০৯:৪৪ পি.এম
প্রবেশপত্রে বিষয় এবং কোডের অসংগতির কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এক শিক্ষার্থী। একটি প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ভুলের কারণে ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় তার শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে। উলানিয়া মুজাফফর খান ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী রিপা দেওয়ান সোমবার (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার মানবিক বিভাগের যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে এই ঘটনার শিকার হয়ে পড়েন। রিপা দেওয়ান মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নের পূর্বহর্ণী গ্রামের দিনমজুর ইদ্রিস আলী দেওয়ানের কন্যা।
জানা গেছে, সরকারি পাতারহাট রসিক চন্দ্র মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে পরীক্ষা দিতে উপস্থিত হন রিপা। অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের মতো তার প্রবেশপত্র জমা দিতে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দেখতে পান, তার অ্যাডমিট কার্ডে যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরিবর্তে সমাজকল্যাণ বিষয় রয়েছে। অথচ রিপা যুক্তিবিদ্যা বিষয়ে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করে সারা বছর ওই বিষয়েই ক্লাস, টেস্ট পরীক্ষা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার বিষয়টি এবং প্রবেশপত্রের উল্লেখিত বিষয় ও কোডের মধ্যে অসঙ্গতি থাকায় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা দিতে না পেরে কান্না করতে করতে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে একটি গাছের নিচে বসে পড়েন রিপা। উপস্থিত অভিভাবক এবং স্থানীয়দের অনেকেই তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি ভেঙে পড়েন।
গলায় কান্না নিয়ে শিক্ষার্থী রিপা দেওয়ান বলেন, আমি যুক্তিবিদ্যা বিষয়েই রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম। কলেজের টেস্ট পরীক্ষাও ওই বিষয়েই দিয়েছি। পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগে অ্যাডমিট কার্ড হাতে পাই। ওই সময় বিষয় পরিবর্তনের বিষয়টি লক্ষ্য করিনি। সমাজকল্যাণের বইও কিনিনি, পড়াশোনাও করিনি। আজ পরীক্ষা দিতে এসে জানতে পারলাম প্রবেশপত্রে নামে অন্য বিষয় উল্লেখ রয়েছে। এখন আমি বাবা-মায়ের সামনে কীভাবে মুখ দেখাব? কলেজের দায়িত্বশীল শিক্ষকরা বিষয়টি যদি আগে যাচাই করে নিতেন, আমি আজ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেই পারতাম না।
তিনি আরও বলেন, একটি ভুলের কারণে আমার পুরো একটি বছর নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত সমাধান আশা করছি।
রিপার বাবা ইদ্রিস আলী দেওয়ান জানিয়েছেন, তিনি একজন দিনমজুর এবং অনেক কষ্ট করে তার মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। সংসারের অভাব ও দারিদ্র্যের মধ্যেও তার পড়াশোনা বন্ধ করেননি। অথচ একটি ভুলের কারণে আজMariah, ঐ মেয়েটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তার মেয়ের শিক্ষাজীবন যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য শিক্ষা বোর্ডের মানবিক সমর্থন কামনা করেছেন।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
একই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা অপর এক পরীক্ষার্থীর মা আখি চৌধুরী বলেছেন, তাঁর মেয়ে পরীক্ষা দিতে পেরেছে, কিন্তু রিপাকে কান্না করতে দেখে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক মনে হয়েছে। একটি ভুলের দায় কোন শিক্ষার্থীর জীবনে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টিকে দ্রুত সমাধান করা।
পরীক্ষা কেন্দ্রের আহবায়ক মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, আজ যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু শিক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ডে সমাজকল্যাণ বিষয়ের নাম এবং কোড উল্লেখ ছিল। বোর্ডের বিধি অনুযায়ী এ ধরনের অসঙ্গতি থাকলে কেন্দ্রের এখতিয়ার অন্তর্ভুক্ত নয়। এছাড়া শিক্ষার্থী তার রেজিস্ট্রেশন কার্ডও সাথে আনেনি।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রিয়াজুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে। যদি কোন প্রশাসনিক, কারিগরি বা প্রাতিষ্ঠানিক ত্রুটি থেকে থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে একটি সামান্য ভুলের কারণে একজন শিক্ষার্থীর একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের বক্তব্য হল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের আরও সতর্কতা থাকলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল। একই সঙ্গে তারা শিক্ষা বোর্ডের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন