বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৫০ পি.এম
রূপায়ন গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, রূপায়ন হাউজিং এস্টেট লিমিটেড, সম্প্রতি একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার/ডেপুটি ম্যানেজার পদে জনবল নিয়োগের জন্য এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে এবং চলবে ০২ অক্টোবর পর্যন্ত।
নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
এক নজরে রূপায়ন গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬
প্রতিষ্ঠানের নাম: রূপায়ন হাউজিং এস্টেট লিমিটেড
পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার/ডেপুটি ম্যানেজার
বিভাগ: সেলস
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিবিএ/এমবিএ
অন্যান্য যোগ্যতা: রিয়েল এস্টেট বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রয়ে দক্ষতা এবং ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ বছর
চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: শুধু পুরুষ
বয়সসীমা: কমপক্ষে ৩০ বছর
কর্মস্থল: চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ঢাকা (আশুলিয়া, বসুন্ধরা, মতিঝিল)
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: টি/এ, মোবাইল বিল, প্রভিডেন্ট ফান্ড, প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট, বছরে ২টি উৎসব বোনাস, দুপুরের খাবার সুবিধা এবং বিক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আকর্ষণীয় সেলস ইনসেন্টিভ কোম্পানির নীতিমালা অনুযায়ী প্রদান করা হবে।
আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন .
আবেদনের শেষ সময়: ০২ অক্টোবর ২০২৬
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১২ বছরের একটি শিশু ও তার মাকে মানিব্যাগ চুরির অভিযোগে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মারধরের পর ওই শিশু ও তার মা চার দিন ধরে আতঙ্কে ঘর থেকে বের হতে পারেননি বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের গামুরবুনিয়া গ্রামে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হাফিজুর রহমান চুন্নু, যিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং আইনজীবী।
ভুক্তভোগী শিশুর নাম জিসান (১২), যিনি গামুরবুনিয়া গ্রামের মৃত বাচ্চু হাওলাদারের ছেলে।
ভুক্তভোগী শিশুর মা নাজমা বেগম জানান, তার স্বামী বাচ্চু হাওলাদার প্রায় দেড় বছর আগে মারা যান। মৃত্যুর আগে জমি বন্ধক রাখার বিনিময়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নুর ছোট ভাই আবদুল হাইকে তার স্বামী এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। তবে এই লেনদেনের জন্য কোনো লিখিত প্রমাণ ছিল না।
নাজমার দাবি, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ওই টাকা লেনদেনের লিখিত প্রমাণ চেয়ে কয়েকবার আবদুল হাইয়ের কাছে গিয়েছিলেন। এতে চুন্নু ও তার ভাই ক্ষুব্ধ হন। বৃষ্টির কারণে সড়কে কাদা থাকায় তারা চুন্নুর বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
নাজমা বলেন, গত শুক্রবার চুন্নু ও তার ভাই জিসানকে তাদের ঘরে ডেকে নিয়ে মানিব্যাগ চুরির অভিযোগে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করেন। তার অভিযোগ, জমি বন্ধকের এক লাখ টাকা দেওয়ার লিখিত প্রমাণ চাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, সকালে বাচ্চা ও তার মা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং আঘাতের স্থানে কালো দাগ হয়ে গিয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসা প্রদান করছি।
অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান চুন্নু গণমাধ্যমকে বলেন, "ওই ছেলে চোর এবং এলাকায় সব জায়গায় চুরি করে বেড়ায়। সেদিন চুরি করার পর প্রশাসনকে বলেছি, তারা বলেছে দুই একটা ‘পিডান পুডান’ দিয়ে ছেড়ে দিন।"
ওর মাকে কেন মারধর করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ওরা এলাকার জাত চোর, সবাই জানে। আর আমরাও মানবিক, ওর মা সম্পর্কে আমার ভাগ্নি হয়। ওর মাকে বলেছি পোলা ঢাকা পাঠাইয়া দিতে।" এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, "এরকম কোনো বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি এবং এরকম অপেশাদার কথা আমরা বলিনি।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না।
মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমাবেশ ও মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ শীর্ষক এ সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল।
মোনায়েম মুন্না মন্তব্য করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার জন্য যেকোনো আচরণ করেন। ওই ‘শিশু নেতা’ বলেছেন, ১১ দলের দাবি মেনে নিলে ককটেল মারা বন্ধ হয়ে যাবে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, এই ককটেল কারা মারছে? সমস্ত ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। ককটেল মারার হোতা হিসেবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেফতার করা আবশ্যক।
জামায়াতের এমপি গাজী নজরুলের প্রসঙ্গে যুবদল সভাপতি বলেন, তার কুকর্ম ও চরিত্র দেশবাসী দেখেছে। তার কারণে গরিব পরিবারের ১৯ বছরের একটি মেয়ে সারা দেশের ট্রলের শিকার হয়েছেন। মানুষের কুৎসা রটানোর কারণে ওই মেয়েটির জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। গত পরশু মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে, নাকি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে?
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব ছিল এলাকার ভোটারদের নিরাপদ রাখা। কিন্তু পরিস্থিতি উল্টো হয়েছে। গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মেয়েটির ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করতেন। তাকে কি মেরে ফেলা হয়েছে? বাংলাদেশের ইতিহাসে সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি রিমান্ডে আছেন। এটি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার। মামলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
যুবদল সভাপতি আরও বলেন, গতকাল জামায়াতের আরেক নেতা মাদ্রাসার ছাত্রের সঙ্গে আরও অন্যায় কাজ করেছেন। যদি তাদের ধর্মের রাজনীতির নমুনা এ রকম হয়, তাহলে তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশকে ধ্বংস করে দেবে এবং মানুষের জীবনকে অনিরাপদ করে তুলবে।
তিনি উল্লেখ করেন, তাদের আরেকটি মোনাফেকি হচ্ছে, তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে। অতীতেও তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেছিল। আমার মনে হয়, এখনো তারা গোপনে গোপনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে।
মোনায়েম মুন্না বলেন, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের জনগণ চিহ্নিত করেছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণকে সজাগ করতে হবে। যুবদল রাজপথে আছে এবং ষড়যন্ত্র মোকাবিলার সক্ষমতা তাদের আছে।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের ঘটনারও যুবদল সভাপতি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সালাউদ্দিন আম্মারকে গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, সহসভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, নুরুল ইসলাম সোহেল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেকসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার, নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সংস্কার এবং বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠন সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। চলতি অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’।
ড. খলিলুর রহমান নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত বৈষম্য তুলে ধরে মন্তব্য করেন যে, জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সদস্যগোষ্ঠী এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও আফ্রিকা নিরাপত্তা পরিষদে কোনো স্থায়ী আসন পায়নি। তাই আফ্রিকাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে যথাযথভাবে স্থান দিতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বের দাবি কোনো করুণা নয়; এটি ন্যায়বিচার এবং জাতিসংঘের নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন।
তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে আরও স্বচ্ছ, প্রতিনিধিত্বশীল এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানান তিনি।
জাতিসংঘের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা পুনরুদ্ধারে তিনটি প্রধান কৌশলের ওপর জোর দেন খলিলুর রহমান—নিজেদের ব্যর্থতা সম্পর্কে স্পষ্টবাদী ও বাস্তববাদী হওয়া, সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুশীল সমাজ ও বিজ্ঞানীদের ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা।
বিশ্বব্যাপী বৈষম্য ও সামরিক খাতের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি যখন থমকে আছে, ঠিক তখনই ‘ওইসিডি’ দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা এক বছরে ২৩ শতাংশ কমে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এর বিপরীতে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
গাজা, সুদান, ইউক্রেন, মিয়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নীতি কখনোই নির্বাচনী বা পক্ষপাতমূলকভাবে প্রয়োগ করা যাবে না। পাশাপাশি বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির ও হাইতিতে জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমের ইতিবাচক ভূমিকার উদাহরণও তিনি তুলে ধরেন।
প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে সাধারণ পরিষদের সভাপতি বলেন, জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও সামরিক খাতের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এআইয়ের অপব্যবহার মানব সভ্যতার অস্তিত্বের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এআই অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সাথে নিয়ে দ্রুত প্রমাণভিত্তিক বৈশ্বিক নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো (‘গার্ডরেল’) তৈরির তাগিদ দেন তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কলম্বাস ক্রুর রিজার্ভ দলের কোচ ফেদেরিকো হিগুয়েইনকে বরখাস্ত করেছে মেজর লিগ সকারের ক্লাব। এক নারী রেফারিকে ‘এটা মনে রেখো, এটা পুরুষদের খেলা’ বলে মন্তব্য করার পর এবং হাত মেলানোর সময় তার হাত ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার ক্লাব কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানায়।
ফেদেরিকো হিগুয়েইন, যিনি আর্জেন্টিনার সাবেক ফরোয়ার্ড গনসালো হিগুয়েইনের ভাই, এর আগে লাল কার্ড দেখেছিলেন এবং দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। এরপরই তাকে দল থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় ক্লাব।
কলম্বাস ক্রুর জেনারেল ম্যানেজার ইসা তাল বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ফেদেরিকো হিগুয়েইনকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়াই আমাদের ক্লাব, খেলোয়াড় এবং সহায়ক স্টাফদের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে’ বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘এই সপ্তাহের আলোচনা এবং গত এক মাসের ঘটনা পর্যালোচনার পর দেখা গেছে, আমাদের দলগুলোর একটির নেতৃত্বদানকারী হিসেবে যে মানদণ্ড প্রত্যাশিত, তা তিনি পূরণ করতে পারেননি’।
দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্লাবের অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হিগুয়েইন ক্লাবের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনায় নিজের আচরণ নিয়ে প্রতিফলন বা দায় স্বীকার করতে অনিচ্ছুক ছিলেন। জনসমক্ষে কোনো ক্ষমাও চাননি তিনি। এমএলএসের ডেভেলপমেন্ট লিগ এমএলএস নেক্সট প্রো-র একটি ম্যাচে এই ঘটনা ঘটে।
রেফারিদের ইউনিয়নের ভাষ্যমতে, হিগুয়েইন একজন নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘দুটি ইচ্ছাকৃত শারীরিক নিপীড়ন এবং লিঙ্গবৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন। তিনজন বার থামতে বলার পরও তার হাত চেপে ধরে রেখেছিলেন এবং ছাড়েননি’।
পেশাদার সকার রেফারি অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ‘এই শারীরিক হুমকির সঙ্গে যুক্ত হয় ওই কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে অবমাননাকর, লিঙ্গবৈষম্যমূলক এক মন্তব্য, ‘মনে রেখো, এটা পুরুষদের খেলা’।
লিগ কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাকে ‘যথেষ্ট নয়’ বলে সমালোচনা করেছে এই ইউনিয়ন। অন্তত ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে তারা।
তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নারীরা এই খেলার প্রতিটি স্তরকেই আরও সমৃদ্ধ করে তোলেন। এটা প্রমাণ করতে গিয়ে তাদের হুমকি বা অবমাননাকর মন্তব্যের শিকার হতে হবে না’।
তারা আরও বলেছে, ‘আমাদের নারী কর্মকর্তারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। অন্যান্য কর্মকর্তাদের মতোই তাদেরও প্রাপ্য একই সম্মান, মর্যাদা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ’।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ