বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:৫৫ পি.এম
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সমর্থকদের জন্য একটি অভিনব অফার বাস্তবে রূপ নিয়েছে। মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান যখন লাল কার্ড দেখান, তখন জনপ্রিয় পিজ্জা ব্র্যান্ড ডমিনোজ প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি টাকা) মূল্যের ৬০ হাজার মিডিয়াম পিজ্জা বিনা মূল্যে বিতরণ করবে।
এটি একটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়। বিশ্বকাপ শুরুর পূর্বে ডমিনোজ ঘোষণা দিয়েছে যে, টুর্নামেন্টে যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখান, তাহলে তারা ৬০ হাজার মিডিয়াম ‘ইমার্জেন্সি পিজ্জা’ ফ্রি দেবে। লাল কার্ড দেখে হতাশ সমর্থকদের কিছুটা স্বস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে এই ব্যতিক্রমী প্রচারণা চালু করা হয়।
বৃহস্পতিবার ভোরে সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের ৬১ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ফোলারিন বালোগান। তবে তার আগে তিনি দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন, যা ছিল চলতি বিশ্বকাপে তার তৃতীয় গোল।
বালোগানের মাঠ ছাড়ার পরেও ১০ জনের দল হিসেবে দাপট ধরে রাখে যুক্তরাষ্ট্র। তারা ম্যাচে আরেকটি গোল করে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। এই জয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম জয় হিসেবে প্রমাণিত হলো।
তবে ফ্রি পিজ্জা সকলের জন্য নয়। বিশ্বকাপের শুরুর আগে, ১০ জুন রাত ১২টার মধ্যে ডমিনোজের রিওয়ার্ডস প্রোগ্রামে নিবন্ধন করা গ্রাহকরা কেবল চাহিদার ভিত্তিতে এই অফারের সুবিধা পাবেন। উল্লেখ্য, অফারটি আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে এডিপির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দের মালামাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে। সরকারি বরাদ্দে কেনা এসব বের হয়েছে বাইসাইকেল, ছাগল, স্প্রে মেশিন, সেলাই মেশিন, ফুটবল ও হুইল চেয়ার। জানা গেছে, বিএনপি ও জামায়াত নেতারা নিজেদের মধ্যে এ মালামাল ভাগাভাগি করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এক মাদ্রাসা ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে বরাদ্দকৃত বাইসাইকেল নিজ হাতে স্বাক্ষর করে তুলে নেন এবং পরে সেটি নিজের নাতিকে উপহার দেন।
যখন বিষয়টি জানাজানি হয়, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে, অবশেষে বুধবার দুপুরে, ওই জামায়াত নেতা বাইসাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ফেরত দিতে বাধ্য হন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু সাইমুনকে সাইকেলটি না দিয়ে, জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম স্বাক্ষর করে সাইকেলটি তুলে নিয়ে যান এবং পরে সেটি তার মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী মাদ্রাসা ছাত্র সাইমুন ইসলাম জানায়, তার নামে বরাদ্দ হওয়া সাইকেলটি প্রথমে তাকে দেওয়া হয়নি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ পেলে, বুধবার সাইকেলটি তড়িঘড়ি করে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
শুধু জামায়াত আমিরই নন, বিএনপি নেতারাও বরাদ্দকৃত সাইকেল, সেলাই মেশিন ও স্প্রে মেশিন নিজেদের স্বজনদের মাঝে বণ্টন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত নেতা মাওলানা তাজুল ইসলাম প্রথমে দাবি করেন, সাইকেলটি তার প্রতিবেশী এক ছেলেকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে তিনি বলেন, তার ছেলে বেকার এবং আর্থিক সংকটে থাকায় সাইকেলটি তার পুতনি মারিয়াকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি স্বীকার করেন, বরাদ্দকৃত এসব মালামাল জামায়াত ও বিএনপি নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।
সরকারি মালামাল দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ভাগাভাগি ও অনিয়মের এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন বুলবুল সিডল। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে যা শোনা যাচ্ছে, এমন ঘটনা যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং একটি খারাপ নজির সৃষ্টি করবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সরকারি বরাদ্দ যদি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এভাবে ভাগাভাগি হয়ে থাকে, তবে প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে এর পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’
মাওলানা তাজুল ইসলামের এই কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাবেক মাদ্রাসা শিক্ষক ও জামায়াত সমর্থক শের আলীও। তিনি বলেন, ‘মাওলানা তাজুল ইসলাম মোটেও কোনো দরিদ্র মানুষ নন। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন, শহরে তার নিজস্ব বাড়ি আছে এবং সন্তানরাও ভালো চাকরি করেন। একজন দায়িত্বশীল মানুষের এমন সরকারি বরাদ্দের বাইসাইকেল জালিয়াতি করে নেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।’
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সমালোচনার ঝড় উঠলে ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমানের নজরে আসে। পরে তার নির্দেশে বুধবার দুপুরে সাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী অফিসে ফেরত আনা হয়।
কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে সাইকেলটি ফেরত আনা হয়েছে এবং এটি নতুন করে প্রকৃত উপকারভোগীর মাঝে বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, বাইসাইকেল ছাড়াও অন্যান্য উপকরণ (যেমন: সেলাই মেশিন, ছাগল, স্প্রে মেশিন ইত্যাদি) বিতরণে আর কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সুষ্ঠু তদন্ত চালানো হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পূর্বশত্রুতার কারণে ৩৯ বছর বয়সি জহিরুল শিকদার নামক এক যুবককে তাঁর বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ছোট বাসাইল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
জহিরুল শিকদার ওই গ্রামের আব্দুর রশিদ শিকদারের ছেলে। ঘটনার পরপরই আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোট বাসাইল গ্রামের জহিরুল শিকদারের সঙ্গে একই গ্রামের আনিচ শিকদারের ছেলে সিন্টু শিকদার, সান্ত শিকদার, জাহাঙ্গীর শিকদারের ছেলে জুয়েল শিকদার এবং মৃত চান্দু শিকদারের ছেলে জাহাঙ্গীর শিকদারসহ কয়েকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই বুধবার সকাল প্রায় ১১টার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা এই বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, ওই ঘটনার পরেই বুধবার গভীর রাতে জহিরুল শিকদারকে তাঁর বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাড়ির পাশের সড়কে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।
এই ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী মনি বেগম বাদী হয়ে সিন্টু শিকদারকে প্রধান আসামী করে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামী করে একজন হত্যা মামলা দায়ের করেছেন আগৈলঝাড়া থানায়।
নিহতের বড় ভাই এনামুল শিকদার বলেছেন, বুধবারের ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু রাতে আমার ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, নিহতের স্ত্রীর দায়ের করা হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী সিন্টু শিকদার (২২) এবং জাহাঙ্গীর শিকদারকে (৫৮) গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, হামাসের নেতৃত্বে সংঘটিত হামলার পর, অধিকাংশ ইসরাইলি নাগরিক একটি স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন। এই তথ্য এক জরিপের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে পরিচালিত জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারজন ইসরাইলির মধ্যে তিনজনই এই হামলার জন্য 'স্বাধীন' তদন্ত চেয়ে আছেন। ইসরাইলিদের মধ্যে এই চাওয়ার পেছনে একটি প্রধান কারণ হলো, তারা ব্যাপক উদ্বেগ বোধ করছেন যে, সংগতিশীল ঘটনা পুনরায় ঘটতে পারে, হয় তা গাজা থেকে অথবা কোনও অন্য এলাকা থেকে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের নেতৃত্বে হামলার ঘটনাটি ঘটে। এর ফলে ইসরাইল গাজার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের ফলে গাজার অবকাঠামো কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেখানে একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।
যদিও হামাসের হামলার বিষয়ে কিছু নিরাপত্তা সংস্থা আলাদাভাবে তদন্ত করেছে, তথাপি জনসাধারণ স্পষ্ট জবাবদিহিতা দাবি করে আসছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার এই ধরনের তদন্ত বাধাগ্রস্ত করছেন।
তিনি যুক্তি দিচ্ছেন যে, তিনি মনে করেন, যেকোনো তদন্তই 'পক্ষপাতদুষ্ট' হবে। নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে যাচ্ছেন যে, বিচার বিভাগ তার বিরুদ্ধে। তাই, এমন জাতীয় তদন্তের ফলাফল তার জন্য সুবিধাজনক হবে না।
এছাড়া তিনি জানিয়েছেন, অক্টোবর ৭-এর ঘটনার তদন্ত কেবল তখনই উচিত, যখন এই অঞ্চলের যুদ্ধগুলোর অবসান হবে। বাস্তবতা হলো, নেতানিয়াহু একের পর এক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
নেতানিয়াহুর বিরোধীরা বর্তমানে এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন এবং নিজেদের ভোট বাড়ানোর জন্য জাতীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।
এদিকে, গাজায় বর্তমানে যুদ্ধের পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে এবং আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গাজা যুদ্ধের ১০০০তম দিন অতিক্রম করেছে। সেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইলি হামলা থামছে না। প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গাজার সরকারি ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় অন্তত ৭৩,৬৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১,৭৩,৫১৪ জন।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলার ফলে উপত্যকার ৯০ শতাংশের বেশি অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। স্থল অভিযান, সামরিক অভিযান এবং জোরপূর্বক সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনার মাধ্যমে গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ ভূখণ্ড বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গত বুধবার (১ জুলাই) ইসরাইলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন জানান, ইসরাইল গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে এবং এই নিয়ন্ত্রণ '১০০ শতাংশে' আনতে পরিকল্পনা করছে।
এই মন্তব্যের পর, হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম আরব লীগের জরুরি সম্মেলন আহ্বানের দাবি জানান। তাঁর মতে, ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী নীতি কেবল ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়, বরং বিশেষ করে মিশরসহ অন্যান্য আরব দেশের জন্যও হুমকি সৃষ্টি করছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে জুলাই বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে একটি মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এই উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের নগরী জামায়াত কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য এবং জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান।
এ সময় জেলা সহকারী সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুন্না, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাসুদুর রহমান গিয়াস, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল বাকী, দেওয়ান খোরশেদ আলম, মাওলানা মুজিবুর রহমান মিয়াজী, মুফতি জাহাঙ্গীর আলম এবং বিভিন্ন উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আমিররা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে মমিনুল হক সরকার বলেন, ২০০৯ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী মতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গুম, হত্যা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রেক্ষাপটে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন দেশব্যাপী গণআন্দোলনে পরিণত হয়। তিনি দাবি করেন, আন্দোলন দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ নিহত এবং আহত হন। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন বলেও উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এই কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ৪ জুলাই ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণ, ৫ থেকে ২০ জুলাই থানা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে আলোচনা সভা, ১৩ জুলাই ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনার, ২৩ থেকে ২৫ জুলাই উপজেলা এবং থানা ভিত্তিক জুলাই আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী, ২৯ জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে মতবিনিময় সভা, ১ আগস্ট উপজেলা ভিত্তিক গণমিছিল, ২ থেকে ৪ আগস্ট শ্রমিকদের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং ৫ আগস্ট ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ ও মিছিলে অংশগ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো সফল করতে এবং মাসব্যাপী আয়োজনে অংশ নিতে জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ