০৯:৪৮ পি.এম
আমতলী উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ১৩ দিনের মধ্যে ৩০ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। মঙ্গলবারের পর ১৫ শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়লেও ১৫ শিশু এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের সংকট বিদ্যমান। সঙ্কটের কারণে শিশুদের স্বজনদের বাইরে থেকে এন্টিবায়োটিক ও স্যালাইন ক্রয় করতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে শিশুর স্বজনদের দ্রুত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এন্টিবায়োটিক ও স্যালাইন সরবরাহের দাবী উঠেছে।
জানা গেছে, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও আমতলী উপজেলায় পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। জুন মাস পর্যন্ত তেমন কোনো শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। তবে জুলাই মাসে দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। ১৩দিনে ৩০ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। কিন্তু এক্ষুণি ১৫ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং হামের কারণে হাসপাতালে এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের সঙ্কট বিদ্যমান। বিষয়টি জানিয়েছেন শিশুর স্বজনরা রাবেয়া ও তাজিনুর। তাদের কথা থেকে জানা যাচ্ছে, হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ শিশুর প্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিক ও স্যালাইন সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে স্বজনদের বাহির থেকে এন্টিবায়োটিক ও স্যালাইন কিনতে হচ্ছে এবং এতে তাদের আর্থিক কষ্ট হচ্ছে।
এদিকে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা ইউনিট প্রস্তুত করেছে। কিন্তু ওই ইউনিটে বেডের অভাবে ফ্লোরে বিছানা পেতে শিশুরা ও তাদের স্বজনরা থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। মঙ্গলবার দুপুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের আলাদা ফ্লোরে আক্রান্ত শিশু ও তাদের স্বজনরা বিছানা পেতে বসে ছিলেন। এই ইউনিটে বেড না থাকায় সমস্যায় পড়েছেন তারা। শিশুর স্বজনরা রাবেয়া ও তাজিনুর বলেছেন, হাসপাতাল থেকে কিছু এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে না। এগুলো তারা বাইরের দোকান থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের দাবি, দ্রুত হাসপাতালকে এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইন সরবরাহ করতে হবে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ হুমায়ুন আহমেদ সুমন বলেছেন, হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে সঙ্কটের কথা যেভাবে বলা হচ্ছে, এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের অভাব রয়েছে। তিনি আরও জানান, হতদরিদ্র শিশুদের জন্য এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ চিন্ময় হাওলাদার বলেছেন, নতুন অর্থ বছরের কারণে এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের কিছুটা সঙ্কট রয়েছে, তবে খুব শীঘ্রই এই সঙ্কট কেটে যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন