বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৯ পি.এম
‘আগে সাগরে একবার মাছ ধরতে গেলে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যেত, তা দিয়ে তেলের খরচ মিটিয়ে সাত দিন ভালোভাবে সংসার চলতো। কিন্তু এখন হাজার হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সাগরে গিয়ে অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়। চাল-ডাল কেনার টাকা তো দূরের কথা, মহাজনের ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। সাগরে মাছ ধরে এখন আর সংসার চলে না বাজান।’
এই কথাগুলো বলছিলেন চরফ্যাশনের সামরাজ মাছঘাটের প্রবীণ জেলে নুর হোসেন মাঝি, যিনি ক্লান্তির ছাপ ও বুকভরা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে কথা বলছিলেন। এই হাহাকার কেবল তার একার নয়, বরং ভোলার দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় চরফ্যাশন-মনপুরার মৎস্যজীবীদের জীবনের কঠিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরের ওপর নির্ভরশীল যাদের সংসার, তারা আজ জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।
এখানকার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে কয়েক হাজার জেলে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে এই পেশায় নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হওয়ায় অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। অনেক জেলে এখন বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছেন।
জেলেরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন এনজিওর ঋণ ও মহাজনদের দাদন পরিশোধের চাপ, কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়া, একের পর এক নিষেধাজ্ঞা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তারা এ পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছেন।
সরেজমিনে জেলেদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, অতীতে জেলে পেশা দিয়ে সংসার ভালোভাবে চলতো। কিন্তু এখন এ পেশার পাশাপাশি অন্য কাজ না করলে তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। সাগরে মাছ না থাকায় অনেক সময় লোকসানে পড়তে হচ্ছে। তাই তারা বিকল্প পেশা খুঁজছেন।
উপজেলার চরকুকরি এলাকার জেলে বাবুল মাঝি বলেন, ‘আমি ৪০ বছর ধরে এ পেশায় আছি। আগে তেলের দাম কম ছিল, তখন ভালো লাভ হতো। কিন্তু এখন তেলের দাম চড়া। এতে আমাদের ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সাগরে মাছ ধরে এখন আর সংসার চলে না। তাই বাধ্য হয়েই অন্য কাজ করতে হচ্ছে।’
জেলে ফোরকান মিয়া বলেন, ‘সব মালামালের দাম বেড়েছে। চাল, ডাল, তেল, বরফ সবকিছুই কিনতে হয় অধিক দামে। এভাবে জীবন চালানো কষ্টকর। মাছ ধরার সিজন থাকে ৫ মাস। এর মধ্যে আড়াই মাস নিষেধাজ্ঞা থাকে। বাকি আড়াই মাসে ঝড়ঝাপটা ও বৈরি আবহাওয়া থাকে। এখন শুধু জেলে পেশা দিয়ে সংসার চালানোর মতো কোনো উপায় নেই। তাই অন্য পেশা খুঁজছি।’
উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের জেলে আনোয়ার এবং বেতুয়ার মেঘনা নদীর পাড়ের সামরাজ এলাকার জেলে নরুল্লাহ মিয়া বলেন, ‘সাগরে ইলিশ তেমন পাওয়া যায় না। মাঝে মাঝে কিছু ইলিশ ওঠে। কিন্তু আগে সাগরের কিছু পয়েন্টে মাছ পাওয়া যেত। এখন সেসব পয়েন্টেও মাছ নেই। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রতিকূলতা তো আছেই। এই পেশায় এখন লাভের চেয়ে লোকসান বেশি। সাগর থেকে এসেও আমাদের অন্য কাজ খুঁজতে হয়। তার চেয়ে জেলে পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়াই ভালো। অন্য পেশায় নিশ্চিত থাকা যায় যে দিন শেষে কিছু হলেও মজুরি পাব।’
এ ব্যাপারে চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, দুর্যোগসহ মানবসৃষ্ট নানা কারণে মাছের উৎপাদন কমেছে। এসব কারণে নদী-সাগরের মাছের বিচরণ ও প্রজননের জায়গায় পরিবর্তন ঘটছে। গত কয়েক দশকে জেলেদের তুলনায় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি না পাওয়ায় সাগর ও নদ-নদীতে চাপ বেড়েছে। জেলেদের এ পেশার পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছলতার লক্ষ্যে আমাদের বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, চরফ্যাশন উপজেলায় ৪টি থানায় মোট ৪৩ হাজার ৩শ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। তাদের মধ্যে জেলে কার্ড পেয়েছেন ২৫ হাজার জেলে। ইলিশের প্রজননকালীন নিষেধাজ্ঞার সময়ে দরিদ্র ৩৫ হাজার ৩শ ৮৬ জেলেকে চাল সহায়তা দেওয়া হয়।
এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার জন জেলেকে বিকল্প আয়ের উৎস সৃষ্টির লক্ষ্যে বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রূপায়ন গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, রূপায়ন হাউজিং এস্টেট লিমিটেড, সম্প্রতি একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার/ডেপুটি ম্যানেজার পদে জনবল নিয়োগের জন্য এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে এবং চলবে ০২ অক্টোবর পর্যন্ত।
নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
এক নজরে রূপায়ন গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬
প্রতিষ্ঠানের নাম: রূপায়ন হাউজিং এস্টেট লিমিটেড
পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার/ডেপুটি ম্যানেজার
বিভাগ: সেলস
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিবিএ/এমবিএ
অন্যান্য যোগ্যতা: রিয়েল এস্টেট বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রয়ে দক্ষতা এবং ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ বছর
চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: শুধু পুরুষ
বয়সসীমা: কমপক্ষে ৩০ বছর
কর্মস্থল: চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ঢাকা (আশুলিয়া, বসুন্ধরা, মতিঝিল)
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: টি/এ, মোবাইল বিল, প্রভিডেন্ট ফান্ড, প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট, বছরে ২টি উৎসব বোনাস, দুপুরের খাবার সুবিধা এবং বিক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আকর্ষণীয় সেলস ইনসেন্টিভ কোম্পানির নীতিমালা অনুযায়ী প্রদান করা হবে।
আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন .
আবেদনের শেষ সময়: ০২ অক্টোবর ২০২৬
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১২ বছরের একটি শিশু ও তার মাকে মানিব্যাগ চুরির অভিযোগে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মারধরের পর ওই শিশু ও তার মা চার দিন ধরে আতঙ্কে ঘর থেকে বের হতে পারেননি বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের গামুরবুনিয়া গ্রামে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হাফিজুর রহমান চুন্নু, যিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং আইনজীবী।
ভুক্তভোগী শিশুর নাম জিসান (১২), যিনি গামুরবুনিয়া গ্রামের মৃত বাচ্চু হাওলাদারের ছেলে।
ভুক্তভোগী শিশুর মা নাজমা বেগম জানান, তার স্বামী বাচ্চু হাওলাদার প্রায় দেড় বছর আগে মারা যান। মৃত্যুর আগে জমি বন্ধক রাখার বিনিময়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নুর ছোট ভাই আবদুল হাইকে তার স্বামী এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। তবে এই লেনদেনের জন্য কোনো লিখিত প্রমাণ ছিল না।
নাজমার দাবি, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ওই টাকা লেনদেনের লিখিত প্রমাণ চেয়ে কয়েকবার আবদুল হাইয়ের কাছে গিয়েছিলেন। এতে চুন্নু ও তার ভাই ক্ষুব্ধ হন। বৃষ্টির কারণে সড়কে কাদা থাকায় তারা চুন্নুর বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
নাজমা বলেন, গত শুক্রবার চুন্নু ও তার ভাই জিসানকে তাদের ঘরে ডেকে নিয়ে মানিব্যাগ চুরির অভিযোগে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করেন। তার অভিযোগ, জমি বন্ধকের এক লাখ টাকা দেওয়ার লিখিত প্রমাণ চাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, সকালে বাচ্চা ও তার মা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং আঘাতের স্থানে কালো দাগ হয়ে গিয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসা প্রদান করছি।
অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান চুন্নু গণমাধ্যমকে বলেন, "ওই ছেলে চোর এবং এলাকায় সব জায়গায় চুরি করে বেড়ায়। সেদিন চুরি করার পর প্রশাসনকে বলেছি, তারা বলেছে দুই একটা ‘পিডান পুডান’ দিয়ে ছেড়ে দিন।"
ওর মাকে কেন মারধর করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ওরা এলাকার জাত চোর, সবাই জানে। আর আমরাও মানবিক, ওর মা সম্পর্কে আমার ভাগ্নি হয়। ওর মাকে বলেছি পোলা ঢাকা পাঠাইয়া দিতে।" এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, "এরকম কোনো বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি এবং এরকম অপেশাদার কথা আমরা বলিনি।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না।
মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমাবেশ ও মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ শীর্ষক এ সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল।
মোনায়েম মুন্না মন্তব্য করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার জন্য যেকোনো আচরণ করেন। ওই ‘শিশু নেতা’ বলেছেন, ১১ দলের দাবি মেনে নিলে ককটেল মারা বন্ধ হয়ে যাবে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, এই ককটেল কারা মারছে? সমস্ত ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। ককটেল মারার হোতা হিসেবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেফতার করা আবশ্যক।
জামায়াতের এমপি গাজী নজরুলের প্রসঙ্গে যুবদল সভাপতি বলেন, তার কুকর্ম ও চরিত্র দেশবাসী দেখেছে। তার কারণে গরিব পরিবারের ১৯ বছরের একটি মেয়ে সারা দেশের ট্রলের শিকার হয়েছেন। মানুষের কুৎসা রটানোর কারণে ওই মেয়েটির জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। গত পরশু মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে, নাকি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে?
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব ছিল এলাকার ভোটারদের নিরাপদ রাখা। কিন্তু পরিস্থিতি উল্টো হয়েছে। গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মেয়েটির ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করতেন। তাকে কি মেরে ফেলা হয়েছে? বাংলাদেশের ইতিহাসে সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি রিমান্ডে আছেন। এটি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার। মামলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
যুবদল সভাপতি আরও বলেন, গতকাল জামায়াতের আরেক নেতা মাদ্রাসার ছাত্রের সঙ্গে আরও অন্যায় কাজ করেছেন। যদি তাদের ধর্মের রাজনীতির নমুনা এ রকম হয়, তাহলে তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশকে ধ্বংস করে দেবে এবং মানুষের জীবনকে অনিরাপদ করে তুলবে।
তিনি উল্লেখ করেন, তাদের আরেকটি মোনাফেকি হচ্ছে, তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে। অতীতেও তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেছিল। আমার মনে হয়, এখনো তারা গোপনে গোপনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে।
মোনায়েম মুন্না বলেন, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের জনগণ চিহ্নিত করেছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণকে সজাগ করতে হবে। যুবদল রাজপথে আছে এবং ষড়যন্ত্র মোকাবিলার সক্ষমতা তাদের আছে।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের ঘটনারও যুবদল সভাপতি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সালাউদ্দিন আম্মারকে গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, সহসভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, নুরুল ইসলাম সোহেল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেকসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার, নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সংস্কার এবং বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠন সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। চলতি অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’।
ড. খলিলুর রহমান নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত বৈষম্য তুলে ধরে মন্তব্য করেন যে, জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সদস্যগোষ্ঠী এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও আফ্রিকা নিরাপত্তা পরিষদে কোনো স্থায়ী আসন পায়নি। তাই আফ্রিকাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে যথাযথভাবে স্থান দিতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বের দাবি কোনো করুণা নয়; এটি ন্যায়বিচার এবং জাতিসংঘের নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন।
তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে আরও স্বচ্ছ, প্রতিনিধিত্বশীল এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানান তিনি।
জাতিসংঘের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা পুনরুদ্ধারে তিনটি প্রধান কৌশলের ওপর জোর দেন খলিলুর রহমান—নিজেদের ব্যর্থতা সম্পর্কে স্পষ্টবাদী ও বাস্তববাদী হওয়া, সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুশীল সমাজ ও বিজ্ঞানীদের ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা।
বিশ্বব্যাপী বৈষম্য ও সামরিক খাতের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি যখন থমকে আছে, ঠিক তখনই ‘ওইসিডি’ দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা এক বছরে ২৩ শতাংশ কমে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এর বিপরীতে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
গাজা, সুদান, ইউক্রেন, মিয়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নীতি কখনোই নির্বাচনী বা পক্ষপাতমূলকভাবে প্রয়োগ করা যাবে না। পাশাপাশি বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির ও হাইতিতে জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমের ইতিবাচক ভূমিকার উদাহরণও তিনি তুলে ধরেন।
প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে সাধারণ পরিষদের সভাপতি বলেন, জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও সামরিক খাতের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এআইয়ের অপব্যবহার মানব সভ্যতার অস্তিত্বের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এআই অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সাথে নিয়ে দ্রুত প্রমাণভিত্তিক বৈশ্বিক নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো (‘গার্ডরেল’) তৈরির তাগিদ দেন তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ