০৫:৫৩ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ২০২৬ সালের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাইকে এই পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য তিনি নোবেল কমিটিকে সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের মতে, পুরস্কারটি যুক্তরাষ্ট্রের, বিশেষ করে তার নিজের প্রাপ্য ছিল। তিনি মন্তব্য করেন, এই সিদ্ধান্ত নরওয়ের জন্য ‘অমোচনীয় কলঙ্ক’ হয়ে থাকবে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে নিউইয়র্কের সিরাকিউজে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার এমন একজন উদারপন্থী ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছে, যিনি জাতিসংঘে কাজ করেন এবং যাকে কেউ চেনেন না। তিনি পিল্লাইকে অভিনন্দন জানালেও, তার নাম আগে কখনো শোনেননি বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন নাভি পিল্লাই, যিনি শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় তার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার অর্জন করেছেন। নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি জানিয়েছে, পিল্লাই জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন। গাজা নিয়ে ওই কমিশনের প্রতিবেদনকে ইসরায়েল কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ট্রাম্পের দাবি, তিনি যেসব যুদ্ধ বন্ধ করেছেন, সেগুলোতে জাতিসংঘের কোনো ভূমিকা ছিল না। তার ভাষ্যমতে, যুদ্ধগুলো সমাধানের সময় তিনি জাতিসংঘের সঙ্গে কথা বলেননি, কারণ সংস্থাটি তাকে কোনো সহায়তা করেনি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রতিনিধিত্বে দেশটিরই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার দাবি করেন তিনি।
এরপর ট্রাম্প নরওয়ের দিকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত নরওয়ে এবং যারা এটি নিয়েছেন, তাদের জন্য অমোচনীয় কলঙ্ক। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, কিছু উগ্র মতাদর্শীর কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কারের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, নরওয়েকে যুক্তরাষ্ট্র ভুলে যাবে না এবং পুরস্কার না পাওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অন্যায় আচরণের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
সমাবেশে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন এবং এর যেকোনো একটির জন্যই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। তিনি ভারত-পাকিস্তান, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান, কসোভো-সার্বিয়া, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র-রুয়ান্ডা, ইসরায়েল-হামাস এবং ইসরায়েল-ইরানের সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংসের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা থেকে ঠেকিয়েছেন। তার দাবি, ইরানকে থামানো না গেলে ইউরোপসহ আরও বিস্তৃত অঞ্চল হুমকির মুখে পড়তে পারত।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
গাজা থেকে ইসরায়েলি জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও তিনি নিজের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন। ট্রাম্প দাবি করেন, জীবিত ও মৃত মিলিয়ে শেষ ২৮ জনসহ সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ কাজে হামাসের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। নিহত জিম্মিদের মরদেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াও জীবিতদের ফিরিয়ে আনার মতোই গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
শেষে ট্রাম্প নিজের শান্তি প্রতিষ্ঠার রেকর্ডের কথা তুলে ধরে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, তার মতো শান্তি প্রতিষ্ঠার রেকর্ড আর কারও নেই এবং নোবেল পুরস্কার দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় অসততা রয়েছে।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন