০৯:৫৩ পি.এম
মাত্র ১০০ মিটার একটি ড্রেনের অভাবেই বছরের পর বছর ধরে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার কুলিয়া তালুকের মাঠ সংলগ্ন জামে মসজিদ এলাকার অর্ধশতাধিক পরিবার। বর্ষাকালে তাদের ঘরের আঙিনা, রান্নাঘর, গোয়ালঘর এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই বসতঘরের মেঝেতে পানি জমে থাকে। জলাবদ্ধতার মধ্যে যেন তাদের জীবনযুদ্ধ শেষ হতে নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে এলাকার একটি সড়ক উঁচু করে পাকা নির্মাণের পর থেকে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে পাশের খালে যাওয়ার সুযোগ পায় না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো মহল্লা পানিবন্ধ হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগ চললেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
কুলিয়া তালুকের মাঠ জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আরজ আলী শিকদার (৬৫) জানান, “আমাদের এলাকায় বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে আসার মতো সচেতন কেউ নেই। একটি ছোট্ট ড্রেনের অভাবে আমরা বছরের পর বছর কষ্ট করছি। বর্ষাকালে প্রায় সকলের উঠানে পানি জমে থাকে। অনেকের রান্নাঘর ও গোয়ালঘরে পানি উঠে যায়, কোথাও কোথাও ঘরের মেঝেতে পানি ঢুকে পড়ে। ছোট-বড় সবাইকে নোংরা পানির মধ্য দিয়ে চলাফেরা করতে হয়। মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদেরও জলাবদ্ধতা পেরিয়ে যেতে হয়। শিশুদের স্কুলে যাওয়া থেকে শুরু করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপই অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।”
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
একই মহল্লার প্রবীণ বাসিন্দা ও নিয়মিত মুসল্লি মোতালেব মোল্লা (৮৫) বলেন, “আমাদের কষ্টের শেষ নেই। সামান্য একটি ড্রেন নির্মাণ হলে পানি খালে নেমে যাবে, এবং আমরা এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাব।”
স্থানীয়দের মতে, মাত্র প্রায় ১০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ করা হলে বৃষ্টির পানি সহজেই পাশের খালে প্রবাহিত হবে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার অবসান ঘটবে। এতে অর্ধশতাধিক পরিবারের পাশাপাশি জামে মসজিদে আসা মুসল্লি, শিশু শিক্ষার্থী ও পথচারীদেরও স্বস্তি ফিরে পাবে।
বর্ষা আসলেই দেশের বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নের গল্প শোনা যায়, কিন্তু কুলিয়া তালুকের মাঠ জামে মসজিদের মহল্লার মানুষ এখনো ১০০ মিটার একটি ড্রেনের অপেক্ষায় আছে। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিলে বহুদিনের এই মানবিক সংকটের অবসান ঘটবে এবং এলাকাবাসী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবেন।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন