সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৯ পি.এম
টম ব্যান্টনের অসাধারণ সেঞ্চুরি, হ্যারি ব্রুক ও জর্ডান কক্সের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের ফলে কেনিংটন ওভালে রানের বিশাল পাহাড় গড়ে তুলেছে ইংল্যান্ড। সেই পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে শ্রীলঙ্কা বড় ব্যবধানে হেরে গেছে। সফরকারীরা ৩৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ১৩২ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে ইংল্যান্ড তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে ২২৩ রানের বিশাল জয়ে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। শুরুতেই বেন ডাকেটকে হারালেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় তারা। জো রুটকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৬২ রানের জুটি গড়েন ব্যান্টন। রুট ৩৭ বলে ১৮ রান করে ফিরে গেলে তার জায়গায় ক্রিজে আসেন হ্যারি ব্রুক।
ব্যান্টন ও ব্রুকের ব্যাট থেকে তৃতীয় উইকেটে আসে ১৫০ রান। এই জুটির উপর ভর করে ইংল্যান্ড বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৯৫ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ব্যান্টন। শেষ পর্যন্ত ১০৫ বলে ১২৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ১৬টি চার ও পাঁচটি ছক্কা।
ব্যান্টন ফিরে যাওয়ার পরও ইংল্যান্ডের রানের গতি কমেনি। ব্রুক ৬৬ বলে ৭৭ এবং জর্ডান কক্স মাত্র ৫২ বলে ৭৬ রান করে দলের জন্য বড় সংগ্রহ এনে দেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড ৩৫৫ রান সংগ্রহ করে। শ্রীলঙ্কার হয়ে দিলহারা ফার্নান্দো তিন উইকেট নেন।
শ্রীলঙ্কা বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। পাথুম নিশাঙ্কা মাত্র ১ রান করে সনি বেকারের শিকার হন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা।
কুশল মেন্ডিস ২৬ বল খেলে ৩৫ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে তার বিদায়ের পর শ্রীলঙ্কা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ১৭তম ওভারে ৮২ রানেই তারা ছয় উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।
শেষ পর্যন্ত ২৯.১ ওভার ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা মাত্র ১৩২ রানে গুটিয়ে যায়। ইংল্যান্ডের হয়ে লিয়াম ডসন ২৬ রানে তিনটি এবং গাস অ্যাটকিনসন দুটি উইকেট তুলে নেন।
ব্যান্টনের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি এবং ২২৩ রানের বিশাল জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড সিরিজ জয় নিশ্চিত করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের ইতিহাসে প্রতিদিন ঘটে নানা ঘটনা, যা মানুষের মনে স্থায়ী দাগ ফেলে। উদ্ভাবন ও উন্মোচন হয় অনেক কিছু, জন্মের পাশাপাশি মৃত্যু ঘটে অনেকের। প্রতিদিনের এসব ঘটনার মধ্যে কিছু ঘটনা ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এমন কিছু ঘটনা এক নজরে দেখা যাক।
ঘটনাবলি
১৮৬৫ সালে এলিজাবেথ গ্যারেট এন্ডারসন ব্রিটেনে প্রথম শল্যাচিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধিত হন।
১৯০৬ সালে হংকংয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে দশ হাজার লোকের মৃত্যু ঘটে।
১৯২৩ সালে বুলগেরিয়ায় ফ্যাসিস্টবিরোধী একটি অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।
১৯২৮ সালে স্যার অ্যালেকজান্ডার ফ্লেমিং প্রথমবারের মতো পেনিসিলিন আবিষ্কারের ঘোষণা দেন।
১৯৭১ সালে ভারতের ডিমাপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী গঠিত হয়।
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ‘ফুলকুঁড়ি আসর’ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
১৯৯৬ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ একটি প্রস্তাব পাস করে, যাতে মুসলমানদের প্রথম কেবলা আল আকসা মসজিদের নিচে খননকাজ বন্ধ করার জন্য ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রাথমিক শিক্ষার জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি চালু করে।
জন্ম
খ্রি: পূ: ৫৫১ - কনফুসিয়াস, মহান চীনা দার্শনিক ও শিক্ষাগুরু।
১৭৪৬ - উইলিয়াম জোন্স, প্রাচ্য তত্ত্ববিদ ও এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা।
১৭৯৩ - রানি রাসমণি, প্রসিদ্ধ ভারতীয় মানবদরদি জমিদার।
১৮১৯ - নার্সিস মন্টারিওল ই এস্টারিওল, একজন স্প্যানিশ বুদ্ধিজীবী, শিল্পী এবং প্রকৌশলী।
১৮৩৮ - শিরডি সাই বাবা, ভারতীয় ধর্মগুরু, যোগী ও ফকির।
১৮৫২ - অঁরি মোয়াসঁ, একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফরাসি রসায়নবিদ।
১৮৮৯ - নলিনীকান্ত সরকার, বাঙালি সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কবি, গায়ক, সাহিত্যবোদ্ধা ও ছন্দশ্রী।
১৯০৭ - ভগৎ সিংহ, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী।
১৯১০ - দিওসদাদো মাকাপাগাল, নবম ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতি।
১৯১৬ - পিটার ফিঞ্চ, একজন ইংরেজ-অস্ট্রেলীয় অভিনেতা।
১৯২৪ - মারচেল্লো মাস্ত্রোইয়ান্নি, একজন ইতালীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা।
১৯২৯ - লতা মঙ্গেশকর, ভারতের স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পী ও ভারতরত্ন প্রাপক।
১৯৩০ - ইমানুয়েল ওয়ালারস্টিন, একজন প্রয়াত মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ।
১৯৩২ - ভিক্টর হারা, চিলির একজন শিক্ষক, নাট্য নির্দেশক, কবি, গায়ক-গীতিকার ও রাজনৈতিক কর্মী।
১৯৩৪ - ব্রিজিট বার্ডো, একটি ফরাসি সাবেক অভিনেত্রী এবং মডেল।
১৯৪৭ - শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি।
১৯৬৪ - জেনিনে গারোফালো, একজন আমেরিকান কৌতুক অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।
১৯৬৭ - মিরা সরভিনো, একজন মার্কিন অভিনেত্রী।
১৯৬৮ - নেওমি ওয়াটস, একজন ব্রিটিশ অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র প্রযোজক।
১৯৭২ - দিতা ভন তিস, একজন মার্কিন ব্যঙ্গ নৃত্যশিল্পী, ভিডেট, মডেল, কস্টিউম ডিজাইনার, নিয়োগকর্ত্রী এবং সাময়িক অভিনেত্রী।
১৯৭৫ - স্টুয়ার্ট ক্লার্ক, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার।
১৯৮১ - উইলি কাবাইয়েরো, একজন পেশাদার ফুটবলার।
১৯৮২ - অভিনভ বিন্দ্রা, ভারতীয় ক্রীড়াবিদ।
১৯৮২ - রণবীর কাপুর, ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা।
১৯৮৪ - মাতিউ ভালবুয়েনা, একজন ফরাসি আন্তর্জাতিক ফুটবলার।
১৯৮৬ - আন্দ্রেস গার্দাদো, একজন মেক্সিকান পেশাদার ফুটবলার।
১৯৮৭ - হিলারি ডাফ, একজন মার্কিন অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী।
১৯৮৯ - মার্ক র্যান্ডাল, একজন ইংরেজ পেশাদার ফুটবল।
মৃত্যু
খ্রিঃ পূঃ ৪৮ - পম্পে, সাবেক রোমান প্রজাতন্ত্রের একজন সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা।
১৮৫৯ - কার্ল রিটার, একজন প্রখ্যাত জার্মান ভূগোলবিদ।
১৮৭৩ - এমিল গ্যাবোরিও, ফরাসি ভাষার সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও গোয়েন্দা কাহিনী রচনার পথিকৃৎ।
১৮৯১ - হারমান মেলভিল, একজন আমেরিকান ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও কবি।
১৮৯৫ - লুই পাস্তুর, একজন ফরাসি অণুজীববিজ্ঞানী ও রসায়নবিদ।
১৯১৮ - গেয়র্গ জিমেল, জার্মান দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী।
১৯২৬ - অনন্তহরি মিত্র, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব।
১৯৩৬ - শেখ ফজলল করিম, একজন ব্রিটিশ-ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
১৯৫৩ - এডউইন হাবল, একজন মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী যিনি ছায়াপথ ও মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের জন্য পরিচিত।
১৯৫৬ - উইলিয়াম এডওয়ার্ড বোয়িং, বোয়িং বিমান সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা।
১৯৬৬ - অঁদ্রে ব্র্যতোঁ, একজন ফরাসি লেখক এবং কবি।
১৯৭০ - জন ডস প্যাসস, একজন মার্কিন ঔপন্যাসিক।
১৯৭০ - জামাল আবদেল নাসের, মিশরের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি।
১৯৮১ - রোমুলো বেতানকুর্ত, একজন ভেনেজুয়েলার বামপন্থি, কিন্তু সাম্যবাদবিরোধী রাজনীতিবিদ।
১৯৮৯ - ফের্দিনান্দ মার্কোস, ফিলিপাইনের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ।
১৯৯১ - মাইলস ডেভিস, একজন মার্কিন ট্রাম্পেটার, ব্যান্ডলিডার ও কম্পোজার।
২০০০ - পিয়ের ট্রুডো, একজন কানাডীয় রাজনীতিবিদ।
২০০৩ - এলিয়া কাজান, একজন গ্রিক-মার্কিন মঞ্চ পরিচালক, চলচ্চিত্র ও মঞ্চ প্রযোজক।
২০১০ - আর্থার পেন, একজন মার্কিন পরিচালক ও প্রযোজক।
২০১৬ - শিমন পেরেজ, পোলীয় বংশোদ্ভূত বিশিষ্ট ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ।
২০২৩ - এম এস স্বামীনাথন, প্রখ্যাত কৃষিবিজ্ঞানী ও ভারতে সবুজ বিপ্লবের জনক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তাতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, এ সময়ে ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, পশ্চিম অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে, সোমবার সকাল ৬টায় ঢাকায় ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৩ শতাংশ।
অর্থাৎ, সকাল থেকে ঢাকার আবহাওয়া কিছুটা মেঘলা থাকলেও দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। তবে আর্দ্রতার কারণে গরমের অনুভূতি থাকতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) গত ২০ বছরে বিদেশি এবং স্থানীয় বিনিয়োগের পরিমাণ ৪১২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বেপজা’র নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার পারভেজ জানান, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে মাত্র ১ দশমিক ৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্ণফুলী ইপিজেডের কার্যক্রম শুরু হয়। চলতি বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে এখানে মোট বিনিয়োগ বেড়ে ৭৮৭ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
তিনি জানান, কেইপিজেডে মোট ২৫৮টি শিল্প প্লট রয়েছে, যেখানে প্রতিটি প্লটের আয়তন ২ হাজার বর্গমিটার। এসব প্লটে বড়, মাঝারি ও ছোট শ্রেণির মোট ৪০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন, তিনটি যৌথ বিনিয়োগের এবং আটটি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন। এছাড়া ৪৯ হাজার ৭৯৮ বর্গমিটার ফ্লোর স্পেসজুড়ে আরো পাঁচটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়ন কাজ চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ, চীন, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়াসহ ১৪টি দেশের উদ্যোক্তারা কেইপিজেডে তাদের নিজ নিজ শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে বিনিয়োগ করেছেন।
আনোয়ার পারভেজ আরও জানান, কর্ণফুলী ইপিজেড ২০০৬ সালে কার্যক্রম শুরু করে এবং ২০০৭ সালের নভেম্বরে এখান থেকে রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম বছরে (২০০৭-০৮) কর্ণফুলী ইপিজেড থেকে ৯ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করা হয়েছিল।
সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত কেইপিজেড থেকে মোট ১৪ হাজার ১৫৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
বেপজা সূত্র জানায়, গত পাঁচ অর্থবছরে কেইপিজেডের রপ্তানি আয় ছিল ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৪৮ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ হাজার ৮৮৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ১৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ২৫৯ দশমিক ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ হাজার ২৩০ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
কেইপিজেডের কারখানাগুলোতে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাকের পাশাপাশি মূলত তাঁবু ও ক্যাম্পিং সরঞ্জাম, বাইসাইকেল, চামড়াজাত পণ্য, আসবাবপত্র, ব্যাগ, ফ্যাশন পোশাক ও সেফটি স্যুট উৎপাদন করা হয়। এসব পণ্যের অনেকগুলো বিশ্বের খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের জন্য তৈরি করা হয়।
কেইপিজেডের উৎপাদিত পণ্য বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে রপ্তানি করা হয়। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো ছাড়াও ইইউ’র বাইরের বিভিন্ন দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কেইপিজেডের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকী মন্তব্য করেন, পণ্যের বহুমুখীকরণই কেইপিজেডের এই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
তিনি বলেন, বিপুল রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই এসেছে বিশ্বমানের পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে। বর্তমানে কেইপিজেড উচ্চমূল্যের ও বিশেষায়িত পণ্য উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে প্রযুক্তিনির্ভর ক্রীড়া পোশাক, ক্যাম্পিং তাঁবু, উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম, বাইসাইকেল, সেফটি জুতা ও চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী উৎপাদিত হচ্ছে।
বেপজা চট্টগ্রাম স্টিল মিলস লিমিটেডের পরিত্যক্ত জমিতে এ বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত এই বৃহৎ ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের মুখে ছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনের স্বর্ণযুগে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। একসময় হাজারো শ্রমিকের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর এই বিশাল শিল্পাঞ্চলটি পতেঙ্গা শিল্পাঞ্চলকে প্রাণবন্ত করে রেখেছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার পর পুরো এলাকা প্রাণহীন হয়ে পড়ে।
তবে কর্ণফুলী নদীর তীরজুড়ে বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল পতেঙ্গা আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার সেখানে বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল হিসেবে কেইপিজেড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দূরদর্শী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় এ শিল্পাঞ্চলে নতুন কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী এবং বর্তমানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থিতিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কেইপিজেডের উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে পতেঙ্গা শিল্পাঞ্চলে শিল্পায়নের নতুন যুগের সূচনা হয়। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল করেছেন মামলার বাদী রুনু আক্তার (৩০), যিনি ধর্ষণ মামলার আসামিকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার দাবি করেছেন। তিনি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিচার না চেয়ে বিয়ের ব্যবস্থা না করলে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার হুমকিও দেন।
এই ঘটনা ঘটে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির সময়। আদালত সূত্রে জানা যায়, যুক্তিতর্ক চলাকালে বার ডকে দাঁড়িয়ে থাকা রুনু আক্তার বারবার হট্টগোল শুরু করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শরীফ মোহাম্মদ সানাউল হক, আইনজীবী ও নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
বিচারক তাকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে। রুনু আক্তার এর জবাবে বলেন, আসামির সাজা হলে তাকেও ফাঁসি দিতে হবে। তিনি আসামির শাস্তি চান না, বরং তাকে স্বামী হিসেবে চান এবং তার চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিও করেন।
বিচারক তাকে জানান, আদালত কাউকে বিয়েতে বাধ্য করতে পারে না। আসামির অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া সম্ভব। এরপর রুনু আক্তার চিৎকার করে বলেন, আদালত যেন কাজী ডেকে আল-আমিনের সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা করে। তা না হলে তিনি বিষ খেয়ে বিচারকের সামনে আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকি দেন।
ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মো. আককাস সিকদার জানান, রোববার নারী ও শিশু মামলা নম্বর ১২৫/২৩-এর যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য ছিল। মামলার বাদী রুনু আক্তার রাজাপুর থানার জগন্নাথপুর গ্রামের রুহুল আমিনের মেয়ে এবং মনির হোসেনের সাবেক স্ত্রী। আসামি মো. আল-আমিন মোল্লা রাজাপুর থানার সাবেক এএসআই।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং বিয়ের নাটক সাজিয়ে রুনু আক্তারকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এএসআই আল-আমিন। এ অভিযোগে ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি মামলা করেন।
২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর আল-আমিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। বাদী, তার নাবালক ছেলে মুবিন হোসেনসহ চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
সাক্ষ্য গ্রহণের শেষ পর্যায়ে আরও দুজন সাক্ষী দেশে নেই জানিয়ে বাদী নিজেই সাক্ষ্য সমাপ্ত করার আবেদন করেন। পরে পুলিশও ওই দুই সাক্ষীর বিষয়ে একই প্রতিবেদন দেয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই রুনু আক্তার আদালতে আসামির সঙ্গে তার বিয়ে ও কাবিননামার দাবি জানাতে শুরু করেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
রোববার আসামিপক্ষের আইনজীবী যুক্তিতর্ক শুরু করলে রুনু আক্তার তার ওপরও চড়াও হয়ে উচ্চস্বরে হট্টগোল করেন বলে জানান আইনজীবী অ্যাডভোকেট মল্লিক মুহা. নাসির উদ্দিন কবীর। তিনি বলেন, একপর্যায়ে বাদী বিচারককেও হুমকি দিয়ে বলেন, আসামির সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা না করলে রায়ের দিন ট্রাইব্যুনালে সবার সামনে নিজেকে শেষ করে দেবেন।
রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আককাস সিকদার বলেন, রুনু আক্তার মৌখিক দাবির পাশাপাশি লিখিত দরখাস্ত দিয়েও আসামির সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। বিয়ে না হলে তিনি নিজে এবং তার আগের স্বামীর সন্তানকে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের সামনে আত্মহত্যা করার হুমকি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
পিপি আরও অভিযোগ করেন, রুনু আক্তার তার ব্যক্তিগত চেম্বারেও গিয়ে তাকে হুমকি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে রুনু আক্তার বলেন, আমি ধর্ষণ মামলা করেছি আল-আমিনকে স্বামী হিসেবে ফেরত পেতে। তাকে সাজা দিয়ে আমার কী লাভ? আমি যে কোনোভাবে আল-আমিনকে চাই।
মামলাটিতে রোববার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ