মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৩৬ পি.এম
ব্যর্থতাকে সাধারণত হতাশা ও পরাজয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত মনে করা হয়। সফল না হলে অনেকেই নতুনভাবে চেষ্টা করার সাহস হারিয়ে ফেলেন। তবে ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং ব্যর্থতার পর পুনরায় উঠে দাঁড়ানোই সাফল্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আজ ১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক ব্যর্থতা দিবস পালিত হচ্ছে, যা ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে তা থেকে শেখার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
প্রতিবছর এই দিনে মানুষের কাছে ব্যর্থতাকে নতুনভাবে দেখার আহ্বান জানানো হয়। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো, ব্যর্থতাকে লজ্জা বা পরাজয়ের প্রতীক হিসেবে না দেখে শেখার, আত্মবিশ্বাস অর্জনের এবং নিজেকে উন্নত করার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা।
এ দিবসটি মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে, প্রতিটি চেষ্টা সফল না হলেও তা থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব। ভুলের কারণ বুঝতে পারলে পরবর্তী চেষ্টায় আরও ভালো করার সুযোগ তৈরি হয়। তাই ব্যর্থতার ভয় যেন নতুন কিছু শেখা বা উদ্যোগ নেওয়ার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই বার্তাই দেওয়া হয় এ দিনে।
যেভাবে শুরু আন্তর্জাতিক ব্যর্থতা দিবস
২০১০ সালে ফিনল্যান্ডের আল্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দিবসটির সূচনা হয়। সে সময় ফিনল্যান্ডে নতুন ব্যবসা ও উদ্যোগ শুরু করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার ভয় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য শিক্ষার্থীরা ব্যর্থতাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য একটি বিশেষ দিবস পালনের প্রস্তাব দেন।
এরপর ধীরে ধীরে দিবসটির পরিচিতি বৃদ্ধি পেতে থাকে। ২০১২ সালের মধ্যে বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হতে শুরু করে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও এতে যুক্ত হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল, ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে নতুন উদ্যোগ, সৃজনশীলতা ও ঝুঁকি নেওয়ার সাহস বৃদ্ধি করা।
বর্তমানে প্রতি বছর ১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক ব্যর্থতা দিবস পালিত হয়। এ দিবসের মাধ্যমে ব্যর্থতা নিয়ে সামাজিক নেতিবাচক ধারণা কমানো এবং সাফল্যের পথে ভুলের ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।
যেভাবে পালন করা যায় দিবসটি
ব্যর্থতা দিবস পালনের একটি উপায় হলো নিজের ভুল বা ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় এমন আলোচনা হতে পারে। এতে বোঝা যায়, ভুল করা কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়; বরং তা থেকে শেখার সুযোগ রয়েছে।
এ দিনে নতুন কোনো কাজের চ্যালেঞ্জ নেওয়া যেতে পারে। যেমন, নতুন কোনো দক্ষতা শেখা, ছবি আঁকা কিংবা সহজ কোনো খেলা বা সৃজনশীল কাজের চেষ্টা করা। লক্ষ্য নিখুঁতভাবে কাজটি শেষ করা নয়, বরং চেষ্টা করার অভিজ্ঞতা অর্জন করা।
কর্মশালার আয়োজন করেও দিবসটি পালন করা যায়। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা ভুলের ভয় ছাড়াই নতুন দক্ষতা শেখার সুযোগ পাবেন। একইভাবে এমন চলচ্চিত্র দেখা যেতে পারে, যেগুলো প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। পরে সেগুলোর ব্যর্থতার কারণ ও সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
ব্যর্থতা থেকে শেখার গুরুত্ব
ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা মানুষকে নিজের দুর্বলতা বুঝতে, ভুল সংশোধন করতে এবং নতুনভাবে পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে। কোনো উদ্যোগ প্রত্যাশামতো সফল না হলে হতাশ হয়ে থেমে যাওয়ার বদলে কী শেখা গেল, তা খুঁজে বের করা জরুরি।
আন্তর্জাতিক ব্যর্থতা দিবসের মূল বার্তাও তাই—ব্যর্থতা জীবনের শেষ নয়। প্রতিটি চেষ্টা থেকে কিছু না কিছু শেখা যায়। সেই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে আবার চেষ্টা করার মধ্য দিয়েই তৈরি হয় এগিয়ে যাওয়ার পথ।
সূত্র: ডেইজ অফ দ্য ইয়ার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড়ের মেঘমুক্ত আকাশে উঁকি দিতে শুরু করেছে হিমালয়ের দ্বিতীয় উচ্চতম ও পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। সময়ের সাথে পাহাড়ের রূপ পরিবর্তিত হচ্ছে। জেলা শহর এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছবির মতো ভেসে উঠছে এ পর্বতশৃঙ্গটি। ফলে, পর্যটকদের ভিড় জমেছে এ জেলায়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৬টা থেকে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে পরিষ্কার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো পিকনিক কর্নারের পাশে মহানন্দা নদীর তীর থেকে। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা তেঁতুলিয়ায় ছুটে আসছেন।
প্রতিবছর অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকলে পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ভোরের আলো ফুটতেই দূর দিগন্তে বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গটি দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে। কেউ ক্যামেরায় ধারণ করছেন পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য, আবার কেউ মুঠোফোনে ধরে রাখছেন স্মরণীয় মুহূর্ত।
সূর্যের আলোর সাথে বরফ আচ্ছাদিত এ পর্বত চূড়াটি কখনো শুভ্র, কখনো গোলাপী আবার কখনও লাল রঙে হাজির হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কিছুটা ঝাপসা হয়ে গেলে রঙ সাদা হয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, এ সৌন্দর্য উপভোগ করার মোক্ষম সময় ভোর, সকাল ও বিকেল।
কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকেরা মুগ্ধ। তাদের কাছে এই ভ্রমণ শুধুমাত্র পাহাড় দেখার অভিজ্ঞতা নয়, বরং প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগও।
ঢাকা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটক শিহাব বলেন, "আমরা বন্ধুরা মিলে এখানে এসেছি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা। আলহামদুলিল্লাহ, আকাশ পরিষ্কার থাকায় কাঙ্ক্ষিত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেয়েছি। আমরা অনেক খুশি।"
নওগাঁ থেকে বাইক নিয়ে ঘুরতে আসা সুমন বলেন, "আমরা সকালে বাইক নিয়ে বন্ধুরা তেঁতুলিয়ায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসেছি। তবে এখানে আসার সঙ্গে সঙ্গে ডাকবাংলো পিকনিক কর্নারের পাশে মহানন্দা নদীর তীর থেকে পর্বতটি দেখতে পেয়েছি। আমাদের এ যাত্রা সফল হয়েছে।"
ঢাকার নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম বলেন, "শুনেছি, অনেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। আলহামদুলillah, ভোরের দিকে আমরাও হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। প্রথমে কিছুটা দেখা গেলেও পরে আবার মেঘ ও কুয়াশায় ঢেকে যায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য দেখা যায়।"
চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে আসা হাসান হোসেন বলেন, "কিছুক্ষণের জন্য কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। যখন পর্বতটি লুকিয়ে যাচ্ছিল, তখন আমরা পৌঁছাতে পেরেছি। তাই কিছুক্ষণের জন্য দেখতে পেরেছি। সঙ্গে তেঁতুলিয়ার মানুষ অনেক আন্তরিক হওয়ায় বিষয়টি আরও ভালো লেগেছে।"
খুলনা থেকে ঘুরতে আসা মাহি হাসান বলেন, "ফেসবুক ও টিভিতে কাঞ্চনজঙ্ঘা অনেক দেখেছি। বাস্তবে এবারই প্রথম দেখার সুযোগ হলো। টিভির চেয়ে সরাসরি আরও সুন্দর।"
কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার পাশাপাশি পর্যটকেরা মহানন্দা নদীর তীর, বিস্তীর্ণ চা-বাগান ও সীমান্তঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখছেন। এতে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের আনাগোনাও বাড়ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, "আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ থাকে। আকাশ ও আবহাওয়া পরিষ্কার থাকায় আজ কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য দেখা যাচ্ছে। তবে পর্যটকদের অবশ্যই আকাশের অবস্থা খেয়াল করে আসতে হবে। তাহলে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব হবে।"
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন বলেন, "শীতের মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা পঞ্চগড়ে বেড়াতে আসেন। একই সঙ্গে অনেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতেও আসেন। পর্যটকদের নির্বিঘ্নে ভ্রমণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে বেপরোয়া গতির গাড়ির ধাক্কায়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকার মোল্লা কলেজের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ফালু মিয়া (৪২), যিনি কুমিল্লা সদর এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে পূর্ব কদমতলীর জুরাইন এলাকায় বসবাস করতেন।
নিহতের ভাই রতন জানান, ফালু মিয়া গ্যারেজে কাজ করতেন এবং কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে তিনি এই দুর্ঘটনার শিকার হন।
যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সজিব উর রহমান জানান, আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে যে, রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত গাড়ি ফালু মিয়াকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পথচারীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসভবনে অভিযান পরিচালনা করেছেন দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) তদন্তকারীরা।
১২ অক্টোবর সোমবার ভোরে অনুষ্ঠিত এই অভিযানের সঙ্গে তার শৈশবকালীন অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্রের বিষয়ে চলমান তদন্তের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের মাধ্যমে জানা যায় যে, তদন্তকারীরা ইলহান ওমরের প্রয়াত বাবার দ্বারা পূরণ করা নথিপত্রগুলো পর্যালোচনা করছেন। নথিতে মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং অভিবাসন জালিয়াতির সম্ভাব্য দিকগুলোও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এদিকে, ইলহান ওমরের কার্যালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা এক বিবৃতিতে জানায়, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। অভিযানের ঘটনাকে তারা ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করতে কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহারের নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোমবার (১২ অক্টোবর) দেওয়া এক পোস্টে ইলহান ওমর জানান, ‘আমি ভালো আছি’ এবং ‘আমাকে চুপ করানো যাবে না।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তার দাবি, গত ১০ বছর ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ভিত্তিহীন অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করে আসছেন। সাম্প্রতিক অভিযানটি সেই রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শনের আরেকটি ধাপ।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার অপরাধ তদন্ত বিভাগ এই তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে। দেশটির বিচার বিভাগও তদন্তে সহায়তা করছে।
বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের কাছ থেকে পাওয়া তল্লাশি পরোয়ানার ভিত্তিতে তদন্তকারীরা অভিযান পরিচালনা করেছেন। এটি একটি চলমান কেন্দ্রীয় ফৌজদারি তদন্তের অংশ।
তদন্ত সম্পর্কে অবগত সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এই তল্লাশির বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে অবগত ছিলেন। বিচার বিভাগের জনস্বার্থ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সততা-সংক্রান্ত বিভাগও বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ দিয়েছে।
অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার তদন্ত বিভাগ অভিবাসন নথি জালিয়াতি, পরিচয় জালিয়াতি এবং অভিবাসন-সুবিধা পেতে প্রতারণার মতো কেন্দ্রীয় অপরাধের তদন্ত করতে পারে। বহিষ্কারকেন্দ্রিক অভিযানের বাইরে, এ বিভাগের বিশেষ তদন্তকারীরা ফৌজদারি তদন্ত পরিচালনা এবং আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করেন।
ইলহান ওমরের বাড়িতে অভিযানের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস, দলের হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক এবং ককাসের চেয়ারম্যান পিট আগুইলার।
তারা এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযানের ঘটনাকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারকে অন্যায়ভাবে ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে এ ঘটনা গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
ইলহান ওমর মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু। তবে সোমবারের (১২ অক্টোবর) অভিযানের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অভিযানের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। ইলহান ওমরকে ‘ভয়াবহ ব্যক্তি’ বলে মন্তব্য করে তিনি বিষয়টি বিচার বিভাগের ওপর ছেড়ে দেন।
এর আগে, গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টম হোম্যান জানিয়েছিলেন, ইলহান ওমরকে ঘিরে একটি ফৌজদারি তদন্ত চলমান রয়েছে। সে সময় ওমর বলেছিলেন, তদন্তের বিষয়ে তাকে কেউ যোগাযোগ করেনি।
তবে এখন পর্যন্ত তদন্তে ওঠা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দেশজুড়ে বিশেষ তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে, যা মূলত ফল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য কারসাজি, অতিরিক্ত দাম আদায় ও সরবরাহে অনিয়ম প্রতিরোধের লক্ষ্যে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা মহানগরসহ ৪২টি জেলায় পরিচালিত এই অভিযানে ভোক্তা অধিকারবিরোধী বিভিন্ন অনিয়মের জন্য ১২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নিত্যপণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার সুযোগ নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অধিদপ্তরের ৫৬টি টিম একযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ও খুচরা বাজারে তদারকি কার্যক্রম চালায়।
অভিযান চলাকালে ফল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রয়মূল্য, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং ওজন ও পরিমাপের যথার্থতা যাচাই করা হয়। ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত দাম আদায় এবং পণ্যের সরবরাহে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি থেকে বিরত থাকতে।
বিশেষ করে ফলের বাজারে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পচা বা নষ্ট ফল ভালো ফলের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি এবং ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অননুমোদিত পদার্থ ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। ন্যায্য ও যৌক্তিক মূল্যে ফল বিক্রি এবং পণ্যের মান বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুত কিংবা পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের যথাযথ ভাউচার সংরক্ষণ এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে, অধিদপ্তর বাজারে কেনাকাটার ক্ষেত্রে ভোক্তাদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা যাচাই, সঠিক ওজন বুঝে নেওয়া এবং মোড়কজাত পণ্যের সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেনাকাটার রশিদ সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
যদি ভোক্তারা পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, ওজনে কারচুপি, ভেজাল কিংবা অন্য কোনো প্রতারণার শিকার হন, তাহলে তারা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানাতে পারবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী এ ধরনের তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ