সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৮ পি.এম
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়া আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বাধীন নরওয়েকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছে পর্তুগাল। অসলোতে অনুষ্ঠিত নেশনস লিগের ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে ছিলেন পর্তুগিজ তারকা। তার পরিবর্তে শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া গনসালো রামোস গোল করে দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে খেলতে শুরু করে পর্তুগাল। ১৭তম মিনিটে পেদ্রো নেতোর ক্রস থেকে নিচু কোনাকুনি শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জোয়াও ফেলিক্স। আগের ম্যাচে ওয়েলসের বিপক্ষে গোল করে জয় নিশ্চিত করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড।
তবে পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুতই ম্যাচে ফেরে নরওয়ে। ৫১তম মিনিটে গোল করে ব্যবধান সমতায় ফেরান আর্লিং হালান্ড। এটি ছিল নেশনস লিগে তার ২২তম গোল। এই গোলের মাধ্যমে প্রতিযোগিতাটির সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় রোনালদো ও সার্বিয়ার আলেক্সান্দার মিত্রোভিচের চেয়ে সাত গোল এগিয়ে গেলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার।
হালান্ডের গোলের মাত্র তিন মিনিট পর পর্তুগাল আবারও এগিয়ে যায়। নরওয়ের গোলরক্ষক ওরজান নিল্যান্ডের ভুল পাস কেড়ে নিয়ে গোল করেন গনসালো রামোস। শেষ পর্যন্ত তার সেই গোলই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে।
দ্বিতীয়ার্ধে রামোস আরও একটি গোল করেন। নিল্যান্ডের আরেকটি ভুলের সুযোগ নিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে রামোস মন্তব্য করেন, "প্রত্যেক মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমি ডাক পেলে কী করতে পারি এবং দলে কী অবদান রাখতে পারি, সেটা দেখানো। এটা ছিল দলের জন্য আমার নিদর্শন, শুধু গোল নয়, মাঠে আমি যা করি সবকিছুই।"
এদিকে, পর্তুগালের হয়ে ওয়েলসের বিপক্ষে শুরুর একাদশে থাকা রোনালদো এবার পুরো ম্যাচই কাটিয়েছেন বেঞ্চে। আগের ম্যাচে তাকে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল।
এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে পর্তুগাল। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নরওয়ে। একই পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডেনমার্ক, যারা ২-০ গোলে ওয়েলসকে পরাজিত করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিয়ে মানুষের জীবনে কেবল একজন জীবনসঙ্গী পাওয়ার উপায় নয়। বরং এর মাধ্যমে গড়ে ওঠে পরিবার, দাম্পত্য সম্পর্ক ও সামাজিক বন্ধন। ইসলামে বিয়েকে বৈধ জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। কোরআন ও হাদিসে দাম্পত্য জীবনের মাধ্যমে শান্তি, ভালোবাসা, পবিত্রতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নেক সন্তান লাভের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বিয়ের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপকারিতা হলো-
১. দ্বীন ও ইমানের পূর্ণতা
রাসুলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে বলেছেন, "কোনো বান্দা যখন বিবাহ করে, তখন সে তার অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করে নেয়। এরপর অবশিষ্ট অর্ধেকের ব্যাপারে তাকে আল্লাহকে ভয় করতে হবে।" (বাইহাকি, শুআবুল ইমান, হাদিস: ৫৪৮৬)
এছাড়া, বিয়ের মাধ্যমে দৃষ্টি ও লজ্জাস্থান হেফাজত করা সহজ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যুবকদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কারণ এটি দৃষ্টি অবনত রাখতে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করতে অধিক সহায়ক।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৬৯৩)
২. নবী-রাসুলদের সুন্নত পালন
বিয়ে নবী-রাসুলদের সুন্নতগুলোর অন্যতম। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে বিবাহ করেছেন এবং সাহাবিদেরও বিয়ের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। বিশেষ করে সামর্থ্যবান যুবকদের বিয়ের নির্দেশনার মাধ্যমে তিনি এর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
অতএব, ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে কেবল সামাজিক একটি প্রথা নয়; বরং এটি সুন্নাহসম্মত জীবনব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
৩. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা
মানুষের স্বাভাবিক জৈবিক চাহিদা রয়েছে। ইসলাম এই চাহিদাকে অস্বীকার করেনি; বরং বৈধভাবে তা পূরণের ব্যবস্থা করেছে। বিয়ে মানুষকে অবৈধ সম্পর্ক ও নানা ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কারণ বিয়ে দৃষ্টি অবনত রাখতে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করতে সহায়ক।" আর যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে না, তাকে রোজা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (সহিহ বুখারি)
৪. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি
কোরআনে দাম্পত্য সম্পর্ককে আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, "তিনি মানুষের জন্য তাদের মধ্য থেকেই জীবনসঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তারা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করে। আর তিনি তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।" (সুরা আর-রুম, আয়াত: ২১)
অর্থাৎ বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা, মমতা ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
৫. আত্মিক প্রশান্তি লাভ
দাম্পত্য জীবনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পরস্পরের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করা। সুরা আর-রুমের ২১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে প্রশান্তি, ভালোবাসা ও দয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
ইসলামের দৃষ্টিতে আদর্শ দাম্পত্য জীবন কেবল একসঙ্গে বসবাসের বিষয় নয়; বরং এটি মানসিক শান্তি, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভালোবাসার সম্পর্ক।
৬. স্বামী-স্ত্রী একে অপরের ঢাল
কোরআনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বোঝাতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উপমা ব্যবহার করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, "তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।" (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৭)
পোশাক যেমন মানুষকে আচ্ছাদিত ও সুরক্ষিত রাখে, তেমনি স্বামী-স্ত্রীও একে অপরের জন্য নিরাপত্তা, সহযোগিতা ও আস্থার আশ্রয় হতে পারেন। পরস্পরের দুর্বলতা গোপন রাখা, বিপদে পাশে থাকা এবং সম্মান বজায় রাখা দাম্পত্য সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিক।
৭. রিজিকে বরকতের মাধ্যম
বিয়ে জীবনে রিজিক ও কল্যাণের মাধ্যম হতে পারে। কোরআনে অবিবাহিতদের বিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, "তারা দরিদ্র হলে তিনি নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।" (সুরা আন-নুর, আয়াত: ৩২)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, শুধু আর্থিক সংকটের আশঙ্কায় বৈধ বিয়েকে অসম্ভব মনে না করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা উচিত। তবে এর অর্থ এই নয় যে বিয়ের পর প্রত্যেকের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন একইভাবে ঘটবে; রিজিক ও কল্যাণ মূলত আল্লাহর হাতে।
৮. বৈধ সন্তান ও বংশধারা
বিয়ের মাধ্যমে বৈধ পরিবার ও সন্তান-সন্ততির ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহ বলেন, "তিনি মানুষের জন্য তাদের মধ্য থেকেই জীবনসঙ্গী সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের মাধ্যমে সন্তান ও নাতি-নাতনি দিয়েছেন।" (সুরা আন-নাহল, আয়াত: ৭২)
সন্তান কেবল বংশধারা অব্যাহত রাখে না; সঠিক ইসলামি শিক্ষা ও নৈতিকতার মাধ্যমে তারা পরিবার ও সমাজে কল্যাণের ধারাও এগিয়ে নিতে পারে।
৯. নেককার জীবনসঙ্গী আল্লাহর আনুগত্যে সহযোগী
ইসলামে নেককার জীবনসঙ্গীর গুরুত্ব অনেক বেশি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "দুনিয়ার সামগ্রীর মধ্যে নেককার স্ত্রী সর্বোত্তম সম্পদ।" (সহিহ মুসলিম)
আরেক বর্ণনায় এসেছে, "কোনো নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রমজানের রোজা রাখে, নিজের সতীত্ব রক্ষা করে এবং স্বামীর বৈধ অধিকার আদায় করে, তাকে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে বলা হবে।" (মিশকাতুল মাসাবিহ)
এ থেকে বোঝা যায়, নেককার জীবনসঙ্গী দুনিয়ার জীবনে যেমন সহযোগী হতে পারেন, তেমনি আল্লাহর আনুগত্যের পথেও সহায়ক হতে পারেন।
১০. নেককার সন্তান মৃত্যুর পরও উপকারে আসে
সন্তান নেককার ও আল্লাহভীরু হয়ে বেড়ে উঠলে তার দোয়া বাবা-মায়ের মৃত্যুর পরও উপকারের কারণ হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমলের সওয়াব অব্যাহত থাকে সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় এবং নেককার সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।" (সহিহ মুসলিম)
সুতরাং, বিয়ের মাধ্যমে শুধু একটি পরিবার গঠনই নয়, বরং নেক সন্তান প্রতিপালনের সুযোগও তৈরি হয়। সেই সন্তান পরবর্তী সময়ে বাবা-মায়ের জন্য দোয়া ও কল্যাণের কারণ হতে পারে।
ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে তাই কেবল সামাজিক বন্ধন নয়; বরং এটি পবিত্রতা রক্ষা, পারিবারিক শান্তি, পারস্পরিক সহযোগিতা, সন্তান-সন্ততির সুশিক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তিনটি দেশ সফরের প্রস্তুতি চলছে। সফরের মধ্যে রয়েছে জাপানে বিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানি, তুরস্কে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ৩১তম (কপ৩১) সম্মেলনে অংশগ্রহণ, এবং সৌদি আরবে দ্বিপক্ষীয় সফর।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের নতুন সময়সূচি নির্ধারণের জন্য দুই দেশ আলোচনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে সফরটি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
টোকিও, রিয়াদ ও আঙ্কারার কূটনৈতিক সূত্র জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর, নভেম্বরের প্রথম দিকে তুরস্ক এবং দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি আরব সফর হওয়ার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন এই তিন সফরের প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা ও টোকিওর কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর অনুষ্ঠিত হবে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে তিন থেকে চার দিনের এই সফর আয়োজনের বিষয়ে সম্প্রতি ঢাকায় দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
আঙ্কারা সূত্রে জানা গেছে, তুরস্কের আনাতোলিয়ায় আগামী ১০ থেকে ১২ নভেম্বর কপ৩১-এর শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে রিয়াদ সফরে যেতে পারেন। সফরটি আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়েছে।
জাপান সফর
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর তিন থেকে চার দিনের টোকিও সফর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে ইন্টেরিম সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস টোকিও সফর করেছিলেন। সেসময় জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। পাঁচ বছরে জাপানে এক লাখ বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন জাপান জানিয়েছিল, ‘বে অব বেঙ্গল’ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়নসহ জাপানি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সম্প্রসারণে তারা সহযোগিতা জোরদার করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ব্যবসায়ীদের সম্মেলন আয়োজন ও জনশক্তি রপ্তানির অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রাধান্য পেতে পারে।
সৌদি সফর
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ঐতিহ্যগত জনশক্তি রপ্তানির বাইরে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। গত আগস্টে সৌদির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এল-খেরেজি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
কূটনৈতিক সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পিত সৌদি সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, জ্বালানি আমদানি, বিনিয়োগ চুক্তি এবং আঞ্চলিক–আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হতে পারে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রশ্নে সৌদি আরবের সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
তুরস্ক সফর
তুরস্কের আনাতোলিয়ায় কপ৩১ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ৯ থেকে ২০ নভেম্বর। আর কপ৩১-এর শীর্ষ নেতাদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ১১ ও ১২ নভেম্বর। এই দুই দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন।
জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এই সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির এক দশকের বেশি সময় পর এখন মূল প্রশ্ন হলো, নতুন লক্ষ্য ঠিক করা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, আগে ঘোষিত লক্ষ্য কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, জলবায়ু অর্থায়নসহ ক্ষতিপূরণ তহবিল কতটা কার্যকর হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টম ব্যান্টনের অসাধারণ সেঞ্চুরি, হ্যারি ব্রুক ও জর্ডান কক্সের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের ফলে কেনিংটন ওভালে রানের বিশাল পাহাড় গড়ে তুলেছে ইংল্যান্ড। সেই পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে শ্রীলঙ্কা বড় ব্যবধানে হেরে গেছে। সফরকারীরা ৩৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ১৩২ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে ইংল্যান্ড তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে ২২৩ রানের বিশাল জয়ে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। শুরুতেই বেন ডাকেটকে হারালেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় তারা। জো রুটকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৬২ রানের জুটি গড়েন ব্যান্টন। রুট ৩৭ বলে ১৮ রান করে ফিরে গেলে তার জায়গায় ক্রিজে আসেন হ্যারি ব্রুক।
ব্যান্টন ও ব্রুকের ব্যাট থেকে তৃতীয় উইকেটে আসে ১৫০ রান। এই জুটির উপর ভর করে ইংল্যান্ড বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৯৫ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ব্যান্টন। শেষ পর্যন্ত ১০৫ বলে ১২৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ১৬টি চার ও পাঁচটি ছক্কা।
ব্যান্টন ফিরে যাওয়ার পরও ইংল্যান্ডের রানের গতি কমেনি। ব্রুক ৬৬ বলে ৭৭ এবং জর্ডান কক্স মাত্র ৫২ বলে ৭৬ রান করে দলের জন্য বড় সংগ্রহ এনে দেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড ৩৫৫ রান সংগ্রহ করে। শ্রীলঙ্কার হয়ে দিলহারা ফার্নান্দো তিন উইকেট নেন।
শ্রীলঙ্কা বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। পাথুম নিশাঙ্কা মাত্র ১ রান করে সনি বেকারের শিকার হন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা।
কুশল মেন্ডিস ২৬ বল খেলে ৩৫ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে তার বিদায়ের পর শ্রীলঙ্কা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ১৭তম ওভারে ৮২ রানেই তারা ছয় উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।
শেষ পর্যন্ত ২৯.১ ওভার ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা মাত্র ১৩২ রানে গুটিয়ে যায়। ইংল্যান্ডের হয়ে লিয়াম ডসন ২৬ রানে তিনটি এবং গাস অ্যাটকিনসন দুটি উইকেট তুলে নেন।
ব্যান্টনের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি এবং ২২৩ রানের বিশাল জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড সিরিজ জয় নিশ্চিত করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের ইতিহাসে প্রতিদিন ঘটে নানা ঘটনা, যা মানুষের মনে স্থায়ী দাগ ফেলে। উদ্ভাবন ও উন্মোচন হয় অনেক কিছু, জন্মের পাশাপাশি মৃত্যু ঘটে অনেকের। প্রতিদিনের এসব ঘটনার মধ্যে কিছু ঘটনা ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এমন কিছু ঘটনা এক নজরে দেখা যাক।
ঘটনাবলি
১৮৬৫ সালে এলিজাবেথ গ্যারেট এন্ডারসন ব্রিটেনে প্রথম শল্যাচিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধিত হন।
১৯০৬ সালে হংকংয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে দশ হাজার লোকের মৃত্যু ঘটে।
১৯২৩ সালে বুলগেরিয়ায় ফ্যাসিস্টবিরোধী একটি অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।
১৯২৮ সালে স্যার অ্যালেকজান্ডার ফ্লেমিং প্রথমবারের মতো পেনিসিলিন আবিষ্কারের ঘোষণা দেন।
১৯৭১ সালে ভারতের ডিমাপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী গঠিত হয়।
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ‘ফুলকুঁড়ি আসর’ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
১৯৯৬ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ একটি প্রস্তাব পাস করে, যাতে মুসলমানদের প্রথম কেবলা আল আকসা মসজিদের নিচে খননকাজ বন্ধ করার জন্য ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রাথমিক শিক্ষার জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি চালু করে।
জন্ম
খ্রি: পূ: ৫৫১ - কনফুসিয়াস, মহান চীনা দার্শনিক ও শিক্ষাগুরু।
১৭৪৬ - উইলিয়াম জোন্স, প্রাচ্য তত্ত্ববিদ ও এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা।
১৭৯৩ - রানি রাসমণি, প্রসিদ্ধ ভারতীয় মানবদরদি জমিদার।
১৮১৯ - নার্সিস মন্টারিওল ই এস্টারিওল, একজন স্প্যানিশ বুদ্ধিজীবী, শিল্পী এবং প্রকৌশলী।
১৮৩৮ - শিরডি সাই বাবা, ভারতীয় ধর্মগুরু, যোগী ও ফকির।
১৮৫২ - অঁরি মোয়াসঁ, একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফরাসি রসায়নবিদ।
১৮৮৯ - নলিনীকান্ত সরকার, বাঙালি সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কবি, গায়ক, সাহিত্যবোদ্ধা ও ছন্দশ্রী।
১৯০৭ - ভগৎ সিংহ, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী।
১৯১০ - দিওসদাদো মাকাপাগাল, নবম ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতি।
১৯১৬ - পিটার ফিঞ্চ, একজন ইংরেজ-অস্ট্রেলীয় অভিনেতা।
১৯২৪ - মারচেল্লো মাস্ত্রোইয়ান্নি, একজন ইতালীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা।
১৯২৯ - লতা মঙ্গেশকর, ভারতের স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পী ও ভারতরত্ন প্রাপক।
১৯৩০ - ইমানুয়েল ওয়ালারস্টিন, একজন প্রয়াত মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ।
১৯৩২ - ভিক্টর হারা, চিলির একজন শিক্ষক, নাট্য নির্দেশক, কবি, গায়ক-গীতিকার ও রাজনৈতিক কর্মী।
১৯৩৪ - ব্রিজিট বার্ডো, একটি ফরাসি সাবেক অভিনেত্রী এবং মডেল।
১৯৪৭ - শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি।
১৯৬৪ - জেনিনে গারোফালো, একজন আমেরিকান কৌতুক অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।
১৯৬৭ - মিরা সরভিনো, একজন মার্কিন অভিনেত্রী।
১৯৬৮ - নেওমি ওয়াটস, একজন ব্রিটিশ অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র প্রযোজক।
১৯৭২ - দিতা ভন তিস, একজন মার্কিন ব্যঙ্গ নৃত্যশিল্পী, ভিডেট, মডেল, কস্টিউম ডিজাইনার, নিয়োগকর্ত্রী এবং সাময়িক অভিনেত্রী।
১৯৭৫ - স্টুয়ার্ট ক্লার্ক, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার।
১৯৮১ - উইলি কাবাইয়েরো, একজন পেশাদার ফুটবলার।
১৯৮২ - অভিনভ বিন্দ্রা, ভারতীয় ক্রীড়াবিদ।
১৯৮২ - রণবীর কাপুর, ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা।
১৯৮৪ - মাতিউ ভালবুয়েনা, একজন ফরাসি আন্তর্জাতিক ফুটবলার।
১৯৮৬ - আন্দ্রেস গার্দাদো, একজন মেক্সিকান পেশাদার ফুটবলার।
১৯৮৭ - হিলারি ডাফ, একজন মার্কিন অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী।
১৯৮৯ - মার্ক র্যান্ডাল, একজন ইংরেজ পেশাদার ফুটবল।
মৃত্যু
খ্রিঃ পূঃ ৪৮ - পম্পে, সাবেক রোমান প্রজাতন্ত্রের একজন সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা।
১৮৫৯ - কার্ল রিটার, একজন প্রখ্যাত জার্মান ভূগোলবিদ।
১৮৭৩ - এমিল গ্যাবোরিও, ফরাসি ভাষার সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও গোয়েন্দা কাহিনী রচনার পথিকৃৎ।
১৮৯১ - হারমান মেলভিল, একজন আমেরিকান ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও কবি।
১৮৯৫ - লুই পাস্তুর, একজন ফরাসি অণুজীববিজ্ঞানী ও রসায়নবিদ।
১৯১৮ - গেয়র্গ জিমেল, জার্মান দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী।
১৯২৬ - অনন্তহরি মিত্র, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব।
১৯৩৬ - শেখ ফজলল করিম, একজন ব্রিটিশ-ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
১৯৫৩ - এডউইন হাবল, একজন মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী যিনি ছায়াপথ ও মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের জন্য পরিচিত।
১৯৫৬ - উইলিয়াম এডওয়ার্ড বোয়িং, বোয়িং বিমান সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা।
১৯৬৬ - অঁদ্রে ব্র্যতোঁ, একজন ফরাসি লেখক এবং কবি।
১৯৭০ - জন ডস প্যাসস, একজন মার্কিন ঔপন্যাসিক।
১৯৭০ - জামাল আবদেল নাসের, মিশরের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি।
১৯৮১ - রোমুলো বেতানকুর্ত, একজন ভেনেজুয়েলার বামপন্থি, কিন্তু সাম্যবাদবিরোধী রাজনীতিবিদ।
১৯৮৯ - ফের্দিনান্দ মার্কোস, ফিলিপাইনের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ।
১৯৯১ - মাইলস ডেভিস, একজন মার্কিন ট্রাম্পেটার, ব্যান্ডলিডার ও কম্পোজার।
২০০০ - পিয়ের ট্রুডো, একজন কানাডীয় রাজনীতিবিদ।
২০০৩ - এলিয়া কাজান, একজন গ্রিক-মার্কিন মঞ্চ পরিচালক, চলচ্চিত্র ও মঞ্চ প্রযোজক।
২০১০ - আর্থার পেন, একজন মার্কিন পরিচালক ও প্রযোজক।
২০১৬ - শিমন পেরেজ, পোলীয় বংশোদ্ভূত বিশিষ্ট ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ।
২০২৩ - এম এস স্বামীনাথন, প্রখ্যাত কৃষিবিজ্ঞানী ও ভারতে সবুজ বিপ্লবের জনক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ