০১:০৪ পি.এম
অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদার অবশেষে মুখ খুলেছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় গতকাল শনিবার গভীর রাত থেকে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুযুবদলের সঙ্গে জড়িত—এমন গুঞ্জনে BNP-তে হইচই পড়ে গেছে। তবে যুবদল সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে, দুপুরে লিটু গ্রেপ্তারের পর গণমাধ্যমের কাছে কথা বলেছেন আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, তাঁর অণ্ডকোষ সেইভাবে ধরেছিল (লিটু), যাতে তিনি শ্বাসরোধ হয়ে মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলেন। আব্দুল আজিজ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল—‘‘আমাদের চেক দে।’’ আমি ওই অবস্থায় জীবন বাঁচাতে ড্রয়ার থেকে চেক বের করে দিই।’
তিনি আরো বলেন, ‘মোস্তাফিজুর রহমান লিটু প্রথমে একটি ব্ল্যাংক চেক নিয়েছে এবং তারপর একটির ওপর ৭০ লাখ টাকার জন্য স্বাক্ষর নেয়। এরপর তারা পকেট থেকে দুই সেট স্ট্যাম্প বের করে। ছয় পাতায় আমার স্বাক্ষর ও সিল নিয়েছে। পরে লিটু বলে—‘‘থানায় চল, সেখানে বসে সালিস হবে। তোর কাছ থেকে টাকা পাই।’’’
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
আবদুল আজিজ বলেন, ‘কোতোয়ালি থানায় নিয়ে ওসির (তদন্ত) সামনে লিটু বলেছে, ‘‘আমি তার কাছে টাকা পাই। থানার মাধ্যমে সালিস করতে চাই।’’ তবে ওসি বলেন—অভিযোগ ছাড়া সালিস হবে কী করে? তখন লিটু বলে, সে অভিযোগ দেবে।’
হাউজিং ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ আরও বলেন, ‘আমার কক্ষে যে মব হয়েছে এবং যে স্বাক্ষর নিয়েছে, তার কিছুই থানায় বসে ব্যক্ত করিনি। কারণ, আমার জীবনের নিরাপত্তা ছিল না।’ তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ‘যদি সেখানে আমি কথা বলতাম, তাহলে তারা হয়তো থানায় বসেও আমার ওপর মব করত। সেই ভয়ে আমি থানায় বসেও কিছু বলিনি।’
আবদুল আজিজ আরও জানান, ‘থানা থেকে চলে আসার পর তিন-চার দিন আমি বিমর্ষ ছিলাম। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা কাউকে বলতেও পারিনি। পরে আমি আইনজীবীর পরামর্শে গত বৃহস্পতিবার আদালতে মামলা করেছি।’ তিনি দাবি করেন, লিটু তাঁর ব্যবসায়িক পার্টনার ছিলেন, কিন্তু তিন বছর আগে তাঁদের মধ্যে লেনদেন ক্লিয়ার হয়ে গেছে। যদিও গ্রেপ্তারের আগে অভিযুক্ত লিটু জানিয়েছেন, যাঁরা আজিজের কাছে গিয়েছিলেন, তাঁরা সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং আজিজ সবার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পরিচালকেরা সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন।
এ বিষয়ে আজ রবিবার বিকেলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আসিক সাঈদ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘হাউজিং ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজের ওপর অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমানসহ তাঁর সহযোগীরা মব সন্ত্রাসের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনা ভাইরাল হয়। ঘটনাটি নজরে আসার পর মহানগর পুলিশের অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ প্রদান করেছি।’
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
মো. আসিক সাঈদ আরও বলেছেন, ইতিমধ্যে এ ঘটনায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আমলি আদালতের নির্দেশে আজ কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলার কার্যক্রম অনুযায়ী আসমি মোস্তাফিজুর রহমান লিটু এবং তাঁর সহযোগী আবুল কালাম আজাদ গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন