প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগারওয়ালের হত্যা মামলার প্রেক্ষাপটে আরেকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। এবার হরিয়ানার গুরুগ্রামের মানেসরে ঘটেছে এক ব্যক্তি বিয়ের মাত্র তিন মাসের মধ্যে প্রেমিকার সহযোগিতায় নিজের স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যার ঘটনাটির পর দুজনে নেপালে পালিয়ে গেলেও দেশে ফেরার পর তারা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ২২ মে নিহত তরুণীর মা মানেসর থানায় অভিযোগ করেন যে, তার ২২ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মানেসরের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী অঙ্কিতের বিয়ে হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২১ মে থেকে ওই তরুণী নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। এছাড়া শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সন্তোষজনক কোনো জবাব পাননি। পরে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর সন্দেহ হওয়ায় নিহতের মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্তের এক পর্যায়ে ২২ মে মানেসরের একটি কক্ষ থেকে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরে মামলায় হত্যা ধারা যুক্ত করে তদন্ত জোরদার করা হয়।
পুলিশ পরে অভিযুক্ত স্বামী অঙ্কিত এবং তার ৩৮ বছর বয়সী প্রেমিকা রজনী দেবীকে গ্রেফতার করে। রজনীর বাড়ি হরিয়ানার ঝাঝ্জর জেলায়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অঙ্কিত মানেসরে একটি তামাকের দোকান চালাতেন, এবং রজনী ওই এলাকায় একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অঙ্কিত ও রজনীর মধ্যে গত তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, রজনীর ভাড়া করা কক্ষেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার দিন অঙ্কিত তার স্ত্রীকে সেখানে নিয়ে যান এবং পরে দুজনে মিলে তাকে গুলি করে হত্যা করেন।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে উত্তর প্রদেশ থেকে কেনা হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্রটি সংগ্রহ করা হয়েছিল।
হত্যার পর অঙ্কিত ও রজনী প্রথমে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে যান। পরে সেখান থেকে সীমান্ত পার করে নেপালে পালিয়ে যান। পুলিশ দাবি করেছে, ৩০ জুন তারা ভারতে ফিরে এলে মানেসরের ক্রাইম ব্রাঞ্চ তাদের গ্রেফতার করে। আদালতে হাজির করার পর দুজনকেই পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন