সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৪৪ পি.এম
ঢাকার গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ও যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাস কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে চান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। যদি এই সময়ের মধ্যে সেবার মান উন্নত করা না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট রুটে নতুন কোম্পানি গঠন করা হবে। যদি তাতেও কাজ না হয়, তাহলে প্রয়োজন হলে রুট বাতিল করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাস পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও সড়ক ভবনের অডিটরিয়ামে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় বাসমালিকদের সঙ্গে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বাসমালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাসের মান, যাত্রীসেবা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কোম্পানির। যদি কোনো মালিক বাসের যথাযথ সংস্কার না করেন কিংবা চালক-কর্মচারীরা নিয়ম না মানেন, তাহলে তার দায় কোম্পানিকে নিতে হবে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, "আমি কোনো বাসমালিক চিনব না, কোম্পানি চিনব। বাসটি আপনার কোম্পানির অধীনে চলে। যদি মালিক মানসম্মতভাবে বাস সংস্কার না করেন, যাত্রীর সুবিধা নিশ্চিত না করেন, চালক কথা না শুনলে এবং কর্মচারীরা শৃঙ্খলা না মানলে সেই বাসের দায় আপনাদের নিতে হবে। তা নিশ্চিত করতে না পারলে ওই মালিকের বাস কোম্পানিতে রাখবেন না।"
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করে, ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জ করে ব্যবসা করার সুযোগ কারও নেই। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব পরিবর্তন চাইব। তা না হলে প্রয়োজনে নতুন কোম্পানি গঠন করব। তাতেও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা না গেলে রুট বাতিল করে সরকারি পর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।
বাসমালিকদের লোকসানের যুক্তির জবাবে মন্ত্রী বলেন, আগে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হবে, তারপর ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে পারলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়া সমন্বয়ে সরকার আলোচনা করবে। "আপনারা মানসম্মত যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করুন। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করুন। বাসে চড়তে মানুষকে আগ্রহী করার মতো পরিবেশ তৈরি করুন। প্রয়োজনে আমরা বসব। আপনাদের লোকসান হলে আমরা দেখব। উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে হবে, তাদের নির্দিষ্ট মাত্রার লাভেরও প্রয়োজন আছে।"
সেবার মান না বাড়িয়ে শুধু ভাড়া বাড়ানোর দাবি গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, "কোনো ব্যবসায় প্রত্যাশা অনুযায়ী লাভ না হলে সেই ব্যবসা চালিয়ে যেতেই হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। যাত্রীদের ওপর চাপ তৈরি করে ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না। আপনি সেবা বিক্রি করছেন, তার জন্য যুক্তিসংগত লাভ করবেন। কিন্তু সেবার মান উন্নত না করে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া চাইবেন, এটা হতে পারে না।"
ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চার্জিং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট এলাকা ও নিয়মের মধ্যে এসব যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপযুক্ত চালকদের দ্রুত ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বাস কোম্পানিগুলোকে দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও শারীরিক-মানসিকভাবে সক্ষম চালক চিহ্নিত করে বিআরটিএতে পাঠাতে হবে। চালককে সংশ্লিষ্ট যান চালানোর নিয়ম ও দক্ষতা সম্পর্কে জানতে হবে। "আপনারা উপযুক্ত চালক চিহ্নিত করে পাঠান। তিনি গাড়ি চালাতে জানেন, নিয়ম জানেন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট, তা নিশ্চিত করুন। আমরা পরীক্ষা নিয়ে লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করব।"
ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বাসস্টপেজ চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর মান উন্নয়নে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষকে (ডিটিসিএ) দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, রুটভিত্তিক বাস কোম্পানিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বাসস্টপেজ চিহ্নিত করতে হবে। পরে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে সেগুলো যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাসের সেবার মান উন্নত করতে কোম্পানির ব্যয় ও মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া বিভিন্ন অর্থের পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন বা ভালো বাস যুক্ত করতে মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া ফি এবং অন্যান্য খরচ কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, "আপনারা হয়তো তিন-চার মাস আগের মতো আয় করতে পারবেন না। কিন্তু অনৈতিকভাবে কালেকশন করা হলে সেটা কমিয়ে দেন। মালিকের কাছ থেকে গাড়ি বুকিং ফি বেশি নেওয়া হলে, ট্রিপপ্রতি বেশি টাকা নেওয়া হলে, সেটা কমিয়ে দেন। বাসের সেবার মান বাড়ান।"
পরিবহনের মালিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাসের সেবার মান উন্নত করা এবং শ্রমিকদের জীবনমান পরিবর্তনে উদ্যোক্তা হিসেবে তাদের দায়িত্ব রয়েছে। সরকার পরিবহনের মালিকদের সঙ্গে নিয়েই পরিবর্তন আনতে চায়। তবে অনিয়ম, গাফিলতি ও অসহযোগিতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, এক দিনে বা এক মাসে সব পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে এ উদ্যোগ থেকে সরে আসবে না সরকার। মালিকদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে, কিন্তু অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা মেনে নেওয়া হবে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহাদী আমিন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা জানেন যে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নিউইয়র্কে পৌঁছান।" এ সময় তিনি জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে তিনি গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশে ফিরে আসেন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে দেশে পৌঁছান।
মাহাদী আমিন আরও বলেন, এবারের অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। নতুন সরকারের জন্য এটি ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথম অংশগ্রহণ। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রথমবার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এর মাধ্যমে একই পরিবারের দুই প্রজন্মের তিনজন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্বের অনন্য ইতিহাস রচিত হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় বাংলাদেশের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।
তিনি জানান, চারদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন, ৭টি উচ্চ-পর্যায়ের সভায় বক্তব্য রেখেছেন, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
মাহাদী আমিন বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী দিনব্যাপী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চ-পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বৈঠকে যোগ দেন। সকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব কর্তৃক আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে ব্রেকফাস্টে অংশ নেন। পরে তিনি অন্যান্য বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। দিনের কর্মসূচির শেষে প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
তিনি আরও জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী সাধারণ বিতর্ক পর্বে অংশ নিয়ে বাংলায় বক্তব্য দেন। এসময় তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, দেশ পুনর্গঠনে সরকারের Recovery, Restoration and reconstruction কৌশল (Three-R), নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন এবং এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, সংঘাত ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় সংলাপ ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শান্তি ও নিরাপত্তা, ফিলিস্তিন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, উন্নয়ন অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্ব সম্প্রদায় কর্তৃক প্রশংসিত ও অভিনন্দিত হয়।
তিনি বলেন, এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘Climate Action and the Just Transition’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। একই দিনে তিনি বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘The Rohingya Crisis: A Renewed Call for a Durable Solution from Protracted Displacement, with Justice and Accountability’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় যোগ দেন। এসময় তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, মিয়ানমারে সহিংসতার অবসান, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধসমূহের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, তাছাড়া, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির উদ্যোগে আয়োজিত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি সম্পর্কিত একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। একই দিন তিনি বাংলাদেশ ও সুইডেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘From Commitment to Action: Integrating Midwifery into Primary Heath Care to end Preventable Maternal and Newbord Deaths’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফদের অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর পাশাপাশি তিনি এ বিষয়ে সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
মাহাদী আমিন বলেন, অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি, ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রী এবং কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এছাড়াও, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এর পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মহাসচিব, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার, মিয়ানমার সংক্রান্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা, গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী, বোয়িং গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসব দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ও সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পাশাপাশি আমি নিজেও ব্রাজিল এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে বৈঠক করি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২, পররাষ্ট্র সচিব এবং সচিব (পূর্ব-পশ্চিম) বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের সভায় অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়াও প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ বিভিন্ন পর্যায়ের সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সার্বিক বিবেচনায়, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে। এই সফর নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সভায় ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সব অতিথিই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশের নতুন এই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। দীর্ঘদিন পর জনগণের নিরঙ্কুশ ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের আত্ম বিশ্বাস, সম্মান এবং আত্মমর্যাদা নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছেন এই সফরে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জার্মানিতে, যা ইউরোপের একটি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ, বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য প্রায় সাড়ে ছয় লাখ পদ শূন্য রয়েছে।
যারা বিদেশে ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা করছেন এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের ইচ্ছা পোষণ করছেন, তাদের জন্য জার্মানি একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হতে পারে। এই তথ্যটি জানিয়েছেন বিশ্বখ্যাত অভিবাসন ও শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ওয়াই-অ্যাক্সিসের পরিচালক ক্লিন্ট খান।
দুবাইয়ের দুসিত থানি হোটেলে আয়োজিত ‘গালফ নিউজ লেভেলআপ’ সম্মেলনের একটি ফায়ারসাইড চ্যাটে অংশ নিয়ে ক্লিন্ট খান বলেন, বর্তমানে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) প্রায় ৩০ লাখ দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ বা সাড়ে ছয় লাখ পদ জার্মানিতে খালি রয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে দেশটিতে আন্তর্জাতিক দক্ষ কর্মীদের চাহিদা কতটা ব্যাপক।
জার্মানিতে চাকরির সন্ধানে যাওয়ার একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ‘অপরচুনিটি কার্ড’ বা ‘চান্সেনকার্টে’। এটি মূলত চাকরি খোঁজার জন্য একটি বিশেষ আবাসিক অনুমতিপত্র। ইইউ-বহির্ভূত দেশের নাগরিকেরা নিজ দেশ থেকে চাকরির কোনো আগাম চুক্তি বা অফার লেটার ছাড়াই এই কার্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য জার্মানিতে থাকার সুযোগ পান।
ক্লিন্ট খান জানান, ‘অপরচুনিটি কার্ড নিয়ে জার্মানিতে গিয়ে প্রথম দিকে খণ্ডকালীন কাজ করার সুযোগ থাকে। পরবর্তীতে পূর্ণকালীন চাকরি নিশ্চিত হলে এবং নিয়োগকর্তা স্পনসর করতে রাজি থাকলে স্থায়ী ওয়ার্ক পারমিটে আবেদন করা যায়।’ এই কার্ডটি পয়েন্টভিত্তিক পদ্ধতিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, বয়স এবং ভাষাগত দক্ষতার মূল্যায়ন করে প্রদান করা হয়।
আবেদন করতে পারবেন যারা
উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের জন্য জার্মানিতে ‘ইইউ ব্লু কার্ড’ রয়েছে। যোগ্যতার স্বীকৃতি ও নির্দিষ্ট বেতনের চাকরির প্রস্তাব থাকলে এই কার্ড পাওয়া যায়। ব্লু কার্ডধারীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ২৭ মাসের মধ্যেই স্থায়ীভাবে বসবাসের (পিআর) সুযোগ পান। তবে আবেদনকারীর জার্মানি ভাষায় বি১ স্তরের দক্ষতা থাকলে এই সময় কমে মাত্র ২১ মাসে নেমে আসে।
অনেক সময় শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যত পরিকল্পনা ছাড়া কেবল বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে পড়াশোনাকে বেছে নেন। এ প্রসঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে ক্লিন্ট খান বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে লক্ষ্য ঠিক করা জরুরি। অর্থাৎ উদ্দেশ্য কি শুধুই পড়াশোনা করা, নাকি সেখানে স্থায়ী হওয়া? যদি মূল লক্ষ্য স্থায়ী বসবাস হয়, তবে কোর্স শেষ করার পর স্থায়ী হওয়ার পথ খোলা আছে কি না, তা শুরুতেই যাচাই করা উচিত।
তিনি আরও জানান, কেবল জার্মানি নয়; যারা পড়াশোনার বাইরে দক্ষ অভিবাসন বা স্কিলড মাইগ্রেশনের পথ খুঁজছেন, তাদের জন্য অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাতেও চমৎকার সুযোগ রয়েছে। তবে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেদের বাজেট, যোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করতে কেক কাটার সময় পুলিশ তিন নারীসহ সাতজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন আবাসিক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ারউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃতদের মধ্যে আসিফ মাহমুদ (১৬), সুফিয়া বেগম (৫০), শারমিন আক্তার (৩০), স্বামী ফয়সাল; শারমিন বেগম (২৭), মোহাম্মদ সানি (১৭), হাবিবুর রহমান (১৯), ও নুরুল হাকিম রাব্বি (২৫) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্কে সমাবেশের অনুমতি না মেলায় নতুন এক আন্দোলনের সূচনা করেছে ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)।
দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আন্দোলনের পরিকল্পনার কথা জানান। ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২ অক্টোবর ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে ‘জেল ভরো আন্দোলন’ করবে তরুণদের এই প্লাটফর্মটি। খবরটি প্রকাশ করেছে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে ২ অক্টোবর শিবাজী পার্কে বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিল সিজেপি। তবে, মুম্বাই হাইকোর্টের ২০১৩ সালের এক আদেশের উল্লেখ করে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মুম্বাই পুলিশ জানায়, শিবাজী পার্ক শুধুমাত্র ক্রীড়া সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত।
পুলিশের বক্তব্যে আরও বলা হয়, এই কর্মসূচির কারণে আবাসিক এলাকায় ‘শব্দদূষণ’ সৃষ্টি হতে পারে। তাছাড়া, আশেপাশের বড় হাসপাতালগুলোর কারণে প্রতিবাদ থেকে সৃষ্ট যানজট রোগী পরিবহনে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
মুম্বাই পুলিশের এমন অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায়, মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের গত জানুয়ারিতে একই স্থানে একটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার ভিডিও শেয়ার করে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ প্রশ্ন তোলেন, শিন্দে কীভাবে এই জায়গায় অনুষ্ঠানের অনুমতি পেয়েছিলেন?
এদিকে, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়, ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন (এসআইআর) সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্তে ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার। এই প্রতিবেদনের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধিতে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানায় ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টি।
সংবাদপত্রটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী এসআইআর সম্পর্কিত কিছু সিদ্ধান্ত তাদের না জানিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানান।
গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সিজেপি হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু হবে। দীপ তখন বলেন, ‘চলুন, এই গান্ধী জয়ন্তীতে আমরা গণতন্ত্র রক্ষার অঙ্গীকার করি।’
তিনি আরও জানান, আন্দোলনটি মুম্বাই থেকে শুরু হয়ে পরবর্তীতে ভারতের অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ