ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রে আছড়ে পড়ল বছরের প্রথম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ইসাইয়াস’


যুক্তরাষ্ট্রে আছড়ে পড়ল বছরের প্রথম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ইসাইয়াস’

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে আঘাত করেছে ২০২৬ সালের আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ইসাইয়াস’। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ডেস্টিনের কাছে উপকূলে আছড়ে পড়ে এই ঘূর্ণিঝড়টি। এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০৫ মাইল বেগে বাতাস নিয়ে আঘাত হানার সময় দ্বিতীয় শ্রেণির শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, এমনটি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র।

ঘূর্ণিঝড়টি মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় মিসিসিপি নদীর মোহনা থেকে ফ্লোরিডার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত প্রাণঘাতী জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিস্তৃত এলাকায় ধ্বংসাত্মক বাতাস এবং তীব্র ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিনের শুরুতে ইসাইয়াস তৃতীয় শ্রেণির ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছিল। তবে এটি উপকূলে আঘাত হানার আগে দুর্বল হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে নেমে আসে। তবুও, জলোচ্ছ্বাস, বিপজ্জনক আবহাওয়া এবং আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা অব্যাহত ছিল।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল থেকেই উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের প্রভাব দেখা দিতে শুরু করে। জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক শহরগুলোতে অস্বাভাবিক নীরবতা নেমে আসে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ফ্লোরিডা, আলাবামা এবং জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতের মধ্যে ইসাইয়াস আরও দুর্বল হয়ে ক্রান্তীয় বৈশিষ্ট্য হারানো ঝড়ে পরিণত হতে পারে। তবে এর প্রভাবে ফ্লোরিডার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে ৯ ফুট পর্যন্ত এবং আলাবামা উপকূলে ৬ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসাইয়াস চলতি বছরের নবম ঝড় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে এটি ঘূর্ণিঝড় এবং বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়া প্রথম ঝড়। তৃতীয় বা তার চেয়ে উচ্চ শ্রেণির ঘূর্ণিঝড়কে বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে চলতি আটলান্টিক ঘূর্ণিঝড় মৌসুমকে ঐতিহাসিকভাবে শান্ত বলা হচ্ছিল। এর মধ্যেই ইসাইয়াসের শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়া নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

সূত্র: নোলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ অক্টোবর শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট, দোকান ও জাদুঘর বন্ধ থাকবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৮ পি.এম


১০ অক্টোবর শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট, দোকান ও জাদুঘর বন্ধ থাকবে

প্রতিদিন কেনাকাটার জন্য আমরা বিভিন্ন স্থানে যাই। কিন্তু অনেক সময় ভোগান্তির পর গিয়ে দেখি, সেখানে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, ফলে কাজ তো হয়ই না, বরং সময়ও নষ্ট হয়।

তাহলে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর কোন কোন এলাকার মার্কেট, দোকান ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে, তা আগে দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

যেসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকবে

শ্যামবাজার, বাংলাবাজার, চানখাঁরপুল, গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজারীবাগ, ধোলাইপাড়, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, দয়াগঞ্জ, ওয়ারী, স্বামীবাগ, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি, বংশাল, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ ও শাঁখারী বাজার।

যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে

নয়াবাজার, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, আজিমপুর সুপার মার্কেট, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠবাজার, চকবাজার, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট, বাবুবাজার ও শরিফ ম্যানশন।

যে দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে

শিশু একাডেমি জাদুঘর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। রবি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড সম্প্রচারে আপত্তি ভ্যান্সের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড সম্প্রচারে আপত্তি ভ্যান্সের

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ফোর্ট হুডে ২০০৯ সালে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সাংবাদিকদের তিনি জানান, মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হলেও তিনি তা দেখবেন না। তবে এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও হাসানের অপরাধ ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যান্স বলেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও হাসান যে অনেক নিরপরাধ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন, তা যেন কেউ ভুলে না যান।

২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা এবং আরও ৩২ জনকে আহত করার দায়ে হাসান দোষী সাব্যস্ত হন।

ভ্যান্স ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ক্যাথলিক গির্জা দীর্ঘদিন ধরেই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে আসছে।

এদিকে বুধবার (৭ অক্টোবর) টেক্সাসে এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে গুলি করে হত্যার প্রতি সমর্থন জানান। তার ভাষ্য, হাসান এ ধরনের শাস্তির যোগ্য।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট না করলেও ট্রাম্প গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে আবারও কথা বলেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, হাসানকে গুলি করে হত্যা করা হবে। কীভাবে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে, তা নিয়ে তিনি বিশেষ চিন্তিত নন; তবে হাসানের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড উপযুক্ত শাস্তি বলে মনে করেন তিনি। সরাসরি সম্প্রচার দেখবেন কি না, সে প্রশ্নের উত্তর দেননি ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশপদের সম্মেলনের প্রধান আর্চবিশপ পল এস কোকলিও শুক্রবার সকালে এ পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুদ্ধবিষয়ক দপ্তরের মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তের কথা জেনে তিনি মর্মাহত ও গভীরভাবে দুঃখিত। তার মতে, এ সিদ্ধান্ত মৃত্যুকে ঘিরে বর্বর সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে এবং তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

গত মাসের শেষ দিকে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর টেনেসির গভর্নর চলতি বছরে অঙ্গরাজ্যটিতে পরবর্তী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেন। এর কয়েক দিন পর ট্রাম্প হাসানের মৃত্যুদণ্ড গুলি করে কার্যকরের অনুমোদন দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির সামরিক বাহিনীতে গুলি করে কোনো সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। সামরিক বাহিনীতে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৬১ সালের ১৩ এপ্রিল। সে সময় সেনাবাহিনীর সদস্য জন বেনেটকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতারা তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের অনেকে এ সিদ্ধান্তকে ভয়াবহ ও ঘৃণ্য বলে আখ্যা দিয়ে প্রতিরক্ষা দপ্তরকে পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন।

উত্তর ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস বলেন, প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মতো ঘটনা ইরান ও আফগানিস্তানের মতো দমনমূলক শাসনব্যবস্থায় দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে এমন কিছু হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নারও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছেন। তার মতে, বিশ্বের প্রায় কোনো দেশই এ ধরনের বর্বর চর্চায় যুক্ত হয় না। আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকোস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বিচারব্যবস্থা পরিচালনা করে, তা গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিরক্ষা দপ্তরের উচিত সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা।

উটাহর রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিসও পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেছেন। প্রাচীন রোমের রক্তাক্ত বিনোদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করলে এ ধরনের নির্মম দৃশ্য দেখার আগ্রহ আরও বাড়তে পারে। এ কারণে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

সূত্র: এপি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ, চাপের মধ্যে মার্কিনরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ, চাপের মধ্যে মার্কিনরা

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি পেট্রলের দাম প্রতি গ্যালন ২ ডলারের নিচে নামানোর, গৃহঋণের সুদের হার ২ শতাংশে আনার এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির খরচ অর্ধেক করার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৬ সালের অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, নিত্যপণ্য, জ্বালানি, বাড়ি কেনা, বিমানভাড়া ও স্বাস্থ্যবিমার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অর্থনীতি নিয়ে অসন্তোষ বেড়ে চলেছে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে বেশ কিছু ক্ষেত্রে বড় ব্যবধান বিদ্যমান। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ব্যবধান ভোটারদের অসন্তোষের একটি প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক এবং বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে কম, তবে সাম্প্রতিক একটি জনমত জরিপে ১০ জনের মধ্যে ৯ জন মার্কিন নাগরিক বলেছেন, অর্থনীতি সম্পর্কে তাদের ধারণা নির্ধারণে পণ্যের দাম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, করোনাভাইরাস মহামারির পর পাঁচ বছর ধরে চলা মূল্যস্ফীতির প্রভাব এখনও কাটেনি। ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু নীতিও মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়িয়েছে। নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, আমদানি পণ্যে শুল্ক আরোপের কারণে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে গেছে। গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, এসব শুল্ক না থাকলে পণ্যের দাম কমতে পারত।

এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে তেল পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। এতে তেল, পেট্রল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে। বিনিয়োগ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই-পার্থেননের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগ ডাকোর মতে, ইরানে হস্তক্ষেপ এবং আমদানি পণ্যে শুল্ক আরোপের মতো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে সরবরাহসংক্রান্ত চাপ তৈরির অন্যতম কারণ।

অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে, যা আগস্টে ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এ হার অনেক বেশি।

তবে হোয়াইট হাউসের দাবি, ট্রাম্পের নীতি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলের মূল্যস্ফীতির সংকট থামিয়েছে এবং কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছে। প্রশাসনের মুখপাত্র টেলর রজার্সের ভাষ্য, ট্রাম্প কর্মজীবী মানুষের জন্য বড় ধরনের করছাড় দিয়েছেন, ব্যবস্থাপত্রের ওষুধের দাম কমিয়েছেন, বেসরকারি খাতে ১০ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন এবং প্রায় ২০টি বাণিজ্য চুক্তি করেছেন। হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, আগামী দুই বছরেও এসব নীতির সুফল পাওয়া যাবে।

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছেই

২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে বাড়িতে রান্নার জন্য কেনা খাবারের দাম বেড়েছে ৪ শতাংশ। এর আগের চার বছরে এ ধরনের খাবারের দাম বেড়েছিল ২৩ শতাংশ। অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আমদানি পণ্যে শুল্ক আরোপের কারণে খাবারের দাম বাড়ছে।

পেট্রল ও ডিজেলে বড় ধাক্কা

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৩৭ ডলার। ইরানে যুদ্ধ শুরুর আগের দিন, ২৭ ফেব্রুয়ারি, এ দাম ছিল ২ দশমিক ৯৮ ডলার। অর্থাৎ এ সময়ে পেট্রলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৭ শতাংশ। অক্টোবর মাসের হিসাবে পেট্রলের এ দাম রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে বলে জানিয়েছে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন।

ডিজেলের দামও বেড়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম রেকর্ড ৬ দশমিক ৫৩ ডলারে পৌঁছেছিল। বর্তমানে তা প্রায় ৬ দশমিক ২৮ ডলার। পণ্য পরিবহন, কৃষি ও নির্মাণকাজে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার থাকায় এর দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন খাতের ব্যয়ে পড়ছে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলেও স্বস্তি নেই

২০২৬ সালের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলো বিদ্যুৎ, প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পরিষেবার জন্য মাসে গড়ে ২৮০ ডলার ব্যয় করছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত আবাসিক বিদ্যুতের গড় মাসিক ব্যয় বেড়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

পুরোনো বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা সংস্কার, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং তথ্য সংরক্ষণকেন্দ্রের সম্প্রসারণকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত আবাসিক প্রাকৃতিক গ্যাসের গড় মাসিক দাম বেড়েছে ১০৬ শতাংশ।

শীত মৌসুমে ঘর গরম রাখার খরচ আরও বাড়তে পারে। জাতীয় জ্বালানি সহায়তা পরিচালকদের সংগঠনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ২০২৭ সালের মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত ঘর গরম রাখতে মার্কিন পরিবারগুলো গড়ে ১ হাজার ৩০ ডলার ব্যয় করতে পারে। জ্বালানি তেল ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এ ব্যয় তিন মাসে গড়ে ২ হাজার ৬২৭ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।

গাড়ির বিমায় কিছুটা স্বস্তি

ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিছুটা কমেছে গাড়ির বিমার খরচ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকে গাড়ির বিমার খরচ ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মহামারির পর বিমার খরচ বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের আপত্তি এবং বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির কারণে এ পতন ঘটেছে। কনফারেন্স বোর্ডের অর্থনীতিবিদ ইয়েলেনা শুলিয়াতিয়েভার মতে, এ ক্ষেত্রে সরকারের নীতির চেয়ে গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া ও বাজারের প্রতিযোগিতাই বেশি ভূমিকা রেখেছে।

বাড়ি কেনা এখনো ব্যয়বহুল

গৃহঋণের সুদের হার ২ শতাংশে নামানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ফ্রেডি ম্যাকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩০ বছর মেয়াদি নির্দিষ্ট সুদের গৃহঋণের গড় হার ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার সময় এ হার ছিল ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ।

বাড়ির দামও বেড়েছে। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির গড় তালিকামূল্য ছিল ৪ লাখ ৮ হাজার ৩৩৩ ডলার, যা ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি।

আটলান্টার ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাড়ি কেনার সামর্থ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় বার্ষিক আয় ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৮৭ ডলার। অথচ দেশটির মধ্যম বার্ষিক আয় ৮৬ হাজার ৪৯০ ডলার। প্রয়োজনীয় আয় ও প্রকৃত আয়ের এ ব্যবধান ২০০৫ সালের পর সবচেয়ে বেশি।

ক্রেডিট কার্ডের সুদ ২০ শতাংশের ওপরে

ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার ১০ শতাংশে সীমিত করার প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি। ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট কার্ডে গড় সুদের হার ২০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার সময় এ হার ছিল ২১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

প্রস্তাবটি নিয়ে দুই দলের আইনপ্রণেতাদের সমর্থন থাকলেও তা কার্যকর করার উদ্যোগ থেমে গেছে। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সুদের হার ১০ শতাংশে বেঁধে দিলে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার আগ্রহ কমতে পারে। এতে কিছু গ্রাহকের জন্য ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিমানভাড়া বেড়েছে ১৭ শতাংশ

২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে বিমানভাড়া বর্তমানে ১৭ শতাংশ বেশি। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম বেড়েছে। জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের হিসাবে, বর্তমানে প্রতি গ্যালন উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম ৪ দশমিক ৩৪ ডলার, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির গড় দামের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেশি।

এছাড়া স্বল্পমূল্যে বিমানসেবা দেওয়া স্পিরিট এয়ারলাইনস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে প্রতিযোগিতা কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটিও বিমানভাড়া বাড়ার অন্যতম কারণ।

স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়েছে ৫৮ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমা আইনের আওতায় থাকা গ্রাহকদের গড় মাসিক বিমার কিস্তি ২০২৫ সালের তুলনায় ৫৮ শতাংশ বেড়ে ১৭৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বছরে গড় ব্যয় ২ হাজার ১৩৬ ডলার।

স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেএফএফের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে বিমার আওতায় চিকিৎসা নেওয়ার আগে গ্রাহককে নিজের পকেট থেকে যে অর্থ পরিশোধ করতে হয়, সেই গড় পরিমাণও বেড়েছে। গত বছরের শেষে বিমার খরচ কমাতে দেওয়া কর-সহায়তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়াকে এর একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে গ্রাহকদের কিছুটা স্বস্তি দিতে ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ৩০টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ১০ লাখ স্বাস্থ্যবিমা গ্রাহকের কাছে ৫০০ ডলারের চেক পাঠানো শুরু করেছে।

ওষুধের দাম কমেছে

অন্যদিকে, ব্যবস্থাপত্রের ওষুধের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকে ওষুধের দাম ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এ সাফল্যের কৃতিত্ব নিজেদের নীতিকে দিলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং কম দামের বিকল্প ওষুধের সরবরাহ বাড়ার মতো বিষয়ও এতে ভূমিকা রেখেছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে কিছু ইতিবাচক চিত্র থাকলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তব পরিস্থিতির ব্যবধান আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলকাতায় মুসলিমদের পানি সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন তৃণমূল সাংসদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ পি.এম


কলকাতায় মুসলিমদের পানি সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন তৃণমূল সাংসদ

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের অধীনে কলকাতার জ্যোতি নগর কলোনির মুসলিম বাসিন্দাদের জন্য পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের হস্তক্ষেপের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সমীরুল ইসলাম একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। খবরটি প্রকাশ করেছে আউটলুক ইন্ডিয়া।

সমীরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চিঠির একটি অনুলিপি শেয়ার করে অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জ্যোতি নগর কলোনিতে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তার বক্তব্য, কলোনির বাসিন্দাদের মুসলিম হওয়া এবং বিজেপির তথাকথিত ‘ভোট ব্যাংক’-এর অংশ হিসেবে বিবেচিত না হওয়ার কারণে তারা এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধানকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠিতে সমীরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, জ্যোতি নগর কলোনির পানি সংকট শুধুমাত্র পৌর পরিষেবার ব্যর্থতা নয়, বরং এটি বাসিন্দাদের মৌলিক মানবাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুতর সমস্যা।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপদ পানীয় জল থেকে মানুষের বঞ্চনা কোনো সাধারণ পৌর সমস্যা হতে পারে না। নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা মানুষের মৌলিক অধিকারের অংশ। পানি সংকটের কারণে কলোনির বাসিন্দারা স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও উপযুক্ত জীবনযাপনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।

সমীরুল ইসলাম আরও বলেন, জ্যোতি নগর কলোনির বাসিন্দারা কোনো বিশেষ সুবিধা চাইছেন না; বরং তাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক অধিকারটুকুই দাবি করছেন।

চিঠিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘস্থায়ী পানীয় জলের সংকটের কারণে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে, জ্যোতি নগর কলোনির বাসিন্দারা কেন দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত পানীয় জল পাচ্ছেন না, তা খতিয়ে দেখতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তৃণমূলের এই সংসদ সদস্য। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য এবং সংকটের কারণ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে সংস্থাটির কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%