রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১১ পি.এম
গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের দিনের দিশারী মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হাছান আলীর বিরুদ্ধে একটি সাবেক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার ফলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে, ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা মাদরাসায় গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদের আটকে রাখেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
মাদরাসা-সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়ালী ইউনিয়নের পশ্চিম রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের ওই ব্যক্তি শুক্রবার সকালে তার স্ত্রী, পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও তার মেয়েকে নিয়ে মাদরাসা প্রাঙ্গণে যান। মেয়েটি ওই মাদরাসার সাবেক ছাত্রী। এ সময় মাদরাসা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয় লোকজন তাদের আটকে রাখেন। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ওই ছাত্রীর মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের থানায় নিয়ে যায়।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রায় এক মাস আগে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হাছান আলীর বিরুদ্ধে ওই সাবেক ছাত্রীকে স্পর্শ করার অভিযোগ ওঠে। পরে এ অভিযোগের সূত্র ধরে হাছান আলীর কাছে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় কয়েক দিন আগে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন বলেও দাবি করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাছান আলী বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, ওই ছাত্রীকে তিনি সন্তানের মতো দেখতেন। দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় তার কাছ থেকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা কম নেওয়া হতো বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে ছাত্রীর বাবা বলেন, তারা কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করতে আসেননি। তারা কোনো মব বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাও করেননি। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চান। প্রতিশোধ চান না। তার মেয়ের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হুদা বলেন, স্থানীয়দের হাতে আটক ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এরপর ছাত্রীর মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তিনিও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। মেয়ের পরিবারের অভিযোগ থাকায় তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। থানায় নেওয়ার অন্য কোনো কারণ নেই। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকায় একটি আটতলা ভবনে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট মোহাম্মদ মহসিনের কাছে জমা ছিল। বিদেশি নাগরিকদের জন্য ওই আটতলা ভবনটি ভাড়া নেওয়ার বিষয়েও তার ভূমিকা ছিল। পুলিশ এবার তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) খুলশী এলাকা থেকে মহসিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মহসিনের পাঠানো ১১৮ গ্রাম কোকেনের সূত্র ধরে ওই ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যায়। কয়েক দিন আগে কুরিয়ারের মাধ্যমে কোকেনগুলো ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন মহসিন, কিন্তু পরে কোকেনগুলো ফেরত আসে। কোকেনের তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে খুলশীর ওই বাড়িতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান পুলিশের নজরে আসে।
মহসিনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে অবস্থিত। তিনি চট্টগ্রাম নগরের কর্ণফুলী এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। পুলিশ জানায়, ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তার মাধ্যমেই বিদেশি নাগরিকদের জন্য আটতলা ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ওই ভবনের জন্য মাসিক ৫ লাখ টাকা ভাড়া এবং অগ্রিম এক কোটি টাকা বাড়ির মালিককে প্রদান করা হয়েছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, মহসিনের ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি তাদের জন্য ওই আটতলা ভবনটি ভাড়া দেন। মহসিনের পেছনে থাকা অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
৬৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় মহসিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে তার রিমান্ড চাওয়া হবে।
ওসি আবদুর রহিম বলেন, রিমান্ড মঞ্জুর হলে মহসিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে। ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে তার সম্পর্ক, কার নির্দেশে ভবন ভাড়া নেওয়া হয়েছিল এবং তার পেছনে আর কারা রয়েছেন—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সরকার দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা দ্রুততম সময়ে চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্দেশ্যে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে তিন মাসের ডায়ালাইসিস বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজ শুরু করা হয়েছে। সরকার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট উভয় ক্যাটাগরিতে ২ হাজার ৫০০টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্তও নিয়েছে।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা জানিয়েছেন, "আমরা ইতোমধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছি।" এর মধ্যে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনায় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জনকে ডায়ালাইসিস সেবাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, "অল্প দিনের মধ্যেই আমার সিলেটসহ কয়েকটি জায়গায় ব্যাপকভাবে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করব।" এছাড়াও, কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে আরও নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।" ইতোমধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীকে সরকারি চাকরিতে ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ করতে হবে এবং প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে।
গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত সমন্বয় সেলের পক্ষ থেকে এ সভার আয়োজন করা হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী (রেকর্ড অব নোটস) পাঠানো হয়। চলতি বছরের ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন এবং এদিন অনুষ্ঠিত এক সভায় দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। তবে, এই সেবা মূলত ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রান্তিক এলাকার বহু রোগী চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে সরকার।
বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে, যার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ঢাকায় অবস্থিত। ফলে, প্রান্তিক পর্যায়ে এই সেবা এখনও অপ্রতুল। নথি অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের কেন্দ্রগুলো পুরোদমে চালু হওয়ার তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা স্থাপনের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
১২ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আড়াই হাজার নার্সসহ মোট পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যেখানে প্রতি ব্যাচে থাকবে ৫০ থেকে ১০০ জন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) এবং ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসকের অভাব দূর করতে প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়ন করা হবে। যদি কোনো উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক না পাওয়া যায়, তবে পাশের উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক সেখানে নিয়োগ দেওয়া হবে।
এছাড়াও, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক এবং কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করা হবে। এক মাসের মধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে এবং মিরপুরে মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে একটি ৬০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন করার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়েছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জয়রামপুর রেলস্টেশনে সাগরদাঁড়ি-কপোতাক্ষ ট্রেনের আপ-ডাউন স্টপেজসহ একাধিক দাবিতে রেলপথ অবরোধ করে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে জয়রামপুর রেলস্টেশনে রেলপথ অবরোধ করে মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। এই মানববন্ধন কর্মসূচিটি দামুড়হুদা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে পরিচালিত হয়।
কর্মসূচির সময় রাজশাহী থেকে আসা কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে প্রায় ২০ মিনিটের জন্য থামিয়ে রাখা হয় এবং রেলপথ অবরোধকারীরা ৮টি দাবি পেশ করেন। আন্দোলনকারীরা রেল কর্তৃপক্ষের আশ্বাস পাওয়ার পর রেলপথ মুক্ত করে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
উল্লেখিত ৮ দাবির মধ্যে রয়েছে, জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনে সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের আন্তঃনগর বিরতি নিশ্চিত করা। স্টেশন মাস্টারসহ স্টেশনের প্রয়োজনীয় কর্মী পুনর্বহাল করতে হবে। লুপ লাইন চালু করা এবং টিকিটিং ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করা। স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম আধুনিকীকরণ, অবকাঠামোগত সংস্কার ও উন্নয়ন করা প্রয়োজন। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ায় একই নকশায় নতুন হলঘর নির্মাণের দাবি জানানো হয়। পোড়াদহ-গোয়ালন্দঘাট রুটে চলাচলকারী শাটল ট্রেনটি দর্শনা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করতে হবে এবং স্থানীয় ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি ও বগির সংখ্যা বাড়ানোর দাবি করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, "রেল প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি এখানে এসেছি। ডিআরএম পাকশী এই আন্দোলনের প্রতিনিধিদেরকে আগামী সোমবার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। হয়তো পজিটিভ কিছু হবে।"
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আক্তার সিদ্দিকী, স্থানীয় সিনিয়র নাগরিক পিয়ার আলী, সাবেক সেনা সদস্য লাজিব আক্তার সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম মন্তব্য করেছেন যে, চাকরির পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধি করার মাধ্যমে সরকার নিজেদের দলীয় লোক নিয়োগের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, "সরকার যদি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তাহলে আবারও আন্দোলন শুরু হবে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়ন সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে হতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নও মেধার ভিত্তিতে করা উচিত।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও বলেন, "পিএসসি সংস্কার করা প্রয়োজন, নির্বাচন কমিশনকেও সংস্কার করতে হবে এবং মহা হিসাব নিরীক্ষকের পদটিও সংস্কার করা আবশ্যক।" তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোকে সংস্কার করতে হবে এবং পিএসসির গঠনমূলক সব সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। জুলাই মাসে এই সংস্কারের দাবি ছিল অন্যতম।
তিনি বলেন, "সংস্কারের জন্য সংবিধান সংস্কার কমিটিতে শপথ নিতে হবে। জামায়াতে ইসলামী শপথ নিয়েছে, কিন্তু বিএনপি শপথ নেয়নি।" তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি সরকারের মনোভাবের সমালোচনা করে বলেন, "আপনারা মনে করছেন, তরুণ প্রজন্ম কিছুই বোঝে না, তারা এমনি এমনি জুলাই বিপ্লব করেছে।" তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, "বর্তমান প্রজন্মকে দুর্বল মনে করবেন না, আমাদের মেধাকে নষ্ট করবেন না।" তিনি আরও বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় যে আন্দোলন করেছে, সেই আন্দোলনের কারণেই আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন।"
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসন সংকট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "এলাকা এলাকায় রাস্তাঘাটে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করা হচ্ছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না।" তিনি যুক্ত করেন, "যে বিশ্ববিদ্যালয় তার ছাত্রদের থাকার জায়গা দিতে পারে না, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের থাকার নৈতিক অধিকার নেই।"
শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীরা এত কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় তাদের থাকার সিটের ব্যবস্থা করতে পারে না।" রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী থাকতে পারে, কিন্তু ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী বাইরে থাকে। তিনি বলেন, "এই ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর থাকার ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারেনি।"
তিনি আরও বলেন, "পিএসসিতে হাজার হাজার কোটি টাকা বাজেট দেওয়া হয়, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয় না।" শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করতে শেখার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী দুই বছরের মধ্যে শতভাগ আবাসনের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, "শিক্ষার্থীরা জুলাইয়ের পরে এসে সব গণরুম ভেঙে দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুম ভেঙে ছোট ছোট সিট করে দেওয়া হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এখন মেধার ভিত্তিতে সিট পাচ্ছে।"
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে প্রায় চার হাজার নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ