প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ডিজিটালের উদ্যোগকে সফলতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, তবে ডিজিটাল সেবা কার্যকরী তখনই হয়, যখন তা সত্যিকার অর্থে মানুষের জীবনে সহজ করে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের নিজের ভেরিফায়েড পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে জাইমা রহমান জানিয়েছেন। সেই পোস্টে তিনি জীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট দেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে জাইমা লেখেন, 'গত সপ্তাহে আমি জীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট দিলাম, এবারে বাংলাদেশে গাড়ি চালানোর অনুমতির জন্য। প্রথমটি দিয়েছিলাম লন্ডনে, দশ বছরেরও বেশি আগে। দুটিতেই প্রথমবারেই উত্তীর্ণ হয়েছি। তবে গাড়ি চালানোর বাস্তবতার জন্য একটি পরীক্ষা আমাকে তৈরি করেছে, অন্যটি তেমনভাবে করেনি।'
তিনি যুক্ত করেন, 'এখানকার পুরো প্রক্রিয়ায় যেতে যেতে আমি কেবল ড্রাইভিং টেস্ট বা লাইসেন্স নিয়ে ভাবিনি। তবে ভেবেছি আমাদের সড়ক ব্যবহারের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা এবং ওই সড়ক নিয়ন্ত্রণের জন্য গড়ে ওঠা ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'ঢাকার তরুণদের মধ্যে মৌলিক হতাশা রয়েছে: আমাদের কাছ থেকে নিয়ম মেনে চলার প্রত্যাশা করা হয় একটি ব্যবস্থার ভেতরে, যেটি সবসময় নিরাপদ কিছু মনে হয় না।'
ফেসবুক পোস্টে জাইমা বলেন, পথচারী হিসেবে অনেক সময় আপনাকে উত্তেজিত সড়ক পার হতে হয়, যেখানে পর্যাপ্ত ক্রসিং নেই বা রাস্তার ফুটপাতগুলো হঠাৎ শেষ হয়ে যায়।
যাত্রী হিসেবে আপনার হাতে কার্যত কিছুই থাকে না। আপনার বাসটি ঠিক সময়ে যাত্রী তোলার জন্য পাল্লা দেবে কিনা, হঠাৎ ব্রেক কষবে কি না, গাড়ির যান্ত্রিক ফিটনেস ঠিক কি না, কিংবা চালক প্রশিক্ষিত ও বিশ্রাম পেয়েছে কিনা, এসবের কিছুই আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
নতুন চালক হিসেবে নিয়মনীতির বাস্তবতা আরও একটি প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে। এই নিয়মগুলো আসলে কী? কেন সেগুলো অনেকে ভিন্নভাবে মনে করে? সঠিক পদ্ধতিটি ঠিক কী? অনলাইন প্রক্রিয়া কেন সব সময় যথেষ্ট নয়? দালাল ধরলে কেন সবকিছু দ্রুত হয়? পাস করার পর কেন এত সময় লাগছে লাইসেন্সের জন্য? এই প্রশ্নগুলি অব্যাহত থাকে।
তিনি লিখেছেন, বিআরটিএ অনেক সেবা ডিজিটাল করেছে, যা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে ডিজিটাল সেবা কার্যকরী হবে যদি তা মানুষের জীবনকে সত্যি সহজ করে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, “যদি অনলাইনে শুরু হওয়া কোনো সমস্যার সমাধান শেষে ‘অফিসে এসে কথা বলুন’-এ দাঁড়িয়ে যায়, তবে এটি আসলে সমাধান নয়। প্রতিটি অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ দেরি কিংবা পক্ষপাত সৃষ্টি করে।”
অন্যদিকে লাইসেন্স, ফিটনেস, প্রশিক্ষণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের চমৎকার নিয়ম রয়েছে। তবে নিয়ম যদি সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না হয়, তখন মানুষ তাদের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলে।
তার মন্তব্য, দুর্নীতির সমস্যা কেবল অন্যায় ঘটার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সেটির প্রতিকার ঠিক কিভাবে হবে, সেটিও বড় প্রশ্ন।
জাইমা আরও বলেন, এ কারণেই সড়ক নিরাপত্তা কেবল গাড়ি, লাইসেন্স ও শাস্তির বিষয় হিসাবে দেখা উচিত নয়। এটি হতে হবে সেই মানুষের চারপাশে, যারা প্রতিদিন পথ চলেন।
তিনি বলেন, একটি ভালো নীতিমালা তৈরি করতে হলে বাস্তবতাগুলো উপলব্ধি করতে হবে। নয়তো নিয়মগুলো দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য বৃদ্ধির পথে ঠেলে দেবে।
তরুণরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করছে। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে লাইসেন্স পরীক্ষা করেছিল, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিল এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে দাবী করেছে।
৮ বছর পরেও সেই উদ্বেগের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাই এখন প্রশ্ন হলো ‘সমস্যাগুলো তো আমরা চিহ্নিত করেছি, ব্যবস্থা এখনো কেন সেগুলো ঠিক করছে না?’
আমার মনে হয়, এখানেই প্রশ্নটা বদলে যায়। এটি হওয়া উচিত ‘নাগরিকদের দিয়ে কিভাবে নিয়ম মানানো যাবে?’
আমাদের আরও জানতে হবে: ‘সংযোগ থাকুক বা না থাকুক, আমরা কীভাবে প্রত্যেকের জন্য সেবা নিশ্চিত করবো?’ ‘কীভাবে অভিযোগ ও অন্যায়ের বেলায় জানানোকে নিরাপদ ও সার্থক করা যায়?’ ‘এবং কীভাবে রাস্তা ডিজাইন করবো যাতে সাধারণ ভুলের কারণে কারো জীবনহানি না ঘটে?’
জাইমা লেখেন, যদি আমরা সত্যিই পরিবর্তন চাই, তাহলে আমাদের ভাবনার কাঠামোটাই নতুন করে সাজাতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন