প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জার্মানিতে, যা ইউরোপের একটি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ, বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য প্রায় সাড়ে ছয় লাখ পদ শূন্য রয়েছে।
যারা বিদেশে ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা করছেন এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের ইচ্ছা পোষণ করছেন, তাদের জন্য জার্মানি একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হতে পারে। এই তথ্যটি জানিয়েছেন বিশ্বখ্যাত অভিবাসন ও শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ওয়াই-অ্যাক্সিসের পরিচালক ক্লিন্ট খান।
দুবাইয়ের দুসিত থানি হোটেলে আয়োজিত ‘গালফ নিউজ লেভেলআপ’ সম্মেলনের একটি ফায়ারসাইড চ্যাটে অংশ নিয়ে ক্লিন্ট খান বলেন, বর্তমানে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) প্রায় ৩০ লাখ দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ বা সাড়ে ছয় লাখ পদ জার্মানিতে খালি রয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে দেশটিতে আন্তর্জাতিক দক্ষ কর্মীদের চাহিদা কতটা ব্যাপক।
জার্মানিতে চাকরির সন্ধানে যাওয়ার একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ‘অপরচুনিটি কার্ড’ বা ‘চান্সেনকার্টে’। এটি মূলত চাকরি খোঁজার জন্য একটি বিশেষ আবাসিক অনুমতিপত্র। ইইউ-বহির্ভূত দেশের নাগরিকেরা নিজ দেশ থেকে চাকরির কোনো আগাম চুক্তি বা অফার লেটার ছাড়াই এই কার্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য জার্মানিতে থাকার সুযোগ পান।
ক্লিন্ট খান জানান, ‘অপরচুনিটি কার্ড নিয়ে জার্মানিতে গিয়ে প্রথম দিকে খণ্ডকালীন কাজ করার সুযোগ থাকে। পরবর্তীতে পূর্ণকালীন চাকরি নিশ্চিত হলে এবং নিয়োগকর্তা স্পনসর করতে রাজি থাকলে স্থায়ী ওয়ার্ক পারমিটে আবেদন করা যায়।’ এই কার্ডটি পয়েন্টভিত্তিক পদ্ধতিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, বয়স এবং ভাষাগত দক্ষতার মূল্যায়ন করে প্রদান করা হয়।
আবেদন করতে পারবেন যারা
উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের জন্য জার্মানিতে ‘ইইউ ব্লু কার্ড’ রয়েছে। যোগ্যতার স্বীকৃতি ও নির্দিষ্ট বেতনের চাকরির প্রস্তাব থাকলে এই কার্ড পাওয়া যায়। ব্লু কার্ডধারীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ২৭ মাসের মধ্যেই স্থায়ীভাবে বসবাসের (পিআর) সুযোগ পান। তবে আবেদনকারীর জার্মানি ভাষায় বি১ স্তরের দক্ষতা থাকলে এই সময় কমে মাত্র ২১ মাসে নেমে আসে।
অনেক সময় শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যত পরিকল্পনা ছাড়া কেবল বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে পড়াশোনাকে বেছে নেন। এ প্রসঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে ক্লিন্ট খান বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে লক্ষ্য ঠিক করা জরুরি। অর্থাৎ উদ্দেশ্য কি শুধুই পড়াশোনা করা, নাকি সেখানে স্থায়ী হওয়া? যদি মূল লক্ষ্য স্থায়ী বসবাস হয়, তবে কোর্স শেষ করার পর স্থায়ী হওয়ার পথ খোলা আছে কি না, তা শুরুতেই যাচাই করা উচিত।
তিনি আরও জানান, কেবল জার্মানি নয়; যারা পড়াশোনার বাইরে দক্ষ অভিবাসন বা স্কিলড মাইগ্রেশনের পথ খুঁজছেন, তাদের জন্য অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাতেও চমৎকার সুযোগ রয়েছে। তবে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেদের বাজেট, যোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন