ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মোহাম্মদপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের অংশ ধসে, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা


মোহাম্মদপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের অংশ ধসে, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লায় একটি তিনতলা ভবনের একাংশ ধসে পড়ে গেছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে, হঠাৎ বিকট শব্দের সঙ্গে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ধসে পড়ার পর ভবনটি একদিকে হেলে যাওয়ায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন ভবনের বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকলেও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজউক বা সিটি করপোরেশনের কোনো প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে আসেননি।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আজিজ মহল্লার ওই এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে তিনতলা ভবনটির একাংশ ধসে পড়ে এবং পুরো ভবনটি একদিকে হেলে যায়। ভবনের ভেতরে থাকা প্রায় ১২টি পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন এবং যে যেভাবে পেরেছেন, প্রাণহাতে নিয়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন।

এলাকাবাসীর দাবি, তিনতলা এই ভবনটি প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বছরের পুরোনো। এটি যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল, তা ভবনটির জরাজীর্ণ দশা দেখলেই বোঝা যায়। সরাসরি ভবনের বাসিন্দারা জানান, দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে তারা বারবার বাড়ির মালিককে সতর্ক করেছিলেন এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়িওয়ালা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন ছিলেন।

ভবন থেকে প্রাণহাতে নেমে আসা এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সকালে বিকট শব্দ হওয়ার পর মনে হইছে ভূমিকম্প হচ্ছে। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে কোনোমতে সিঁড়ি দিয়ে নাইমা আসছি। যে কোনো সময় পুরো বিল্ডিংটা ধইসা পড়তে পারে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সকাল থেকে সন্ধ্যা হয়ে গেল, রাজউক বা সিটি করপোরেশনের একটা লোকও এই ঝুঁকিপূর্ণ বিল্ডিংটা দেখতে আসল না! তারা কি বড় কোনো লাশের মিছিলের অপেক্ষা করতেছে?’

আজিজ মহল্লা এলাকার আরেক প্রতিবেশী প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘বিল্ডিংটা যে ৬০-৭০ বছরের পুরোনো আর ঝুঁকিপূর্ণ, তা রাজউক বা গণপূর্তের জানার কথা। অথচ তাদের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নাই। বিকেলে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ আসছিল, কিন্তু ওনারাও একটু দেখে চলে গেছেন। এখন আমরা আতঙ্কে আছি, এই ভবন যদি পাশের বিল্ডিংয়ের ওপর ভেঙে পড়ে, তবে বহু মানুষের জীবন যাবে।’

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি এখনও পুরোপুরি খালি বা সিলগালা করা হয়নি। ফলে আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের মাঝেও আতঙ্ক কাটছে না।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে রাজউক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এই ভবনের কারিগরি পরীক্ষা ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করা। একই সঙ্গে যে কোনো বড় বিপর্যয় এড়াতে ভবনের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে ভবনটি ভেঙে ফেলার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্থানীয়দের পর বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ দেবে মালয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


স্থানীয়দের পর বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ দেবে মালয়েশিয়া

মন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান সোমবার (৬ জুলাই) এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে জানান, মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। বর্তমানে বিদেশি শ্রমিকের কোটা অনুমোদনের জন্য ‘কেস-বাই-কেস’ তথা ব্যক্তিভিত্তিক সুপারিশ প্রক্রিয়া থাকবে না। বদলে, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করা হয়েছে এবং ‘ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (এফডব্লিউসিএমএস)-এর আওতায় ‘ই-কোটা’ মডিউলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন এই নিয়মের অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও পদ্ধতিগত করা হয়েছে, যেখানে তদবির বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে কোটা পাওয়ার সুযোগ নেই।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনার ওয়ান-স্টপ সেন্টার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সম্পূর্ণভাবে এসেছে। বর্তমানে এফডব্লিউসিএমএস সিস্টেমের সোর্স কোড ও সুপার অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এই মন্ত্রণালয়ের হাতে রয়েছে।

এখন পর্যন্ত ৫৪৮টি কোম্পানির পক্ষ থেকে ২২ হাজার ৪৭৬টি আবেদন জমা পড়েছে। তবে নিয়োগকর্তাদের জন্য স্থির শর্ত হলো, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আগে স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। এজন্য প্রথমে মাইফিউচারজবস পোর্টালে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে এবং কর্মসংস্থান আইনের ৬০কে ধারা অনুযায়ী অনুমোদন নিয়ে স্থানীয় কর্মী খোঁজার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। শুধুমাত্র উপযুক্ত স্থানীয় কর্মী না পাওয়া গেলে বিদেশি শ্রমিকের আবেদন বিবেচনা করা হবে।

মালয়েশিয়ায় আগত নতুন বিদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা বিবেচনা করে মন্ত্রিসভা তাদের সাময়িক অবস্থানের জন্য একটি ট্রানজিট সেন্টার স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের ভিড় কমাতে এবং নিয়োগকর্তারা এসে তাদের নিজ দায়িত্বে নিয়ে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত শ্রমিকরা এই সেন্টারে অবস্থান করবেন।

যদিও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় কোটা অনুমোদন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে, বিদেশি শ্রমিকদের কাজের পারমিট বা পাস ইস্যু করার চূড়ান্ত ক্ষমতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (কেডিএন) কাছে থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুশিয়ারার পানিতে ভেসে গেল সড়ক, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৭ পি.এম


কুশিয়ারার পানিতে ভেসে গেল সড়ক, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর পানির তোড়ে একটি সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে প্রায় ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রাণীগঞ্জ দক্ষিণপাড়-রৌয়াইল সড়কের বালিশ্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের স্থানটিতে এ সড়কটি ভেঙে যাওয়ার কারণে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে যায়।

জানা গেছে, এর আগে কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কুশিয়ার নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা সড়কটির ভাঙন ঘটায়। এই কারণে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বালিশ্রী, রৌয়াইল, হিলালপুর, টেংরাখালি, মেঘেরকান্দি এবং হরিনাকান্দিসহ আনুমানিক ১০টি গ্রামের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

রৌয়াইল গ্রামের আব্দুল বাছিদ বলেন, “সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের প্রায় দশ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ সড়ক দিয়েই আমাদেরকে উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়।”

বালিশ্রী গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন রুমান মন্তব্য করেন, “সড়কটি ভেঙে যাওয়ার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এবং অন্যান্য কয়েক হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছেন।”

রৌয়াইল বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াহাব লকুছ বলেন, “এ সড়ক দিয়েই দোকানের মালামাল আনা-নেওয়া হয়। সড়কটি ভেঙে যাওয়ার কারণে আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি।”

রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম জানান, “জাতীয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছি।”

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সোহরাব হোসেন বলেন, “এই ঘটনা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ভাঙণ রোধ এবং জনসাধারণের চলাচলের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলছে।”

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনে ভারী বৃষ্টির পর ভূমিধস, ২১ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


চীনে ভারী বৃষ্টির পর ভূমিধস, ২১ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড় ধস এবং আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চীন। একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি বাড়ছেই। সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে দেশটির গানসু প্রদেশে, যেখানে মুহূর্তের মধ্যে পাহাড় ধসে চাপা পড়ে যান কয়েক ডজন মানুষ। পশ্চিমাঞ্চলীয় চীনের এই প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসে নিহত হয়েছেন অন্তত ২১ জন।

মঙ্গলবার তানচাং কাউন্টির একটি পাহাড়ি উপত্যকায় এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ভূমিধসের সময় অন্তত ৩৩ জন মাটির নিচে চাপা পড়েছিলেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত একটি বন খামারের অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করা স্থানীয় গ্রামবাসী। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানায়, উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়েছে এবং অন্তত ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে এই তথ্য।

খাড়া পাহাড়, সরু উপত্যকা এবং নদ-নদীতে ঘেরা তানচাং এলাকা বর্ষা মৌসুমে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে পরিচিত। এদিকে, টাইফুন 'মাইসাক'–এর প্রভাবে চীনের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলেও অব্যাহত রয়েছে ভারী বৃষ্টি।

এ বছর চীনে আঘাত হানা প্রথম টাইফুনের প্রভাবে গুয়াংসি অঞ্চলে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, দুর্যোগের পর এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১১ জন।

অন্যদিকে, চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়, ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ধসের কারণে কয়েক লাখ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তল্লাশি ও ত্রাণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃষ্টির পানিতে ডুবেছে যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৩ পি.এম


বৃষ্টির পানিতে ডুবেছে যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকা

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশের মতো যশোরেও দফায় দফায় ভারী ও হালকা বর্ষণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

২০ ঘণ্টায় ১৯০ মিলিমিটারের রেকর্ড বৃষ্টির কারণে শহরের নিচু এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে গেছে।

এতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাটও। জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় নাগরিকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

যশোর বিমানবন্দরস্থ আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ বেলা ২টা পর্যন্ত মোট ২০ ঘণ্টায় যশোরে ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এর মধ্যে গতকাল সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় ১১০ মিলিমিটার এবং আজ সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

ছুটির দিনে এই মুষলধারে বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটে লোকসমাগম কমে গেছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শহরের খড়কি, বেজপাড়া, চাঁচড়া, শংকরপুর, আরবপুর, পালবাড়ি এবং বকচর এলাকাগুলোর রাস্তাঘাটে বৃষ্টি নামলেই পানিতে তলিয়ে যায়।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি জমে থাকায় স্কুলগামী শিশু, অফিসগামী মানুষ এবং ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

খড়কি এলাকার বাসিন্দা আমিনুর রহমান এবং রাশিদুল ইসলাম জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়ে।

ড্রেন থাকলেও পানি ঠিকমতো নামে না।

শংকরপুর এলাকার তাহমিনা খাতুন জানান, ঘরের সামনে হাঁটু পানি জমে গেছে।

বাইরে বের হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে বাইরে বের হওয়া অত্যন্ত কষ্টকর।

পৌরসভার দেয়া তথ্যমতে, যশোর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ড্রেনের দৈর্ঘ্য ২৫১.৯৬ কিলোমিটার।

এর মধ্যে ৪৯.২২ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, ৬৯.২৫ কিলোমিটার ইটের গাঁথুনির ড্রেন, পাঁচ কিলোমিটার পাইপ ড্রেন এবং ১২৮.৪৯ কিলোমিটার এখনো কাঁচা ড্রেন।

অর্থাৎ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অর্ধেকেরও বেশি অংশ এখনো কাঁচা অবস্থায় রয়েছে, যা বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনে বাধা তৈরি করছে।

পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে শুধু ড্রেন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২ crore ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

যার মধ্যে ইতিমধ্যে ১ crore ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

একইসঙ্গে ৫, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় সাত কিলোমিটার নতুন আরসিসি ড্রেন নির্মাণের জন্য ২০ crore ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

জলাবদ্ধতার বিষয়ে পৌরসভার প্রকৌশলী (পানি ও পয় নিস্কাশন) এস এম কামাল হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগেই শহরের অধিকাংশ ড্রেন পরিস্কার করা হয়েছে।

কিন্তু জনগণের অসচেতনতার কারণে এসব ড্রেন আবার প্লাস্টিক, পলিথিন এবং বর্জ্যে ভরে গেছে।

তাছাড়া অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে পানি জমে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনে সময় লাগছে।

আশা করা যায় নতুন করে কোনো বৃষ্টিপাত না হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শহরের রাস্তাঘাটের পানি নেমে যাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%