ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

কালিয়াকৈরে শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কারখানায় ৩ দিনের ছুটি


কালিয়াকৈরে শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কারখানায় ৩ দিনের ছুটি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরসহ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলগুলোতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের এক দফা দাবিতে চরম আকার ধারণ করেছে। টানা বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধের প্রেক্ষাপটে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং শ্রমিকদের সুরক্ষার স্বার্থে কালিয়াকৈর ও আশপাশের অঞ্চলের অর্ধশতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা মালিকপক্ষ তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো শিল্পাঞ্চলে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শ্রমিকদের ক্ষোভের পাশাপাশি মালিকদের আতঙ্কও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আর এর মাঝে রাস্তায় আটকে থাকা হাজার হাজার যাত্রী। ফলে পুরো মহাসড়ক যেন এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল নয়টার দিকে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন মুহূর্তের মধ্যে চন্দ্রা, মৌচাক, কোনাবাড়ী ও তেলিচালাসহ পুরো শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: মিরপুরে কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে যুবক দগ্ধ

নাওজোড় এলাকায় প্যানিসিয়া লিমিটেডসহ কয়েকটি কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক একযোগে বেরিয়ে এসে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উড়ালসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীরা হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় বাঁশ ও গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী এবং উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী সব যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এর ফলে মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং দূরপাল্লার বাসসহ হাজার হাজার যানবাহন আটকা পড়ে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই পাশে হাজার হাজার শ্রমিক পায়ে হেঁটে মিছিল করছেন। একপাশে সম্পূর্ণ রাস্তা জুড়ে মানুষের ঢল, অন্যপাশে দাঁড়িয়ে আছে শত শত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও প্রাইভেটকার। বাসের ভেতরে বসে থাকা নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ পানির জন্য আকুতি জানাচ্ছেন, কেউ খাবারের খোঁজ করছেন, আবার কেউ কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২ নভেম্বর) একই এলাকায় শ্রমিকেরা আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সেই সময় পুলিশের একাধিক গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, কারখানার গুদামে হামলা ও ভাঙচুরের মতো মারাত্মক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সংঘাত চলাকালে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। সোমবারের আগুনের আতঙ্ক এখনও এলাকার মানুষের মনে তাজা রয়েছে।

আরও পড়ুন: সচিবালয়ে আইডি কার্ড দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

এই কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। কারখানার মালিকরা ভয়ে ছিলেন, শ্রমিকেরা ক্ষোভে, আর পুলিশ ছিল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায়।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের একমাত্র দাবি হল- ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে।

এক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ভাই, বাজারে চালের দাম কত জানেন? বাসা ভাড়া কত? একটা ডিমের দাম কত? বর্তমান বেতনে ১০ দিনও সংসার চলে না। বাকি ২০ দিন ধার করে চলতে হয়। আমরা বিলাসিতা চাই না, আমরা শুধু বাঁচতে চাই।"

আরেক নারী শ্রমিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার দুটো বাচ্চা, স্বামী অসুস্থ। আমি একা কাজ করি। বেতন দিয়ে বাসা ভাড়া দেব, নাকি বাচ্চাদের খাওয়াব, নাকি ওষুধ কিনব? আমাদের কথা কেউ শোনে না। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি।"

আরও পড়ুন: ঢাকায় তিন দিনের সফরে এলেন চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং

শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, বিনা নোটিশে ছাঁটাই আর ব্ল্যাকলিস্টের ভয়ে তাঁরা কথা বলতে পারেন না। কেউ ন্যায্য দাবি তুললেই তাঁকে ছাঁটাই করে অন্য কোনো কারখানায় চাকরি না পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় সাধারণ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন। ঢাকাগামী এক যাত্রী বলেন, "সকাল ৯টা থেকে বাসে বসে আছি। ৩ ঘণ্টায় ২ কিলোমিটারও যেতে পারিনি। বাচ্চাটা ক্ষুধায় কাঁদছে, সঙ্গে থাকা পানিও শেষ হয়ে গেছে।"

অন্য এক রোগীর স্বজন বলেন, "আমার মাকে নিয়ে ঢাকার হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। কিন্তু রাস্তায় আটকে আছি। ডাক্তার বলেছেন দেরি হলে বিপদ হতে পারে। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।"

চন্দ্রা থেকে ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত এলাকা জুড়ে বিশাল এলাকা যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে। শত শত বাস, কাভার্ডভ্যান ও ব্যক্তিগত যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। অনেক যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা হন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের উদ্যোগে একাডেমিক নিরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মাঠে বিজিবি, পুলিশ ও যৌথবাহিনী:

মঙ্গলবারের পরিস্থিতি মোকাবেলায় কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সড়কজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিজিবি, পুলিশ ও যৌথবাহিনীর সদস্যরা।

পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও অবস্থান নিতে দেখা গেছে। তাঁরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, কিছু এলাকায় আজও শ্রমিক আন্দোলন চললেও নাওজোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। আন্দোলনরত শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: তাঁতিদল নেতা হুমায়ুন কবির হত্যা মামলার আসামি ফায়েক ঢাকায় গ্রেপ্তার

পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে- শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার অধিকার সবার আছে, কিন্তু মহাসড়ক বন্ধ করে, ভাঙচুর চালিয়ে ও আগুন দিয়ে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়া যাবে না।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত টানা তিন দিনের ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় কারখানা সচল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এক কারখানা মালিক বলেন, "আমরা চাই না কোনো শ্রমিকের গায়ে আঘাত লাগুক। কারখানার মেশিনের চেয়ে শ্রমিকের জীবনের দাম অনেক বেশি। তাই আপাতত ছুটি দেওয়া হয়েছে।"

তবে এই ছুটির সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ছে বলে জানা গেছে। অনেক শ্রমিক মনে করছেন, ছুটি দিয়ে তাঁদের আন্দোলন দমানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে যুবক হত্যার প্রধান আসামি শাহজাহান গ্রেফতার

কালিয়াকৈর দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এখানে লাখ লাখ শ্রমিকের ঘামে চলে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প। এই শিল্প বন্ধ হলে ক্ষতি হবে সবার- শ্রমিকের, মালিকের এবং পুরো দেশের।

সাধারণ মানুষের দাবি হল- শ্রমিকের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া হোক, তবে রাস্তায় আগুন বা ভাঙচুর নয়, আলোচনার টেবিলেই আসুক সমাধান। শ্রমিক ফিরুক কারখানায়, যাত্রী ফিরুক নিরাপদে বাড়িতে, আর চাকা ঘুরুক মহাসড়কে। আগামী ৩ দিন পরিস্থিতি কেমন যায়, তা এখন নির্ভর করছে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান নিয়ে ট্রাম্পের সামনে তিনটি পথ, উপদেষ্টারা বিভক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৪ পি.এম


ইরান নিয়ে ট্রাম্পের সামনে তিনটি পথ, উপদেষ্টারা বিভক্ত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান নিয়ে তিনটি ভিন্ন পথ নিয়ে চিন্তা করছেন। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার উপদেষ্টারা তিনটি ভিন্ন দিক থেকে তাকে প্রভাবিত করছেন। এই পথগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান, অন্যটি আবার যুদ্ধে ফিরে যাওয়া। আশা করা হচ্ছে, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।

প্রথম পথের সমর্থকরা হলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। তারা মনে করেন, আলোচনার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটানো উচিত।

দ্বিতীয় পথের সমর্থকরা হলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তাদের মতামত হলো, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা উচিত।

তৃতীয় পথের সমর্থকরা হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং সিআইএ প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ। তারা পরামর্শ দিয়েছেন যে, ‘যুদ্ধও নয়, চুক্তিও নয়’ অবস্থান ধরে রাখা উচিত। তাদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে ইরান আমেরিকার শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়।

র‍্যাটক্লিফ ট্রাম্পকে আরও বলেছেন, যদি অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকে, তাহলে ইরানে অস্থিরতা বাড়তে পারে। এতে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিদ্রোহও করতে পারে। পর্যবেক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বলছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটাতে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ উসকে দেওয়াই ছিল ট্রাম্পের যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য।

ট্রাম্প কোন পথে এগোচ্ছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গত কয়েক সপ্তাহে তিনি বারবার ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছেন। একই সময়ে তিনি নতুন করে আলোচনার দায়িত্ব ভ্যান্সকে দিয়েছেন। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকে সরাসরি আলোচনা টেবিলে আনার চেষ্টা করছেন।

অ্যাক্সিওসের সূত্র অনুযায়ী, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা একটি খসড়া চুক্তি তৈরি করেছেন, যাতে তিন দিনের মধ্যে কয়েকটি আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। লক্ষ্য হলো আমেরিকা ও ইরানের সরাসরি আলোচনা আবার শুরু করা। দুই দেশের জবাবের অপেক্ষায় আছেন মধ্যস্থতাকারীরা।

তবে এই ভাবনা চলাকালীন সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। এটি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সীমিত হামলার সর্বশেষ ঘটনা।

যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে, যা নিত্যপণ্যের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভোটাররা এর জন্য সরাসরি ট্রাম্পকে দায়ী করছেন। এমনকি রিপাবলিকান প্রার্থী ও ভোটারদের কেউ কেউ তার থেকে দূরত্ব রাখছেন বলেও জানা গেছে।

যখন উপদেষ্টারা তাকে বিভিন্ন দিকে টানছেন, তখন ট্রাম্প বলছেন, সিদ্ধান্ত নিতে ‘কোনো তাড়া নেই’। অ্যাক্সিওসকে তিনি বলেন, ‘এভাবে হোক বা ওভাবে, আমরা কিছু একটা করব। তবে কোনো তাড়া নেই। আমরা ওদের আর্থিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছি। ওদের টাকা নেই, গ্যাসোলিন নেই। ওদের মানুষ এসবে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ছে।’

নির্বাচনের আগে তিনি আরও বলেন, ইরানের হাতে চুক্তি করার তাড়া এখন কিছুটা কম। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ওরা চুক্তি করার তাড়াটা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৫ পুলিশ সদস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৪ পি.এম


নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৫ পুলিশ সদস্য

নাইজেরিয়ায় নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে বন্দুকধারীদের আকস্মিক হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। সোকোতো রাজ্যের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে জামফারা রাজ্যে যাওয়ার সময় তাঁদের বহনকারী বাসে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়।

এটি ঘটে সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সোকোতো-গুসাউ মহাসড়কে। মঙ্গলবার আনাদোলু এজেন্সির একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

নাইজেরিয়ার পুলিশের মুখপাত্র আবদুল্লাহি ফারুক হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত পাঁচ পুলিশ সদস্যের মরদেহ সোকোতোতে উসমানু দানফোদিও বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, ওই সদস্যরা বিশেষ দায়িত্ব পালনের জন্য জামফারা যাচ্ছিলেন। জামফারা নর্থ সিনেটরিয়াল ডিস্ট্রিক্টে ক্ষমতাসীন অল প্রগ্রেসিভস কংগ্রেসের (এপিসি) প্রাথমিক নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁদের মোতায়েন করা হয়েছিল।

যানবাহনে গণপরিবহণের একটি বাসে যাওয়ার সময় সশস্ত্র হামলাকারীরা তাঁদের বহনকারী বাসটির গতিরোধ করে। এরপর তারা বাস লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এই হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য নিহত হন।

এই হামলার ঘটনা নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতার চিত্রকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এই অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রায়ই যানবাহনে হামলা চালায়, গ্রামাঞ্চলে আক্রমণ করে এবং সাধারণ মানুষকে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করে।

বিশেষ করে জামফারা, সোকোতো, কাতসিনা, কাদুনা ও কেব্বি রাজ্যে এসব গোষ্ঠীর কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এসব এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিয়মিত অভিযান চললেও হামলা এবং অপহরণের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল জানা যাবে কয়েক দিন পর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল জানা যাবে কয়েক দিন পর

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হবে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর)। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায়) ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কিছু অঞ্চলে ভোট গ্রহণ শেষ হলে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশিত হতে শুরু করবে। তবে, সব আসনের চূড়ান্ত ফলাফল জানতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের কাছ থেকে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাচ্ছে।

ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কর্মকর্তারা ধাপে ধাপে গণনার ফলাফল প্রকাশ করবেন। এরপর সংবাদমাধ্যমগুলো ফল বিশ্লেষণ করে বিজয়ী প্রার্থী ঘোষণা করতে পারে। তবে, প্রাথমিক ফল প্রকাশ মানেই বিজয়ী নিশ্চিত হওয়া নয়। যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি হয়, তাহলে কোনো আসনের ফল চূড়ান্ত হতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।

ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাদা, অ্যারিজোনা, আলাস্কা, মেইন ও ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ফল প্রকাশে দেরি হতে পারে। এসব রাজ্যে ডাকযোগে ভোট, স্বাক্ষর যাচাই এবং পছন্দক্রমভিত্তিক ভোট গণনার কারণে সময় বেশি লাগে। অন্যদিকে, ফ্লোরিডা, ওহাইও, নর্থ ক্যারোলাইনা ও পেনসিলভানিয়ায় তুলনামূলকভাবে দ্রুত ফলাফল আসতে পারে।

যদিও সব আসনের ফল দ্রুত জানা যাবে, তবে কংগ্রেসের কোন দল নিয়ন্ত্রণ পাবে তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিন লাগতে পারে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে, তা জানতে আট দিন সময় লেগেছিল।

কোনো আসনে ভোটের ব্যবধান খুব কম হলে আইন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা প্রার্থীর আবেদনে পুনর্গণনা হতে পারে। ফলাফল নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে আরও সময় লাগতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট এককভাবে কংগ্রেস নির্বাচনের ফল বাতিল করতে পারেন না। অঙ্গরাজ্যগুলো নির্বাচন পরিচালনা ও ফলের সত্যতা নিশ্চিত করে।

সূত্র: আল জাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পোশাক শিল্প রক্ষায় সরকারের প্রতি খেলাফত আন্দোলনের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ পি.এম


পোশাক শিল্প রক্ষায় সরকারের প্রতি খেলাফত আন্দোলনের আহ্বান

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, পোশাক শ্রমিকদের উসকে দিয়ে দেশের তৈরি পোশাক খাতকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র কঠোর হাতে দমন করতে হবে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, চলমান সহিংস আন্দোলনে শ্রমিকের আড়ালে ফ্যাসিস্টদের সহযোগীরা উস্কানি দিচ্ছে কিনা, তা সরকারের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে মাওলানা মিয়াজী বলেন, বিক্ষোভ আন্দোলনে শ্রমিকের ছদ্মবেশে মুখোশধারীদের অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা পোশাক শ্রমিক ও উচ্ছেদকৃত হকারদের মাঠে নামিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা একদিকে দেশের শিল্পখাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, অন্যদিকে মজুরি বৃদ্ধির প্রলোভন দেখিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলনে নামিয়ে চাকরি হারানোর ফাঁদে ফেলছে। ইতিমধ্যে ছয় শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে লাখ লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শ্রমিকের বেশে মুখে মাস্ক পরে যারা বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটাচ্ছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

মাওলানা মিয়াজী আরও বলেন, প্রকৃত শ্রমিকেরা কখনো তাঁদের নিজেদের কর্মসংস্থান ধ্বংস করতে পারেন না। ষড়যন্ত্রকারীরা শ্রমিকদের উসকে দিয়ে মাঠে নামিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে এবং শ্রমিক অসন্তোষের আড়ালে শিল্প ধ্বংসের সব ষড়যন্ত্র রুখতে হবে।

গ্রেপ্তারকৃত নিরীহ শ্রমিকদের মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, পোশাক শিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। তাই এই শিল্প রক্ষায় মালিক-শ্রমিকসহ সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক ও আন্তরিক থাকতে হবে।

মাওলানা মিয়াজী বাজার পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় নিয়ে সম্মানজনক বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। নিত্যপণ্যের দাম জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এনে সরকারকেই মালিক-শ্রমিকসহ সব নাগরিকের স্বাচ্ছন্দ্যে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য দ্রুত ‘স্থায়ী মজুরি কমিশন’ গঠন করা ছাড়া শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন সম্ভব নয়। বিশ্বের অন্তত ৯০টি দেশে স্থায়ী কমিশন শ্রমিকদের স্থিতিশীল পরিবেশ ও কাজের নিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

পরিশেষে, আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় ও মালিকানাধীন স্থাপনা এবং যানবাহন ভাঙচুর করা থেকে বিরত থাকতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানান তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%