ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়িত্ব হারালেন সিলেটের শ্রেষ্ঠ ওসি


চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়িত্ব হারালেন সিলেটের শ্রেষ্ঠ ওসি

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম খানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

একই আদেশে তাকে সিলেটের জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌ. মো. যাবের সাদেক স্বাক্ষরিত এক আদেশের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বালু ও পাথর সিন্ডিকেটের কাছ থেকে পুলিশের চাঁদা আদায়ের অভিযোগে কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এই অভিযোগের কারণে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম খানকে ক্লোজড করা হয়েছে।

প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সম্রাট তালুকদার। তিনি এ বিষয়ে বলেছিলেন, পুলিশের নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম খানকে ক্লোজড করা হয়েছে।

ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়। পরবর্তীতে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এর আগে, ২৫ ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি সব ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করার মাধ্যমে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নরসিংদীতে পৌরসভার চুরি যাওয়া ৩টি যানবাহন উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১১ পি.এম


নরসিংদীতে পৌরসভার চুরি যাওয়া ৩টি যানবাহন উদ্ধার

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা মোড়ে অবস্থিত চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং মটর ওয়ার্কস গ্যারেজে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ কর্তৃপক্ষ অভিযান পরিচালনা করে মাধবদী পৌরসভার ২টি ড্রাম ট্রাক ও ১টি পে-লোডার উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসন।

এটি একটি বিশেষ অভিযান ছিল, যা শুক্রবার জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. খালিদ হোসেন শিমুলের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া যানবাহনগুলোতে কোনো নিবন্ধন নম্বর প্লেট পাওয়া যায়নি। তবে মাধবদী পৌরসভার কর্মচারী বজলু, হাসান, কামাল, আল-আমিন ও শহীদ যানবাহনগুলোকে পৌরসভার সম্পত্তি হিসেবে শনাক্ত করেছেন। গ্যারেজের মালিক তাজুল ইসলামও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদে তাজুল ইসলাম জানান, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর অনেক আগে মাধবদী পৌরসভা থেকে ৪টি ড্রাম ট্রাক ও ১টি পে-লোডার মেরামতের জন্য তাঁর গ্যারেজে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ২টি ড্রাম ট্রাক মেরামত শেষে ৫ আগস্ট ২০২৪-এর আগেই তৎকালীন পৌর মেয়রের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অবশিষ্ট ২টি ড্রাম ট্রাক ও ১টি পে-লোডার দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর গ্যারেজে সংরক্ষিত ছিল।

তিনি আরও স্বীকার করেন যে, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর এসব যানবাহনের বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি আর কোনো যোগাযোগ করেননি, যা তিনি নিজেই ভুল বলে মনে করেন।

জেলা প্রশাসন জানায়, উদ্ধারকৃত যানবাহনগুলো মাধবদী পৌরসভায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাঙ্গলকোটে গ্রামীণ সড়কের বেহাল চিত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৪ পি.এম


নাঙ্গলকোটে গ্রামীণ সড়কের বেহাল চিত্র

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ডাকাতিয়া নদীর কোলে অবস্থিত গ্রাম চাঁন্দপুর। এই গ্রামটি নাঙ্গলকোট উপজেলার অবহেলিত গ্রাম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গ্রামটিতে প্রায় ১শ’ পরিবারের সহস্রাধিক মানুষের বসবাস রয়েছে। স্বাধীনতার দীর্ঘ সাড়ে ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে নির্মাণ করা হয়নি কোন পাকা সড়ক। গ্রামের একমাত্র প্রধান কাঁচা রাস্তাটি এখনো অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে।

গ্রামের একপাশ থেকে অপর পাশের এক কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা মাটির রাস্তাটিও বছর ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা কাদায় পরিণত হয়ে যায়। সে সময় যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পক্ষে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এর ফলে শিক্ষার্থী, বয়স্ক, নারী, শিশু এবং অসুস্থ রোগীরা প্রতিনিয়ত সীমাহীন দুর্ভোগ ভোগ করে। কাদার কারণে জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনো যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারেনা। ফলে রোগী, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে যায়।

চাঁন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন শরিফ জানিয়েছেন, গ্রামবাসী দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বছরের পর বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কোনো উন্নয়নকাজ না হওয়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

এদিকে, চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও হবিগঞ্জের ফতেহপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের তালুকদার, একই গ্রামের ব্যবসায়ী শাহজালাল এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মী শাহাদাত তালুকদার বলেছেন, একটি পাকা সড়ক শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাকেই উন্নত করবে না, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন, রোগীদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে দাবি জানিয়েছেন, যেন সরেজমিনে পরিদর্শন করে জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মাটির সড়ক সংস্কার ও পাকাকরণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে রাস্তাটি পাকাকরণে গ্রামবাসীর ন্যায্য দাবির বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি গ্রামের মানুষের সড়কের দুর্ভোগ মুছে যাবে এটিই এখন সময়ের দাবি।

রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার জিয়াউল হক জিতু জানান, রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার অবহিত করলেও ব্যর্থ হয়েছি। রাস্তাটিতে মাটি দিলেও তা থাকে না। নদীর পাশে গার্ড ওয়াল নির্মাণ ব্যতীত রাস্তায় মাটি রাখা সম্ভব নয়।

রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক উত্তম কুমার পাল জানান, আমি এ ইউনিয়নে দায়িত্ব নেয়ার পর কোন বরাদ্দ পাইনি। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে মাটির রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করব।

নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুল ইসলাম সিকদার জানিয়েছেন, চাঁন্দপুর গ্রামের দু’টি রাস্তার প্রস্তাব আছে এবং আমরা ইস্টিমেট করে পাঠাবো। আশা করছি আগামী ৩ মাসের মধ্যে পাকাকরণ সম্পন্ন করে পাঠাতে পারবো।

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেছেন, বিষয়টি আমি আপনার মাধ্যমে জেনেছি। স্থানীয়দের দুর্ভোগ লাঘব করতে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যার্তদের চিকিৎসায় মাঠে নামছে যুবদলের মেডিকেল টিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


বন্যার্তদের চিকিৎসায় মাঠে নামছে যুবদলের মেডিকেল টিম

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা এবং পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে এসব টিম দুর্গত মানুষের চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

শুক্রবার যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর; সিলেট বিভাগের সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসহ ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এ মেডিকেল টিম কাজ করবে।

মেডিকেল টিমের সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি ডা. লোহানী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

এছাড়া টিমের সদস্য হিসেবে রয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. গালিব হাসান, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. বেলাল হোসেন নাজিম, সহ-স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. মাহমুদুল হাসান খান সুমন এবং সহ-স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. আল মামুন হাসান খান এমিল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে ভেসে প্রাণ গেল দুই শিশুর, বাড়ছে দুর্ভোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২১ পি.এম


বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে ভেসে প্রাণ গেল দুই শিশুর, বাড়ছে দুর্ভোগ

১১ বছরের আশিক বাড়ি ফিরছিল। চারপাশে তখন পানি ছিল থইথই। হঠাৎ করে প্রবল স্রোতে পড়ে যায় সে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একই সময় চার থেকে পাঁচ বছরের মিরাজও সে ইউনিয়নে খেলতে গিয়ে স্রোতের পানিতে তলিয়ে যায়। দুই শিশুর মৃত্যুর ফলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার আজিম বলেছেন, নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পর আশিক বাড়ি ফিরছিল। ওই পথে পানির প্রবল স্রোতে সে পড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে একই ইউনিয়নের বাসিন্দা দিদারুল আলম জানান, মিরাজ অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। আচমকাই সে স্রোতের পানিতে পড়ে যায়। পুলিশ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টির তীব্রতা শুক্রবার কিছুটা কমলেও জেলার গ্রামীণ জনপদে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিশেষভাবে বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানিতে তলিয়ে আছে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর, আবার কোথাও বুকসমান পানি জমে গেছে ঘরবাড়ির উপর। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ নেই, এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট তৈরি হয়েছে। পানিবন্দি মানুষ খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দুর্দশায় ভুগছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে বন্যায় প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাহাড়ধস ও পানিতে ভেসে মারা গেছে পাঁচজন। দুর্গত মানুষের জন্য ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

বাঁশখালী এবং সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। অনেক বাড়িতে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। নলকূপ তলিয়ে যাওয়ার কারণে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বাণিজ্যিক মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কোথাও কোথাও বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা উপকূলীয় মানুষের উদ্বেগকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

সরকারি হিসাবে, বাঁশখালীর ১৫টি ইউনিয়নের ২১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কিছু জায়গায় হাঁটু, কিছু জায়গায় কোমর, আবার কিছু জায়গায় বুকসমান পানি জমে রয়েছে। সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে ডুবে গেছে। ডলু খালের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। উপজেলাটিতে দুই লাখের বেশি মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি রয়েছেন।

রত্নপুর গ্রামের বাসিন্দা ছগির আহমেদ বলেছেন, ‘উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় পানি ওঠা आम, তবে এবারের মতো পুরো উপজেলা ডুবে যাওয়ার ঘটনা আমি জীবনে কখনো দেখিনি।’

জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের জন্য শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওরস্যালাইন, শিশু খাদ্যের মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। একইসাথে নারী, শিশু, প্রবীণ এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবাও নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১১৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে মাত্র ৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে আগামী দুই দিনও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১০ জুলাই- এই ছয় দিনে চট্টগ্রামে মোট ১ হাজার ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এটি চট্টগ্রামের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%