ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রংপুরে হিমাগারের অতিরিক্ত ভাড়া কমানোর দাবিতে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের বি/ক্ষোভ


রংপুরে হিমাগারের অতিরিক্ত ভাড়া কমানোর দাবিতে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের বি/ক্ষোভ

হিমাগারের অতিরিক্ত ভাড়া কমানোর দাবিতে রংপুরে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে বিক্ষোভ করছে আলুচাষি এবং ব্যবসায়ীরা।

বুধবার সকাল ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত রংপুরে এ কর্মসূচিটি পালন করেন তাঁরা। পরে ব্যবসায়ী নেতাদের পক্ষ থেকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের আঞ্চলিক উপ পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

রংপুর জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতি এবং রংপুরের বিভাগীয় আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা হিমাগার মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তারা সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন এবং দ্রুত ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

আলুচাষি আন্ছুল ইসলাম জানান, 'সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এক কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়চ্ছে প্রায় ১৬ টাকা। হিমাগারে সংরক্ষণ ব্যয়সহ সেই খরচ দাঁড়াচ্ছে ২৫ থেকে ২৬ টাকা। অথচ বর্তমানে হিমাগারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ টাকায়। আমরা চাষ করে লোকসান করছি, আর হিমাগার মালিকেরা বসে থেকেই কোটি কোটি টাকা আয় করছেন।'

হাজীরহাট এলাকার আলুচাষি শাকিল মাহমুদ জানিয়েছেন, 'রংপুর বিভাগের অন্যান্য জেলাগুলোসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কেজিপ্রতি হিমাগার ভাড়া ছয় টাকা হলেও রংপুরে নেওয়া হচ্ছে প্রায় সাত টাকা। আমরা চাই, সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা কেজি ভাড়া নির্ধারণ করা হোক। গত বছর আলুতে লোকসান হয়েছে, এবারও একই অবস্থায় আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক আলু চাষ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।'

রংপুর জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বনিক বলেন, বিভাগের অধিকাংশ জেলায় কৃষি বিপণন, জেলাপ্রশাসনের সদস্য এবং আলু চাষীদের সমন্বয়ে কেজিপ্রতি ৫ থেকে সাড়ে ৫ টাকা হিমাগার ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হলেও শুধুমাত্র হিমাগার মালিকদের কারণে রংপুরে তা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, আজ আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিপণন অধিদপ্তরকে স্মারকলিপি প্রদান করা হলো। আগামী ১৬ তারিখের মধ্যে দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের আল্টিমেটাম দেন তিনি।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

রংপুর জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, 'বিগত দুই বছর আগে প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণের ভাড়া ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। চলতি মৌসুমে তা বাড়িয়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা করা হয়েছে। একদিকে বাজারে আলুর দাম কম, অন্যদিকে সংরক্ষণ ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরকারের প্রতি অনুরোধ, হিমাগারের ভাড়া কমানো হোক এবং আলু রপ্তানি উদ্যোগ নেওয়া হোক, যাতে লোকসান হওয়া আলুচাষিদের তালিকা করে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যায়।'

বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, চলতি বছরে আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের ইতোমধ্যে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। এর ওপর অতিরিক্ত হিমাগার ভাড়া তাঁদের সংকটকে আরও গভীর করেছে। তাঁরা হিমাগার মালিকদের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ড্রাইভিং টেস্ট পাসের পর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে জাইমা রহমানের বক্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


ড্রাইভিং টেস্ট পাসের পর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে জাইমা রহমানের বক্তব্য

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ডিজিটালের উদ্যোগকে সফলতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, তবে ডিজিটাল সেবা কার্যকরী তখনই হয়, যখন তা সত্যিকার অর্থে মানুষের জীবনে সহজ করে।

বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের নিজের ভেরিফায়েড পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে জাইমা রহমান জানিয়েছেন। সেই পোস্টে তিনি জীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট দেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

ফেসবুক পোস্টে জাইমা লেখেন, 'গত সপ্তাহে আমি জীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট দিলাম, এবারে বাংলাদেশে গাড়ি চালানোর অনুমতির জন্য। প্রথমটি দিয়েছিলাম লন্ডনে, দশ বছরেরও বেশি আগে। দুটিতেই প্রথমবারেই উত্তীর্ণ হয়েছি। তবে গাড়ি চালানোর বাস্তবতার জন্য একটি পরীক্ষা আমাকে তৈরি করেছে, অন্যটি তেমনভাবে করেনি।'

তিনি যুক্ত করেন, 'এখানকার পুরো প্রক্রিয়ায় যেতে যেতে আমি কেবল ড্রাইভিং টেস্ট বা লাইসেন্স নিয়ে ভাবিনি। তবে ভেবেছি আমাদের সড়ক ব্যবহারের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা এবং ওই সড়ক নিয়ন্ত্রণের জন্য গড়ে ওঠা ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে।'

তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'ঢাকার তরুণদের মধ্যে মৌলিক হতাশা রয়েছে: আমাদের কাছ থেকে নিয়ম মেনে চলার প্রত্যাশা করা হয় একটি ব্যবস্থার ভেতরে, যেটি সবসময় নিরাপদ কিছু মনে হয় না।'

ফেসবুক পোস্টে জাইমা বলেন, পথচারী হিসেবে অনেক সময় আপনাকে উত্তেজিত সড়ক পার হতে হয়, যেখানে পর্যাপ্ত ক্রসিং নেই বা রাস্তার ফুটপাতগুলো হঠাৎ শেষ হয়ে যায়।

যাত্রী হিসেবে আপনার হাতে কার্যত কিছুই থাকে না। আপনার বাসটি ঠিক সময়ে যাত্রী তোলার জন্য পাল্লা দেবে কিনা, হঠাৎ ব্রেক কষবে কি না, গাড়ির যান্ত্রিক ফিটনেস ঠিক কি না, কিংবা চালক প্রশিক্ষিত ও বিশ্রাম পেয়েছে কিনা, এসবের কিছুই আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

নতুন চালক হিসেবে নিয়মনীতির বাস্তবতা আরও একটি প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে। এই নিয়মগুলো আসলে কী? কেন সেগুলো অনেকে ভিন্নভাবে মনে করে? সঠিক পদ্ধতিটি ঠিক কী? অনলাইন প্রক্রিয়া কেন সব সময় যথেষ্ট নয়? দালাল ধরলে কেন সবকিছু দ্রুত হয়? পাস করার পর কেন এত সময় লাগছে লাইসেন্সের জন্য? এই প্রশ্নগুলি অব্যাহত থাকে।

তিনি লিখেছেন, বিআরটিএ অনেক সেবা ডিজিটাল করেছে, যা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে ডিজিটাল সেবা কার্যকরী হবে যদি তা মানুষের জীবনকে সত্যি সহজ করে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, “যদি অনলাইনে শুরু হওয়া কোনো সমস্যার সমাধান শেষে ‘অফিসে এসে কথা বলুন’-এ দাঁড়িয়ে যায়, তবে এটি আসলে সমাধান নয়। প্রতিটি অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ দেরি কিংবা পক্ষপাত সৃষ্টি করে।”

অন্যদিকে লাইসেন্স, ফিটনেস, প্রশিক্ষণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের চমৎকার নিয়ম রয়েছে। তবে নিয়ম যদি সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না হয়, তখন মানুষ তাদের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলে।

তার মন্তব্য, দুর্নীতির সমস্যা কেবল অন্যায় ঘটার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সেটির প্রতিকার ঠিক কিভাবে হবে, সেটিও বড় প্রশ্ন।

জাইমা আরও বলেন, এ কারণেই সড়ক নিরাপত্তা কেবল গাড়ি, লাইসেন্স ও শাস্তির বিষয় হিসাবে দেখা উচিত নয়। এটি হতে হবে সেই মানুষের চারপাশে, যারা প্রতিদিন পথ চলেন।

তিনি বলেন, একটি ভালো নীতিমালা তৈরি করতে হলে বাস্তবতাগুলো উপলব্ধি করতে হবে। নয়তো নিয়মগুলো দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য বৃদ্ধির পথে ঠেলে দেবে।

তরুণরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করছে। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে লাইসেন্স পরীক্ষা করেছিল, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিল এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে দাবী করেছে।

৮ বছর পরেও সেই উদ্বেগের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাই এখন প্রশ্ন হলো ‘সমস্যাগুলো তো আমরা চিহ্নিত করেছি, ব্যবস্থা এখনো কেন সেগুলো ঠিক করছে না?’

আমার মনে হয়, এখানেই প্রশ্নটা বদলে যায়। এটি হওয়া উচিত ‘নাগরিকদের দিয়ে কিভাবে নিয়ম মানানো যাবে?’

আমাদের আরও জানতে হবে: ‘সংযোগ থাকুক বা না থাকুক, আমরা কীভাবে প্রত্যেকের জন্য সেবা নিশ্চিত করবো?’ ‘কীভাবে অভিযোগ ও অন্যায়ের বেলায় জানানোকে নিরাপদ ও সার্থক করা যায়?’ ‘এবং কীভাবে রাস্তা ডিজাইন করবো যাতে সাধারণ ভুলের কারণে কারো জীবনহানি না ঘটে?’

জাইমা লেখেন, যদি আমরা সত্যিই পরিবর্তন চাই, তাহলে আমাদের ভাবনার কাঠামোটাই নতুন করে সাজাতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘নিয়ম সবার জন্য এক নয় কেন?’–সড়ক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


‘নিয়ম সবার জন্য এক নয় কেন?’–সড়ক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

সম্প্রতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে গিয়েজীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেশের সার্বিক সড়কব্যবস্থা, বিআরটিএর সেবা, দালালচক্র এবং আইন প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা নিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘকলমে বার্তা প্রদান করেন।

জাইমা রহমান বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েডফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন, শৈশবের একটি ছবির সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা ও দেশেরসড়ক ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরেন।

ফেসবুক পোস্টে জাইমা রহমান উল্লেখ করেন, “গেলাসপ্তাহে আমি জীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট দিলাম, এবারে বাংলাদেশে গাড়ি চালানোর অনুমতির জন্য। প্রথমটি আমি দিয়েছিলাম লন্ডনে, দশ বছরেরও বেশি আগে। দুটিতেই প্রথমবারেই উত্তীর্ণ হয়েছি। কিন্তু গাড়ি চালানোর বাস্তবতার জন্য একটি পরীক্ষা আমাকে যতটা প্রস্তুত করেছে, অন্যটি ততটা করেনি।

এখানকার পুরো প্রক্রিয়াটির ভেতর দিয়ে যেতে যেতে আমি কেবল ড্রাইভিং টেস্ট অথবালাইসেন্স নিয়ে ভাবিনি। আমি আমাদের সড়ক ব্যবহারের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা নিয়ে চিন্তা করেছি, আর সেইসড়ক নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে।

বাংলাদেশের অনেক তরুণ, বিশেষ করে ঢাকার তরুণদের, একটি মৌলিক হতাশা আছে: আমাদের কাছথেকে নিয়ম মেনে চলার প্রত্যাশা করা হয় এমন একটি ব্যবস্থার ভেতরে, যা সব সময় নিরাপদ অথবা অনুমানযোগ্য মনে হয় না।

পথচারী হিসেবে, আপনাকে হয়তো পর্যাপ্ত ক্রসিং ছাড়াই দ্রুতগতির সড়ক পার হতে হয়। এমন ফুটপাতে হাঁটতে হয়, যে ফুটপাতটি হঠাৎ শেষ হয়ে যায় অথবা দখল হয়ে থাকে। আপনাকে বাস, মোটরসাইকেল, রিকশা ও প্রাইভেট কারের ভিড়ের মধ্য দিয়ে পথ করে নিতে হয়। যেগুলোর প্রতিটি চলেছে আলাদা আলাদা অলিখিত নিয়মে।

যাত্রী হিসেবে আপনার হাতে কার্যত কিছুই থাকে না। আপনার বাসটি যাত্রী তোলার জন্য অন্যবাসের সঙ্গে পাল্লা দেবে কি না, হঠাৎ ব্রেক কষবে কি না, গাড়িটির যান্ত্রিক ফিটনেস আছে কি না, কিংবা চালক ঠিকমতো প্রশিক্ষণ ও বিশ্রাম পেয়েছেন কি না, এসব কিছুই আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই।

এবং নতুন চালক হিসেবে সবকিছু নিয়ম মেনে করতে গেলে আরেক দফা প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়ায়।

নিয়মগুলো আসলে কী? কেন সেগুলো একেকজনের জন্য একেক রকম মনে হয়? সঠিক পদ্ধতিটা কী? অনলাইন প্রক্রিয়া কেন সব সময় যথেষ্ট নয়? দালাল ধরলে কেন কাজটা দ্রুত হয়ে যায়? পরীক্ষায় পাস করার পরও কেন মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় সেই কাগজটির জন্য, যা প্রমাণ করে আমি পাস করেছি?

এভাবে প্রশ্নগুলো চলতেই থাকে।

বিআরটিএ তার অনেক সেবা ডিজিটাল করেছে, যা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কিন্তু ডিজিটাল করা ততদিনই কাজে আসে, যতদিন তা সত্যি সত্যি মানুষের জীবন সহজ করে।

অনলাইনে শুরু হওয়া কোনো সমস্যার সমাধান যদি শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায় ‘অফিসে এসে কথা বলুন’-এ, তাহলে সমস্যাটির সমাধান আসলে হয়নি। প্রতিটি অপ্রয়োজনীয় সশরীর যোগাযোগ দেরি, পক্ষপাত কিংবা লেনদেনের নতুন সুযোগ তৈরি করে। ব্রোকারেরা এই প্রক্রিয়ার ফাটলটিরই সুযোগ নেয়। মানুষ আইন ভাঙতে চায় বলে নয়, বরং সরকারি প্রক্রিয়াটি এতটাই কঠিন হয়ে ওঠে যে একজন মধ্যস্থতাকারীই সবচেয়ে সহজ পথ হয়ে দাঁড়ায়। এটি বিশেষভাবে ক্ষতিকর, কারণ এতে দুর্নীতি ব্যতিক্রম না থেকে কাজ আদায়ের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়।

একই সমস্যা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও। লাইসেন্স, ফিটনেস, প্রশিক্ষণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ চমৎকার সকল নিয়ম করতে পারে। কিন্তু নিয়ম যদি বেছে বেছে প্রয়োগ হতে দেখা যায়, তাহলে মানুষ দ্রুতই সেসব নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলে। একজন নতুন চালক তখন ভাবেন: আমাকে বলা হচ্ছে নিয়ম মানা অপরিহার্য, অথচ চোখের সামনেই ফিটনেসবিহীন গাড়ি, বেপরোয়া চালনা ও নানা লঙ্ঘন দিব্যি চলছে। কেন?

দুর্নীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা তাই কেবল অন্যায়টি ঘটা নয়, সেটির প্রতিকার কীভাবে হয়, সেটিও। অভিযোগ করে কিছু হবে না, বরং নিজের বাড়তি ভোগান্তি হবে, মানুষ যদি এমনটা বিশ্বাস করে, তাহলে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াটি দাঁড়ায়: ‘কী দরকার? চেনাজানা কাউকে বলি।’

এবং এই ভাবে বিষয়টি চলতেই থাকে।

এ কারণে সড়ক নিরাপত্তা কেবল গাড়ি, লাইসেন্স ও শাস্তির বিষয় হতে পারে না। এটি হতে হবে সেই মানুষগুলোকে ঘিরে, যারা প্রতিদিন পথ চলেন। যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ে হেঁটে যাওয়া একজন শিক্ষার্থী। সন্ধ্যারপর বাড়ি ফেরা একজন নারী। পরের অর্ডারটি ধরার তাড়ায় থাকা একজন ফুড ডেলিভারি রাইডার। অতিরিক্ত সময় ধরে গাড়িচালানো একজন বাসচালক। ব্যস্ত সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করা একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। একজন রিকশাচালক, যার বাহনটিই তার জীবিকা। একই সড়ক তাদের প্রত্যেকের কাছে সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা।

ভালো নীতিমালাকে এই বাস্তবতাগুলো বুঝতে হবে। নইলে নিয়ম উল্টো দরিদ্র বা বেশি ঝুঁকিতে থাকা সড়ক ব্যবহারকারীদের আরও গভীরভাবে অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দেবে, আর এতে শোষণ ও ঘুষের নতুন সুযোগই তৈরি হবে।

এসব কথা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নিরাপদ সড়কের দাবিতে তরুণরা বছরের পর বছর কথা বলে আসছেন। ২০১৮ সালে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছিল, লাইসেন্স পরীক্ষা করেছিল, যানবাহন চলাচল সামলানোর চেষ্টা করেছিল এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছিল। আট বছর পরও সেই উদ্বেগগুলোর অনেকটাই রয়ে গেছে।

তাহলে প্রশ্নটি এখন সম্ভবত আর এই নয় যে ‘সড়ক নিরাপদ নয়’। প্রশ্নটি বরং এই: ‘সমস্যাগুলো তো আমরা আগেই চিহ্নিত করে দিয়েছি। ব্যবস্থাটি এখনো সেগুলো ঠিক করল না কেন?’

আমার মনে হয়, এখানেই আমাদের প্রশ্নটা বদলে যায়। প্রশ্ন কেবল এটি হতে পারে না যে ‘নাগরিকদের দিয়ে কীভাবে নিয়ম মানানো যাবে?’

আমাদের এটিও জিজ্ঞাসা করা উচিত:

‘সংযোগ থাকুক বা না থাকুক, আমরা কীভাবে নিশ্চিত করব যে সবাই একই পরিষেবা পাবে?’

‘আমরা কীভাবে আইন প্রয়োগকে ন্যায্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পারি?’

‘কীভাবে আমরা অভিযোগ ও অন্যায়ের বিষয়ে জানানোকে নিরাপদ ও সার্থক করে তুলতে পারি?’

‘এবং আমরা কীভাবে রাস্তা ডিজাইন করব যাতে একটি সাধারণ ভুলের কারণে কারও জীবনহানি না ঘটে?’

পরিবর্তন যদি আমরা সত্যিই চাই, তাহলে আমাদের ভাবনার কাঠামোটাই নতুন করে সাজাতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসি পাসেই এনজিওতে চাকরি, আবেদন করা যাবে অভিজ্ঞতা না থাকলেও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:০৯ পি.এম


এইচএসসি পাসেই এনজিওতে চাকরি, আবেদন করা যাবে অভিজ্ঞতা না থাকলেও

জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) কারিতাস বাংলাদেশ প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২৫ আগস্ট তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

পদের নাম হলো: ক্রেডিট অফিসার (সিএমএফপি)।

পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়।

শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রার্থীদের এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাস করতে হবে, কিন্তু স্নাতক পাস প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

অন্যান্য যোগ্যতা: প্রার্থীর মধ্যে গ্রাম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে দরিদ্র মানুষের সঙ্গে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।

অভিজ্ঞতা: অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। তবে মাঠ পর্যায়ে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমে বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকার প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

চাকরির ধরন: ফুলটাইম।

কর্মক্ষেত্র: মাঠ পর্যায়ে।

প্রার্থীর ধরন: নারীরা এবং পুরুষেরা উভয়ই আবেদন করতে পারবে।

বয়সসীমা: প্রার্থীর বয়স ২৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।

সংক্ষিপ্ত দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহের মধ্যে রয়েছে:

- প্রার্থীকে ১৮-২০ টি নিয়মিত সমিতি এবং ৪০০-৪৫০ জন নিয়মিত সদস্য নিয়ে কাজ করতে হবে। ঋণ বিতরণ ও ঋণ আদায় এই ক্ষেত্রে ১০০% নিশ্চিত করতে হবে।

- সমিতি থেকে আদায়কৃত সঞ্চয় এবং ঋণের কিস্তি ব্রাঞ্চ অফিসে দৈনিক ভিত্তিতে জমা দিতে হবে। ঋণের আবেদন ফরম পূরণ ও ঋণ বিতরণের জন্য সুপারিশ করতে হবে।

- সদস্যদের পাস বই ও সমিতির রেজুলেশন নিশ্চিত করতে হবে। প্রার্থীকে যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে এবং স্মার্ট মোবাইল ফোন চালাতে পারদর্শী হতে হবে।

কর্মস্থল হলো: সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা।

বেতন: শিক্ষানবীশকালে সর্বসাকুল্যে ২০,০০০ (বিশ হাজার টাকা)।

অন্যান্য সুবিধার অন্তর্ভুক্ত: চাকরি স্থায়ীকরণের পরে সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ সুবিধা যেমন: পিএফ, গ্র্যাচুইটি, ইন্সুরেন্স স্কীম, হেলথ কেয়ার স্কীম এবং বছরে দুটি উৎসব ভাতা প্রদান করা হবে। চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ছুটি প্রাপ্তি সুবিধা থাকছে। কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উচ্চতর পদে পদোন্নতির সুযোগও রয়েছে।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদনের জন্য এখানে ক্লিক করতে পারেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছে ইউএস-বাংলাদেশ ব্যবসা কাউন্সিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১১ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছে ইউএস-বাংলাদেশ ব্যবসা কাউন্সিল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বসেছে।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সহপাঠ্য এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।

জানা গেছে, উচ্চ পর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন এক্সিলারেট এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্সিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।

বৈঠক শেষে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধি দল এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র যৌথভাবে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন।

এসময় তারা বৈঠকের বিস্তারিত আলোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%