প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে প্রতারণা চালানোর পাশাপাশি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী পরিচয়ে মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চাকরিচ্যুত চেইনম্যান মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ সকল ঘটনায় করা ১১টি মামলায় আদালত ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক তদন্তে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার সত্যতা পেয়েছে। তবে এতো বড় অপরাধের পরও রহস্যজনক কারণে তাকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আরও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েও মুজিবুর রহমান এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অভিযোগ আছে, তিনি এখনও মানুষকে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করে তিনি এভাবে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মুজিবুর পূর্বাচলে জায়গা বিক্রির কথা বলে মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও, টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর সেই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে স্ট্যাম্প ও সই জালিয়াতি করে উল্টো ৬ কোটি টাকার 'মিথ্যা' মামলা ঠুকে দেয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের পিবিআইয়ের তদন্তে ইতিমধ্যেই তার মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা করেছেন, সেটিও মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমানের অভিযোগ, ‘পূর্বাচলে একটি প্লটের জন্য তিন কোটি ৭ লাখ টাকা দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না হওয়ায় এবং বারবার সময় টানায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর আগে এক সকালে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পিবিআই এর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মুজিবুর একজন অনেক বড় মাপের প্রতারক। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, মুজিবুর যেসব তথ্য দিয়ে মামলা করেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সে অনেক মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে।’ ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘‘মজিবুর শুধু সাধারণ মানুষের সঙ্গেই প্রতারণা করেনি। সে পুলিশের অনেক সদস্যের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে। এমনকি পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। এমনকি পুলিশ সদর দপ্তরে সে ‘মিথ্যা তথ্য’ দিয়ে চিঠি লিখেছে। তদন্তে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এর আগে একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছে। তবে ‘জামিন’ নিয়ে ফের সে কারাগার থেকে বের হয়ে একই কাজ করে যাচ্ছে।’ কারা সূত্র জানায়, এর আগে সে কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে। তার প্রতারণার শিকার হয়ে একজন শিক্ষক এখন পথের ফকির। এক মুরব্বির কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ওই মুরব্বি দাবি করেন, টাকা চাওয়ায় তাকে মিথ্যা কথা বলে চাঁদপুর থেকে ঢাকায় ডেকে এনে একটি নির্জন কক্ষে আটকিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করে। এরপর অস্ত্রের মুখে হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে জোর পূর্ব স্টাম্পে সই করিয়ে নেয়। ওই ভুক্তভোগী এখন মামলা করে তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া বিপুল অর্থ ফেরত চান। এসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রতারণার মাস্টারমাইন্ড মুজিবুর এখনো বহাল তবিয়তে আছে। যদিও মুজিবুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ফ্ল্যাট ও গাড়ি থাকার বিষয় স্বীকার করি, তবে তার জন্য ব্যাংক লোন রয়েছে।’ তবে পুলিশের তদন্তে তার ব্যাংক লোনের পাশাপাশি বিপুল অর্থের মালিক হওয়ার বিষয়ে দেওয়া তথ্য মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। মুজিবুর রহমান বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করেছেন। কখনও রাজউকের কর্মকর্তা হিসেবে, আবার কখনও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পার্সোনাল অফিসার হিসেবে নিজেকে পরিচিত করেছেন। পূর্বে তিনি আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য ছিলেন বলে দাবি করেন, বর্তমানে তিনি বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কথা প্রচার করেন। তবে তার এসব তথ্যের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তার তথ্যে কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি কখনও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, কখনও রাজউকের অথরাইজড অফিসার আবার কখনও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী- নিজেকে এভাবে উপস্থাপন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অথচ খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চাকরিচ্যুত এই চেইনম্যান মুজিবুর রহমান একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছিলেন। প্রতারণার এই মাস্টারমাইন্ড এখন বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক। চেইনম্যান মুজিবুর রহমান ঘুষ, দুর্নীতি এবং নানা অনিয়মের কারণে ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে বরখাস্ত হন। এরপর শুরু হয় তার বহুমুখী পরিচয়ের বিভিন্ন প্রতারণা। রাজউকের প্লট দেওয়ার নামে একাধিক মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি পিবিআই তদন্তে তার জালিয়াতির অনেক ভয়াবহ অভিযোগ ওঠে। সে একজন ভুক্তভোগীকে সব টাকা পরিশোধে কয়েকটি চেক প্রদান করেছিল। কিন্তু চেকগুলো ব্যাংকে ডিজঅনার হয়েছে। এমনই চিত্র দেখা গেছে, তার প্রতারণার শিকার ব্যক্তির সাথেও। মুজিবুরের সঙ্গে ফ্ল্যাট ওনার অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ রয়েছে, সে অনেকের সঙ্গেই এই রকম প্রতারণা করেছে। তার প্রতারণার শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিটিভির সাবেক পরিচালক শেখ আব্দুল সালেক বলেন, ‘প্রতারক মজিবুর বহু সহজ সরল মানুষকে তার প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছেন। তার বিরুদ্ধে আদালতের এতগুলো ওয়ারেন্ট থাকার পরও তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। এত কিছুর পরও নতুন করে তার প্রতারণার বিভিন্ন প্রকল্প আমরা জানতে পারছি।’ ধানমন্ডি কনকর্ড নুসরাত অ্যাপার্টমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, ‘মজিবুর তাদের ভবনের একটি ফ্ল্যাটের মালিক, আমার ধারণা, সে প্রতারণার টাকায় এই ফ্ল্যাট কিনেছে। আমরা তার গ্রেপ্তার ও শাস্তি চাই।’ একের পর এক প্রতারণা করার পরও কেন আইনের আওতায় আসছে না মুজিবুর, সেটাই প্রশ্ন। বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল সালেক বলেন, "এক হলো প্রশাসন চোখ বুঝে থাকা, অপরাধগুলো দেখে আমি দেখলাম না। এর চেয়ে বড় অন্যায়, সব জেনেশুনে তারা অ্যাকশনে না যাওয়া।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন