০৫:৩০ পি.এম
ক্যাটাগরি–৫ হারিকেনের সমান শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’র তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ ও গুয়াম। ঝড়ের তীব্র আঘাতে বিশেষ করে ছোট দ্বীপ রোটা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, সুপার টাইফুন বাভির কেন্দ্র বা ‘চোখ’ পুরো রোটা দ্বীপের ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছে। আঘাত হানার সময় ওই এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৯০ কিলোমিটার বেগে তীব্র বাতাস প্রবাহিত হয়। পরে এটি অত্যন্ত ধীরগতিতে পশ্চিম দিকে সরে যেতে শুরু করে। সোমবার(৬ জুলাই) ভোররাতে ঝড়টি যখন মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানে, তখন এনডব্লিউএস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রোটার প্রায় ১ হাজার ৫০০ বাসিন্দাকে সতর্ক করে জানায়, ‘এই ভয়াবহ বাতাসকে টর্নেডো আসার মতোই বিপজ্জনক মনে করুন। এখনই ঘরের ভেতরের নিরাপদ কক্ষ বা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান।’
গুয়াম থেকে ৮০ কিলোমিটারেরও কম উত্তরে অবস্থিত নর্দার্ন মারিয়ানার দক্ষিণতম দ্বীপ রোটার স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যাহত থাকায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনো পরিষ্কার নয়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
রোটা মিউনিসিপ্যাল অপারেশনস সেন্টারের জনসংযোগ কর্মকর্তা লু রোজারিও বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। এখানে প্রবল বাতাস ও বন্যা চলছে। অনেকেই ইতিমধ্যে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর জানিয়েছেন।’
তিনি আরও জানান, একটি প্রধান মোবাইল ফোন টাওয়ার ভেঙে পড়ার কারণে কিছু এলাকায় মোবাইল সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
আবহাওয়াবিদেরা সতর্ক করেছেন, টাইফুনটি সরাসরি আঘাত হানায় রোটা দ্বীপের বেশির ভাগ এলাকা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। উপড়ে গেছে প্রায় সব গাছপালা এবং কয়েক মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে। এনডব্লিউএসের আবহাওয়াবিদ মার্কাস ল্যান্ডন আইডলেট ফেসবুক লাইভে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, টিনিয়ান, গুয়ামের উত্তরাঞ্চল এবং সাইপানের দক্ষিণ প্রান্তে ক্যাটাগরি–১ হারিকেনের সমতুল্য বাতাস বয়ে গেছে। তবে সুপার টাইফুন বাভি এলাকা ছেড়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
নর্দার্ন মারিয়ানা এবং পার্শ্ববর্তী পৃথক মার্কিন অঞ্চল গুয়ামে মোট প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মানুষের বসবাস। গুয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্বীপটিতে ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, যার ফলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ‘বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়েই থাকতে হবে। এটি এখনো অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং প্রাণঘাতী পরিস্থিতি।’
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এদিকে পরিবেশবিজ্ঞানীরা এই শক্তিশালী ঝড়ের পেছনে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর প্রভাবকে দায়ী করছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস মেরিন সার্ভিস জানিয়েছে, বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে রেকর্ড উষ্ণতম জুন মাস পার হয়ে গেছে। উষ্ণ সমুদ্রের পানি ক্রান্তীয় ঝড়কে আরও শক্তিশালী হতে সহায়তা করে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে ইতিমধ্যে ‘এল নিনো’ শুরু হয়েছে। আবহাওয়াবিদ আইডলেট বলেন, ‘এ বছর এল নিনো থাকায় আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, গত পাঁচ-ছয় বছরের তুলনায় এবার ঝড়ের মৌসুম অনেক বেশি সক্রিয় হতে পারে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন