বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:১৮ পি.এম
সমুদ্রের গভীরে এমন একটি প্রাণী বিদ্যমান, যার শরীরে তিনটি হৃদপিণ্ড এবং রক্তের রং নীল। বিপদ বুঝতে পারলে তা মুহূর্তের মধ্যে শরীরের রং ও ত্বকের গঠন পরিবর্তন করতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, প্রজননের পর তাদের জীবনচক্রও বেশ অদ্ভুত। কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে মিলনের পর স্ত্রী অক্টোপাস পুরুষ সঙ্গীকে আক্রমণ করে খেয়ে ফেলতে পারে।
তবে এই আচরণ সব অক্টোপাসের মধ্যে দেখা যায় না। নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির মধ্যে ‘সেক্সুয়াল ক্যানিবালিজম’ বা যৌন নরখাদকতার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অক্টোপাসকে আধুনিক এবং অদ্ভুত প্রাণী হিসেবে মনে করা হলেও, তাদের পূর্বপুরুষের অস্তিত্ব বহু কোটি বছর আগে থেকে রয়েছে। বিজ্ঞানীরা প্রাচীনতম পরিচিত অক্টোপাস-আত্মীয়ের জীবাশ্মের বয়স প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন বছর বলে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ, ডাইনোসরের আবির্ভাবেরও বহু আগে এই প্রাণীগোষ্ঠী ছিল।
বর্তমান অক্টোপাস সেফালোপড শ্রেণির মোলাস্ক। স্কুইড এবং কাটলফিশও একই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। নরম শরীর, আটটি বাহু এবং অসাধারণ অভিযোজন ক্ষমতার কারণে অক্টোপাস সামুদ্রিক প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম বিস্ময়কর।
অক্টোপাসের শরীরে তিনটি হৃদপিণ্ড রয়েছে। এর মধ্যে দুটি হৃদপিণ্ড ফুলকার দিকে রক্ত পাঠায় এবং অন্যটি শরীরের বাকি অংশে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ করে।
মানুষের রক্ত লাল হলেও অক্টোপাসের রক্ত নীলচে। এর কারণ হলো, অক্সিজেন পরিবহনে তাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিবর্তে হিমোসায়ানিন নামের তামা-সমৃদ্ধ প্রোটিন কাজ করে। ঠান্ডা ও কম অক্সিজেনযুক্ত পানিতে এটি অক্টোপাসের জন্য বিশেষভাবে কার্যকর।
২০০৮ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় Octopus cyanea প্রজাতির একটি স্ত্রী অক্টোপাসের যৌন নরখাদকতার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়। পালাউ, মাইক্রোনেশিয়ায় পর্যবেক্ষণের সময় দেখা যায়, একটি ছোট পুরুষ অক্টোপাসের সঙ্গে একাধিকবার মিলনের পর স্ত্রীটি তাকে আক্রমণ করে। পরে পুরুষটিকে নিজের গুহায় নিয়ে গিয়ে প্রায় দুই দিন ধরে তার দেহ খাওয়ার ঘটনাও পর্যবেক্ষণ করা হয়।
গবেষণায় এটিকে ওই প্রজাতির যৌন নরখাদকতার প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
তবে সব স্ত্রী অক্টোপাস মিলনের পর পুরুষ সঙ্গীকে খেয়ে ফেলে এমনটি বলা ঠিক নয়। বিভিন্ন প্রজাতির আচরণে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। বরং স্ত্রীটির কাছাকাছি গিয়ে মিলন করাই অনেক পুরুষ অক্টোপাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ কারণে কিছু প্রজাতির পুরুষ দূরত্ব বজায় রেখেও মিলনের চেষ্টা করে।
অক্টোপাসের প্রজনন প্রক্রিয়াও বেশ ব্যতিক্রমী। পুরুষের একটি বিশেষায়িত বাহু থাকে, যার নাম ‘হেক্টোকোটাইলাস’। এই বাহুর মাধ্যমে স্ত্রী অক্টোপাসের শরীরে শুক্রাণু পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রজাতিভেদে এই বাহুর গঠন ও ব্যবহারের পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকতে পারে।
মিলনের পর পুরুষ অক্টোপাসের জীবন সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অনেক প্রজাতির পুরুষ মিলনের কয়েক মাসের মধ্যেই মারা যায়।
অন্যদিকে, স্ত্রী অক্টোপাস ডিম পাড়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলো পাহারা দেয়। এ সময় অনেক প্রজাতির স্ত্রী অক্টোপাস খাবার গ্রহণ বন্ধ করে দেয়। ডিমের কাছে অক্সিজেন পৌঁছাতে বাহু দিয়ে পানি প্রবাহিত করে এবং শিকারিদের হাত থেকে ডিম রক্ষা করে। শেষ পর্যন্ত অনাহার ও শারীরিক অবনতির কারণে তার মৃত্যু হয়।
কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে ডিম পাহারা দেওয়ার সময় অবিশ্বাস্য রকম দীর্ঘ। গভীর সমুদ্রের গ্র্যানেলেডোন বোরিওপ্যাসিফিকা প্রজাতির একটি স্ত্রী অক্টোপাসকে প্রায় ৫৩ মাস ডিম পাহারা দিতে দেখা গেছে। এটি কোনো প্রাণীর সবচেয়ে দীর্ঘ নথিভুক্ত ব্রুডিং বা ডিম পাহারা দেওয়ার সময়গুলোর একটি।
অক্টোপাসের অন্যতম বিস্ময়কর ক্ষমতা হলো ছদ্মবেশ ধারণ। ত্বকের বিশেষ কোষ ‘ক্রোমাটোফোর’-এর সাহায্যে তারা দ্রুত শরীরের রং পরিবর্তন করতে পারে। শুধু রং নয়, ত্বকের গঠন বা টেক্সচারও বদলে আশপাশের পাথর, প্রবাল কিংবা পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।
বিপদে পড়লে অক্টোপাস কালি ছুড়ে শিকারিকে বিভ্রান্ত করে দ্রুত পালিয়ে যেতে পারে।
অক্টোপাসকে শুধুমাত্র আট বাহুর সামুদ্রিক প্রাণী হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তাদের স্নায়ুতন্ত্র অত্যন্ত জটিল। শরীরের বিপুলসংখ্যক নিউরন বাহুগুলোতেও রয়েছে। ফলে বাহুগুলো অনেকটা স্বাধীনভাবেও বিভিন্ন কাজ করতে পারে।
সমস্যা সমাধান, শেখা এবং পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার কারণে অক্টোপাসকে পৃথিবীর অন্যতম বুদ্ধিমান অমেরুদণ্ডী প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রতি বছর ৮ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব অক্টোপাস দিবস। দিনটির লক্ষ্য শুধু এই অদ্ভুত প্রাণী সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়ানো নয়; বরং তাদের বুদ্ধিমত্তা, জীববৈচিত্র্যে ভূমিকা এবং সামুদ্রিক পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও সচেতনতা তৈরি করা।
সামুদ্রিক দূষণ, আবাসস্থলের পরিবর্তন এবং অক্টোপাস চাষকে ঘিরে প্রাণীকল্যাণ ও পরিবেশগত নানা প্রশ্নও রয়েছে। কোটি কোটি বছরের বিবর্তনে তৈরি এই প্রাণীর তিন হৃদপিণ্ড, নীল রক্ত, অসাধারণ ছদ্মবেশ, বুদ্ধিমত্তা এবং বিস্ময়কর প্রজনন ও জীবনচক্র সব মিলিয়ে অক্টোপাস আজও সমুদ্রের অন্যতম রহস্যময় প্রাণী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু স্থানে রাস্তা ও অবকাঠামো চমৎকার, যানজট কম এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও সাশ্রয়ী; আবার অন্যদিকে, কিছু শহরে প্রতিদিনের যাতায়াত মানেই অবিরাম যানজট, অতিরিক্ত খরচ এবং নিরাপত্তার উদ্বেগ। সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি প্রধান শহরের ওপর পরিচালিত একটি নতুন গবেষণায় গাড়িচালকদের জন্য দেশের সেরা এবং সবচেয়ে সুবিধাজনক শহরগুলোর পাশাপাশি সবচেয়ে অসুবিধাজনক শহরগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
ওয়ালেটহাবের গবেষণায় অ্যারিজোনার স্কটসডেলকে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর জন্য সেরা শহর হিসেবে শীর্ষস্থানে রাখা হয়েছে। অপরদিকে, পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া সবচেয়ে খারাপ শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। তালিকার নিচের দিকে রয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি, লস এঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্ক এবং ডেট্রয়েটের মতো জনবহুল শহরগুলো।
গাড়ি মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ, যানজট ও সড়ক অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং সার্ভিস সুবিধা—এই চারটি প্রধান বিষয়কে ভিত্তি করে ১০০টি শহরকে তুলনা করা হয়েছে। জ্বালানির গড় দাম, মেরামতের খরচ, পার্কিং সুবিধা, যানজটে নষ্ট হওয়া সময়, সড়কের মান, আবহাওয়াগত ঝুঁকি এবং গাড়ি চুরির হারসহ মোট ৩০টি সূচক বিশ্লেষণ করে এই চূড়ান্ত স্কোর তৈরি করা হয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিনের যাতায়াতের প্রায় ৮৭ শতাংশই ব্যক্তিগত গাড়িতে হয়ে থাকে। এই কারণে, গাড়ি চালানোর খরচ ও সময় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তীব্র যানজটের কারণে একজন চালক বছরে গড়ে প্রায় ৩৭০ ঘণ্টা সময় হারায়। পাশাপাশি, জ্বালানি অপচয় এবং জ্যামে আটকে থাকার কারণে প্রতি চালকের বছরে প্রায় ৮৯৪ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ হয়।
স্কটসডেলের পর শীর্ষ ১০-এর তালিকায় স্থান পেয়েছে আইডাহোর বোইসি, ইন্ডিয়ানার ফোর্ট ওয়েন, নেব্রাস্কার লিংকন, টেক্সাসের কর্পাস ক্রিস্টি, উত্তর ক্যারোলাইনার র্যালি, টেক্সাসের লাবক, কেন্টাকির লেক্সিংটন-ফায়েট, ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল এবং উত্তর ক্যারোলাইনার উইনস্টন-সালেম। স্কটসডেলের শীর্ষে থাকার পেছনে নতুন গাড়ির তুলনামূলক কম দাম, সুবিধাজনক পার্কিং খরচ, ভালো সড়ক ও ব্রিজ, কম দুর্ঘটনা ঝুঁকি, পর্যাপ্ত মেরামতের দোকান এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী বীমা প্রিমিয়াম ভূমিকা রেখেছে।
তালিকার ১০০ নম্বরে রয়েছে ফিলাডেলফিয়া। দুর্বল সড়ক ব্যবস্থা, তীব্র যানজট এবং নিরাপত্তার অভাব শহরটির এই অবস্থার জন্য দায়ী। এছাড়া, তালিকার তলানিতে থাকা অন্যান্য শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি, লস এঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্ক এবং ডেট্রয়েট। লস এঞ্জেলেসের সামগ্রিক স্কোর মাত্র ৩৬.৫০। এর মধ্যে গাড়ি মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণে শহরটির অবস্থান ৯৮তম এবং যানজট ও অবকাঠামো খাতে ৯০তম। ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যান্য বড় শহরের অবস্থাও বেশ নাজুক—সান ফ্রান্সিসকো ৯১তম, ওকল্যান্ড ৯৪তম এবং সান দিয়েগো ৮৫তম অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার শহরগুলোতে জ্বালানির দাম অনেক বেশি। যেমন—ফোর্ট ওয়েনে গ্যাসের যে দাম, সান ফ্রান্সিসকোতে তা প্রায় দ্বিগুণ।
অন্যদিকে, টেক্সাসের লাবকে যানজটে নষ্ট হওয়া সময় শিকাগোর তুলনায় ১৪ গুণ কম। ফোর্ট ওয়েনে জ্বালানির দাম বেশ কম, বোইসি শহরটি জাতীয় গড়ের তুলনায় দুর্ঘটনার দিক থেকে সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং ফ্লোরিডার হিয়ালিয়াহতে গাড়ি চুরির হার সর্বনিম্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি জনবহুল শহরের মূল শহরাঞ্চলগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং এতে আশপাশের মেট্রো এলাকার তথ্য আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২০২৬ সালের এই র্যাঙ্কিংটি গত ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত সরকারি ও বেসরকারি তথ্যের আলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের সীমান্তঘেঁষা হাকিমপুর হিলি উপজেলায় কাঁচামরিচের চাষাবাদ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় কম খরচ, সহজ পরিচর্যা এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ার কারণে স্থানীয় কৃষকরা কাঁচামরিচ চাষে ঝুঁকছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শের ফলে এবারের মরিচের ফলন চমৎকার হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত ফলনের পাশাপাশি বাজারে চড়া দাম পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপজেলার মরিচ চাষিরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হিলির সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো যেমন- ডাঙ্গাপাড়া, বোয়ালদার, খাট্টামাধবপাড়া ও আলীহাটের বিভিন্ন মাঠে বাণিজ্যিকভাবে কাঁচামরিচের চাষ হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা মিসাইল জাতের উচ্চফলনশীল মরিচ চাষ করেছেন। ধান বা অন্যান্য দানাদার ফসলের তুলনায় মরিচ চাষে ঝুঁকি কম এবং আয়ের পরিমাণ বেশি। একবার চারা রোপণ করলে টানা কয়েক মাস পর্যন্ত মরিচ তোলা যায়। তাই অন্যান্য ফসলের জমি কমিয়ে অনেকেই এখন মরিচ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষেতজুড়ে ঝুলছে সবুজ কাঁচামরিচ। কৃষকরা দলবেঁধে ক্ষেত থেকে মরিচ তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
হিলির কাঁচামরিচের গুণগত মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা, বগুড়াসহ দেশের বড় বড় জেলাগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব মরিচের ক্ষেতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেকেই। প্রতিদিন মরিচের ক্ষেত দেখতে আসছেন অনেকেই আবার কেউবা আসছেন মরিচ চাষের পরামর্শ নিতে।
কথা হয় ইয়ানুল ইসলাম, মাজেদুল হকসহ কয়েকজন কৃষকের সাথে, তারা জানান, এ বছর কাঁচামরিচ চাষ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার দামও বেশ চড়া। বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ পাইকারি ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খরচের চেয়ে লাভ দ্বিগুণেরও বেশি হচ্ছে। আগামীতে আরও বেশি পরিমাণ মরিচ চাষ করা হবে।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. আরজেনা বেগম জানান, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। কৃষকদের মানসম্মত বীজ নির্বাচন, সুষম সার ব্যবহার এবং পোকা-মাকড় দমনে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষকরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় আমরা আশা করছি আগামীতে এ অঞ্চলে কাঁচামরিচের চাষ আরও ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করবে। চলতি মৌসুমে দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি উপজেলায় ৮ হেক্টর জমিতে কাঁচামরিচ চাষাবাদ হয়েছে যা গত দুই বছর আগেও ছিলো মাত্র ২ হেক্টর জমিতে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীর।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর প্রথমবারের মতো এই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পাবেন। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির জানান, প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সমস্যা এবং সুবিধা-অসুবিধার কথা শুনবেন। প্রয়োজনে তিনি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোরও আশ্বাস দেবেন।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ, যেখানে পরিবারের সদস্যদের অভিজ্ঞতা এবং চাহিদাগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগে পরিবারটি আশা প্রকাশ করছে যে, তাদের সমস্যাগুলো সমাধানে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সেনবাগে অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার একদিন পর মো. মারুফ (২১) নামে এক তরুণের মরদেহ পুকুরপাড় থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১০টার সময় উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের মতইন দক্ষিণপাড়া হাজী বাড়ির পাশে একটি পুকুরপাড় থেকে মারুফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মারুফ ওই এলাকার মো. রিপনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিমান করে মারুফ নিজের মোবাইল ভেঙে ফেলেন। পরে তিনি তার জামাকাপড় একটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে মারুফ আর বাড়িতে ফিরে আসেননি, তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
বুধবার রাতে বাড়ির পাশে ধানক্ষেতসংলগ্ন পুকুরপাড়ে মারুফের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সেনবাগ থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থলের কাছ থেকে তার ব্যবহৃত ট্রাভেল ব্যাগ ও জুতা উদ্ধার করা হয়।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হযরত আলী মিলন বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায় গলায় গামছা বাঁধা মরদেহটি পুকুর পাড় ও ধানক্ষেতের মধ্যে পড়ে আছে। গামছার একটি অংশ পুকুর পাড়ে গাছের ডালের মধ্যে বাঁধা ছিল, এবং ওপর অংশ মরদেহের গলায় পেঁচানো ছিল। গলায় থাকা গামছাটি পুরোনো হওয়ায় ছিঁড়ে যাওয়ার পর তিনি ধানক্ষেতে পড়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ