মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৫৯ পি.এম
অভিনয়, গান এবং ক্রীড়াজগতের পাশাপাশি নেটদুনিয়ার পরিচিত মুখেরা স্থান পেয়েছেন ‘বিগ বস্ বাংলা’য়। বিতর্ক এবং সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয়তা— এই দুই বিষয় এ বারের প্রতিযোগী তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেই প্রতিযোগীরা কারা?
‘বিগ বস্ বাংলা’ শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন জল্পনার পর প্রকাশিত হয়েছে, কারা এই রিয়্যালিটি শো-তে অংশগ্রহণ করেছেন। বাংলায় শেষবার ‘বিগ বস্’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৩ সালে। তাই দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। অভিনয়, গান এবং ক্রীড়াজগতের পাশাপাশি নেটদুনিয়ার পরিচিত মুখেরা জায়গা করে নিয়েছেন। বিতর্ক ও সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয়তা— এই দুই বিষয় এ বারের প্রতিযোগী তালিকায় বড় ভূমিকা রেখেছে। কারা এলেন? কেন তাঁরা ‘বিগ বস্’-এ স্থান পাওয়ার জন্য বিশেষ হয়ে উঠলেন?
মনামী ঘোষ: টলিপাড়ায় দুই দশক ধরে কাজ করছেন মনামী। ছোটপর্দা এবং বড়পর্দা মিলিয়ে তাঁর অনেক কাজ রয়েছে। অভিনেত্রীর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘পদাতিক’ ২০২৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল। এরপর বেশ কিছু মিউজ়িক ভিডিয়োয় দেখা গেছে মনামীকে। নাচের রিয়্যালিটি শো-তে বিচারকের আসনেও তাঁকে দেখা গেছে। মনামীর জনপ্রিয় ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বিন্নিধানের খই’, ‘ইরাবতীর চুপকথা’, ‘পুণ্যিপুকুর’। ইনস্টাগ্রামে মনামীর ফলোয়ার সংখ্যা ২৩ লক্ষ।
ভরত কল: জন্মসূত্রে কাশ্মীরি হলেও তিনি নিজেকে বাঙালি হিসেবে পরিচয় দেন। বাংলা ইন্ডাস্ট্রির একজন জনপ্রিয় অভিনেতা। তিন দশক ধরে ছোটপর্দা এবং বড়পর্দায় অভিনয় করছেন। ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’, ‘যুদ্ধ’, ‘জোশ’, ‘চ্যালেঞ্জ ২’, ‘খাদ’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং ‘গীতা এলএলবি’, ‘রোশনাই’, ‘লক্ষ্মী কাকিমা সুপারস্টার’-সহ অসংখ্য জনপ্রিয় ধারাবাহিক রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
দুর্নিবার সাহা: ‘বিগ বস্ বাংলা’য় একমাত্র সঙ্গীতশিল্পী তিনি। রিয়্যালিটি শো থেকে তাঁর উত্থান হয়েছে। বেশ কিছু ছবিতে প্লেব্যাক গেয়েছেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বামশিবিরের মিছিলে গান গাওয়ার জন্যও দুর্নিবারকে দেখা গিয়েছিল। ‘কিলবিল সোসাইটি’, ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’, ‘নারীচরিত্র বেজায় জটিল’ ছবিতে গান গেয়েছেন দুর্নিবার।
সোহিনী পাল: পেশায় তিনি অভিনেত্রী। প্রয়াত অভিনেতা তাপস পালের কন্যা। ‘বো ব্যারাক্স ফরএভার’, ‘জ্যাকপট’, ‘অটোগ্রাফ’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। সেই সঙ্গে হিন্দি ধারাবাহিক ‘চিড়িয়া ঘর’, ‘আপ কে আ জানে সে’ ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছেন সোহিনী।
অনিন্দ্য সেনগুপ্ত: এক সময়ে ছোটপর্দার গানের অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করতেন। সেখান থেকেই অভিনয়ে আসেন। ‘এক্স=প্রেম’, ‘অতি উত্তম’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। আবার ‘খোলাম কুচি’, ‘খুঁজেছি তোকে রাত বেরাতে’, ‘প্রেমে পড়া বারণ’-এর মতো ওয়েব সিরিজ়েও দেখা গেছে অনিন্দ্যকে। হিন্দিতে ‘কড়ক সিংহ’ ও ‘হোস্টেল ডেজ়’-এর মতো ছবিতেও কাজ করেছেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ২৩ হাজারের কিছু বেশি।
নিরঞ্জন মণ্ডল (লাফটার সেন): নানা ধরনের চরিত্রে মজার মজার ভিডিয়ো তৈরি করেন নিরঞ্জন। কখনও তিনি মা, কখনও তিনি ছেলে, কখনও আবার পেয়াঁজ-রসুন হয়ে ওঠেন। তবে হাসির পাশাপাশি সামাজিক বার্তাও দেন তিনি বেশ কিছু কনটেন্ট-এর মাধ্যমে। জাতীয় স্তরেও পরিচিতি অর্জন করেছেন তিনি। ‘মেছো’ ও ‘বীরাঙ্গনা’ নামে দুটি ওয়েব সিরিজ়েও তাঁকে দেখা গেছে। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ১২ লক্ষ।
নন্দিনী দত্ত: ছোটপর্দা ও ওটিটি-তে পরিচিত মুখ নন্দিনী। ২০১৯ সাল থেকে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করেছেন। ‘দুই শালিখ’, ‘কনে দেখা আলো’, ‘বসন্ত বিলাস মেসবাড়ি’র মতো ধারাবাহিকে তাঁকে দেখা গেছে। ‘বিগ বস্ বাংলা’য় দেখা যাচ্ছে তাঁকে। ইনস্টাগ্রামে ৩ লক্ষ ২৪ হাজার ফলোয়ার সংখ্যা তাঁর।
সৃজলা গুহ: ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী। ‘মন ফাগুন’ ধারাবাহিক থেকে অনুরাগীদের মুগ্ধ করেছেন। ‘দাদুর কীর্তি’, ‘বাতাসে গুনগুন’ ওয়েব সিরিজ়েও অভিনয় করে নজর কাড়েন তিনি। সম্প্রতি জিতের ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ছবিতেও অভিনয় করেছেন সৃজলা। ইনস্টাগ্রামে সৃজলার ফলোয়ার সংখ্যা ৪ লক্ষ ৭৭ হাজার।
সায়ক চক্রবর্তী: বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়ে না। পেশায় তিনি অভিনেতা ও বিষয়স্রষ্টা। তবে চলতি বছরে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। এক রেস্তরাঁয় গিয়ে অভিযোগ করেছিলেন, তিনি একরকম মাংস চাওয়ার পরেও তাঁকে অন্য মাংস দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। তা ছাড়া বন্ধু দেবলীনা নন্দীর হাসপাতাল থেকে ভিডিয়ো করা নিয়েও বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন।
সোনামণি সাহা: ‘দেবী চৌধুরানী’, ‘মোহর’, ‘শুভ বিবাহ’র মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করে জনপ্রিয় মুখ তিনি। ‘মোহর’ ধারাবাহিকে সহ-অভিনেতা প্রতীক সেনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের গুঞ্জন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ বার সেই সোনামণিও ‘বিগ বস্ বাংলা’র অন্দরে। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যা ১ লক্ষ ৬২ হাজার।
দীপেন্দু বিশ্বাস: ‘বিগ বস্ বাংলা’য় একমাত্র ক্রীড়াজগতের মানুষ তিনিই। অবসরপ্রাপ্ত ফুটবলার বসিরহাটের ছেলে। বর্তমানে তিনি মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের টিম ম্যানেজার। ফুটবলারের বাবা বাঙালি এবং মা মলয়ালি। একসময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ভোটে লড়েছিলেন। ২০২১ সালে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
ঝিলম গুপ্ত: সমাজমাধ্যমের অতিপরিচিত মুখ ঝিলম। বিভিন্ন সামাজিক বিষয়কে রসবোধের মাধ্যমে তুলে ধরেন। কোনও বিষয় বা ছবিতে নিয়ে চাঁচাছোলা সমালোচনা করেন। এর জন্য ঝিলম একাধিক বার রোষানলে পড়েছেন। তবে তিনি বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব দেননি। কথাবার্তা ছাড়াও গানও করেন ঝিলম। ইউটিউবে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ৯৪,৫০০ এবং ইনস্টাগ্রামে ৫৪,৭০০।
জয়িতা চট্টোপাধ্যায়: মুম্বইবাসী বাঙালি তিনি। পেশায় অভিনেত্রী এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি নেটপ্রভাবীও। পাশাপাশি পডকাস্টও করেন জয়িতা। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ২০ লক্ষ ফলোয়ার সংখ্যা।
আলেকজ়ান্দ্রা টেলর: আয়ারল্যান্ডের মেয়ে তিনি। ব্রিটিশ-আইরিশ মডেল বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলা বিনোদনজগতের অংশ। ২০২২ সালে ‘ওগো বিদেশিনী’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তা ছাড়া, ‘বাঘাযতীন’ ছবিতে ও ‘আবার প্রলয়’ ওয়েব সিরিজ়েও কাজ করেছেন অভিনেত্রী। ১ লক্ষ ২৯ হাজার ফলোয়ার সংখ্যা তাঁর ইনস্টাগ্রামে।
তনুশ্রী রায় দাস: তিনি উদ্যোক্তা। শাড়ির ব্যবসা রয়েছে। সমাজমাধ্যমে শাড়িবিক্রেতা হিসেবে সফর শুরু করে তিনি এখন ‘বিগ বস্ বাংলা’র ঘরে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কিছু মাস আগে হঠাৎ করে সমাজমাধ্যমে কিছু ছবি ও ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে, যা দেখে অনুরাগীরা অনুমান করতে শুরু করেন যে বাদশা ও ঈশা বিয়ে করেছেন। তবে এতদিন গায়ক এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছেন র্যাপার-গায়ক বাদশা। চলতি বছরের মার্চ মাসে পঞ্জাবি অভিনেত্রী ঈশা রিখীর সঙ্গে তাঁর বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে। সোমবার তাঁরা বিচ্ছেদের ঘোষণা করেন। বিয়ের কিছু ছবি এবং ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও, বাদশা বিষয়টি নিয়ে এতদিন কিছু বলেননি। অন্যদিকে, ঈশা তাঁদের সম্পর্ক এবং বিয়ের বিষয়টি আগেই নিশ্চিত করেছিলেন।
বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার কয়েক মাসের মধ্যেই সোমবার সন্ধ্যায় বাদশা নিজেই জানিয়ে দিলেন, ঈশার সঙ্গে তাঁর পথ আলাদা হয়ে গেছে। সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়ে র্যাপার জানান, তাঁরা দু’জনে পারস্পরিক সম্মতিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইসঙ্গে অনুরাগী এবং সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করার জন্য আবেদন জানান তিনি।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বাদশা লেখেন, “পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সময়ে সকলের কাছে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করার অনুরোধ করছি।” এটি ছিল তাঁদের দাম্পত্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাদশার প্রথম প্রকাশ্যে মন্তব্য। বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের বিচ্ছেদ নিয়ে জল্পনা চলছিল, এবং এবার সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়ল।
সমাজমাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘোষণা করেন বাদশা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
এর আগে জুলাই মাসে ঈশা সমাজমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন। তাঁর সেই পোস্টের পরেও ব্যক্তিগত জীবনে সমস্যা নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ে। ঈশা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভয় এবং মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। তাঁর স্বামীর ‘প্রভাব এবং ক্ষমতা’র কারণে তিনি এমন পরিস্থিতিতে ছিলেন বলে ইঙ্গিত করেছিলেন অভিনেত্রী।
নীরব থাকা যে পরিস্থিতিকে মেনে নেওয়ার লক্ষণ নয়, বরং টিকে থাকার একটি উপায় ছিল— সেই ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন ঈশা। তিনি জানান, সব কিছু ঠিকঠাক রয়েছে এমন ভান না করে নিজের বক্তব্য প্রকাশ্যে জানানোর জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন।
বাদশা এবং ঈশার বিয়ের জল্পনা প্রথম জোরালো হয় মার্চ মাসে। ঈশার মা পুনম রিখী সমাজমাধ্যমে কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছিলেন, যেগুলি দেখে মনে হয়েছিল সেগুলি কোনও ঘরোয়া বিয়ের অনুষ্ঠানের। ছবিগুলি প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে জোর আলোচনা শুরু হয় এবং খবর ছড়িয়ে পড়ে যে বাদশা ও ঈশা বিয়ে করেছেন। যদিও তাঁরা নিজেদের সম্পর্ক বরাবরই ব্যক্তিগত রেখেছিলেন।
এটি বাদশার দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে জৈস্মীন মসীহের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। সমাজমাধ্যমে আলাপের পর ২০১২ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। ২০১৭ সালে তাঁদের কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরবর্তী কালে ২০২০ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ।
এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।
সাক্ষাতে আন্দা ফিলিপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তার দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা বহন করে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছি। এ সময় আমাদের দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করতে পেরেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে। আমাদের সামনে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী এবং গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও জানান, তার সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
আইপিইউ সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার পড়েছেন। তিনি ইশতেহারে শিক্ষা খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
আন্দা ফিলিপ বলেন, আইপিইউ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
আইপিইউ সেক্রেটারি গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ বলেন, তারা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মো. সাদ্দাম হাওলাদার নামের এক বিএনপি নেতা সৌদি আরবে পবিত্র কাবা শরিফের সামনে দাঁড়িয়ে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) তিনি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে পবিত্র কাবা শরিফকে সাক্ষী রেখে রাজনীতি ছাড়ার কথা জানান। ভিডিওর কমেন্টে তিনি বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসও লিখেছেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
মো. সাদ্দাম হাওলাদার বর্তমানে জিয়া সাইবার ফোর্সের বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
সাদ্দাম হোসেনের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কিনা, সে ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলেও সৌদি আরবে অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ফেসবুকে পোস্টে সাদ্দাম হাওলাদার লেখেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় মাতৃভূমি, প্রিয় জন্মভূমি বরিশালের গৌরনদী-আগৈলঝাড়াবাসী আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন, আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে ও আপনাদের দোয়া এবং ভালোবাসায় অনেক ভালো আছি। শুকরিয়া, আলহামদুলিল্লাহ্।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আপনারা সবাই অবগত আছেন যে, বাংলাদেশের বৃহত্তম দল বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত আমি, বাবা ও চাচাসহ আমার পরিবার বংশের ৯০% সবাই এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম।
আমি মো. সাদ্দাম হাওলাদার জাতীয় উপ-নির্বাচন কমিটির (সাবেক) সদস্য ও ৪নং মডেল গৈলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক প্রার্থী ও একজন একটিভ সদস্য এবং বর্তমানে আগৈলঝাড়া উপজেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সহ-সভাপতি দায়িত্বরত অবস্থায় আছি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, বর্তমানে আমি একজন সৌদি প্রবাসী ও রেমিটেন্সযোদ্ধা, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি প্রেক্ষাপটে আমার দ্বারা রাজনীতি করা সম্ভব নয়। আমরা বই পুস্তকে পড়েছিলাম রাজনীতি হল জনগণের সেবা করা, এখন দেখছি ভিন্ন।’
সাদ্দাম হাওলাদার বলেন, ‘হাজারো কথা/অভিযোগ থাকলেও দলের প্রতি আমার বিন্দু পরিমাণ কোনো অভিযোগ নেই। আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি, ভালোবাসি দেশ নায়ক তারেক রহমানের সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে, ভালোবাসি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে।
আমি কোনো বড় রাজনীতিবিদ না বা ত্যাগী নেতাকর্মী নই, আমার চাইতে হাজারো লক্ষ কোটি নেতাকর্মী এখন দলের কাছে বোঝা ও অবহেলিত। তাই আমি স্ব-সম্মানে সজ্ঞানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নামক সব রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি এবং পদত্যাগ করলাম।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আজকের পর থেকে আমি কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আল্লাহতায়ালার ঘর পবিত্র কাবা শরিফকে সামনে রেখে তওবা করলাম, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন এবং আমার রাজনৈতিক জীবনে যদি জানা/অজানা কাউকে বিন্দু পরিমাণ কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমাকে আপনাদের কারো ছেলে, ভাই, বন্ধু বা সন্তান হিসেবে ক্ষমা করে দেবেন। আমি সবার কাছে বিনয়ের সঙ্গে মাফ চাই।’
শেষে তিনি বিশেষ দ্রষ্টব্য দিয়ে লেখেন, ‘রাজনীতি ছিল আমার আবেগ ও মনের খোড়াক, ভেবেছিলাম জনগণের সেবা করব। তবে সেটা রাজনীতি দিয়ে হইলো না, তবে রাজনীতির বাইরেও যে মানব সেবা করা যায়, সেটা আমি সাদ্দাম প্রমাণ করে দিবে, আল্লাহ ভরসা। বিগত দিনে যেমন অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে সর্বদা ছিলাম, ভবিষ্যতে আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।’
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহমেদ পান্না বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া সাদ্দাম হাওলাদার দীর্ঘদিন থেকে সৌদি আরবে রয়েছেন। কারো সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ থেকে সাদ্দাম হাওলাদার ক্ষোভের কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি সাদ্দাম হাওলাদার লিখিতভাবে কোনো পদত্যাগপত্র না পাঠিয়ে কি কারণে ফেসবুকে ভিডিও ছেড়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছেন, সে ব্যাপারেও খোঁজখবর না নিয়ে বিস্তারিত বলা যাবে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নেপালে গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার কারণে মৃতের সংখ্যা ১ হাজারের বেশি হয়ে গেছে। মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। খবর সিএনএনের।
২৬ আগস্ট হিমালয়ে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা নেপাল এবং চীনের তিব্বত অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছে। পানির প্রবল স্রোত এবং ভূমিধসের ফলে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়। এই ঘটনায় বহু মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে আটকে পড়েন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ৯৮৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, চীনের তিব্বত অঞ্চলে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। দুই দেশের মিলিত মৃতের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৩ জনে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত নেপালে অন্তত ১১ হাজার ৮১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ৪ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। নেপালে নিখোঁজের সংখ্যা ৩ হাজার ৯১৬ এবং তিব্বতে ৫৪৬ জন বলে জানা গেছে।
নেপালে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ত্রিশুলি ও ভোতে কোশি নদী অববাহিকা। ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়ক ও সেতুর কারণে দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বিচ্ছিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৯০০ কর্মীও নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চীনের তিব্বতেও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপ, অস্থিতিশীল পাহাড়ি ঢাল, তীব্র স্রোত ও সরু গিরিখাতের কারণে উদ্ধারকারীদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ৭২৬টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, সপ্তাহব্যাপী চলমান উদ্ধার অভিযানের মাঝে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস এবং নতুন ভূমিধসের আশঙ্কায় পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ