ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অস্ট্রেলিয়া সৈকতে রহস্যজনক ৬টি গোলাকার বস্তু ভেসে এসেছে


অস্ট্রেলিয়া সৈকতে রহস্যজনক ৬টি গোলাকার বস্তু ভেসে এসেছে

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর কুইন্সল্যান্ডের সৈকতে রহস্যজনকভাবে ভেসে এসেছে ৬টি বড় আকৃতির গোলাকার বস্তু। বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে এগুলোকে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ বা ‘স্পেস বল’ বলে ধারণা করছেন।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কার বিষয় হলো, এগুলো রকেটের জ্বালানি ব্যবস্থার অংশ হতে পারে এবং এর ভেতরে অত্যন্ত বিষাক্ত রকেট জ্বালানি অবশিষ্টাংশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ নিয়ে স্থানীয় জনগণের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি স্থানীয় সময় রবিবার (৫ জুলাই) জানিয়েছে, রহস্যময় এসব বস্তু কোথা থেকে এসেছে তা শনাক্তে তারা কাজ করছে। এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, বস্তুগুলোতে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, টাউনসভিলের ফরেস্ট বিচ এলাকায় সৈকতে ভেসে আসা বস্তুগুলো বড় আকৃতির ধাতব গোলকের মতো দেখাচ্ছে।

রবিবার কুইন্সল্যান্ড ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, সৈকত থেকে মোট ৬টি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি নিরাপদে ড্রামের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আর ষষ্ঠ বস্তুটিকে নিরাপদে রাখার কাজ চলছে।

অন্যদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলেরও কমতি নেই। ‘ফরেস্ট বিচ টেকঅ্যাওয়ে’ নামে একটি স্থানীয় খাবারের দোকান ‘স্পেস জাঙ্ক স্ন্যাক বক্স’ নামে নতুন একটি খাবার বিক্রি শুরু করেছে। দোকানের সামনে থাকা একটি বোর্ডে মজার ছলে লেখা হয়েছে, ‘এই খাবার সৈকতে ভেসে আসা রহস্যময় বস্তু না, তাই নিশ্চিন্তে চিনে খেতে পারবেন।’

এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, সৈকতে রহস্যময় এসব বস্তু নিয়ে স্থানীয় জনগণের জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই। এ বিষয়ে পুলিশও কোনো তদন্ত করছে না।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে উত্তর কুইন্সল্যান্ডে এমন আরও ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসতে পারে। তবে এতে সেখানের জনসাধারণের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। তারপরও স্থানীয়দের অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির পরামর্শ ও তথ্য অনুসরণ করা উচিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোর প্রকৃতি ও উৎস এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ এবং ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে কাজ করা অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বস্তুগুলোকে প্রাথমিকভাবে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ বলেই মনে করা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংস্থাটি উত্তর কুইন্সল্যান্ডের ফরেস্ট বিচে পাওয়া সন্দেহভাজন মহাকাশের ধ্বংসাবশেষের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে তারা এসব বস্তুর প্রকৃতি ও উৎস শনাক্তে কাজ করছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

এ বিষয়ে ফ্লিন্ডার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশ প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং মহাকাশের আবর্জনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক অ্যালিস গোরম্যান সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও পর্যালোচনা করে বলেন, ‘বস্তুগুলোতে আগুনে পোড়া বা দগ্ধ হওয়ার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘এতে ধারণা করা যায়, এগুলো কোনো রকেট উৎক্ষেপণের প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপের অংশ হতে পারে, যা পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। রকেটের বাকি অংশ পেলোড বহন করে মহাকাশে চলে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বস্তুগুলো রকেটের জ্বালানি ব্যবস্থার অংশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। এগুলো টাইটানিয়াম সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি চাপযুক্ত জ্বালানি সংরক্ষণ পাত্র, যার গলনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বস্তুকে আসলে ‘স্পেস বল’ বলা হয় এবং উৎক্ষেপণের বহু বছর পরও এগুলো খুঁজে পাওয়া যায়। সম্ভবত এর আগে এ ধরনের বস্তু সমুদ্রপৃষ্ঠে পড়ে থাকার দৃশ্য কেউ দেখেনি।’

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

তবে গোরম্যান সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘বস্তুগুলো মহাকাশ শিল্পের অংশ নাও হতে পারে। এগুলো সামুদ্রিক কোনো উৎস থেকেও আসতে পারে।’

তবে তিনি জানান, ‘যদি এগুলো সত্যিই ‘স্পেস বল’ হয়, তাহলে এর ভেতরে অত্যন্ত বিষাক্ত রকেট জ্বালানি হাইড্রাজিনের কিছু অবশিষ্টাংশ থাকতে পারে।

তিনি ধারণা করে বলেন, ‘এগুলো রাশিয়ার ফ্রেগাট রকেটের অংশও হতে পারে। কারণ ওইসব রকেটের জ্বালানিতেও একই ধরনের চাপযুক্ত জ্বালানি পাত্র ব্যবহার করা হয়।’

গোরম্যান বলেন, ‘১৯৮০ এর দশকের মার্কিন বিজ্ঞানভিত্তিক কৌতুক চলচ্চিত্র ‘স্পেসবলস’এর সঙ্গে এই বস্তুগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। ‘স্পেস বল’ হলো মহাকাশে রকেট নিক্ষেপের পর সবচেয়ে বেশি পাওয়া ধ্বংসাবশেষগুলোর একটি। এর আগেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এগুলো পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে সচল উপগ্রহ, অচল যন্ত্রাংশ ও রকেট উৎক্ষেপণের পরিত্যক্ত র ৩০ হাজারেরও বেশি মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘মহাকাশের আবর্জনা বেশিরভাগ সময় সমুদ্রের ওপর দিয়েই পৃথিবীতে ফিরে আসে। তবে অস্ট্রেলিয়া বিশাল স্থলভাগ হওয়ায় এখানে প্রায়ই মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশে উৎক্ষেপণের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় উপজাত হিসেবে মহাকাশের আবর্জনার সমস্যাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে মহাকাশে যে পরিমাণ উৎক্ষেপণ হয়েছে, তা মানব ইতিহাসের আগের সব উৎক্ষেপণের মোট সংখ্যার চেয়েও বেশি। ফলে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ম্যাচ শেষে ব্রাজিল ভক্তের হার্ট অ্যাটাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


ম্যাচ শেষে ব্রাজিল ভক্তের হার্ট অ্যাটাক

বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রিয় দল ব্রাজিলের বিদায়ের ধাক্কা সইতে না পারায় এক সমর্থক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালের ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত থাকলেও চিকিৎসকের নিকট নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

রোববার (৫ জুলাই) মধ্যরাতে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচে ব্রাজিল এবং নরওয়ের মাঝে এই ঘটনা ঘটে। অসুস্থ ওই যুবকের নাম আলমগীর হোসেন (৩৫)। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।।

নিজ বাড়িতে বন্ধু ও অন্যান্য সমর্থকদের সঙ্গে খেলা দেখছিলেন আলমগীর। ম্যাচে ব্রাজিল পিছিয়ে পড়ার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। খেলা শেষে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে প্রিয় দলের বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ঘটনাটির পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সমর্থকরা দ্রুত তাকে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে যেন কেউ অতিরিক্ত উত্তেজিত না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আলমগীর হোসেন শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখতে আরও কয়েকদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রীকে মাটিচাপা দিয়ে নাটক সাজানোর অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৯ পি.এম


স্ত্রীকে মাটিচাপা দিয়ে নাটক সাজানোর অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

মৌলভীবাজারের রাজনগরে নিখোঁজের ১৮ দিন পর, পুলিশ গৃহবধূ জায়েদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহটি নিজ বাড়ির আঙিনার প্রায় ১০ ফুট গভীর মাটির নিচে পাওয়া গেছে। নিহতের স্বামী আলমগীরকে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে পুলিশ থেকে।

সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে, রাজনগর উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের উপস্থিতিতে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল সিকদারের নেতৃত্বে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানের সময় বাড়ির আঙিনার সিসি ঢালাই ভেঙে প্রায় ১০ ফুট গভীর মাটি খুঁড়ে, বালির বস্তা দিয়ে চাপা দেওয়া অবস্থায় জায়েদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুলাই আলমগীর রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে দাবী করেন যে, তার স্ত্রী কাউকে কিছু না জানিয়ে সৌদি আরব চলে গেছেন। তবে ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে অসংগতি ধরা পড়লে পুলিশ তাকে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে আলমগীর স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং মরদেহ যেখানে পুঁতে রাখা হয়েছিল সেই স্থানটি দেখিয়ে দেন। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তীব্র গরমে যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৪ পি.এম


তীব্র গরমে যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ জনের মৃত্যু

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট রেকর্ড তাপপ্রবাহে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এই প্রচণ্ড গরমে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

শনিবার (৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় এবং এর পরবর্তী দিনগুলোতেও লাখ লাখ মানুষকে এই চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, একটি বিশাল ‘হিট ডোম’ বা তাপবলয় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের ওপর অবস্থান করছে। এর ফলে ২০টিরও বেশি অঙ্গরাজ্যে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ছাড়িয়ে গেছে। এখনো দেশটির প্রায় ১৪ কোটি মানুষ সক্রিয় তাপ সতর্কতার (হিট অ্যালার্ট) মধ্যে রয়েছেন।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যে। সেখানকার জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তীব্র গরমের কারণে ১০টি কাউন্টিতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃতদের অধিকাংশেরই বয়স ৩০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। এদের অনেককেই শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন বাড়িতে, নিজ বাড়ির বাইরে, সড়কে ও পার্ক করা গাড়ির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি সাধারণ কোনো গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ নয়; এই তীব্র গরম যেকোনো বয়সী মানুষ ও পশুর জন্য দ্রুত জীবনঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

নিউজার্সি ছাড়াও ইলিনয় এবং মিসিসিপি অঙ্গরাজ্য থেকেও তাপপ্রবাহে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মিসিসিপির হিন্ডস কাউন্টিতে মিচেল রে কুলি (৭৪) নামের এক বৃদ্ধ নিখোঁজ হওয়ার পর একটি গ্যাস স্টেশনের পেছন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তীব্র গরমের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে একই কাউন্টিতে মার্থা আইরিন (৮৩) নামের এক বৃদ্ধা নিজের বাগানে পড়ে যাওয়ার পর আর উঠতে পারেননি। তীব্র রোদে দীর্ঘ সময় থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এই তীব্র গরমের কারণে শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডসহ বেশ কিছু অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়। ওই দিন জাতীয় মল চত্বরে আয়োজিত একটি মেলাও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যেখানে ৪৪ জন দর্শনার্থী গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠান চলাকালীন জরুরি সেবা বিভাগ তাপজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ৫১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং ১২ জনকে হাসপাতালে পাঠায়।

আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, তীব্র গরমের এই কেন্দ্রস্থলটি এখন উত্তর-পূর্ব ও মধ্য-পশ্চিম অঞ্চল থেকে সরে দক্ষিণ ও মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, ঘন ঘন এমন চরম তাপপ্রবাহের আগমন প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর কোনো বিকল্প নেই। এই পরিস্থিতি চাকুরিজীবী মার্কিন আবহাওয়া দপ্তর (এনডব্লিউএস) জনগণকে প্রচুর তরল খাবার গ্রহণ, সরাসরি সূর্যরশ্মি থেকে দূরে থাকা এবং প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শক্তিশালী সুপার টাইফুনে বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপাঞ্চল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩০ পি.এম


শক্তিশালী সুপার টাইফুনে বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপাঞ্চল

ক্যাটাগরি–৫ হারিকেনের সমান শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’র তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ ও গুয়াম। ঝড়ের তীব্র আঘাতে বিশেষ করে ছোট দ্বীপ রোটা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, সুপার টাইফুন বাভির কেন্দ্র বা ‘চোখ’ পুরো রোটা দ্বীপের ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছে। আঘাত হানার সময় ওই এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৯০ কিলোমিটার বেগে তীব্র বাতাস প্রবাহিত হয়। পরে এটি অত্যন্ত ধীরগতিতে পশ্চিম দিকে সরে যেতে শুরু করে। সোমবার(৬ জুলাই) ভোররাতে ঝড়টি যখন মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানে, তখন এনডব্লিউএস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রোটার প্রায় ১ হাজার ৫০০ বাসিন্দাকে সতর্ক করে জানায়, ‘এই ভয়াবহ বাতাসকে টর্নেডো আসার মতোই বিপজ্জনক মনে করুন। এখনই ঘরের ভেতরের নিরাপদ কক্ষ বা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান।’

গুয়াম থেকে ৮০ কিলোমিটারেরও কম উত্তরে অবস্থিত নর্দার্ন মারিয়ানার দক্ষিণতম দ্বীপ রোটার স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যাহত থাকায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনো পরিষ্কার নয়।

রোটা মিউনিসিপ্যাল অপারেশনস সেন্টারের জনসংযোগ কর্মকর্তা লু রোজারিও বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। এখানে প্রবল বাতাস ও বন্যা চলছে। অনেকেই ইতিমধ্যে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর জানিয়েছেন।’

তিনি আরও জানান, একটি প্রধান মোবাইল ফোন টাওয়ার ভেঙে পড়ার কারণে কিছু এলাকায় মোবাইল সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

আবহাওয়াবিদেরা সতর্ক করেছেন, টাইফুনটি সরাসরি আঘাত হানায় রোটা দ্বীপের বেশির ভাগ এলাকা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। উপড়ে গেছে প্রায় সব গাছপালা এবং কয়েক মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে। এনডব্লিউএসের আবহাওয়াবিদ মার্কাস ল্যান্ডন আইডলেট ফেসবুক লাইভে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, টিনিয়ান, গুয়ামের উত্তরাঞ্চল এবং সাইপানের দক্ষিণ প্রান্তে ক্যাটাগরি–১ হারিকেনের সমতুল্য বাতাস বয়ে গেছে। তবে সুপার টাইফুন বাভি এলাকা ছেড়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

নর্দার্ন মারিয়ানা এবং পার্শ্ববর্তী পৃথক মার্কিন অঞ্চল গুয়ামে মোট প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মানুষের বসবাস। গুয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্বীপটিতে ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, যার ফলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ‘বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়েই থাকতে হবে। এটি এখনো অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং প্রাণঘাতী পরিস্থিতি।’

এদিকে পরিবেশবিজ্ঞানীরা এই শক্তিশালী ঝড়ের পেছনে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর প্রভাবকে দায়ী করছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস মেরিন সার্ভিস জানিয়েছে, বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে রেকর্ড উষ্ণতম জুন মাস পার হয়ে গেছে। উষ্ণ সমুদ্রের পানি ক্রান্তীয় ঝড়কে আরও শক্তিশালী হতে সহায়তা করে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে ইতিমধ্যে ‘এল নিনো’ শুরু হয়েছে। আবহাওয়াবিদ আইডলেট বলেন, ‘এ বছর এল নিনো থাকায় আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, গত পাঁচ-ছয় বছরের তুলনায় এবার ঝড়ের মৌসুম অনেক বেশি সক্রিয় হতে পারে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%