প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে মন্তব্য করেছেন যে, ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য এয়ারবাস কেনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপনে এয়ারবাসের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রায় ৫০ শতাংশ ইউরোপে রপ্তানি হয়, তাই ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য একটি বড় স্বার্থের বিষয়।
মঙ্গলবার ঢাকায় ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ডিক্যাব টকে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সম্পর্কে আলোচনা করেন।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি নিয়ে ফ্রান্স বা ইউরোপ উদ্বিগ্ন নয়। ফ্রান্স কিংবা ইউরোপ কোনো চাপিয়ে দেওয়া সম্পর্কের পক্ষে নয়। বরং, বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইউরোপ সত্যিকার অর্থে একটি আস্থাশীল অংশীদার হতে চায়। ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য এয়ারবাসের ভূমিকা অপরিসীম।
তিনি বলেন, "এয়ারবাস বিক্রিকে ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে তুলে ধরে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কেন এটা ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?" তিনি আরও বলেন, ১০টি উড়োজাহাজ বড় চুক্তি নয়, কিন্তু এটি আমাদের কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ইউরোপীয়দের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে যাওয়ার জন্য আলোচনায় যুক্ত হতে আগ্রহী।
এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী হওয়ার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, "এটা এমন নয় যে, শুধু এয়ারবাস বিক্রি করলাম, এরপর সব শেষ; এটি আসলে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বে যুক্ত হওয়ার বিষয়।"
রাষ্ট্রদূত ইউরোপকে বাংলাদেশের প্রধান অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমেরিকায় ১৭ শতাংশের বিপরীতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ৪৮ শতাংশ ইউরোপে যায়। যুক্তরাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করলে এই অনুপাত আরও বাড়ে। সুতরাং, ইউরোপ হচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান অংশীদার। তিনি বলেন, "আমরা যখন বাংলাদেশি বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করি, তখন কেবল একটি বিষয়ই স্মরণ করিয়ে দিই যে, আমাদের অভিন্ন স্বার্থ হচ্ছে অংশীদারিত্বের গড়ে তোলা।"
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিমানের জন্য উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা চলছিল। বিলিয়ন ডলারের এই ব্যবসা মার্কিন জায়ান্ট বোয়িং না ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের কাছে যাবে, তা নিয়ে তখন থেকেই টানাহেঁচড়া চলছিল।
আওয়ামী লীগ সরকার শেষ দিকে এসে এয়ারবাসের পক্ষে ঝুঁকেছিল এবং তৎকালীন বিমানমন্ত্রী মাহাবুব আলী এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছিলেন।
তবে ৫ আগস্টের পালাবদলের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারও সিয়াটলের পথে হেঁটেছে এবং দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মাথায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি এয়ারক্রাফট কেনার চুক্তি করে।
তবে সেই চুক্তির পরেও এয়ারবাসের কর্মকর্তারা দৃশ্যত হাল ছাড়েননি। তারা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছেন।
ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, এয়ারবাসের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলোচনা কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা তুলে ধরে বলেন, "মিশ্র বহরের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ভালো ‘কারিগরি কারণে’ বিমান বাংলাদেশ এয়ারবাসকে বেছে নিয়েছিল, ‘রাজনৈতিক কারণে নয়’।" তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বহু বিমান সংস্থা এয়ারবাসকে গ্রহণ করেছে, বিমানের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়।
জঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, "কয়েক বছর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কারিগরি মূল্যায়ন ও গুরুত্বভেদে আলোচনার পর এয়ারবাস কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।" তিনি উল্লেখ করেন, বিমান বাংলাদেশের বহরে এয়ারবাস থাকা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও সুবিধাজনক ছিল।
তিনি বলেন, "বিশ্বের বড় বড় বিমান সংস্থা দুই ধরনের উড়োজাহাজ তাদের বহরে রাখে। তাদের এয়ারবাসও থাকে, আবার বোয়িংও থাকে।" ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেন, কাউকে কোনো একটি একক কোম্পানির ওপর নির্ভর করে থাকতে হয় না। দুটির সুবিধা তুলনা করে বেছে নেওয়া যায়।
তিনি উদাহরণ দেন, "এমন একটি উড়োজাহাজ রয়েছে, যা ঢাকা থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই সরাসরি আমেরিকার পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে পারে। এবং সেটি বোয়িং নয়, সেটি এয়ারবাস।" তিনি বলেন, "বিশ্বে শুধু এই একটি উড়োজাহাজ তা করতে সক্ষম। তাই অনেক যৌক্তিক ও কারিগরি কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারবাসকে বেছে নিয়েছিল, কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়।"
জঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, "দেখলেই বোঝা যাবে, বিশ্বের কত শত বিমান সংস্থা এয়ারবাস ব্যবহার করছে। তাই বিমানের এই সিদ্ধান্তে কোনো সন্দেহ বা ভুল ছিল না।" তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কিছু উড়োজাহাজ বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে, যা ২০৩১ বা ২০৩৫ সালের দিকে সরবরাহ করা হবে। এটি তাদের বাণিজ্যিক বিষয়। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এখনও এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহ বজায় রেখেছে। এ নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স এবং ইউরোপ কখনও বলে না, ‘আমাদের’ এবং ‘তাদের’ মধ্যে থেকে একজনকে বেছে নাও। তিনি বলেন, "আমি শুরুতে যেভাবে বলেছি, আমরা অংশীদারত্বে বিশ্বাস করি। অংশীদারত্ব মানে বাদ দেওয়া নয়, অন্তর্ভুক্তি।" তিনি যোগ করেন, "আপনি যদি না চান, আপনার যদি মনে হয় এফটিএ নিয়ে আগানো ভালো কিছু হবে না, এটা আপনার সিদ্ধান্ত।" রাষ্ট্রদূত বলেন, "হয়ত, ইউরোপীয় দেশগুলোও সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে, তারা এফটিএ চায় না, এটা তাদের সিদ্ধান্ত।" সুতরাং, ঢাকা ইউরোপ কী বার্তা পাঠাচ্ছে, সেটি গুরুত্ব বহন করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন