মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০৫ পি.এম
মো. সাদ্দাম হাওলাদার নামের এক বিএনপি নেতা সৌদি আরবে পবিত্র কাবা শরিফের সামনে দাঁড়িয়ে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) তিনি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে পবিত্র কাবা শরিফকে সাক্ষী রেখে রাজনীতি ছাড়ার কথা জানান। ভিডিওর কমেন্টে তিনি বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসও লিখেছেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
মো. সাদ্দাম হাওলাদার বর্তমানে জিয়া সাইবার ফোর্সের বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
সাদ্দাম হোসেনের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কিনা, সে ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলেও সৌদি আরবে অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ফেসবুকে পোস্টে সাদ্দাম হাওলাদার লেখেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় মাতৃভূমি, প্রিয় জন্মভূমি বরিশালের গৌরনদী-আগৈলঝাড়াবাসী আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন, আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে ও আপনাদের দোয়া এবং ভালোবাসায় অনেক ভালো আছি। শুকরিয়া, আলহামদুলিল্লাহ্।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আপনারা সবাই অবগত আছেন যে, বাংলাদেশের বৃহত্তম দল বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত আমি, বাবা ও চাচাসহ আমার পরিবার বংশের ৯০% সবাই এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম।
আমি মো. সাদ্দাম হাওলাদার জাতীয় উপ-নির্বাচন কমিটির (সাবেক) সদস্য ও ৪নং মডেল গৈলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক প্রার্থী ও একজন একটিভ সদস্য এবং বর্তমানে আগৈলঝাড়া উপজেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সহ-সভাপতি দায়িত্বরত অবস্থায় আছি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, বর্তমানে আমি একজন সৌদি প্রবাসী ও রেমিটেন্সযোদ্ধা, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি প্রেক্ষাপটে আমার দ্বারা রাজনীতি করা সম্ভব নয়। আমরা বই পুস্তকে পড়েছিলাম রাজনীতি হল জনগণের সেবা করা, এখন দেখছি ভিন্ন।’
সাদ্দাম হাওলাদার বলেন, ‘হাজারো কথা/অভিযোগ থাকলেও দলের প্রতি আমার বিন্দু পরিমাণ কোনো অভিযোগ নেই। আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি, ভালোবাসি দেশ নায়ক তারেক রহমানের সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে, ভালোবাসি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে।
আমি কোনো বড় রাজনীতিবিদ না বা ত্যাগী নেতাকর্মী নই, আমার চাইতে হাজারো লক্ষ কোটি নেতাকর্মী এখন দলের কাছে বোঝা ও অবহেলিত। তাই আমি স্ব-সম্মানে সজ্ঞানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নামক সব রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি এবং পদত্যাগ করলাম।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আজকের পর থেকে আমি কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আল্লাহতায়ালার ঘর পবিত্র কাবা শরিফকে সামনে রেখে তওবা করলাম, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন এবং আমার রাজনৈতিক জীবনে যদি জানা/অজানা কাউকে বিন্দু পরিমাণ কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমাকে আপনাদের কারো ছেলে, ভাই, বন্ধু বা সন্তান হিসেবে ক্ষমা করে দেবেন। আমি সবার কাছে বিনয়ের সঙ্গে মাফ চাই।’
শেষে তিনি বিশেষ দ্রষ্টব্য দিয়ে লেখেন, ‘রাজনীতি ছিল আমার আবেগ ও মনের খোড়াক, ভেবেছিলাম জনগণের সেবা করব। তবে সেটা রাজনীতি দিয়ে হইলো না, তবে রাজনীতির বাইরেও যে মানব সেবা করা যায়, সেটা আমি সাদ্দাম প্রমাণ করে দিবে, আল্লাহ ভরসা। বিগত দিনে যেমন অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে সর্বদা ছিলাম, ভবিষ্যতে আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।’
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহমেদ পান্না বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া সাদ্দাম হাওলাদার দীর্ঘদিন থেকে সৌদি আরবে রয়েছেন। কারো সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ থেকে সাদ্দাম হাওলাদার ক্ষোভের কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি সাদ্দাম হাওলাদার লিখিতভাবে কোনো পদত্যাগপত্র না পাঠিয়ে কি কারণে ফেসবুকে ভিডিও ছেড়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছেন, সে ব্যাপারেও খোঁজখবর না নিয়ে বিস্তারিত বলা যাবে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নেপালে গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার কারণে মৃতের সংখ্যা ১ হাজারের বেশি হয়ে গেছে। মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। খবর সিএনএনের।
২৬ আগস্ট হিমালয়ে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা নেপাল এবং চীনের তিব্বত অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছে। পানির প্রবল স্রোত এবং ভূমিধসের ফলে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়। এই ঘটনায় বহু মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে আটকে পড়েন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ৯৮৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, চীনের তিব্বত অঞ্চলে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। দুই দেশের মিলিত মৃতের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৩ জনে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত নেপালে অন্তত ১১ হাজার ৮১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ৪ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। নেপালে নিখোঁজের সংখ্যা ৩ হাজার ৯১৬ এবং তিব্বতে ৫৪৬ জন বলে জানা গেছে।
নেপালে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ত্রিশুলি ও ভোতে কোশি নদী অববাহিকা। ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়ক ও সেতুর কারণে দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বিচ্ছিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৯০০ কর্মীও নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চীনের তিব্বতেও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপ, অস্থিতিশীল পাহাড়ি ঢাল, তীব্র স্রোত ও সরু গিরিখাতের কারণে উদ্ধারকারীদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ৭২৬টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, সপ্তাহব্যাপী চলমান উদ্ধার অভিযানের মাঝে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস এবং নতুন ভূমিধসের আশঙ্কায় পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজার দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং অবকাঠামো ধ্বংসের ফলে যে পরিবেশগত প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে, তা এখন ইসরাইলের জনস্বাস্থ্যের ওপরও আঘাত হানতে শুরু করেছে। গাজার অপরিশোধিত পয়োনিষ্কাশন, দূষিত ধ্বংসস্তূপ এবং বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত বর্জ্য ভূমধ্যসাগর, উপকূলীয় পরিবেশ এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর যে চাপ সৃষ্টি করছে, তার প্রভাব সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরাইলেও পৌঁছাচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রতিনিধিরা ইসরাইল ও গাজাকে প্রভাবিত করা পয়োনিষ্কাশন ও জনস্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানের জন্য একটি কর্মগোষ্ঠী গঠনে সম্মত হয়েছেন। তবে, ওই কমিটিতে কারা থাকবেন এবং কীভাবে এটি কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
গাজার বিদ্যুৎ ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হওয়ায় প্রতিদিন এক লাখ ঘনমিটারেরও বেশি অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য সরাসরি ভূমধ্যসাগর কিংবা স্থলভাগে ছড়িয়ে পড়ছে। ওই অঞ্চলের সমুদ্রস্রোত সাধারণত দক্ষিণ থেকে উত্তরের দিকে প্রবাহিত হওয়ায়, এসব বর্জ্য উপকূল ধরে ইসরাইলের জলসীমায় পৌঁছে যাচ্ছে।
দূষিত পানির কারণে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলের আশকেলন লবণমুক্তকরণ বা পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট একাধিকবার বন্ধ করতে হয়েছে। গাজার বর্জ্যপানিতে উচ্চমাত্রার মলজাতীয় ব্যাকটেরিয়া দূষণের কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য সমুদ্রে বিষাক্ত শৈবালের বিস্তার ঘটাতে পারে। এসব শৈবাল পানি বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থার ফিল্টার আটকে দেওয়ার পাশাপাশি মাছ ধরার এলাকাগুলোতে ‘ডেড জোন’ তৈরি করতে পারে।
পয়োবর্জ্যের বিষাক্ত রাসায়নিক, ভারী ধাতু এবং রোগজীবাণু সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে জমা হতে পারে। মাছ এক জলসীমা থেকে অন্য জলসীমায় চলাচল করার ফলে, দূষিত সামুদ্রিক খাবার ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি—উভয় পক্ষের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অপরিশোধিত পয়োবর্জ্যে থাকা রোগজীবাণু সামুদ্রিক পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি, উত্তরমুখী স্রোতের কারণে ইসরাইলের উপকূলীয় শহরগুলোকেও প্রভাবিত করতে পারে।
ভূগর্ভস্থ পানিতেও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি
গাজার ভূগর্ভস্থ পানির দূষণও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগজীবাণু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ভূগর্ভস্থ পানিতে দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে এবং ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে, এমন দূষিত পানি সরাসরি ইসরাইলের পৌর পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ঢোকার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে, লবণ ও বিভিন্ন রাসায়নিক দূষক আরও দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে, দুই পক্ষের ব্যবহৃত অভিন্ন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বা অ্যাকুইফার দীর্ঘমেয়াদে দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সেচ, কৃষিকাজ এবং পানীয় জলের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির মান ও ব্যবহারযোগ্যতা কমে যেতে পারে।
গাজার ধ্বংসস্তূপও ইসরাইল ও পশ্চিম তীরে যাচ্ছে। গাজায় আনুমানিক ছয় কোটি টন ধ্বংসস্তূপ জমে রয়েছে। সম্প্রতি এর একটি অংশ ইসরাইল ও পশ্চিম তীরের অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে, ধ্বংসস্তূপে থাকা দূষক সরাসরি এসব এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউরো-মেড মনিটরের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি ইসরাইলি ট্রাক গাজা থেকে ধ্বংসাবশেষ নিয়ে বের হয়েছে। এই বর্জ্যের মধ্যে সীসা, পারদ এবং ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু থাকতে পারে। বিশেষ ধরনের অস্ত্রের অবশিষ্টাংশ, সাদা ফসফরাসের কণা, অবিস্ফোরিত বিস্ফোরক, শিল্পকারখানার রাসায়নিক এবং পুরোনো ভবন ধ্বংসের ফলে বিপুল পরিমাণ অ্যাসবেস্টস ফাইবারও থাকতে পারে।
ভারী ধাতু এবং এসব রাসায়নিক মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্যানসার, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি, কিডনির সমস্যা এবং পরিবেশে বিষাক্ত পদার্থ জমে যাওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ধ্বংসস্তূপে পচনশীল মানবদেহের অবশিষ্টাংশ, জৈব বর্জ্য, রোগজীবাণু, পোকামাকড় ও ইঁদুরও থাকতে পারে। বাতাসে বিষাক্ত ধুলা, অ্যাসবেস্টস এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র কণা ছড়িয়ে পড়লে বায়ুর মান খারাপ হবে। পাশাপাশি, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ বিস্ফোরণের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
পরিবেশগত নিয়ম মানার আহ্বান
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দূষিত দুর্যোগ-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা বিধি অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে। মানবদেহের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেলে কার্যক্রম তাৎক্ষণিক বন্ধ করার মতো ব্যবস্থা এসব প্রটোকলের অংশ।
ধ্বংসস্তূপ সীমান্ত বা প্রশাসনিক এলাকা পার করে অন্যত্র নেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর আইন, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং ভূগর্ভস্থ পানি রক্ষার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। সমালোচকেরা বলছেন, গণকবর থাকতে পারে এমন স্থানে বুলডোজার চালিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো যুদ্ধাপরাধের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করতে পারে। একই সঙ্গে যথাযথ পরিবেশগত বিধি না মেনে এসব বর্জ্য সরিয়ে নেওয়া সংগ্রহ ও ফেলার স্থানগুলোর আশপাশে বসবাসকারী মানুষের স্বাস্থ্যকেও ঝুঁকিতে ফেলছে।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে যে, গাজা ও ইসরাইলের পরিবেশগত বাস্তবতা পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে, গাজার মানবিক ও পয়োনিষ্কাশন সংকট শেষ পর্যন্ত ইসরাইলের জনস্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলবে।
১৯৯০ সালে জেরুজালেমের সাবেক মেয়র টেডি কোলেকও স্বীকার করেছিলেন যে, পূর্ব জেরুজালেমের আরব অধ্যুষিত এলাকায় অবহেলার কারণে কলেরা ছড়িয়ে পশ্চিম জেরুজালেমে পৌঁছানোর আশঙ্কায় তার প্রশাসন অন্তত মৌলিক পানি ও পয়োনিষ্কাশন লাইন সম্প্রসারণ করেছিল।
গাজার বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধু একটি যুদ্ধ বা মানবিক সংকটের বিষয় নয়; এটি একটি আন্তঃসীমান্ত পরিবেশগত সংকটও। মানবাধিকারগত দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন ছাড়াও, পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নিয়ম মেনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না করলে এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ইসরাইলি জনগণকেও ভোগ করতে হতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-সমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাদেঘিয়ান জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩ হাজার ৮০০টিরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। এই তথ্য মেহের নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি সাক্ষাৎকারে তিনি খাতাম আল-আনবিয়া এয়ার ডিফেন্স বেসের প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী ও জাতীয় বিমান প্রতিরক্ষা দিবস উপলক্ষে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
সাদেঘিয়ান বলেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রধান চারটি দায়িত্ব হলো আকাশপথে আসা লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা, নজরদারি চালানো, বাধা প্রদান এবং প্রয়োজনে তা ধ্বংস করা। তার মতে, আকাশ প্রতিরক্ষার মূল কাজ হলো ইরানের আকাশসীমা এবং এর বাইরেও যেকোনো উড়ন্ত বস্তুকে শনাক্ত করা। এরপর সেগুলোর পরিচয় নির্ধারণ করা হয় এবং প্রয়োজন হলে যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো শত্রুপক্ষের বিমানকে তাদের মিশন সম্পন্ন করতে বাধা দেওয়া এবং প্রয়োজনে তা ধ্বংস করা।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির পাশাপাশি শান্তিকালেও আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে সাদেঘিয়ান বলেন, ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশকারী সব যাত্রীবাহী বিমান, বিভিন্ন শহরের মধ্যে চলাচলকারী উড়োজাহাজ এবং উদ্ধার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার ও বিমান আকাশ প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের সমন্বয় ও অনুমতির আওতায় পরিচালিত হয়।
তিনি আরও জানান, মরুভূমি, উপকূল, দ্বীপাঞ্চল এবং পার্বত্য এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।
সাদেঘিয়ান বলেন, উন্নত রাডার নেটওয়ার্ক, ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ব্যবস্থা এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত নজরদারি ইউনিটগুলো ২৪ ঘণ্টা ইরানের আকাশসীমা ও এর বাইরের আকাশপথ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইউরেশীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জোট সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠক শুরু হয়েছে। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের আয়োজক কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ ইয়ন্তিমাক অর্দো কমপ্লেক্সে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত জানান। এরপর নেতারা ঐতিহ্যবাহী দলীয় ছবিতে অংশগ্রহণ করেন।
জাপারভ উদ্বোধনী বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এ বছর এসসিও প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি হচ্ছে। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে—‘টেকসই শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে’ বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, শুরুতে সীমান্ত নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া এই সংগঠন বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি প্রভাবশালী বৈশ্বিক জোটে পরিণত হয়েছে।
জাপারভের বক্তব্য অনুযায়ী, এসসিওর সদস্য দেশগুলোতে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে। পাশাপাশি, বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই দেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
কিরগিজস্তানের এসসিও সভাপতিত্বের মূল দর্শন হিসেবে জাপারভ উল্লেখ করেন, ‘ঐক্যই সমৃদ্ধির ভিত্তি’—যা তার মতে ‘সাংহাই স্পিরিট’-এর মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সদস্য দেশগুলো সমন্বিতভাবে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে এসসিওর উন্নয়নে নতুন অধ্যায় শুরু করবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধানদের কাউন্সিলের বৈঠক উদ্বোধন করেন।
এরপর নেতারা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন। সম্মেলনের শেষে সংগঠনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘বিশকেক ঘোষণা’ সই করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো
কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ
তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান
উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিয়য়েভ।
রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠক শেষে ‘এসসিও প্লাস’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তুরস্ক এসসিওর পূর্ণ সদস্য নয়, তবে ২০১২ সাল থেকে দেশটি সংগঠনটির ‘ডায়ালগ পার্টনার’ হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ