ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

কালিয়াকৈরের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বিক্ষোভ অব্যাহত


কালিয়াকৈরের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বিক্ষোভ অব্যাহত

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরের পর থেকে বেতন ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করছে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারখানা কর্তৃপক্ষ ১৮টি শিল্প কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের কারণে হাজারো যাত্রী ও চালক দুর্ভোগে পড়েছেন। শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরে আসার জন্য পুলিশ তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছে। তবে শ্রমিকরা পুলিশের অনুরোধ অগ্রাহ্য করে মহাসড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা মহাসড়কে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পুলিশের দিকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছে। বর্তমানে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: সিলেটে প্রেমের টানে চীনা নাগরিকের বিয়ে, ধর্মান্তরিত হয়ে মুক্তি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে জামায়াত: শফিকুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১২ পি.এম


গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে জামায়াত: শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত একের পর এক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে খুলনা থেকে ঢাকায় যাওয়ার ডাক দেওয়া হলে গ্রাম-বাংলার মানুষকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) খুলনার শিববাড়ি মোড়ে ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে ঐক্যের লংমার্চের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, দাবিগুলো কোনো রাজনৈতিক বা নির্বাচনী দাবি নয়; বরং দেশের প্রত্যেক নাগরিকের দাবি। তিনি বলেন, জুলাই গণহত্যা এবং গত সাড়ে ১৫ বছরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, চাঁদাবাজি বন্ধ, অর্থ পাচার রোধ এবং কৃষকের সার নিশ্চিত করার জন্য মাঠে নামা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এখন গণভোটের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে তারা।

কার্ড বিতরণের প্রচার করা হলেও সাধারণ মানুষ এর সুফল পাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একইসঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলের মাধ্যমে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ তৈরির অভিযোগও করেন।

কৃষকের সার সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়োগ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করে কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, ১১ দলের বিজয় নয়, বরং তারা চান দেশের প্রতিটি নাগরিকের বিজয় ও মুক্তি। শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলতে থাকবে।

জাতির সঙ্গে বেইমানি না করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, কোনো আপসও করা হবে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাড়ে তিনশ টেস্ট উইকেট শিকারে দ্রুততম রাবাদা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১২ পি.এম


সাড়ে তিনশ টেস্ট উইকেট শিকারে দ্রুততম রাবাদা

কেপটাউন টেস্টের আজকের খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাগিসো রাবাদা জোড়া আঘাত হানেন। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারে তিনি ম্যাট রেনশ ও মার্নাস লাবুশেনকে সাজঘরে পাঠান।

ডানহাতি পেসার এখানেই থেমে যাননি, ট্রাভিস হেডকে শিকার করে অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় উইকেটটিও নিজের ঝুলিতে পুড়েন তিনি। হেডের উইকেটটি রাবাদার জন্য অন্য দুটি উইকেটের মতো নয়, বরং এটি বিশেষ। এই উইকেটের মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটে সাড়ে ৩০০ উইকেট শিকারে বলের হিসাবে দ্রুততম বনে গেছেন তিনি।

রাবাদা ৩৫০ উইকেট নিয়েছেন ১৩ হাজার ৮০৮ বল করে। এই তালিকায় পরবর্তী কয়েকটি নাম কিংবদন্তিদের। ডেল স্টেইন ১৪ হাজার ৭১৯, ওয়াকার ইউনিস ১৪ হাজার ৯০৫, ম্যালকম মার্শাল ১৬ হাজার ২৮৫ এবং মিচেল স্টার্ক ১৬ হাজার ৯০৮ বল করে সাড়ে তিনশর ক্লাবে প্রবেশ করেন।

ম্যাচের হিসাবে ৩৫০ উইকেট শিকারে রাবাদা যৌথভাবে চতুর্থ দ্রুততম, মার্শালের সঙ্গে। তিনি এখন পর্যন্ত মোট ৭৫ ম্যাচ খেলেছেন। সবচেয়ে দ্রুততম রিচার্ড হ্যাডলি ও স্টেইন, যাদের দুজনের লেগেছে ৬৯ ম্যাচ। ডেনিস লিলি এক ম্যাচ বেশি খেলে ৩৫০ উইকেট নিয়েছেন। গ্লেন ম্যাকগ্রা ৭৪, ইউনিস ৭৮ ও ইমরান খান ৭৯ ম্যাচ খেলে ৩৫০ উইকেট নিয়েছেন।

রাবাদার তোপের পর সাইমন হারমার ঘূর্ণি জাদু দেখিয়েছেন। তিনিও টানা তিনটি উইকেট নিয়েছেন। এর ফলে অস্ট্রেলিয়া ৬২ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারিয়ে হারের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। ২৮৮ রানের লক্ষ্য পাওয়া দলের সামনে আরও ২২৬ রানের পাহাড়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্ণফুলীর উপর দেশের প্রথম চার লেনের ক্যাবল-স্টেইড সেতু নির্মাণের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১২ পি.এম


কর্ণফুলীর উপর দেশের প্রথম চার লেনের ক্যাবল-স্টেইড সেতু নির্মাণের উদ্যোগ

দেশের প্রথম চার লেনের ‘ক্যাবল-স্টেইড’ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে খরস্রোতা কর্ণফুলী নদীর ওপর। সেতুর মূল কাঠামো উঁচু পাইলন বা স্তম্ভ থেকে টানা ইস্পাতের তারের সাহায্যে ধরে রাখা হবে। আধুনিক এই সেতু, যা দেখতে বীণার তারের মতো, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণ হয়ে উঠবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর রাঙামাটির কাপ্তাই ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সংযোগস্থলে কর্ণফুলী নদীর চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরিঘাট এলাকায় সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ৫৩২ মিটার দীর্ঘ এই সেতু চালু হলে চন্দ্রঘোনা ফেরির ওপর নির্ভরশীল রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলার মানুষের প্রায় চার দশকের ভোগান্তি কমবে।

সওজ সূত্র জানাচ্ছে, ১৯৮৯ সালে রাঙামাটির সঙ্গে রাজস্থলী ও বান্দরবান জেলার যোগাযোগ সহজ করতে কর্ণফুলী নদীতে রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনায় ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়। ৩৭ বছর পরও কেবল একটি ফেরির মাধ্যমেই দুই পাড়ের শত শত যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এই ফেরি ব্যবস্থাই বর্তমানে ভোগান্তির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পন্টুনের সমস্যা, ডুবোচর কিংবা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে যাত্রী ও চালকদের দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সওজ রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা গণমাধ্যমকে জানান, সেতুটির মূল অংশের দৈর্ঘ্য হবে ৫৩২ মিটার, যা স্টিল ও কংক্রিটের সমন্বয়ে নির্মিত হবে। এতে ৪৫৫ মিটার ভায়াডাক্ট এবং ১ হাজার ২৫০ মিটারের বেশি দীর্ঘ এলিভেটেড সড়ক থাকবে। এই চার লেনের সেতুতে আধুনিক ‘ব্রিজ স্মার্ট হেলথ মনিটরিং সিস্টেম’ যুক্ত করা হবে, যা সেতুর অবস্থা ও স্থায়িত্ব নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে। এছাড়া স্বয়ংক্রিয় টোল প্লাজা থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ক্যাবল-স্টেইড সেতুতে সেতুর সড়কপথের ভার মূল টাওয়ার বা পিলারের সঙ্গে যুক্ত তির্যক তারের মাধ্যমে বহন করা হয়। শক্তিশালী স্টিলের তারের সাহায্যে সেতুর ডেক বা চলাচলের পথ টাওয়ারের সঙ্গে যুক্ত থাকে। টাওয়ার, তার ও ডেক একসঙ্গে সেতুর ভার বহন করে, ফলে নদীর মাঝখানে পিলার নির্মাণের প্রয়োজন হয় না। এর ফলে বড় পরিসরের স্প্যান তৈরি করা সম্ভব হয়, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌযান চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে না।

নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, রাঙামাটি-বান্দরবান আঞ্চলিক মহাসড়কের (আর-১৬১) ২১তম কিলোমিটারে সেতুটি নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ৭ দশমিক ৫২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণে ২৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেতুর চূড়ান্ত নকশা তৈরি করে প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন ডিপিপি পুনর্গঠন করে আবার পাঠাতে হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। ২০৩১ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে যান চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে ফেরিতে একবারে মাত্র ৮ থেকে ১০টি ট্রাক বা বাস এবং ১৫ থেকে ২০টি ছোট ও হালকা যানবাহন পারাপার করা যায়। একবার নদী পার হতে আধা ঘণ্টা, কখনো এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। কর্ণফুলী নদীতে স্রোত বাড়লে, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধের গেট খুলে দিলে কিংবা নদীতে পানি কমে গেলে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সেতুটি চালু হলে দীর্ঘদিনের ফেরি পারাপারের দুর্ভোগ কমবে। এর ফলে পর্যটন ও বাণিজ্যে গতি আসবে, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।

চন্দ্রঘোনার ব্যবসায়ী ফরিদ আহমদ জানান, চন্দ্রঘোনা ফেরি দিয়ে দৈনিক ৯০০ থেকে ১ হাজার ছোট-বড় যানবাহন পারাপার হয়। তবে ফেরির কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকে ছোট ছোট সাম্পানে নদী পার হন।

তিনি বলেন, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলার কয়েক লাখ মানুষ চন্দ্রঘোনা ফেরির ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্যও তিন পার্বত্য জেলা ঘুরে কক্সবাজার যাওয়ার এই পথটি বেশ জনপ্রিয়।

কাপ্তাইয়ের রাইখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা থোয়াই অং মারমা বলেন, ‘ফেরি অচল থাকলে আমরাও থেমে থাকি। দুই-তিন মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা, কখনো তারও বেশি সময় লাগে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন জরুরি রোগীরা। রাত-বিরাতে অ্যাম্বুলেন্সকেও ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অথচ সেতু থাকলে কয়েক মিনিটেই নদী পার হওয়া যেত।’

রাইখালী বাজারের ব্যবসায়ী তনয় তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ফেরির ঝামেলায় পাহাড়ি এলাকার কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছানো যায় না। অনেক সময় ফেরি বিকল হয়ে মাঝনদীতে আটকে পড়ে। এই সেতু হলে বান্দরবান ও রাঙামাটির সঙ্গে ব্যবসার চেহারাটাই বদলে যাবে।

ট্রাকচালক রহিম উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন ইট আনা-নেওয়ার কাজে তাকে এই ফেরি পার হতে হয়। কখনো এক ঘণ্টায় নদী পার হওয়া যায়, আবার কখনো দীর্ঘ যানজটে বসে থাকতে হয়। সেতুটি হলে সময়ের অপচয় ও জীবনের ঝুঁকি—দুটিই কমবে।

সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কীর্তি নিশান চাকমা জানান, সেতুটি শুধু যাতায়াত সহজ করবে না, রাঙামাটি ও বান্দরবানের পর্যটনশিল্পের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ‘দুই পার্বত্য জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে পর্যটনশিল্পের বিকাশে এই সেতু মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’

কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, চন্দ্রঘোনায় সেতু নির্মাণ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং দুই জেলার আর্থসামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে।

রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাস্টার খলিলুর রহমান শেখ বলেন, সেতু নির্মাণ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য বান্দরবান, রাজস্থলী, চন্দ্রঘোনা, রাইখালী, রাঙ্গুনিয়া ও কাপ্তাই এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জন্ম কারাগারে, সংগ্রাম ও মেধায় ১৮ বছর বয়সেই হার্ভার্ড জয় তরুণীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৩ পি.এম


জন্ম কারাগারে, সংগ্রাম ও মেধায় ১৮ বছর বয়সেই হার্ভার্ড জয় তরুণীর

অরোরা স্কাই কাস্টনার, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি কারাগারে জন্মগ্রহণ করেন, মাত্র ১৮ বছর বয়সে সংগ্রাম, মেধা এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পান। ২০২৩ সালে কনরো হাই স্কুল থেকে অসাধারণ ফলাফল নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন তিনি। হার্ভার্ডে ভর্তির আবেদনের ব্যক্তিগত রচনায় তিনি নিজের জীবনের কঠিন শুরুর কথা তুলে ধরে লিখেছিলেন, "আমার জন্ম কারাগারে।"

অরোরার জন্ম টেক্সাসের গ্যালভেস্টন কাউন্টি জেলে, যেখানে তার মা কারাভোগ করছিলেন। জন্মের কয়েক দিন পর তার বাবা তাকে কারাগার থেকে নিয়ে আসেন এবং পরে টেক্সাসের কনরো শহরে বাবার কাছে বেড়ে ওঠেন। বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত বাবা একা মেয়ে অরোরাকে বড় করেন। মায়ের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না এবং ১৪ বছর বয়সে মাত্র একবার মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল।

শৈশব থেকেই অরোরা পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান। ২০২৩ সালের ২৫ মে কনরো হাই স্কুল থেকে নিজের ব্যাচের তৃতীয় সর্বোচ্চ ফলাফল নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেন। অসাধারণ একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি সামা কাম লাউডে সম্মাননা অর্জন করেন।

অরোরার এই সাফল্যের পেছনে শুধুমাত্র তার নিজের পরিশ্রম নয়, বরং একজন মেন্টরেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। স্কুলের একটি কমিউনিটি মেন্টরিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে মোনা হ্যাম্বির সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। স্কুল কর্তৃপক্ষের দেওয়া একটি নোট থেকে প্রথম অরোরার কথা জানতে পারেন হ্যাম্বি। নোটটি পড়ে তার মনে হয়েছিল, মেয়ে অত্যন্ত মেধাবী। হিউস্টন ক্রনিকলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সেই নোটটি এখনো তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

মেন্টর হিসেবে অরোরার পাশে দাঁড়ান মোনা হ্যাম্বি। নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাকে উৎসাহ দিতে থাকেন। তাদের সম্পর্ক শুধুমাত্র স্কুলে সপ্তাহে একদিন দুপুরের খাবার খাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অরোরার স্বপ্ন পূরণে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেন হ্যাম্বি ও তার স্বামী। ২০২২ সালের মার্চে তারা অরোরাকে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে দেখাতে নিয়ে যান।

হার্ভার্ডের ক্যাম্পাসে সেই সফর অরোরার সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করে। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির আর্লি অ্যাকশন প্রক্রিয়ায় আবেদন করেন এবং ভর্তির সুযোগ পান। তার জন্য পূর্ণ শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়। কারাগারে জন্ম নেওয়া এবং একক অভিভাবকের পরিবারে বেড়ে ওঠা এই তরুণীর শিক্ষাজীবনের সাফল্য তখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসে।

নিজের বেড়ে ওঠার পরিবেশের সঙ্গে মেন্টরের পরিবারের পরিবেশের পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেছেন অরোরা। তিনি জানান, হ্যাম্বির পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ভিন্ন ধরনের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। সেই অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন তিনি। অরোরার কাছে মেন্টরের সহযোগিতা শুধুমাত্র পড়াশোনার পরামর্শ ছিল না, বরং নিজের ভবিষ্যৎকে আরও বড় পরিসরে কল্পনা করার সুযোগও তৈরি করেছিল।

২০২৩ সালে প্রকাশিত অরোরার এই জীবনকাহিনি শিক্ষা ও মেন্টরশিপের গুরুত্বকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসে। হার্ভার্ডে পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আইন নিয়ে কাজ করার আগ্রহের কথাও তিনি জানিয়েছেন। কারাগারে জন্মের পর বাবার কাছে বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার যাত্রায় ছিল ব্যক্তিগত অধ্যবসায়, পারিবারিক সহযোগিতা এবং একজন মেন্টরের দীর্ঘদিনের সমর্থন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%