ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল থেকে ফ্লাইট শুরু


কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল থেকে ফ্লাইট শুরু

কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত আন্তর্জাতিক টার্মিনাল থেকে আজ ফ্লাইট পরিচালনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রায় ১৮ হাজার বর্গমিটারের আধুনিক এই টার্মিনাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়।

কক্সবাজারে ভ্রমণরত পর্যটকদের মাঝে বিমানবন্দরটির আধুনিকায়নে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।

যাত্রীরা তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, "নতুন হিসেবে এটি খারাপ নয়, বরং বেশ ভালো লাগছে। আগের তুলনায় এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অনেক বেশি। আমাদের হয়রানিও কম হয়েছে। খুব সহজেই লাগেজগুলো পেয়ে গেছি। কক্সবাজারের মতো একটি জায়গায় আসলে আমাদের এমন একটি পরিবেশেরই প্রয়োজন ছিল। যখন ফ্রেশ রুমে যাচ্ছিলাম কিংবা বসছিলাম, তখন সত্যিই দারুণ লাগছিল। এটি নিঃসন্দেহে একটি দারুণ আয়োজন।"

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর মতে, দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ এই টার্মিনালে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

নবনির্মিত টার্মিনাল ভবন সম্পর্কে ইউএস-বাংলার স্টেশন ম্যানেজার মোসা আহমেদ মন্তব্য করেন, "আমাদের প্রস্থান হলটি বেশ প্রশস্ত, আগমন হলটিও প্রশস্ত। পাশাপাশি, বোর্ডিং লাউঞ্জটিও অনেক বড় ও সুন্দর। সব মিলিয়ে এখানে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। যাত্রীদের জন্য প্রায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাই এখানে রাখা হয়েছে।"

নভোএয়ারের স্টেশন ম্যানেজার সারওয়ার উল কাদের জানান, "এখানে ব্যাগেজ বেল্টের সুবিধা রয়েছে। পুরো এলাকাটিও অনেক বড় ও প্রশস্ত। আগে যেভাবে যাত্রীদের গাদাগাদি করে থাকতে হতো, সেই পরিস্থিতি থেকে আমরা এখন পরিত্রাণ পেয়েছি।"

বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচক জানিয়েছে, যাত্রী হয়রানি রোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে দেশের চতুর্থ এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

নিরাপত্তার বিষয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সুপারভাইজার মো. সাইফুল্লাহ বলেন, "এখানে আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা বিভাগে বিমানবাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছেন। এ ছাড়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বিভাগও শক্তিশালীভাবে দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশের এপিবিএন সদস্যরাও এখানে রয়েছেন। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১৬টি বিভাগ বা সংস্থা এখানে একযোগে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে।"

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী অক্টোবরে এই টার্মিনাল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার পরিকল্পনা থাকলেও আজ থেকেই এখান থেকে সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হবে। তবে অক্টোবর মাস থেকে পর্যটন নগরীর এই রানওয়েতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ওঠানামা করার কথা রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পোস্ট অফিসে গরু রেখে ভাড়া বাসায় কার্যক্রম, সাংবাদিককে ‘চায়ের দাওয়াত’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৬ পি.এম


পোস্ট অফিসে গরু রেখে ভাড়া বাসায় কার্যক্রম, সাংবাদিককে ‘চায়ের দাওয়াত’

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পোস্ট অফিসের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকায় ভবনটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। গত ৪ বছর ধরে ভাড়া করা ভবনের ছোট দুটি কক্ষে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে কবে নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ হবে। এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এবং ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনটির একাংশে গরু পালন করা হচ্ছে। নিচতলার একটি কক্ষে চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন সামগ্রী রাখা হয়েছে। সেখানে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামও পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ভবনের ভেতরে ও আশপাশে মানুষের মলমূত্র পড়ে থাকার চিত্রও দেখা গেছে। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না করার কারণে স্থাপনাটি নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে।

মঠবাড়িয়া পোস্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, মডেল মসজিদ রোডে উপজেলা পোস্ট অফিসের পুরাতন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর ২০২২ সাল থেকে সরকারি হাতেম আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে গোয়ালি পাড়া রোডে ভাড়া নেওয়া ছোট দুটি কক্ষে কোনোমতে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাদের ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৮ জন কর্মী রয়েছে। এ অবস্থায় দীর্ঘ ৪ বছর ধরে অফিস পরিচালনা করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের।

এ বিষয়ে ডাক অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক শামীম আল রাজীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও প্রকল্পটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত ২০ সেপ্টেম্বর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘ব্যস্ততা’ আছে জানিয়ে কথা বলেননি। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য জানতে খুদেবার্তা পাঠানো হয়। সেখানে প্রকল্পের কাজ শুরুর সময়, নির্ধারিত মেয়াদ, মোট ব্যয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কাজ বন্ধ থাকার কারণ এবং পুনরায় কাজ শুরু ও শেষ করার বিষয়ে নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে কি না—এমন ছয়টি প্রশ্ন করা হয়। তবে ওই বার্তারও কোনো জবাব মেলেনি।

পরদিন (২১ সেপ্টেম্বর) ডাক অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ তৈয়ব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তথ্য দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন এবং প্রকল্প পরিচালক শামীম আল রাজীকে বিষয়টি জানানোর কথা বলেন। এর কিছুক্ষণ পর প্রকল্প পরিচালক নিজেই ফোন করে তথ্য দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তথ্য দেওয়ার কথা জানান। পাশাপাশি ঢাকায় চা খাওয়ার আমন্ত্রণও জানান।

তবে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে প্রকল্পটির কাজের অগ্রগতি, ব্যয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কাজ বন্ধ থাকার কারণ এবং পুনরায় কাজ শুরুর সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে ডাক অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. জালাল হোসেন বলেন, ভবনের গ্রেড বিম ও কলামের ঢালাই, ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করার পর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

কী কারণে বন্ধ রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডিপার্টমেন্টের কিছু জটিলতার কারণে আপাতত কাজ বন্ধ রয়েছে। সমস্যার সমাধান হলে দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হবে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা পোস্টমাস্টার উত্তম কুমার রায় (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া করা ছোট দুটি কক্ষে অফিস পরিচালনা করতে গিয়ে আমরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। প্রয়োজনীয় জায়গার অভাবে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও অফিস সরঞ্জাম সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। নতুন ভবনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে সেবার মান আরও উন্নত ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের পরিবেশও ভালো হবে।

তিনি আরও বলেন, ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে নতুন ভবন না থাকায় স্পিড পোস্টের মালামাল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতাউর রাব্বি বলেন, পোস্ট অফিস একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে ভবনটি সম্পন্ন করবে বলে আশা করছি।

এ বিষয়ে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ বলেন, উপজেলা প্রশাসন কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি লিখিতভাবে জানালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪৬ লাখ মামলা বিচারাধীন, ন্যায়বিচারের অপেক্ষা বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


৪৬ লাখ মামলা বিচারাধীন, ন্যায়বিচারের অপেক্ষা বাড়ছে

আদালতের একটি তারিখ মানে অনেকের জীবনে আরেকটি অপেক্ষা। সেই অপেক্ষা কখনো জমির মালিকানা ফিরে পাওয়ার, কখনো পাওনা টাকা আদায়ের, কখনো অপরাধের বিচার পাওয়ার, আবার কখনো নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার। আদালতের নথিতে এসব কেবল মামলা নম্বর ও পক্ষের নাম কিন্তু প্রতিটি মামলার পেছনে থাকে মানুষের জীবনের একটি করে গল্প।

বাংলাদেশের আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা যখন ৪৬ লাখ ছাড়িয়ে যায়, তখন এটিকে শুধু বিচার বিভাগের ওপর জমে থাকা কাজের হিসাব হিসেবে দেখার সুযোগ থাকে না। ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশের সব স্তরের আদালতে ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭৬টি মামলা বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি মামলা অধস্তন আদালতেই।

এত বিপুলসংখ্যক মামলা বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তোলে। তবে মামলার সংখ্যা দিয়েই পুরো বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা মাপা যায় না। মামলা বাড়ার পেছনে যেমন নতুন বিরোধের সৃষ্টি আছে, তেমনি আছে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, জনবল ও অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, সাক্ষ্য ও নথি ব্যবস্থাপনার সমস্যা, মুলতবি এবং আপিলের মতো স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া। ফলে প্রশ্নটি শুধু ‘মামলা এত বেশি কেন’ নয়। বরং আরও জরুরি প্রশ্ন হলো, একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে এত সময় লাগে কেন এবং সেই অপেক্ষার মূল্য শেষ পর্যন্ত কে দেন?

৩১ মার্চ ২০২৬-এর হিসাবটি দেখলে সমস্যার ব্যাপ্তিও স্পষ্ট হয়। আপিল বিভাগে ৩৮ হাজার ৭১৩টি, হাইকোর্ট বিভাগে ৫ লাখ ২২ হাজার ৩৩১টি এবং অধস্তন আদালতে ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি মামলা বিচারাধীন। অর্থাৎ মোট বিচারাধীন মামলার প্রায় ৮৮ শতাংশই অধস্তন আদালতে। অধস্তন আদালতের এই চাপের মধ্যে দেওয়ানি মামলা ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩টি এবং ফৌজদারি মামলা ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৯টি।

এখানে বিচারকের সংখ্যা ও আদালতের সক্ষমতার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। সংসদে দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্যে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে ৫৩৬টি বিচারকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫০ জন নতুন সিভিল জজ নিয়োগসহ আদালতের সহায়ক জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে। নতুন আদালত ও বিচারকের পদ সৃষ্টির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু বিচারকের সংখ্যা বাড়ালেই মামলার জট কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। একটি মামলার নিষ্পত্তির সঙ্গে বিচারকের পাশাপাশি যুক্ত থাকে আদালতের প্রশাসন, সমন জারি, সাক্ষীর উপস্থিতি, তদন্ত, নথি প্রস্তুত, আইনজীবী ও পক্ষগুলোর প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন ধরনের আনুষ্ঠানিকতা। এসব জায়গার কোনো একটিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে পুরো মামলার ওপর। তাই মামলার জটকে শুধু বিচারকের স্বল্পতার সমস্যা হিসেবে দেখলে সমস্যাটির একটি অংশই দেখা হবে।

বিচারের ক্ষেত্রে সময়ের গুরুত্ব সংবিধানও স্বীকার করেছে। সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ৩১ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইন অনুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। ফলে বিচারপ্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক বিলম্বকে শুধু প্রশাসনিক অদক্ষতার বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, এটি ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত।

ফৌজদারি কার্যবিধিতেও নির্দিষ্ট মামলার বিচার শেষ করার সময়সীমা রয়েছে। ৩৩৯সি ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার গ্রহণের পর ১৮০ দিনের মধ্যে এবং সেশনস জজ, অতিরিক্ত সেশনস জজ বা সহকারী সেশনস জজের আদালতে ৩৬০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার বিধান রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে বিচার শেষ না হলে, নির্দিষ্ট শর্তে জামিনের সুযোগের কথাও একই ধারায় বলা হয়েছে। তবে আইনে সময়সীমা নির্ধারিত থাকা আর বাস্তবে প্রতিটি মামলা সেই সময়ের মধ্যে শেষ হওয়া এক বিষয় নয়। মামলার প্রকৃতি, সাক্ষী, আসামির অনুপস্থিতি এবং অন্যান্য বাস্তব পরিস্থিতি বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

মামলার জট কমানোর ক্ষেত্রে তাই আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থার গুরুত্বও বাড়ছে। দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯এ ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, উপযুক্ত বিরোধ যেন সব ক্ষেত্রে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি করতে না হয়।

এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন এসেছে আইনগত সহায়তা ব্যবস্থায়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০২৫ সনের ৩৫ নং অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এ ২১খ, ২১গ, ২১ঘ ও ২১ঙ ধারা সংযোজন করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬ হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে। নির্দিষ্ট ধরনের বিরোধে আদালতে মামলা করার আগে মামলাপূর্ব মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়ার বিধান করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা ধাপে ধাপে কার্যকর হচ্ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম দফায় ১২টি জেলায় চালুর পর ২০২৬ সালের জুলাই নাগাদ তা আরও জেলায় সম্প্রসারিত হয়। সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়েছে।

মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যকর হলে কিছু বিরোধ আদালতে যাওয়ার আগেই নিষ্পত্তির সুযোগ পাবে। এতে আদালতের ওপর চাপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া কতটা নিরপেক্ষ, সহজলভ্য ও কার্যকর হয় তার ওপর। বিশেষ করে আর্থিক বা সামাজিকভাবে দুর্বল কোনো পক্ষ যেন মধ্যস্থতার নামে আপস করতে বাধ্য না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্য বিচারপ্রাপ্তির পথ সংকুচিত করা নয়; বরং উপযুক্ত ক্ষেত্রে দ্রুত ও কম খরচে বিরোধের সমাধানের সুযোগ তৈরি করা।

প্রযুক্তিও এই জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমন জারি, মামলার নথি ব্যবস্থাপনা, মামলার তারিখ ও কার্যক্রম সম্পর্কে পক্ষগুলোকে দ্রুত জানানো এবং আদালতের প্রশাসনিক কাজ ডিজিটাল করা গেলে সময় ও ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। তবে প্রযুক্তি কোনো জাদুকাঠি নয়। ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করলেই মামলার জট কমে যাবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট মামলা ব্যবস্থাপনা।

কোন মামলা কত পুরোনো, কোন মামলায় কতবার সময় নেওয়া হয়েছে, কোন মামলায় সাক্ষ্য শেষ হয়েছে, কোন মামলায় রায় অপেক্ষমাণ, এসব তথ্য নিয়মিত বিশ্লেষণ করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা যেতে পারে। পুরোনো মামলাগুলোর জন্য আলাদা নজরদারি এবং নিয়মিত পর্যালোচনাও প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগের একটি উদাহরণ দেখা গেছে হাইকোর্ট বিভাগে। ১০ জুলাই ২০২৫ প্রধান বিচারপতি ২০০০ সালের আগে দায়ের করা ১০ হাজার ৩৮৫টি পুরোনো মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বেঞ্চগুলোতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তবে মামলার জট কমানোর আলোচনা করতে গিয়ে একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না। দ্রুত বিচার মানে তাড়াহুড়ো করে বিচার নয়। একজন আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই, ন্যায্য শুনানি এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা অক্ষুণ্ন রেখেই বিচারকে সময়োপযোগী করতে হবে। অন্যদিকে বছরের পর বছর একটি মামলাকে ঝুলিয়ে রাখাও ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিচারব্যবস্থার জন্য আসল চ্যালেঞ্জ তাই দ্রুততা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য তৈরি করা।

মামলা কমানোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। মামলার সংখ্যা কমানো নিজে কোনো চূড়ান্ত সাফল্য নয়। কোনো নাগরিকের বৈধ অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালতে যাওয়ার সুযোগ অবশ্যই থাকতে হবে। লক্ষ্য হওয়া উচিত অপ্রয়োজনীয় মামলা, অযথা দীর্ঘসূত্রতা ও প্রক্রিয়াগত বিলম্ব কমানো; আদালতে যাওয়ার অধিকার সীমিত করা নয়। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য কার্যকর আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করা বিচারপ্রাপ্তির সমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৪৬ লাখের বেশি বিচারাধীন মামলা তাই শুধু আদালতের ভেতরের একটি সংকট নয়। এটি রাষ্ট্রের বিচারপ্রাপ্তির সক্ষমতারও একটি বড় পরীক্ষা। নতুন বিচারক ও আদালত যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন দক্ষ আদালত প্রশাসন, কার্যকর মামলা ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে মধ্যস্থতার প্রসার। একই সঙ্গে প্রতিটি সংস্কারের ফলও পরিমাপ করতে হবে। কত মামলা কমল, কত সময় সাশ্রয় হলো, বিচারপ্রার্থীর খরচ কতটা কমল এবং কত দ্রুত কার্যকর প্রতিকার পাওয়া গেল, এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া কোনো সংস্কারের সাফল্য পুরোপুরি বোঝা যাবে না।

শেষ পর্যন্ত আদালতের নথিতে একটি মামলা একটি সংখ্যা হতে পারে, কিন্তু বিচারপ্রার্থীর কাছে সেটি তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই অধ্যায়ের শেষ কখন হবে, তা অনিশ্চিত হয়ে গেলে বিচার পাওয়ার অধিকার কাগজে থাকলেও তার বাস্তব মূল্য কমে যায়। তাই বিচারব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু মামলার সংখ্যা কমানো হওয়া উচিত নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালতে যেতে পারবেন এবং অযথা দীর্ঘ অপেক্ষা ছাড়াই আইনসম্মত ও কার্যকর প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ পাবেন। ৪৬ লাখ মামলার পরিসংখ্যান আমাদের সেই প্রশ্নটিই সামনে এনে দেয়, আদালতের দরজা খোলা আছে, কিন্তু সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করা একজন মানুষ ন্যায়বিচারের কাছে পৌঁছাতে আর কতটা পথ পাড়ি দেবেন?

লেখা: সাবেক সভাপতি, গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি

শিক্ষানবিশ আইনজীবী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাইবান্ধায় ককটেল বিস্ফোরণ: ওসি-এসআইকে হঠাৎ আদালতে তলব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


গাইবান্ধায় ককটেল বিস্ফোরণ: ওসি-এসআইকে হঠাৎ আদালতে তলব

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় পুলিশ আওয়ামী লীগ নেতা আনিছুর রহমান (৫২), সুলতান আহম্মেদ (৬৫) ও লিটন মণ্ডলকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে। তবে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করার সময় বয়স, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র, গ্রেপ্তারের কারণ ও সময়ের ব্যাপারে অসঙ্গতি এবং পুলিশের নথিতে ত্রুটি পাওয়ায় আদালত সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমানকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত (সুন্দরগঞ্জ)-এর বিচারক পাঁপড়ি বড়ুয়া এ আদেশ জারি করেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা আদালতের আদেশের বিষয়টি রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে জানতে পারেন।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরক মামলায় তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার পর তাদের বয়স, শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং গ্রেপ্তারের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আসামি সুলতান আহম্মেদ আদালতে দাবি করেন, তার বয়স ৭২ বছরের বেশি। তিনি লিভার ও ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত বলেও জানান।

অন্যদিকে, আসামি লিটন মণ্ডল জানান, তাকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গ্রেপ্তার করা হলেও পুলিশের ফরওয়ার্ডিংয়ে গ্রেপ্তারের সময় বিকেল সাড়ে ৩টা উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে আনিছুর রহমানকে আদালতে হাজির করার পর চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র দাখিলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, আসামিদের বয়স, গ্রেপ্তারের কারণ ও সময় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। একইসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তার নাম, পদবি, সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ত্রুটি রয়েছে। এসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই না করে কেন আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা জানতে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসিকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করেছেন কি না, তা জানতে তাকেও আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দুই কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুই কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিয়েছেন।

ওসি আরও জানান, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক মামলা কিংবা অন্য কোনো অপরাধের মামলায় প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নজির রয়েছে। এ মামলায়ও তদন্তের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে আসামিদের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে আদালত ব্যাখ্যা চেয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করবেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পুলিশ, মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ও দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচরণ এলাকায় পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজা’র বাড়ির সামনে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। দুই মিনিট পর ৪টা ২৮ মিনিটে গোপালচরণ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এবং ৪টা ৩০ মিনিটে বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের সড়কে তৃতীয় বিস্ফোরণ ঘটে।

পরপর বিস্ফোরণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি। স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শোনা যায়।

এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানার এসআই মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিভিন্ন ধারা যুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

মামলার তদন্তে পুলিশ প্রথমে আওয়ামী লীগের শান্তিরাম ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানকে (৫২) গ্রেপ্তার করে। পরে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আনছার আলীর ছেলে সুলতান আহম্মেদ (৬৫) এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড থানাপাড়ার কুদ্দুস মণ্ডলের ছেলে লিটন মণ্ডলকে (৩৯) গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন তাদের বিস্ফোরক মামলার আসামি হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা হলে বয়স, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং গ্রেপ্তারের সময় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেট্রো: বাংলাদেশ আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৮ পি.এম


জেট্রো: বাংলাদেশ আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে

বাংলাদেশের আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের কেন্দ্রে (হাব) পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। ভৌগোলিক অবস্থান ও বিশাল জনসংখ্যার কারণে এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) বাংলাদেশ প্রতিনিধি কাজুয়িকি কাতাওকা সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের সঙ্গে আলাপচারিতায় এই বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, জাপান বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশে অবকাঠামো ও শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে জাপান।

কাতাওকা আরও বলেন, বাংলাদেশ ও জাপান ইতোমধ্যেই ঢাকা-চট্টগ্রাম-মাতারবাড়ী করিডরকে কেন্দ্র করে ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ (বিগ-বি) গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছে। আঞ্চলিক শিল্প ও লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি জানান, মাতারবাড়ী উন্নয়ন প্রকল্প ও যমুনা রেলসেতুসহ অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

তবে, জেট্রোর এই প্রতিনিধি মনে করেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়।

কাতাওকা বলেন, সড়ক, রেলপথ ও সমুদ্রবন্দরের মতো অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পণ্য ও মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, পরিবহন নেটওয়ার্কের মধ্যে সমন্বয়, দক্ষ লজিস্টিকস ব্যবস্থা এবং সীমান্তপারের চলাচল সহজ করা গেলে আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ আরও নিবিড় হবে।

বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করার তাগিদ

জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসাবান্ধব, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন কাতাওকা। তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে একটি সমস্যা সমাধানে একাধিক সংস্থার দ্বারস্থ হতে হলে বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি বাড়ে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি একটি একক যোগাযোগকেন্দ্র গড়ে তোলার পরামর্শ দেন, যা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিনিয়োগকারীদের সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করবে।

কাতাওকা বলেন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসকে শুধু আবেদন গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর আওতায় ‘কেস ম্যানেজমেন্ট’ ব্যবস্থা জোরদার করা যেতে পারে। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা দপ্তর একটি প্রতিষ্ঠানের আবেদন বা সমস্যা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার দায়িত্ব পালন করবে।

সরকারি সেবা আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের ডিজিটালাইজেশনের ওপরও জোর দেন তিনি। তার মতে, যতটা সম্ভব পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করা গেলে স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়বে এবং ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের সুযোগ কমবে।

তিনি বলেন, দক্ষ অবকাঠামো, পূর্বানুমানযোগ্য নীতিমালা এবং সমন্বিত সরকারি সেবার সমন্বয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠলে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও সরবরাহব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা সহজ হবে।

কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যে নতুন সুযোগ

কাতাওকা বলেন, এসব উদ্যোগের অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে ব্যাপক অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যাবে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে জাপান অবকাঠামো ও শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

কাতাওকার মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম-মাতারবাড়ী করিডরের সফল উন্নয়ন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি বাংলাদেশের আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্প নেটওয়ার্কে অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পারে। এর ফলে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%