতারা নিজেদের মধ্যে এ মালামাল ভাগাভাগি করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এক মাদ্রাসা ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে বরাদ্দকৃত বাইসাইকেল নিজ হাতে স্বাক্ষর করে তুলে নেন এবং পরে সেটি নিজের নাতিকে উপহার দেন।
যখন বিষয়টি জানাজানি হয়, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে, অবশেষে বুধবার দুপুরে, ওই জামায়াত নেতা বাইসাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ফেরত দিতে বাধ্য হন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু সাইমুনকে সাইকেলটি না দিয়ে, জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম স্বাক্ষর করে সাইকেলটি তুলে নিয়ে যান এবং পরে সেটি তার মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী মাদ্রাসা ছাত্র সাইমুন ইসলাম জানায়, তার নামে বরাদ্দ হওয়া সাইকেলটি প্রথমে তাকে দেওয়া হয়নি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ পেলে, বুধবার সাইকেলটি তড়িঘড়ি করে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
শুধু জামায়াত আমিরই নন, বিএনপি নেতারাও বরাদ্দকৃত সাইকেল, সেলাই মেশিন ও স্প্রে মেশিন নিজেদের স্বজনদের মাঝে বণ্টন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত নেতা মাওলানা তাজুল ইসলাম প্রথমে দাবি করেন, সাইকেলটি তার প্রতিবেশী এক ছেলেকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে তিনি বলেন, তার ছেলে বেকার এবং আর্থিক সংকটে থাকায় সাইকেলটি তার পুতনি মারিয়াকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি স্বীকার করেন, বরাদ্দকৃত এসব মালামাল জামায়াত ও বিএনপি নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।
সরকারি মালামাল দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ভাগাভাগি ও অনিয়মের এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন বুলবুল সিডল। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে যা শোনা যাচ্ছে, এমন ঘটনা যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং একটি খারাপ নজির সৃষ্টি করবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সরকারি বরাদ্দ যদি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এভাবে ভাগাভাগি হয়ে থাকে, তবে প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে এর পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’
মাওলানা তাজুল ইসলামের এই কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাবেক মাদ্রাসা শিক্ষক ও জামায়াত সমর্থক শের আলীও। তিনি বলেন, ‘মাওলানা তাজুল ইসলাম মোটেও কোনো দরিদ্র মানুষ নন। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন, শহরে তার নিজস্ব বাড়ি আছে এবং সন্তানরাও ভালো চাকরি করেন। একজন দায়িত্বশীল মানুষের এমন সরকারি বরাদ্দের বাইসাইকেল জালিয়াতি করে নেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।’
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সমালোচনার ঝড় উঠলে ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমানের নজরে আসে। পরে তার নির্দেশে বুধবার দুপুরে সাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী অফিসে ফেরত আনা হয়।
কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে সাইকেলটি ফেরত আনা হয়েছে এবং এটি নতুন করে প্রকৃত উপকারভোগীর মাঝে বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, বাইসাইকেল ছাড়াও অন্যান্য উপকরণ (যেমন: সেলাই মেশিন, ছাগল, স্প্রে মেশিন ইত্যাদি) বিতরণে আর কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সুষ্ঠু তদন্ত চালানো হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ