ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুশিয়ারার পানিতে ভেসে গেল সড়ক, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা


কুশিয়ারার পানিতে ভেসে গেল সড়ক, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর পানির তোড়ে একটি সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে প্রায় ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রাণীগঞ্জ দক্ষিণপাড়-রৌয়াইল সড়কের বালিশ্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের স্থানটিতে এ সড়কটি ভেঙে যাওয়ার কারণে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে যায়।

জানা গেছে, এর আগে কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কুশিয়ার নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা সড়কটির ভাঙন ঘটায়। এই কারণে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বালিশ্রী, রৌয়াইল, হিলালপুর, টেংরাখালি, মেঘেরকান্দি এবং হরিনাকান্দিসহ আনুমানিক ১০টি গ্রামের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

রৌয়াইল গ্রামের আব্দুল বাছিদ বলেন, “সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের প্রায় দশ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ সড়ক দিয়েই আমাদেরকে উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়।”

বালিশ্রী গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন রুমান মন্তব্য করেন, “সড়কটি ভেঙে যাওয়ার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এবং অন্যান্য কয়েক হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছেন।”

রৌয়াইল বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াহাব লকুছ বলেন, “এ সড়ক দিয়েই দোকানের মালামাল আনা-নেওয়া হয়। সড়কটি ভেঙে যাওয়ার কারণে আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি।”

রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম জানান, “জাতীয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছি।”

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সোহরাব হোসেন বলেন, “এই ঘটনা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ভাঙণ রোধ এবং জনসাধারণের চলাচলের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলছে।”

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনে ভারী বৃষ্টির পর ভূমিধস, ২১ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


চীনে ভারী বৃষ্টির পর ভূমিধস, ২১ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড় ধস এবং আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চীন। একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি বাড়ছেই। সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে দেশটির গানসু প্রদেশে, যেখানে মুহূর্তের মধ্যে পাহাড় ধসে চাপা পড়ে যান কয়েক ডজন মানুষ। পশ্চিমাঞ্চলীয় চীনের এই প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসে নিহত হয়েছেন অন্তত ২১ জন।

মঙ্গলবার তানচাং কাউন্টির একটি পাহাড়ি উপত্যকায় এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ভূমিধসের সময় অন্তত ৩৩ জন মাটির নিচে চাপা পড়েছিলেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত একটি বন খামারের অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করা স্থানীয় গ্রামবাসী। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানায়, উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়েছে এবং অন্তত ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে এই তথ্য।

খাড়া পাহাড়, সরু উপত্যকা এবং নদ-নদীতে ঘেরা তানচাং এলাকা বর্ষা মৌসুমে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে পরিচিত। এদিকে, টাইফুন 'মাইসাক'–এর প্রভাবে চীনের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলেও অব্যাহত রয়েছে ভারী বৃষ্টি।

এ বছর চীনে আঘাত হানা প্রথম টাইফুনের প্রভাবে গুয়াংসি অঞ্চলে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, দুর্যোগের পর এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১১ জন।

অন্যদিকে, চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়, ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ধসের কারণে কয়েক লাখ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তল্লাশি ও ত্রাণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃষ্টির পানিতে ডুবেছে যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৩ পি.এম


বৃষ্টির পানিতে ডুবেছে যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকা

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশের মতো যশোরেও দফায় দফায় ভারী ও হালকা বর্ষণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

২০ ঘণ্টায় ১৯০ মিলিমিটারের রেকর্ড বৃষ্টির কারণে শহরের নিচু এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে গেছে।

এতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাটও। জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় নাগরিকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

যশোর বিমানবন্দরস্থ আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ বেলা ২টা পর্যন্ত মোট ২০ ঘণ্টায় যশোরে ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এর মধ্যে গতকাল সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় ১১০ মিলিমিটার এবং আজ সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

ছুটির দিনে এই মুষলধারে বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটে লোকসমাগম কমে গেছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শহরের খড়কি, বেজপাড়া, চাঁচড়া, শংকরপুর, আরবপুর, পালবাড়ি এবং বকচর এলাকাগুলোর রাস্তাঘাটে বৃষ্টি নামলেই পানিতে তলিয়ে যায়।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি জমে থাকায় স্কুলগামী শিশু, অফিসগামী মানুষ এবং ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

খড়কি এলাকার বাসিন্দা আমিনুর রহমান এবং রাশিদুল ইসলাম জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়ে।

ড্রেন থাকলেও পানি ঠিকমতো নামে না।

শংকরপুর এলাকার তাহমিনা খাতুন জানান, ঘরের সামনে হাঁটু পানি জমে গেছে।

বাইরে বের হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে বাইরে বের হওয়া অত্যন্ত কষ্টকর।

পৌরসভার দেয়া তথ্যমতে, যশোর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ড্রেনের দৈর্ঘ্য ২৫১.৯৬ কিলোমিটার।

এর মধ্যে ৪৯.২২ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, ৬৯.২৫ কিলোমিটার ইটের গাঁথুনির ড্রেন, পাঁচ কিলোমিটার পাইপ ড্রেন এবং ১২৮.৪৯ কিলোমিটার এখনো কাঁচা ড্রেন।

অর্থাৎ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অর্ধেকেরও বেশি অংশ এখনো কাঁচা অবস্থায় রয়েছে, যা বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনে বাধা তৈরি করছে।

পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে শুধু ড্রেন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২ crore ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

যার মধ্যে ইতিমধ্যে ১ crore ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

একইসঙ্গে ৫, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় সাত কিলোমিটার নতুন আরসিসি ড্রেন নির্মাণের জন্য ২০ crore ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

জলাবদ্ধতার বিষয়ে পৌরসভার প্রকৌশলী (পানি ও পয় নিস্কাশন) এস এম কামাল হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগেই শহরের অধিকাংশ ড্রেন পরিস্কার করা হয়েছে।

কিন্তু জনগণের অসচেতনতার কারণে এসব ড্রেন আবার প্লাস্টিক, পলিথিন এবং বর্জ্যে ভরে গেছে।

তাছাড়া অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে পানি জমে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনে সময় লাগছে।

আশা করা যায় নতুন করে কোনো বৃষ্টিপাত না হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শহরের রাস্তাঘাটের পানি নেমে যাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্যোগ মোকাবিলায় চট্টগ্রামে মাঠে সেনাবাহিনী, চলছে উদ্ধার-ত্রাণ কাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৫ পি.এম


দুর্যোগ মোকাবিলায় চট্টগ্রামে মাঠে সেনাবাহিনী, চলছে উদ্ধার-ত্রাণ কাজ

পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান ভারী বর্ষণের কারণে, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাসমূহের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দুর্যোগের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ফলে সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হলে বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনীয় প্রকৌশল সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতির সহায়তায় মাটি ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনে কাজ করছেন। বিশেষ করে, ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে প্রায় ২২১টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এছাড়াও, দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ পর্যন্ত বান্দরবান থেকে ১৪০ জন এবং সাজেকে আটকে পড়া প্রায় ৬০০ জন পর্যটকের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫০ জনকে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট পর্যটকদের পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, আলু সহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা, যোগাযোগ পুনঃস্থাপন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানায় আইএসপিআর।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে জনগণের জীবন, সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় পড়ে আছে ম'রদেহ, ইঁদুরের কামড় থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৯ পি.এম


গাজায় পড়ে আছে ম

একটা সময় ছিল, যখন গাজার শিশুরা বিকেল হলেই রাস্তায় নেমে খেলত ফুটবল। হাসির শব্দে মুখর থাকত পাড়া। কিন্তু আজ সেই একই রাস্তায় পড়ে আছে ধ্বংসস্তূপ। বাতাসে মিশে আছে পোড়া কংক্রিটের গন্ধ। আর রাত নামলেই নতুন এক ভয়। শুধু বোমা নয়, এবার ঘুমন্ত শিশুদের ওপর হামলা করছে ইঁদুর। যুদ্ধবিরতির আট মাস পেরিয়ে গেলেও গাজার মানুষের জীবনে যেন এখনো পৌঁছায়নি কোন শান্তি।

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে ১৪ বছরের কারাম এখনো একটি পুরোনো ফুটবল আঁকড়ে ধরে হাঁটে। একসময় তার স্বপ্ন ছিল বড় ফুটবলার হওয়ার। বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিদিন মাঠে খেলত। কিন্তু এখন চারপাশে নেই সেই মাঠ, নেই সেই বন্ধুদের কোলাহল। আছে শুধু ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ি, পুড়ে যাওয়া জমি ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।

যুদ্ধবিরতির পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুবার বলা হয়েছে শান্তির কথা। এসেছে নতুন পরিকল্পনা, নতুন বৈঠক ও নতুন প্রতিশ্রুতির খবরও। কিন্তু গাজার মানুষের কাছে বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। তাদের ভাষায়, কাগজে যুদ্ধ থামলেও বাস্তবে এখনো শেষ হয়নি যুদ্ধ। 

চুক্তি অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার, নতুন প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা থাকলেও সেগুলোর বেশির ভাগই হয়নি বাস্তবায়িত। বরং ইসরায়েল গাজার আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় বাড়িয়েছে সামরিক উপস্থিতি। অন্যদিকে হামাসও অস্ত্র সমর্পণ না করে শক্ত করেছে নিজেদের অবস্থান। ফলে সাধারণ মানুষ আটকে পড়েছে দুই পক্ষের সংঘাতের মাঝখানে।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি এখন বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরগুলোতে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯ লাখ মানুষ হারিয়েছে নিজেদের ঘর। হাজার হাজার পরিবার এখনো গাদাগাদি করে বসবাস করছে অস্থায়ী তাঁবুতে। সেখানে নেই পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি। নেই স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। গরমে দম বন্ধ হয়ে আসে। ময়লা জমে থাকে চারদিকে। দুর্গন্ধে শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন আতঙ্ক। ইঁদুর, তেলাপোকা ও অন্যান্য প্রাণী সহজেই তাঁবুর কাপড় কেটে ঢুকে পড়ছে ভেতরে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর কর্মীরা জানিয়েছেন, অনেক শিশুকে ঘুমন্ত অবস্থায় কামড়ে দিয়েছে ইঁদুর। কোনো কোনো পরিবার রাতভর জেগে থাকে শুধু সন্তানদের নিরাপদ রাখার জন্য। অনেকেই খাবার ইঁদুরের হাত থেকে বাঁচাতে ঝুলিয়ে রাখছেন তাঁবুর ছাদে।

আরেকটি নির্মম বাস্তবতা হলো, বহু এলাকায় এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে মরদেহ। অনেক পরিবার জানেই না তাঁদের স্বজন জীবিত নাকি মৃত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে দুর্গন্ধ। রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে প্রতিদিন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ত্রাণ পৌঁছাতে নানা বাধা থাকায় আরও খারাপ হচ্ছে পরিস্থিতি। বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট কাটেনি। ফলে যুদ্ধবিরতির বহু মাস পরও গাজার মানুষের কাছে শান্তি এখনো শুধু একটি শব্দ। বাস্তবে তাঁদের প্রতিটি সকাল শুরু হচ্ছে নতুন অনিশ্চয়তা, নতুন ভয় ও বেঁচে থাকার আরেকটি কঠিন লড়াই নিয়ে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%