প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
১১ বছরের আশিক বাড়ি ফিরছিল। চারপাশে তখন পানি ছিল থইথই। হঠাৎ করে প্রবল স্রোতে পড়ে যায় সে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একই সময় চার থেকে পাঁচ বছরের মিরাজও সে ইউনিয়নে খেলতে গিয়ে স্রোতের পানিতে তলিয়ে যায়। দুই শিশুর মৃত্যুর ফলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার আজিম বলেছেন, নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পর আশিক বাড়ি ফিরছিল। ওই পথে পানির প্রবল স্রোতে সে পড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে একই ইউনিয়নের বাসিন্দা দিদারুল আলম জানান, মিরাজ অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। আচমকাই সে স্রোতের পানিতে পড়ে যায়। পুলিশ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টির তীব্রতা শুক্রবার কিছুটা কমলেও জেলার গ্রামীণ জনপদে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিশেষভাবে বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানিতে তলিয়ে আছে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর, আবার কোথাও বুকসমান পানি জমে গেছে ঘরবাড়ির উপর। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ নেই, এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট তৈরি হয়েছে। পানিবন্দি মানুষ খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দুর্দশায় ভুগছেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে বন্যায় প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাহাড়ধস ও পানিতে ভেসে মারা গেছে পাঁচজন। দুর্গত মানুষের জন্য ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
বাঁশখালী এবং সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। অনেক বাড়িতে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। নলকূপ তলিয়ে যাওয়ার কারণে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বাণিজ্যিক মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কোথাও কোথাও বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা উপকূলীয় মানুষের উদ্বেগকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
সরকারি হিসাবে, বাঁশখালীর ১৫টি ইউনিয়নের ২১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কিছু জায়গায় হাঁটু, কিছু জায়গায় কোমর, আবার কিছু জায়গায় বুকসমান পানি জমে রয়েছে। সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে ডুবে গেছে। ডলু খালের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। উপজেলাটিতে দুই লাখের বেশি মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি রয়েছেন।
রত্নপুর গ্রামের বাসিন্দা ছগির আহমেদ বলেছেন, ‘উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় পানি ওঠা आम, তবে এবারের মতো পুরো উপজেলা ডুবে যাওয়ার ঘটনা আমি জীবনে কখনো দেখিনি।’
জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের জন্য শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওরস্যালাইন, শিশু খাদ্যের মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। একইসাথে নারী, শিশু, প্রবীণ এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১১৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে মাত্র ৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে আগামী দুই দিনও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১০ জুলাই- এই ছয় দিনে চট্টগ্রামে মোট ১ হাজার ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এটি চট্টগ্রামের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন