প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু স্থানে রাস্তা ও অবকাঠামো চমৎকার, যানজট কম এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও সাশ্রয়ী; আবার অন্যদিকে, কিছু শহরে প্রতিদিনের যাতায়াত মানেই অবিরাম যানজট, অতিরিক্ত খরচ এবং নিরাপত্তার উদ্বেগ। সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি প্রধান শহরের ওপর পরিচালিত একটি নতুন গবেষণায় গাড়িচালকদের জন্য দেশের সেরা এবং সবচেয়ে সুবিধাজনক শহরগুলোর পাশাপাশি সবচেয়ে অসুবিধাজনক শহরগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
ওয়ালেটহাবের গবেষণায় অ্যারিজোনার স্কটসডেলকে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর জন্য সেরা শহর হিসেবে শীর্ষস্থানে রাখা হয়েছে। অপরদিকে, পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া সবচেয়ে খারাপ শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। তালিকার নিচের দিকে রয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি, লস এঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্ক এবং ডেট্রয়েটের মতো জনবহুল শহরগুলো।
গাড়ি মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ, যানজট ও সড়ক অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং সার্ভিস সুবিধা—এই চারটি প্রধান বিষয়কে ভিত্তি করে ১০০টি শহরকে তুলনা করা হয়েছে। জ্বালানির গড় দাম, মেরামতের খরচ, পার্কিং সুবিধা, যানজটে নষ্ট হওয়া সময়, সড়কের মান, আবহাওয়াগত ঝুঁকি এবং গাড়ি চুরির হারসহ মোট ৩০টি সূচক বিশ্লেষণ করে এই চূড়ান্ত স্কোর তৈরি করা হয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিনের যাতায়াতের প্রায় ৮৭ শতাংশই ব্যক্তিগত গাড়িতে হয়ে থাকে। এই কারণে, গাড়ি চালানোর খরচ ও সময় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তীব্র যানজটের কারণে একজন চালক বছরে গড়ে প্রায় ৩৭০ ঘণ্টা সময় হারায়। পাশাপাশি, জ্বালানি অপচয় এবং জ্যামে আটকে থাকার কারণে প্রতি চালকের বছরে প্রায় ৮৯৪ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ হয়।
স্কটসডেলের পর শীর্ষ ১০-এর তালিকায় স্থান পেয়েছে আইডাহোর বোইসি, ইন্ডিয়ানার ফোর্ট ওয়েন, নেব্রাস্কার লিংকন, টেক্সাসের কর্পাস ক্রিস্টি, উত্তর ক্যারোলাইনার র্যালি, টেক্সাসের লাবক, কেন্টাকির লেক্সিংটন-ফায়েট, ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল এবং উত্তর ক্যারোলাইনার উইনস্টন-সালেম। স্কটসডেলের শীর্ষে থাকার পেছনে নতুন গাড়ির তুলনামূলক কম দাম, সুবিধাজনক পার্কিং খরচ, ভালো সড়ক ও ব্রিজ, কম দুর্ঘটনা ঝুঁকি, পর্যাপ্ত মেরামতের দোকান এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী বীমা প্রিমিয়াম ভূমিকা রেখেছে।
তালিকার ১০০ নম্বরে রয়েছে ফিলাডেলফিয়া। দুর্বল সড়ক ব্যবস্থা, তীব্র যানজট এবং নিরাপত্তার অভাব শহরটির এই অবস্থার জন্য দায়ী। এছাড়া, তালিকার তলানিতে থাকা অন্যান্য শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি, লস এঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্ক এবং ডেট্রয়েট। লস এঞ্জেলেসের সামগ্রিক স্কোর মাত্র ৩৬.৫০। এর মধ্যে গাড়ি মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণে শহরটির অবস্থান ৯৮তম এবং যানজট ও অবকাঠামো খাতে ৯০তম। ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যান্য বড় শহরের অবস্থাও বেশ নাজুক—সান ফ্রান্সিসকো ৯১তম, ওকল্যান্ড ৯৪তম এবং সান দিয়েগো ৮৫তম অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার শহরগুলোতে জ্বালানির দাম অনেক বেশি। যেমন—ফোর্ট ওয়েনে গ্যাসের যে দাম, সান ফ্রান্সিসকোতে তা প্রায় দ্বিগুণ।
অন্যদিকে, টেক্সাসের লাবকে যানজটে নষ্ট হওয়া সময় শিকাগোর তুলনায় ১৪ গুণ কম। ফোর্ট ওয়েনে জ্বালানির দাম বেশ কম, বোইসি শহরটি জাতীয় গড়ের তুলনায় দুর্ঘটনার দিক থেকে সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং ফ্লোরিডার হিয়ালিয়াহতে গাড়ি চুরির হার সর্বনিম্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি জনবহুল শহরের মূল শহরাঞ্চলগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং এতে আশপাশের মেট্রো এলাকার তথ্য আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২০২৬ সালের এই র্যাঙ্কিংটি গত ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত সরকারি ও বেসরকারি তথ্যের আলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন