ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘নিয়ম সবার জন্য এক নয় কেন?’–সড়ক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান


‘নিয়ম সবার জন্য এক নয় কেন?’–সড়ক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

সম্প্রতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে গিয়েজীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেশের সার্বিক সড়কব্যবস্থা, বিআরটিএর সেবা, দালালচক্র এবং আইন প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা নিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘকলমে বার্তা প্রদান করেন।

জাইমা রহমান বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েডফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন, শৈশবের একটি ছবির সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা ও দেশেরসড়ক ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরেন।

ফেসবুক পোস্টে জাইমা রহমান উল্লেখ করেন, “গেলাসপ্তাহে আমি জীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট দিলাম, এবারে বাংলাদেশে গাড়ি চালানোর অনুমতির জন্য। প্রথমটি আমি দিয়েছিলাম লন্ডনে, দশ বছরেরও বেশি আগে। দুটিতেই প্রথমবারেই উত্তীর্ণ হয়েছি। কিন্তু গাড়ি চালানোর বাস্তবতার জন্য একটি পরীক্ষা আমাকে যতটা প্রস্তুত করেছে, অন্যটি ততটা করেনি।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এখানকার পুরো প্রক্রিয়াটির ভেতর দিয়ে যেতে যেতে আমি কেবল ড্রাইভিং টেস্ট অথবালাইসেন্স নিয়ে ভাবিনি। আমি আমাদের সড়ক ব্যবহারের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা নিয়ে চিন্তা করেছি, আর সেইসড়ক নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে।

বাংলাদেশের অনেক তরুণ, বিশেষ করে ঢাকার তরুণদের, একটি মৌলিক হতাশা আছে: আমাদের কাছথেকে নিয়ম মেনে চলার প্রত্যাশা করা হয় এমন একটি ব্যবস্থার ভেতরে, যা সব সময় নিরাপদ অথবা অনুমানযোগ্য মনে হয় না।

পথচারী হিসেবে, আপনাকে হয়তো পর্যাপ্ত ক্রসিং ছাড়াই দ্রুতগতির সড়ক পার হতে হয়। এমন ফুটপাতে হাঁটতে হয়, যে ফুটপাতটি হঠাৎ শেষ হয়ে যায় অথবা দখল হয়ে থাকে। আপনাকে বাস, মোটরসাইকেল, রিকশা ও প্রাইভেট কারের ভিড়ের মধ্য দিয়ে পথ করে নিতে হয়। যেগুলোর প্রতিটি চলেছে আলাদা আলাদা অলিখিত নিয়মে।

যাত্রী হিসেবে আপনার হাতে কার্যত কিছুই থাকে না। আপনার বাসটি যাত্রী তোলার জন্য অন্যবাসের সঙ্গে পাল্লা দেবে কি না, হঠাৎ ব্রেক কষবে কি না, গাড়িটির যান্ত্রিক ফিটনেস আছে কি না, কিংবা চালক ঠিকমতো প্রশিক্ষণ ও বিশ্রাম পেয়েছেন কি না, এসব কিছুই আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

এবং নতুন চালক হিসেবে সবকিছু নিয়ম মেনে করতে গেলে আরেক দফা প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়ায়।

নিয়মগুলো আসলে কী? কেন সেগুলো একেকজনের জন্য একেক রকম মনে হয়? সঠিক পদ্ধতিটা কী? অনলাইন প্রক্রিয়া কেন সব সময় যথেষ্ট নয়? দালাল ধরলে কেন কাজটা দ্রুত হয়ে যায়? পরীক্ষায় পাস করার পরও কেন মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় সেই কাগজটির জন্য, যা প্রমাণ করে আমি পাস করেছি?

এভাবে প্রশ্নগুলো চলতেই থাকে।

বিআরটিএ তার অনেক সেবা ডিজিটাল করেছে, যা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কিন্তু ডিজিটাল করা ততদিনই কাজে আসে, যতদিন তা সত্যি সত্যি মানুষের জীবন সহজ করে।

আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন

অনলাইনে শুরু হওয়া কোনো সমস্যার সমাধান যদি শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায় ‘অফিসে এসে কথা বলুন’-এ, তাহলে সমস্যাটির সমাধান আসলে হয়নি। প্রতিটি অপ্রয়োজনীয় সশরীর যোগাযোগ দেরি, পক্ষপাত কিংবা লেনদেনের নতুন সুযোগ তৈরি করে। ব্রোকারেরা এই প্রক্রিয়ার ফাটলটিরই সুযোগ নেয়। মানুষ আইন ভাঙতে চায় বলে নয়, বরং সরকারি প্রক্রিয়াটি এতটাই কঠিন হয়ে ওঠে যে একজন মধ্যস্থতাকারীই সবচেয়ে সহজ পথ হয়ে দাঁড়ায়। এটি বিশেষভাবে ক্ষতিকর, কারণ এতে দুর্নীতি ব্যতিক্রম না থেকে কাজ আদায়ের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়।

একই সমস্যা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও। লাইসেন্স, ফিটনেস, প্রশিক্ষণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ চমৎকার সকল নিয়ম করতে পারে। কিন্তু নিয়ম যদি বেছে বেছে প্রয়োগ হতে দেখা যায়, তাহলে মানুষ দ্রুতই সেসব নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলে। একজন নতুন চালক তখন ভাবেন: আমাকে বলা হচ্ছে নিয়ম মানা অপরিহার্য, অথচ চোখের সামনেই ফিটনেসবিহীন গাড়ি, বেপরোয়া চালনা ও নানা লঙ্ঘন দিব্যি চলছে। কেন?

দুর্নীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা তাই কেবল অন্যায়টি ঘটা নয়, সেটির প্রতিকার কীভাবে হয়, সেটিও। অভিযোগ করে কিছু হবে না, বরং নিজের বাড়তি ভোগান্তি হবে, মানুষ যদি এমনটা বিশ্বাস করে, তাহলে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াটি দাঁড়ায়: ‘কী দরকার? চেনাজানা কাউকে বলি।’

এবং এই ভাবে বিষয়টি চলতেই থাকে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

এ কারণে সড়ক নিরাপত্তা কেবল গাড়ি, লাইসেন্স ও শাস্তির বিষয় হতে পারে না। এটি হতে হবে সেই মানুষগুলোকে ঘিরে, যারা প্রতিদিন পথ চলেন। যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ে হেঁটে যাওয়া একজন শিক্ষার্থী। সন্ধ্যারপর বাড়ি ফেরা একজন নারী। পরের অর্ডারটি ধরার তাড়ায় থাকা একজন ফুড ডেলিভারি রাইডার। অতিরিক্ত সময় ধরে গাড়িচালানো একজন বাসচালক। ব্যস্ত সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করা একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। একজন রিকশাচালক, যার বাহনটিই তার জীবিকা। একই সড়ক তাদের প্রত্যেকের কাছে সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা।

ভালো নীতিমালাকে এই বাস্তবতাগুলো বুঝতে হবে। নইলে নিয়ম উল্টো দরিদ্র বা বেশি ঝুঁকিতে থাকা সড়ক ব্যবহারকারীদের আরও গভীরভাবে অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দেবে, আর এতে শোষণ ও ঘুষের নতুন সুযোগই তৈরি হবে।

এসব কথা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নিরাপদ সড়কের দাবিতে তরুণরা বছরের পর বছর কথা বলে আসছেন। ২০১৮ সালে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছিল, লাইসেন্স পরীক্ষা করেছিল, যানবাহন চলাচল সামলানোর চেষ্টা করেছিল এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছিল। আট বছর পরও সেই উদ্বেগগুলোর অনেকটাই রয়ে গেছে।

তাহলে প্রশ্নটি এখন সম্ভবত আর এই নয় যে ‘সড়ক নিরাপদ নয়’। প্রশ্নটি বরং এই: ‘সমস্যাগুলো তো আমরা আগেই চিহ্নিত করে দিয়েছি। ব্যবস্থাটি এখনো সেগুলো ঠিক করল না কেন?’

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

আমার মনে হয়, এখানেই আমাদের প্রশ্নটা বদলে যায়। প্রশ্ন কেবল এটি হতে পারে না যে ‘নাগরিকদের দিয়ে কীভাবে নিয়ম মানানো যাবে?’

আমাদের এটিও জিজ্ঞাসা করা উচিত:

‘সংযোগ থাকুক বা না থাকুক, আমরা কীভাবে নিশ্চিত করব যে সবাই একই পরিষেবা পাবে?’

‘আমরা কীভাবে আইন প্রয়োগকে ন্যায্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পারি?’

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

‘কীভাবে আমরা অভিযোগ ও অন্যায়ের বিষয়ে জানানোকে নিরাপদ ও সার্থক করে তুলতে পারি?’

‘এবং আমরা কীভাবে রাস্তা ডিজাইন করব যাতে একটি সাধারণ ভুলের কারণে কারও জীবনহানি না ঘটে?’

পরিবর্তন যদি আমরা সত্যিই চাই, তাহলে আমাদের ভাবনার কাঠামোটাই নতুন করে সাজাতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসি পাসেই এনজিওতে চাকরি, আবেদন করা যাবে অভিজ্ঞতা না থাকলেও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:০৯ পি.এম


এইচএসসি পাসেই এনজিওতে চাকরি, আবেদন করা যাবে অভিজ্ঞতা না থাকলেও

জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) কারিতাস বাংলাদেশ প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২৫ আগস্ট তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

পদের নাম হলো: ক্রেডিট অফিসার (সিএমএফপি)।

পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়।

শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রার্থীদের এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাস করতে হবে, কিন্তু স্নাতক পাস প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

অন্যান্য যোগ্যতা: প্রার্থীর মধ্যে গ্রাম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে দরিদ্র মানুষের সঙ্গে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।

অভিজ্ঞতা: অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। তবে মাঠ পর্যায়ে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমে বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকার প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

চাকরির ধরন: ফুলটাইম।

কর্মক্ষেত্র: মাঠ পর্যায়ে।

প্রার্থীর ধরন: নারীরা এবং পুরুষেরা উভয়ই আবেদন করতে পারবে।

বয়সসীমা: প্রার্থীর বয়স ২৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।

সংক্ষিপ্ত দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহের মধ্যে রয়েছে:

- প্রার্থীকে ১৮-২০ টি নিয়মিত সমিতি এবং ৪০০-৪৫০ জন নিয়মিত সদস্য নিয়ে কাজ করতে হবে। ঋণ বিতরণ ও ঋণ আদায় এই ক্ষেত্রে ১০০% নিশ্চিত করতে হবে।

- সমিতি থেকে আদায়কৃত সঞ্চয় এবং ঋণের কিস্তি ব্রাঞ্চ অফিসে দৈনিক ভিত্তিতে জমা দিতে হবে। ঋণের আবেদন ফরম পূরণ ও ঋণ বিতরণের জন্য সুপারিশ করতে হবে।

- সদস্যদের পাস বই ও সমিতির রেজুলেশন নিশ্চিত করতে হবে। প্রার্থীকে যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে এবং স্মার্ট মোবাইল ফোন চালাতে পারদর্শী হতে হবে।

কর্মস্থল হলো: সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা।

বেতন: শিক্ষানবীশকালে সর্বসাকুল্যে ২০,০০০ (বিশ হাজার টাকা)।

অন্যান্য সুবিধার অন্তর্ভুক্ত: চাকরি স্থায়ীকরণের পরে সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ সুবিধা যেমন: পিএফ, গ্র্যাচুইটি, ইন্সুরেন্স স্কীম, হেলথ কেয়ার স্কীম এবং বছরে দুটি উৎসব ভাতা প্রদান করা হবে। চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ছুটি প্রাপ্তি সুবিধা থাকছে। কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উচ্চতর পদে পদোন্নতির সুযোগও রয়েছে।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদনের জন্য এখানে ক্লিক করতে পারেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছে ইউএস-বাংলাদেশ ব্যবসা কাউন্সিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১১ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছে ইউএস-বাংলাদেশ ব্যবসা কাউন্সিল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বসেছে।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সহপাঠ্য এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।

জানা গেছে, উচ্চ পর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন এক্সিলারেট এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্সিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।

বৈঠক শেষে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধি দল এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র যৌথভাবে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন।

এসময় তারা বৈঠকের বিস্তারিত আলোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্ধুর চিকিৎসায় কলকাতায় গিয়ে দুজনের মৃ/ত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৫ পি.এম


বন্ধুর চিকিৎসায় কলকাতায় গিয়ে দুজনের মৃ/ত্যু

গাজীপুরের কালীগঞ্জের বিল্লাল মাঝি নামে এক ব্যক্তি তার বন্ধু হাবিবুরের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষে ফিরে আসার পথেই বুকে ব্যথার কারণে বিল্লাল মাঝির মৃত্যু ঘটে। পরেরদিন, তার বন্ধু হাবিবুরও মারা যান।

মৃত বিল্লাল মাঝির বয়স ৫০ বছর। তিনি গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার জামালপুর ইউনিয়নের কাপাইশ গ্রামের করম আলী মাঝির পুত্র এবং হাবিবুর রহমানের বয়স ৫৭ বছর। তিনি একই জেলার কাপাসিয়া থানার ফুলবাড়িয়া গ্রামের আসাম উদ্দিনের সন্তান।

এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে যে, বিল্লাল মাঝি প্রায় ২৫ দিন আগে তার বন্ধু হাবিবুর রহমানকে চিকিৎসায় সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে ভারতীয় কলকাতায় গিয়েছিলেন। কলকাতার ঠাকুর পুকুর ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পরে, তারা ৯ আগস্ট বাড়ির পথে রওনা দেন। কলকাতা থেকে ফেরার সময় হঠাৎ করে বিল্লাল মাঝি বুকে ব্যথা অনুভব করেন। এরপর, তাকে এমআর ভাঙ্গুর ডিস্ট্রিক্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তারপর, তার বন্ধু হাবিবুর রহমানও শোকের কারণেই মারা যান। বর্তমানে, দুইজনের মরদেহ এমআর ভাঙ্গুর ডিস্ট্রিক্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে রয়েছে।

বিল্লাল মাঝির মেয়ে আফরোজা আক্তার বলেন, "দুই বন্ধু একসাথে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি, যেন তাদের দেশের মাটিতে দাফন করতে পারি।"

এ বিষয়ে জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম মন্তব্য করেন, "লাশদুটি আনার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আমি দাবি জানাচ্ছি, সরকার যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।"

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, "তাদের পরিবার থেকে এখনো কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেননি। যোগাযোগ হলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলম্বিয়ায় ভূমি/কম্পে নিহ/তের সংখ্যা বেড়ে ২৬৫, এখনও নিখোঁ/জ প্রায় ৫০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৮ পি.এম


কলম্বিয়ায় ভূমি/কম্পে নিহ/তের সংখ্যা বেড়ে ২৬৫, এখনও নিখোঁ/জ প্রায় ৫০০

কলম্বিয়ায় এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ইতিমধ্যে ২৬৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫০০ মানুষ।

বুধবার (১২ আগস্ট) উদ্ধারকর্মীরা ভূমিকম্পের পর ৭২ ঘণ্টার বিশেষ সময়সীমার কাছাকাছি পৌঁছেছেন। সাধারণভাবে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের জন্য এই সময়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও উদ্ধারকর্মীরা জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা পুরোপুরি ত্যাগ করছেন না।

চলতি শতাব্দীর কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৯ হাজার ৫৫০টির বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পেরেইরা ও কালি শহর। পেরেইরায় ৮৩ জন এবং কালিতে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের বলেছেন, উদ্ধার অভিযান বর্তমানে শেষ পর্যায়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তারপরও জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও সময় গড়ানোর সাথে সাথে সেই সম্ভাবনা কমছে।

পেরেইরায় ধসে পড়া একটি বেকারির নিচে একজন ফেরিওয়ালা আটকে আছেন বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে। কম্পন শনাক্তকারী যন্ত্রে সেখান থেকে জীবনের সম্ভাব্য সংকেত পাওয়ার পর তার স্বজনরা নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন।

উদ্ধারকর্মীরা ডাকে ওই ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শব্দ করে সাড়া দিয়েছেন বলেও সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে। তার জীবিত উদ্ধারে জোর প্রচেষ্টা চলছে।

কালিতেও রাত জেগে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেখেছেন কর্মীরা। ক্রেন, প্রশিক্ষিত কুকুর ও আধুনিক যন্ত্রপাতির পাশাপাশি অনেক স্থানে খালি হাতেই তারা ধ্বংসাবশেষ সরাচ্ছেন। জীবনের কোনও সংকেত পাওয়া যায় কি না, সেই শুনানির জন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর পুরো এলাকা নীরব করে দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশটির সাধারণ নাগরিকরা। বিভিন্ন স্থান থেকে পানি, খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে দুর্গত এলাকায় সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। রক্তদানের কেন্দ্রগুলোতেও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

ভূমিকম্পে ধ্বংস হওয়া হাসপাতাল, স্কুল, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্য জরুরি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন দিনের মাথায় এই মারাত্মক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট বলেন, "এটি বিশাল মাত্রার এক বিপর্যয়।" বর্তমানে সরকারের প্রধান লক্ষ্য নিখোঁজদের খুঁজে বের করা।

ভূমিকম্পে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে তার আওতায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

নতুন সরকারের জন্য এই ভূমিকম্প একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কম সরকারি ব্যয় ও কঠোর নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা দে লা এসপ্রিয়েলার সরকার এখন একসঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্গঠনের বিশাল কাজ সামলাতে হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%